খুঁজুন
                               
, ,
           

ডি থ্রি নিলামে সাকিবের নাম না ওঠার কারণ

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
ডি থ্রি নিলামে সাকিবের নাম না ওঠার কারণ

আগামী ডিসেম্বরে মাঠে গড়াতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আয়োজনে নতুন ঘরোয়া টুর্নামেন্ট ‘ডমেস্টিক থ্রি’ (ডি থ্রি)। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট দিয়ে শুরু হতে যাওয়া এই প্রতিযোগিতাকে সামনে রেখে সোমবার (২৬ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হচ্ছে ক্রিকেটারদের নিলাম। তিন বছরের জন্য আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের নিলামে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে জায়গা পেয়েছেন বাংলাদেশের ২৮১ জন ক্রিকেটার। তবে চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকলেও নিলামের টেবিলে ওঠেনি পেসার তানজিম হাসান সাকিবের নাম।

ডি থ্রি টুর্নামেন্টের নিলামে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছিল ডানহাতি পেসার তানজিম হাসান সাকিবকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার নাম নিলামে তোলা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকা এই পেসার বর্তমানে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। এ কারণে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সংস্করণে তার খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

সাকিবের শারীরিক অবস্থা এবং মাঠে ফেরার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই নিলামে তার নাম না তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। মূলত চোটের কারণে তিনি কবে পুরোপুরি খেলার উপযোগী হয়ে উঠবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পরবর্তী দুই সংস্করণে খেলার সুযোগ
জানা গেছে, ডি থ্রি টুর্নামেন্টের প্রথম সংস্করণে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে খেলতে পারবেন না তানজিম হাসান সাকিব। তবে টুর্নামেন্টের পরবর্তী দুটি সংস্করণে তাকে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে কারণে নিলামের চূড়ান্ত তালিকায় ‘বি’ ক্যাটাগরিতে তার নাম রাখা হলেও প্রথম সংস্করণে খেলার অনিশ্চয়তার কারণে নিলামের টেবিলে তার নাম তোলা হয়নি।

সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দুই ফরম্যাটে খেলার জন্য সাকিবকে পাওয়া যাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় পরবর্তী সময়ে আবারও তার নাম নিলামে তোলা হতে পারে। অর্থাৎ, এবারের নিলামে নাম না উঠলেও ডি থ্রি টুর্নামেন্টের পরবর্তী সংস্করণগুলোতে তার খেলার সুযোগ রয়েছে।

বিসিবির নতুন ঘরোয়া টুর্নামেন্ট ডমেস্টিক থ্রি দেশের ক্রিকেটারদের জন্য নতুন একটি প্রতিযোগিতামূলক মঞ্চ হিসেবে আসছে। পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ২৮১ জন ক্রিকেটারকে নিয়ে নিলামের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট দিয়ে টুর্নামেন্টটির যাত্রা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে চোটের কারণে তানজিম হাসান সাকিবের প্রথম সংস্করণে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষ করে কবে তিনি মাঠে ফিরতে পারবেন, তার ওপর নির্ভর করছে টুর্নামেন্টের পরবর্তী সংস্করণগুলোতে তার অংশগ্রহণের বিষয়টি।

কালের আলো/এসআর/এএএন

ডি থ্রি ট্রফির সি ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ রিপন

ক্রীড়া প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
ডি থ্রি ট্রফির সি ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ রিপন

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন টুর্নামেন্ট ডোমেস্টিক থ্রি ট্রফির (ডি থ্রি ট্রফি) নিলামে ‘সি’ ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ দাম পেয়েছেন পেসার রিপন মণ্ডল। ৯০ লাখ পয়েন্টে তাকে দলে নিয়েছে একমি। এই ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭২ লাখ পয়েন্টে দল পেয়েছেন আজিজুল হাকিম তামিম। তাকে দলে নিয়েছে সিটিজেনস ব্যাংক।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত নিলামে ‘সি’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটারদের নিয়ে দলগুলোর মধ্যে দর-কষাকষি হয়। এ ক্যাটাগরিতে বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার উল্লেখযোগ্য দামে দল পেয়েছেন। আবার পরিচিত কয়েকজন ক্রিকেটার কোনো দল পাননি। ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ৬৬ লাখ পয়েন্টে ইকবাল হাসান ইমনকে দলে নিয়েছে ওয়ালটন। একই দল ৬২ লাখ পয়েন্টে দলে ভিড়িয়েছে আরিফুল ইসলামকে। অন্যদিকে ৬০ লাখ পয়েন্টে মাহফিজুল ইসলাম রবিনকে দলে নিয়েছে ব্লুস্টার।

৫৪ লাখ পয়েন্টে সামিউন বশির রাতুলকে দলে নিয়েছে ওয়ালটন। ৪৮ লাখ পয়েন্টে জিসান আলমকেও দলে পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়া ৪২ লাখ পয়েন্টে তোফায়েল আহমেদ রায়হান এবং ৪০ লাখ পয়েন্টে ইরফান শুক্কুরকে দলে নিয়েছে সিটিজেনস ব্যাংক। নিলামে ৩৬ লাখ পয়েন্টে তাইবুর রহমান পারভেজকে দলে নিয়েছে সিটিজেনস ব্যাংক। ৩৪ লাখ পয়েন্টে মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধকে দলে নিয়েছে একমি। ৩২ লাখ পয়েন্টে মাহফুজুর রহমান রাব্বিকে দলে নিয়েছে সেভেন রিংস সিমেন্ট। একই দামে হাবিবুর রহমান সোহান ও রেজাউর রহমান রাজাকে দলে নিয়েছে ওয়ালটন। ৩০ লাখ পয়েন্টে রনি তালুকদারকে দলে নিয়েছে ওয়ালটন। একই দামে আকবর আলীকে দলে পেয়েছে ফরচুন। ২৮ লাখ পয়েন্টে আমিনুল ইসলাম বিপ্লবকে দলে নিয়েছে সিটিজেনস ব্যাংক। একই দামে মুশফিক হাসানকে দলে নিয়েছে ফরচুন। আর ২৪ লাখ পয়েন্টে আবু হাসিমকে দলে নিয়েছে ব্লুস্টার।

‘সি’ ক্যাটাগরিতে ২০ লাখ পয়েন্টে দল পেয়েছেন একাধিক ক্রিকেটার। তাদের মধ্যে রয়েছেন জিয়াউর রহমান, কামরুল ইসলাম রাব্বি, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী, শেখ পারভেজ জীবন, ফজলে মাহমুদ রাব্বি, শহিদুল ইসলাম, নাহিদুল ইসলাম, মোহাম্মদ ইফরান হোসাইন, সুমন খান, শফিকুল ইসলাম, এস এম মেহেরব হোসেন, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, মইন খান, চৌধুরী মোহাম্মদ রিজওয়ান, শুভাগত হোম, মোহাম্মদ এনামুল হক ও আনিসুল ইসলাম ইমন।

‘সি’ ক্যাটাগরিতে কয়েকজন পরিচিত ক্রিকেটার নিলামে দল পাননি। তাদের মধ্যে রয়েছেন নাসির হোসেন, সোহাগ গাজী, আরাফাত সানি, আবু জায়েদ চৌধুরী রাহি, মেহেদী মারুফ, সালাউদ্দিন শাকিল ও রবিউল হক। ডি থ্রি ট্রফির এই নিলামে বিভিন্ন দামে ক্রিকেটারদের দলে ভেড়ানোর মধ্য দিয়ে দলগুলো নিজেদের স্কোয়াড সাজিয়েছে। ‘সি’ ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ ৯০ লাখ পয়েন্টে রিপন মণ্ডলকে দলে নেওয়া ছিল নিলামের উল্লেখযোগ্য ঘটনা

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৩ অপরাহ্ণ
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সারা দেশে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, দলীয় পতাকা উত্তোলন, শ্রদ্ধা নিবেদন ও আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও নানা আয়োজন করবে দলটি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গে যৌথ সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচির কথা জানান দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৭ নভেম্বর সকাল ৬টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের সব দলীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। দিবসটির শুরুতেই এ কর্মসূচির মাধ্যমে দলীয়ভাবে দিনটি পালন করবে বিএনপি।

একই দিন বেলা ১১টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন দলের নেতাকর্মীরা। সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠের কর্মসূচিও রয়েছে।

৭ নভেম্বর দিবসটি উপলক্ষে ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের করা হবে বলে জানান রুহুল কবির রিজভী। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও অনুরূপ র‍্যালি আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে এসব আয়োজন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরার পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চায় বিএনপি।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য তুলে ধরতে আগামী ৬ নভেম্বর কেন্দ্রীয়ভাবে একটি আলোচনা সভা আয়োজনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানান বিএনপির এই নেতা। এ ছাড়া দিবসটি উপলক্ষে বিশেষ পোস্টার প্রকাশ করা হবে। ছাত্রদলসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন চিত্রাঙ্কন প্রদর্শনী এবং নানা সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচির আয়োজন করবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহী-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে দেশ চরম অনিশ্চয়তা, বাকশাল ও আধিপত্যবাদ থেকে রক্ষা পেয়েছিল বলে বিএনপি মনে করে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ৭ নভেম্বরের মধ্য দিয়ে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং মানুষের কথা বলার অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়েছে।

তবে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য নিয়ে রিজভীর এসব বক্তব্য বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান ও দলীয় ব্যাখ্যার অংশ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। তিনি বলেন, পরাজিত ফ্যাসিবাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কিংবা কোনো গুপ্ত সংগঠনের আশ্রয় নিয়ে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে এর দায় সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে। রিজভী আরও বলেন, দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল, খায়রুল কবির খোকন ও আব্দুস সালাম আজাদ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, ইমরান সালেহ প্রিন্স, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, প্রচার সম্পাদক ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অংশ নেন। উপস্থিত অন্য নেতাদের মধ্যে ছিলেন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, জাসাসের আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খান, যুবদল সভাপতি মোনায়েম মুন্না, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

 

মোদির বাবাকে নিয়ে খাড়গের মন্তব্যে উত্তাল ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৩ অপরাহ্ণ
মোদির বাবাকে নিয়ে খাড়গের মন্তব্যে উত্তাল ভারত

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাবাকে নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ করেছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। খাড়গের নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি তার পদত্যাগও দাবি করেছে দলটি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল রোববার (২৫ অক্টোবর) বিহারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী শ্রীকৃষ্ণ সিংয়ের ১৩৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানী পাটনায় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বক্তব্য দেন খাড়গে। এ সময় দর্শকদের মধ্য থেকে সন্তোষ কুমার নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘জনগণ বিদ্রোহ না করলে মোদি যাবেন না’।

তার জবাবে খার্গে বলেন, ‘মোদি কা বাপ ভি জায়েগা’ (মোদি নয়, তার বাবাকে যেতে হবে)। কংগ্রেস সভাপতির এই বক্তব্যকে মোদির প্রয়াত বাবাকে লক্ষ্য করে অবমাননাকর মন্তব্য হিসেবে ব্যাখ্যা করে বিজেপি।

দলটির অভিযোগ, রাজনৈতিক মতবিরোধের কারণে কোনো নেতার প্রয়াত বাবাকে নিয়ে এ ধরনের মন্তব্য করা অনুচিত এবং এটি রাজনৈতিক শিষ্টাচারের সীমা লঙ্ঘন করেছে।

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং খাড়গের মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, ‘এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক… এই পুরো ঘটনাটির সবচেয়ে হতবাক করার মতো বিষয় হলো, এই মন্তব্যগুলো কোনো সাধারণ কংগ্রেস কর্মী বা যুব নেতা করেননি, বরং করেছেন এমন একটি দলের জাতীয় সভাপতি, যে দলটি নিজেদের দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল বলে দাবি করে।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘কংগ্রেস ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করার পরিবর্তে বক্তব্যটির পক্ষে যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করছে’।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী খাড়গের পাশাপাশি কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধীকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘বিজেপি রাহুল গান্ধীর অপরিণত আচরণের কথা জানত, কিন্তু এখন মনে হচ্ছে খারাপ সঙ্গ রাখার কারণে দলের অন্যরাও সংক্রমিত হয়েছেন’।

কংগ্রেসের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক বিরোধিতার নামে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রসঙ্গ টেনে আনা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য উচিত নয়।

অন্যদিকে সোমবার নয়াদিল্লি, মুম্বাই, পাটনা, রাঁচি, কলকাতা, জম্মু ও বেঙ্গালুরুর মতো দেশটির প্রধান শহর ও বিভিন্ন রাজ্যে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

এনডিটিভি জানিয়েছে, রাজধানী নয়াদিল্লিতে খার্গের বাসভবনের কাছে বিক্ষোভ করেন বিজেপি নেতাকর্মীরা। তারা তার বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। বিহারের পাটনায় বিজেপির নেতাকর্মীরা ‘জন আক্রোশ মার্চ’ বের করেন এবং খার্গের কুশপুত্তলিকা পোড়ান। বেঙ্গালুরু, লখনৌ ও জম্মুতেও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়।

এছাড়াও বিজেপির এক কর্মী খাড়গের বিরুদ্ধে পাটনায় পুলিশের কাছে অভিযোগও দায়ের করেছেন। অভিযোগকারী খার্গের কাছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানিয়েছেন।

এদিকে কংগ্রেস বিজেপির অভিযোগের পাল্টা জবাবে বলছে, পাটনার অনুষ্ঠানে খাড়গে বক্তব্য দেওয়ার সময় এক ব্যক্তি তার প্রয়াত বাবাকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন।

কংগ্রেসের মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান পবন খেরা দাবি করেন, ওই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় খাড়গে মন্তব্যটি করেছিলেন এবং তিনি মোদির ‘আদর্শিক পিতা’ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএসকে) বোঝাতে চেয়েছিলেন।

সূত্র: এনডিটিভি, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

কালের আলো/এসআর/এএ্রএন