পোশাক শ্রমিকদের চার গ্রেডে নতুন মজুরি কাঠামোর প্রস্তাব
গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩৭ হাজার ১২৫ টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে পোশাকশিল্পের চারটি শ্রমিক সংগঠন ও জোট। একই সঙ্গে শিল্প খাতে নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি কাঠামো প্রণয়ন এবং বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে তারা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য পরিষদ (জি-স্কপ), বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ও শিল্প রক্ষা জাতীয় মঞ্চ, গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদ এবং এশিয়া ফ্লোর ওয়েজ অ্যালায়েন্সের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক নেতারা ২০২৬ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত তিন বছরের জন্য একটি নতুন মজুরি কাঠামোর প্রস্তাব তুলে ধরেন। প্রস্তাবে বিদ্যমান গ্রেড পদ্ধতি পুনর্বিন্যাস করে চারটি গ্রেড নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি মূল মজুরির ওপর ৫০ শতাংশ বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, খাদ্য ও শিক্ষা সহায়ক ভাতা এবং ১৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম গ্রেডের শ্রমিকদের মূল মজুরি ৩৫ হাজার টাকা এবং ভাতাসহ মোট মাসিক মজুরি ৫৮ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয় গ্রেডে মূল মজুরি ৩০ হাজার টাকা এবং মোট মজুরি ৫১ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। তৃতীয় গ্রেডের শ্রমিকদের মূল মজুরি ২৫ হাজার টাকা এবং ভাতাসহ মোট মজুরি ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। আর সর্বনিম্ন চতুর্থ গ্রেডে মূল মজুরি ২০ হাজার ৭৫০ টাকা এবং ভাতাসহ মোট মাসিক মজুরি ৩৭ হাজার ১২৫ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে। শ্রমিক নেতাদের মতে, নতুন কাঠামোতে মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়, পরিবারের প্রয়োজন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক নেতারা পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, একজন গার্মেন্টস শ্রমিকের দৈনিক প্রায় ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার কিলোক্যালরি শক্তির প্রয়োজন হয়। সেই চাহিদা পূরণে চাল, ডাল, তেল, ডিম, মাছ, শাকসবজি ও রান্নার খরচ মিলিয়ে দৈনিক খাবারের ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ২৯৬ টাকা ৫০ পয়সা। তাদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, চার সদস্যের একটি পরিবারের ন্যূনতম খাদ্য ব্যয় মাসে প্রায় ৩৫ হাজার ৫৮০ টাকা। ফলে পরিবারের খাদ্য চাহিদা পূরণ করতেই বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন হয়। এর বাইরে বাসাভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, শিক্ষা ও অন্যান্য দৈনন্দিন ব্যয় রয়েছে।
শ্রমিক নেতারা আরও বলেন, পুষ্টিবিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, একটি সুষম খাদ্যতালিকায় কার্বোহাইড্রেট, চর্বি ও প্রোটিনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ থাকা জরুরি। চার সদস্যের পরিবারের জন্য পুষ্টিমানসম্পন্ন খাবারের প্রকৃত ব্যয় আরও বেশি হতে পারে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩৭ হাজার ১২৫ টাকা বা ৩০০ ডলারের নিচে হওয়া উচিত নয় বলে দাবি করেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে গার্মেন্টস শিল্প খাতের জন্য ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানানো হয়। শ্রমিক নেতারা বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় ও পে-স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা করা প্রয়োজন। প্রস্তাবিত কাঠামো বাস্তবায়িত হলে শ্রমিকদের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে বলে তারা মনে করেন।
শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্যজোটের জ্যেষ্ঠ নেতা শাহ মো. আবু জাফরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের অন্যতম নেতা খালেকুজ্জামান লিপন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নাহিদুল ইসলাম নয়ন। এ সময় প্রবীণ শ্রমিক নেতা আবুল হোসাইন, নাঈমুল আহসান জুয়েল, লাভলী ইয়াসমিন ও বাচ্চু মিয়াসহ অন্য নেতারা বক্তব্য দেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত মজুরি কাঠামোটি শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রস্তাব। এটি সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত নতুন মজুরি কাঠামো হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি।
কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি
আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]