গুলশানের ‘কিংফিশার’ বারে গোপন বেজমেন্টে মিলল কোটি টাকার বিদেশি মদ!
রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশানে ‘কিংফিশার’ বার ও রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে প্রায় চার কোটি টাকা মূল্যের অবৈধ বিদেশি মদ ও বিয়ার জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আওতাধীন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। অভিযানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৮২৭ লিটার বিদেশি মদ ও ৫৩৩ লিটার বিয়ার জব্দ করা হয়। রেস্তোরাঁটির ভেতরে মাছ ও স্টেকের বিজ্ঞাপনসংবলিত একটি বিলবোর্ডের আড়ালে পাসওয়ার্ড-সুরক্ষিত গোপন বেজমেন্টের সন্ধান পান কর্মকর্তারা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর আইডিবি ভবনে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক রিজভি আহমেদ। তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত শনিবার (২৪ অক্টোবর) অভিযান চালিয়ে এসব মদ ও বিয়ার জব্দ করা হয়।
বিলবোর্ডের পেছনে গোপন কক্ষ, ছিল সিসিটিভি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা
অভিযান চলাকালে রেস্তোরাঁর দৃশ্যমান তাকগুলোতে গ্রাহকের সংখ্যার তুলনায় বেশি পরিমাণ মদ দেখতে পান গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এতে সন্দেহ হলে রেস্তোরাঁর ভূগর্ভস্থ সিঁড়ি ও বারের ভেতরের অংশে তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে সন্ধান মেলে একটি গোপন বেজমেন্টের।
বেজমেন্টে প্রবেশের দরজাটি মাছ ও স্টেকের বিজ্ঞাপনসংবলিত একটি বিলবোর্ড দিয়ে আড়াল করা ছিল। দরজাটি স্ক্রু দিয়ে আটকানো ছিল। সেখানে ছিল পাসওয়ার্ড-সুরক্ষিত আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সিসিটিভি ক্যামেরা।
কর্মকর্তারা বিলবোর্ড সরিয়ে দরজা খোলার চেষ্টা করলে ভেতরে থাকা ব্যক্তিরা চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং অভিযানে অসহযোগিতা করেন বলে জানানো হয়। পরে আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগ করে দরজা ভেঙে গোপন কক্ষে প্রবেশ করেন যৌথ অভিযানের কর্মকর্তারা।
জব্দ ৮২৭ লিটার বিদেশি মদ, বাজারমূল্য প্রায় চার কোটি টাকা
গোপন কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন বিদেশি ব্র্যান্ডের বিপুল পরিমাণ মদ উদ্ধার করা হয়। এসব মদ মজুতের পক্ষে সংশ্লিষ্টরা কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
জব্দ করা মদের মধ্যে রয়েছে ভ্যাট ৬৯, চিভাস, ব্ল্যাক লেবেল, রেড লেবেল, জ্যাক ড্যানিয়েলস, গোল্ড লেবেল, রয়্যাল চ্যালেঞ্জ ও অ্যাবসলুট ভদকাসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ৮২৭ লিটার বিদেশি মদ। এসব মদের আনুমানিক বাজারমূল্য চার কোটি ৯৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া হান্টারসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোট ৫৩৩ লিটার বিদেশি বিয়ার জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক রাজস্ব হিসাব অনুযায়ী, সব মিলিয়ে জব্দ করা মদ ও বিয়ারের চালানের আনুমানিক মূল্য প্রায় চার কোটি টাকা।
এনবিআরের চার দপ্তরের যৌথ অভিযান
রিজভি আহমেদ জানান, গোয়েন্দা তথ্য যাচাই-বাছাই করে এর সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর এনবিআরের নির্দেশে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে এনবিআরের চারটি দপ্তর—সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর, ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের কর্মকর্তারা অংশ নেন। অভিযানে এসআরবিসহ প্রায় সাত থেকে আটটি নিরাপত্তা দল সার্বক্ষণিক সহায়তা দেয়।
রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানায়, বৈধ আমদানি এবং শুল্ক-কর পরিশোধের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় জব্দ করা পণ্যের উৎস, আমদানি প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক কার্যক্রম খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অবৈধভাবে বিদেশি মদ ও বিয়ার মজুত এবং এর মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের অতিরিক্ত কর কমিশনার মুস্তবা ইসতিয়াক আহমদ, মূল্য সংযোজন কর নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের যুগ্ম পরিচালক ইমাম গাজ্জালী, সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের সহকারী পরিচালক মহিবউল ইসলাম এবং কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী আল মাসুম।
কালের আলো/এএন/এমএসআইপি
আপনার মতামত লিখুন
[gs-fb-comments]