খুঁজুন
                               
, ,
           

পোশাক শ্রমিকদের চার গ্রেডে নতুন মজুরি কাঠামোর প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
পোশাক শ্রমিকদের চার গ্রেডে নতুন মজুরি কাঠামোর প্রস্তাব

গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩৭ হাজার ১২৫ টাকা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছে পোশাকশিল্পের চারটি শ্রমিক সংগঠন ও জোট। একই সঙ্গে শিল্প খাতে নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি কাঠামো প্রণয়ন এবং বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে তারা।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য পরিষদ (জি-স্কপ), বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক ও শিল্প রক্ষা জাতীয় মঞ্চ, গার্মেন্টস শ্রমিক পরিষদ এবং এশিয়া ফ্লোর ওয়েজ অ্যালায়েন্সের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক নেতারা ২০২৬ থেকে ২০২৯ সাল পর্যন্ত তিন বছরের জন্য একটি নতুন মজুরি কাঠামোর প্রস্তাব তুলে ধরেন। প্রস্তাবে বিদ্যমান গ্রেড পদ্ধতি পুনর্বিন্যাস করে চারটি গ্রেড নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি মূল মজুরির ওপর ৫০ শতাংশ বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, খাদ্য ও শিক্ষা সহায়ক ভাতা এবং ১৫ শতাংশ বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম গ্রেডের শ্রমিকদের মূল মজুরি ৩৫ হাজার টাকা এবং ভাতাসহ মোট মাসিক মজুরি ৫৮ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয় গ্রেডে মূল মজুরি ৩০ হাজার টাকা এবং মোট মজুরি ৫১ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। তৃতীয় গ্রেডের শ্রমিকদের মূল মজুরি ২৫ হাজার টাকা এবং ভাতাসহ মোট মজুরি ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। আর সর্বনিম্ন চতুর্থ গ্রেডে মূল মজুরি ২০ হাজার ৭৫০ টাকা এবং ভাতাসহ মোট মাসিক মজুরি ৩৭ হাজার ১২৫ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে। শ্রমিক নেতাদের মতে, নতুন কাঠামোতে মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়, পরিবারের প্রয়োজন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক নেতারা পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলেন, একজন গার্মেন্টস শ্রমিকের দৈনিক প্রায় ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার কিলোক্যালরি শক্তির প্রয়োজন হয়। সেই চাহিদা পূরণে চাল, ডাল, তেল, ডিম, মাছ, শাকসবজি ও রান্নার খরচ মিলিয়ে দৈনিক খাবারের ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ২৯৬ টাকা ৫০ পয়সা। তাদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, চার সদস্যের একটি পরিবারের ন্যূনতম খাদ্য ব্যয় মাসে প্রায় ৩৫ হাজার ৫৮০ টাকা। ফলে পরিবারের খাদ্য চাহিদা পূরণ করতেই বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন হয়। এর বাইরে বাসাভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত, শিক্ষা ও অন্যান্য দৈনন্দিন ব্যয় রয়েছে।

শ্রমিক নেতারা আরও বলেন, পুষ্টিবিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, একটি সুষম খাদ্যতালিকায় কার্বোহাইড্রেট, চর্বি ও প্রোটিনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ থাকা জরুরি। চার সদস্যের পরিবারের জন্য পুষ্টিমানসম্পন্ন খাবারের প্রকৃত ব্যয় আরও বেশি হতে পারে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩৭ হাজার ১২৫ টাকা বা ৩০০ ডলারের নিচে হওয়া উচিত নয় বলে দাবি করেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে গার্মেন্টস শিল্প খাতের জন্য ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানানো হয়। শ্রমিক নেতারা বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় ও পে-স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা করা প্রয়োজন। প্রস্তাবিত কাঠামো বাস্তবায়িত হলে শ্রমিকদের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে বলে তারা মনে করেন।

শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্যজোটের জ্যেষ্ঠ নেতা শাহ মো. আবু জাফরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের অন্যতম নেতা খালেকুজ্জামান লিপন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নাহিদুল ইসলাম নয়ন। এ সময় প্রবীণ শ্রমিক নেতা আবুল হোসাইন, নাঈমুল আহসান জুয়েল, লাভলী ইয়াসমিন ও বাচ্চু মিয়াসহ অন্য নেতারা বক্তব্য দেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত মজুরি কাঠামোটি শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রস্তাব। এটি সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত নতুন মজুরি কাঠামো হিসেবে ঘোষণা করা হয়নি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

মোদির বাবাকে নিয়ে খাড়গের মন্তব্যে উত্তাল ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৩ অপরাহ্ণ
মোদির বাবাকে নিয়ে খাড়গের মন্তব্যে উত্তাল ভারত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাবাকে নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ করেছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। খাড়গের নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি তার পদত্যাগও দাবি করেছে দলটি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল রোববার (২৫ অক্টোবর) বিহারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণ সিংয়ের ১৩৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানী পাটনায় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বক্তব্য দেন খাড়গে। এ সময় দর্শকদের মধ্য থেকে সন্তোষ কুমার নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘জনগণ বিদ্রোহ না করলে মোদি যাবেন না’।

তার জবাবে খার্গে বলেন, ‘মোদি কা বাপ ভি জায়েগা’ (মোদি নয়, তার বাবাকে যেতে হবে)। কংগ্রেস সভাপতির এই বক্তব্যকে মোদির প্রয়াত বাবাকে লক্ষ্য করে অবমাননাকর মন্তব্য হিসেবে ব্যাখ্যা করে বিজেপি।

দলটির অভিযোগ, রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে কোনো নেতার প্রয়াত বাবাকে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য করা অনুচিত এবং এটি রাজনৈতিক শিষ্টাচারের সীমা লঙ্ঘন করেছে।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং খাড়গের মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, ‘এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক… এই পুরো ঘটনাটির সবচেয়ে হতবাক করার মতো বিষয় হলো, এই মন্তব্যগুলো কোনো সাধারণ কংগ্রেস কর্মী বা যুব নেতা করেননি, বরং করেছেন এমন একটি দলের জাতীয় সভাপতি, যে দলটি নিজেদের দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল বলে দাবি করে।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘কংগ্রেস ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করার পরিবর্তে বক্তব্যটির পক্ষে যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করছে’।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী খাড়গের পাশাপাশি কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘বিজেপি রাহুল গান্ধীর অপরিণত আচরণের কথা জানত, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে খারাপ সঙ্গ রাখার কারণে দলের অন্যরাও সংক্রমিত হয়েছেন’।

কংগ্রেসের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক বিরোধিতার নামে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রসঙ্গ টেনে আনা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য উচিত নয়।

অন্যদিকে সোমবার নয়াদিল্লি, মুম্বাই, পাটনা, রাঁচি, কলকাতা, জম্মু ও বেঙ্গালুরুর মতো দেশটির প্রধান শহর ও বিভিন্ন রাজ্যে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

এনডিটিভি জানিয়েছে, রাজধানী নয়াদিল্লিতে খার্গের বাসভবনের কাছে বিক্ষোভ করেন বিজেপি নেতাকর্মীরা। তারা তার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। বিহারের পাটনায় বিজেপির নেতাকর্মীরা ‘জন আক্রোশ মার্চ’ বের করেন এবং খার্গের কুশপুত্তলিকা পোড়ান। বেঙ্গালুরু, লখনৌ ও জম্মুতেও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়।

এছাড়াও বিজেপির এক কর্মী খাড়গের বিরুদ্ধে পাটনায় পুলিশের কাছে অভিযোগও দায়ের করেছেন। অভিযোগকারী খার্গের কাছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানিয়েছেন।

এদিকে কংগ্রেস বিজেপির অভিযোগের পাল্টা জবাবে বলছে, পাটনার অনুষ্ঠানে খাড়গে বক্তব্য দেওয়ার সময় এক ব্যক্তি তার প্রয়াত বাবাকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন।

কংগ্রেসের মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান পবন খেরা দাবি করেন, ওই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় খাড়গে মন্তব্যটি করেছিলেন এবং তিনি মোদির ‘আদর্শিক পিতা’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএসকে) বোঝাতে চেয়েছিলেন।

সূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

কালের আলো/এসআর/এএ্রএন

অটিজমে অবদানে দুই আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেলেন ইয়াশা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২৪ অপরাহ্ণ
অটিজমে অবদানে দুই আন্তর্জাতিক সম্মাননা পেলেন ইয়াশা

অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ও অন্যান্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা, যত্ন ও বিকাশে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দুটি সম্মাননা পেয়েছেন বসুন্ধরা স্পেশাল চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়াশা সোবহান। তিনি ‘ক্লাস্টার অব অ্যাচিভার্স অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ অর্জনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ‘ডক্টর অব ফিলোসফি ইন সোশ্যাল ওয়ার্কস’ সম্মান পেয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। সামাজিক কল্যাণ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বিকাশ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে তাঁর কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবে এ অর্জনকে দেখা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের দ্য রিটজ-কার্লটন হোটেলে আয়োজিত ‘ক্লাস্টার অব অ্যাচিভার্স ২০২৬’-এর ৪৩তম আসরে ইয়াশা সোবহানকে সম্মাননা দেওয়া হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা পেশাজীবী ও কৃতী ব্যক্তিদের স্বীকৃতি জানাতে এ আয়োজন করা হয়। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের কল্যাণে তাঁর কাজ এ সম্মাননার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরে স্বীকৃতি পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে পুরস্কার প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের মূল্যায়নের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়নি।

শিশুর শেখা, বেড়ে ওঠা এবং সমাজে নিজের জায়গা তৈরি করার সুযোগ যেন বিশেষ চাহিদার কারণে বাধাগ্রস্ত না হয়—এ লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ করছে বসুন্ধরা স্পেশাল চিলড্রেন ফাউন্ডেশন। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে ইয়াশা সোবহান অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ও অন্যান্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা, যত্ন এবং সামগ্রিক বিকাশে কাজ করছেন। শিশুদের নিজস্ব সক্ষমতা বিকাশের সুযোগ তৈরি করা, তাদের উপযোগী সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং ব্যক্তিগত সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়া তাঁর সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা ও বিকাশে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সমাজের সহায়ক ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগ শিশুদের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের প্রতি সামাজিক সচেতনতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক মনোভাব গড়ে তুলতেও ভূমিকা রাখতে পারে। ক্লাস্টার অব অ্যাচিভার্স অ্যাওয়ার্ডের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে ‘ডক্টর অব ফিলোসফি ইন সোশ্যাল ওয়ার্কস’ সম্মান অর্জন করেছেন ইয়াশা সোবহান।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ সম্মাননার কথা জানানো হলেও ডিগ্রি বা সম্মাননাটি প্রদানের একাডেমিক প্রক্রিয়া, গবেষণার বিষয় কিংবা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এ বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্য ছাড়া সম্মাননার ধরন ও শর্ত সম্পর্কে আরও নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। ইয়াশা সোবহান সাফওয়ান বসুন্ধরা গ্লোবালের ভাইস চেয়ারম্যান এবং বসুন্ধরা গ্রুপের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ব্যবসা উন্নয়ন ও ব্র্যান্ড নির্মাণের পাশাপাশি সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা, যত্ন ও বিকাশের মতো বিষয়ে তাঁর কাজ এবং সাম্প্রতিক দুই সম্মাননা সামাজিক কল্যাণমূলক উদ্যোগের প্রতি গুরুত্বের বিষয়টি সামনে এনেছে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

১৮ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা, মিলবে কবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
১৮ বিলিয়ন ডলারের সম্ভাবনা, মিলবে কবে?

বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থায়ন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও এখনো নিশ্চিত হয়নি কোনো অর্থই। বিশ্বব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের বিশেষ অর্থায়ন কাঠামো এবং চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য আরও ৩.৭৭ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্প ও বাজেট সহায়তা চেয়েছে সরকার। অন্যদিকে, আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা চলছে ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে। সব মিলিয়ে অর্থায়নের আলোচনায় রয়েছে ১৮.২৭ বিলিয়ন ডলার। তবে কোনো প্রস্তাবই এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।

গত ১২ থেকে ১৮ অক্টোবর থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভায় বাংলাদেশের অর্থায়ন প্রস্তাব ও অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে আলোচনা এগিয়েছে। সহযোগিতার আশ্বাস মিললেও অর্থের পরিমাণ, ঋণের শর্ত এবং অর্থ ছাড়ের সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ফলে বড় অঙ্কের অর্থায়নের সম্ভাবনা তৈরি হলেও তা কবে বাস্তবে রূপ নেবে, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

  • বিশ্বব্যাংকের ১৩.৭৭ ও আইএমএফের ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন অনুমোদনের অপেক্ষায়
  • বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা এগিয়েছে
  • ঋণ অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত নয়

বিশ্বব্যাংকের ১০ বিলিয়ন ডলারের বিশেষ প্রস্তাব
নিয়মিত সহায়তার বাইরে আগামী তিন বছরে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়ন পেতে বিশ্বব্যাংকের কাছে বিশেষ কাঠামো প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ। ‘রেজিলিয়েন্স, রিফর্ম অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পার্টনারশিপ’ (আরআরআইপি) নামের এই উদ্যোগে বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান সচল রাখা, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার এবং জরুরি অর্থায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, সরবরাহ ও বাণিজ্যের সহনশীলতা বাড়াতে চার বিলিয়ন ডলার, উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানে দেড় বিলিয়ন ডলার, আর্থিক খাতের পুনরুদ্ধার ও ব্যাংকিং সংস্কারে তিন বিলিয়ন ডলার এবং জরুরি ও যৌথ অর্থায়নের জন্য দেড় বিলিয়ন ডলার রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

গত ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্টের বৈঠকে প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হয়। ব্যাংককের বার্ষিক সভাতেও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী বছরের জুনের মধ্যে কাঠামোটি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নিয়েছে সরকার। এ জন্য আগামী ৬০ দিনের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, বিশ্বব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে কারিগরি দল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রস্তাবটির অনুমোদন, অর্থায়নের শর্ত ও অর্থ ছাড়ের সময়সীমা এখনো নিশ্চিত নয়।

চলতি অর্থবছরের ৩.৭৭ বিলিয়ন ডলারও অনিশ্চিত
দীর্ঘমেয়াদি বিশেষ অর্থায়নের পাশাপাশি চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বিশ্বব্যাংকের কাছে ৩.৭৭ বিলিয়ন ডলার চেয়েছে সরকার। এর মধ্যে ২.৭৭ বিলিয়ন ডলার প্রকল্প অর্থায়ন এবং এক বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা হিসেবে চাওয়া হয়েছে। এই অর্থায়নও এখনো অনুমোদিত হয়নি।

সরকারের পাইপলাইনে থাকা ১০টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে জ্বালানি নিরাপত্তা, ব্যাংকিং খাতের সংস্কার ও খাদ্যনিরাপত্তাসংক্রান্ত উদ্যোগ। তুলনামূলক কম খরচে দীর্ঘমেয়াদি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সুবিধা পেতে ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের আইডা গ্যারান্টির প্রস্তাব রয়েছে। ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে ফিন্যানশিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২-এর জন্য চাওয়া হয়েছে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার। খাদ্যনিরাপত্তায় জরুরি সহায়তার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ৩০০ মিলিয়ন ডলার।

এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম রেল করিডর, ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকা ইনার সার্কুলার রিং রোড এবং রাজধানীর চারপাশের নদী ও খাল পুনরুদ্ধার নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এসব প্রকল্পে অর্থায়ন পাওয়া গেলে যোগাযোগব্যবস্থা, জ্বালানি সরবরাহ ও খাদ্যনিরাপত্তায় সহায়তা মিলতে পারে। তবে প্রস্তাবিত প্রকল্পের তালিকাভুক্তি অর্থ ছাড়ের নিশ্চয়তা দেয় না; এ জন্য প্রয়োজনীয় মূল্যায়ন ও অনুমোদন সম্পন্ন হতে হবে।

আইএমএফের ঋণে বড় শর্ত অর্থনৈতিক সংস্কার
আইএমএফের সঙ্গে সম্ভাব্য ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা চলছে। ১৬ অক্টোবর ব্যাংককে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, আলোচনায় নীতিগত অগ্রগতি হয়েছে। বাকি বিষয়গুলো চূড়ান্ত করতে দুই পক্ষের কারিগরি পর্যায়ে আলোচনা চলবে।

আলোচনায় কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো, রাজস্ব আহরণ জোরদার, ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি মোকাবিলা এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোর সমস্যা সমাধানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য কর্মসূচিতে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য এবং দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠনে সময়সীমাবদ্ধ পরিকল্পনা থাকতে পারে। তবে ঋণের চূড়ান্ত শর্ত, অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের সময়সূচি এখনো নিশ্চিত হয়নি। এখানে মূল বিবেচ্য শুধু নতুন ঋণের পরিমাণ নয়; বরং অর্থনৈতিক নীতিতে কী পরিবর্তন আনা হবে এবং সরকার সেগুলো বাস্তবায়নে কতটা অগ্রগতি দেখাতে পারবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে আলোচনা এগোলেও অর্থপ্রাপ্তির নিশ্চয়তা এখনো তৈরি হয়নি।

আন্তর্জাতিক বাজারেও অর্থায়নের চেষ্টা
বহুপক্ষীয় ঋণদাতা সংস্থার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজার থেকেও অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিনিধিদল ইউরোক্লিয়ার, সিটি, ফিচ রেটিংস, নিউইয়র্ক ফেড, এইচএসবিসি, ব্যাংক অব আমেরিকা ও জেপি মরগানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে।

এসব আলোচনায় বাংলাদেশের ক্রেডিট রেটিং, সার্বভৌম বন্ড ইস্যুর সম্ভাবনা, বিনিয়োগ পরিবেশ ও সামষ্টিক অর্থনীতি গুরুত্ব পেয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে দেশের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা, নীতিগত স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থার (আইএফসি) সঙ্গে বৈঠকে ব্যাংকের মূলধন পুনর্গঠন, আর্থিক খাতের সংস্কার, বাণিজ্য অর্থায়ন এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারি প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাসের কথা উল্লেখ করা হলেও নতুন অর্থায়নের নির্দিষ্ট পরিমাণ বা অর্থ ছাড়ের সময়সীমা জানানো হয়নি।

অর্থায়ন পেলেই কি কাটবে অর্থনীতির চাপ?
দুর্বল রাজস্ব আহরণ, ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি, জ্বালানি আমদানির ব্যয় এবং বেসরকারি বিনিয়োগে মন্থরতার কারণে বাংলাদেশের বৈদেশিক অর্থায়নের প্রয়োজন বেড়েছে। নতুন অর্থায়ন বাজেটের চাপ সামলানো, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রার জোগানে সহায়তা করতে পারে। তবে ঋণ পেলেই অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা দূর হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলামের মতে, বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের অর্থায়ন তুলনামূলক কম ব্যয়ে পাওয়া যায়। যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে তা বাজেট ঘাটতি মোকাবিলা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থনীতির প্রতি আস্থা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।

তবে তিনি ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, বাজারভিত্তিক বিনিময় হার, রাজস্ব আহরণ বাড়ানো এবং সুশাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, ব্যাংকিং খাতের অনিয়ম, খেলাপি ঋণ ও অর্থপাচার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অর্থনীতির ঝুঁকি থেকেই যাবে।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে