খুঁজুন
                               
, ,
           

সংশোধনাগারে ধারণক্ষমতার তিন গুণ শিশু, মুক্তির পরও অপরাধের ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৮ অপরাহ্ণ
সংশোধনাগারে ধারণক্ষমতার তিন গুণ শিশু, মুক্তির পরও অপরাধের ঝুঁকি

সংশোধনের আশায় শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয় অপরাধে জড়িয়ে পড়া কিশোরদের। লক্ষ্য থাকে, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা। কিন্তু সংশোধনাগারের সীমাবদ্ধতা, পারিবারিক তদারকির অভাব এবং অপরাধপ্রবণ সঙ্গের প্রভাবের কারণে অনেক কিশোর মুক্তির পরও পুরোনো অপরাধজগতে ফিরে যাচ্ছে। কেউ ফিরছে পরিবারের কাছে, কেউ আবার জড়িয়ে পড়ছে নতুন অপরাধে।

গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের চিত্র এই সংকটেরই প্রতিফলন। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বালক কেন্দ্রে ৩০০ আসনের বিপরীতে বর্তমানে রয়েছে ৯৮০ জন শিশু-কিশোর। অর্থাৎ ধারণক্ষমতার তিন গুণেরও বেশি বন্দিকে নিয়ে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

গত ১৩ অক্টোবর কেন্দ্রটির সামনে দেখা যায়, স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় রয়েছেন বহু মা-বাবা। কারও হাতে সন্তানের জন্য কেক, কলা ও চিপস, কারও চোখে সন্তানকে একনজর দেখার আকুলতা। হত্যা মামলায় বন্দি ১৬ বছরের ছেলেকে দেখতে আসা এক মা বলেন, অপরাধের অভিযোগ থাকলেও সন্তান তো তাঁরই। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে গিয়ে তাঁর ছেলে আজ হত্যা মামলার আসামি।

একইভাবে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় বন্দি ১৬ বছরের ছেলেকে দেখতে নিয়মিত আসেন কামরাঙ্গীরচরের রিকশাচালক রিপন মিয়া। তাঁর আক্ষেপ, যে ছেলের স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল, সে এখন সংশোধনাগারে বন্দি।

কেন্দ্রের সাক্ষাৎকক্ষেও দেখা যায় আবেগঘন পরিবেশ। স্বজনদের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর কেউ সন্তানের শুকিয়ে যাওয়া চেহারা দেখে উদ্বিগ্ন হন, কেউ খাবার নিয়ে আদর করে খাইয়ে দেন। গরাদের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মা-বাবা ও সন্তানদের চোখের পানি যেন তুলে ধরে অপরাধের পরিণতিতে একটি পরিবারের ভেঙে পড়ার চিত্র।

প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার উদ্যোগ

কেন্দ্রের ভেতরে শিশু-কিশোরদের জন্য রয়েছে পড়াশোনা ও বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। কম্পিউটার, কাঠশিল্প, ইলেকট্রনিকস ও দর্জি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষ করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বন্দিদের মধ্য থেকেই ‘ক্যাপ্টেন’ নির্বাচন করা হয়। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, শারীরিক শাস্তির পরিবর্তে পড়াশোনা, বই পড়া ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের সংশোধনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক মো. এমরান খানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত বন্দির চাপের পাশাপাশি জনবল ও স্যানিটেশনসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। প্রতি ৪০ শিশুর জন্য মাত্র একটি বাথরুম থাকায় স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

কোন অপরাধে কতজন

কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে থাকা শিশু-কিশোরদের মধ্যে ২৩ দশমিক ৯১ শতাংশ নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামি। চুরি ও ছিনতাইয়ের মামলায় ২১ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং হত্যা মামলায় ১৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ রয়েছে। এ ছাড়া মাদকসংক্রান্ত মামলায় ১৬ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং বিস্ফোরক ও অস্ত্রসংক্রান্ত মামলায় ৮ দশমিক ৭০ শতাংশ শিশু-কিশোর বন্দি রয়েছে। বয়সের হিসাবে ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ।

প্রতিবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কেন্দ্রের প্রায় ৬০ শতাংশ শিশু-কিশোর সচ্ছল বা উচ্চবিত্ত পরিবারের। পারিবারিক তদারকির ঘাটতি, অবাধ স্বাধীনতা এবং বন্ধুদের নেতিবাচক প্রভাব তাদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

ব্যয় ও ব্যবস্থাপনায় চাপ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকার নির্ধারিত বাজেটে প্রতি শিশুর জন্য মাসিক বরাদ্দ ৫ হাজার টাকা। তবে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও অনুদানসহ অন্যান্য উৎস মিলিয়ে প্রতি শিশুর পেছনে বাস্তব প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয় প্রায় ১৪ হাজার ২৪০ টাকা বলে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

খাবারের তালিকায় সকালের নাশতায় ভাত-আলুভর্তা বা খিচুড়ি, দুপুরে মাছ, মাংস, সবজি ও ডাল এবং রাতে নিয়মিত খাবার দেওয়া হয়। এ ছাড়া সপ্তাহে চারবার টেলিফোনে এবং মাসে চারবার সরাসরি স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে।

মুক্তির পরও ফেরার ঝুঁকি

সংশোধনাগারে থাকা সব শিশু-কিশোর যে অপরাধ থেকে ফিরে আসছে, তা নয়। ফেনীর ১৫ বছরের ইসাহাকের ঘটনাটি সেই চ্যালেঞ্জের উদাহরণ। বারবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় তাঁর বাবা নিজেই আদালতের মাধ্যমে তাঁকে সংশোধনাগারে পাঠিয়েছিলেন। পরে ছেলেকে বাড়ি ফিরিয়ে নিতে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। অনুমতি পাওয়ার পর সন্তানকে নিয়ে ফিরলেও ভবিষ্যতে সে আবার অপরাধে জড়াবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।

সংশোধনাগারের উদ্দেশ্য কেবল অপরাধে জড়িয়ে পড়া শিশু-কিশোরদের আটক রাখা নয়; বরং তাদের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন এনে সমাজে পুনর্বাসন করা। সে জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত আবাসন, জনবল, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, মানসিক সহায়তা, মানসম্মত শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ। একই সঙ্গে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি।

টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের বাস্তবতা দেখাচ্ছে, সংশোধনের সুযোগ তৈরি করাই যথেষ্ট নয়; মুক্তির পরও শিশু-কিশোরদের পাশে থাকতে হবে। তা না হলে সংশোধনাগার থেকে বাড়ি ফেরা অনেকেই আবার পুরোনো অপরাধচক্রে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

সাংবাদিকদের নিয়ে মন্তব্য, আইজিপিকে ডিআরইউর হুঁশিয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৯ অপরাহ্ণ
সাংবাদিকদের নিয়ে মন্তব্য, আইজিপিকে ডিআরইউর হুঁশিয়ারি

সাংবাদিকদের নিয়ে দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার জন্য পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরকে আলটিমেটাম দিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্ষমা না চাইলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দেওয়া এক বিবৃতিতে ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল আইজিপির বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

এর আগে সোমবার পুরান ঢাকার চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘মাদকের টাকা না পেলে সাংবাদিকরা লিখছেন পুলিশ অকার্যকর। বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে এমন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।’

আইজিপির এ বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে ডিআরইউ নেতারা বলেন, সাংবাদিকদের পেশাদারত্ব ও সততা নিয়ে এ ধরনের ঢালাও মন্তব্য স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থি। মাদক কারবার, অপরাধ, অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব। দায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তারা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কোনো পুলিশ সদস্যের সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি করতে হবে। ঢালাও নেতিবাচক মন্তব্যের মাধ্যমে সাংবাদিক সমাজের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি গণমাধ্যমের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ডিআরইউ নেতারা আইজিপির বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। তারা বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা না চাইলে স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের মর্যাদা রক্ষায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

গ্রিড বিপর্যয়ে বিদ্যুৎহীন সচিবালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
গ্রিড বিপর্যয়ে বিদ্যুৎহীন সচিবালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা

গ্রিড বিপর্যয়ের কারণে সচিবালয়সহ রাজধানীর পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা এবং চট্টগ্রামের একাংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ জানিয়েছে, ঢাকার ভুলতা, হরিপুর, সিদ্ধিরগঞ্জ, গুলশান, রামপুরা, উলন ও মতিঝিলসহ পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। চট্টগ্রামের একাংশেও বিদ্যুৎ নেই।

সচিবালয়ের পূর্ত মন্ত্রণালয়ে বিদ্যুতের দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা জানান, ডিপিডিসি থেকে তাকে জানানো হয়েছে, গ্রিড বিপর্যয়ের কারণে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

তবে ঠিক কোন গ্রিডে বিপর্যয় ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)। প্রাথমিকভাবে ধানমন্ডি-উলন গ্রিডে বিপর্যয় ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ার কারিগরি কারণ এখনো শনাক্ত করা যায়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সিস্টেম পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। প্রকৌশলীরা ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করছেন। জাতীয় গ্রিডের কার্যক্রম ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টারের (এনএলডিসি) নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, দেশের উত্তরাঞ্চলসহ অন্যান্য এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল ও স্বাভাবিক রয়েছে।

এদিকে রাজধানীর সচিবালয় ও আশপাশের এলাকা, মগবাজার, মধুবাগ, শান্তিনগর, মালিবাগ ও খিলগাঁওসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকার খবর পাওয়া গেছে। তবে কখন নাগাদ পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

মাধ্যমিকে জয়, উচ্চশিক্ষায় ক্ষয়

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৩৩ অপরাহ্ণ
মাধ্যমিকে জয়, উচ্চশিক্ষায় ক্ষয়

স্কুলে মেয়েদের জয়যাত্রা, কলেজেও সংখ্যাগরিষ্ঠ; কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজায় পৌঁছাতেই বদলে যায় হিসাব। মাধ্যমিকে যেখানে মোট শিক্ষার্থীর ৫৪.৬৭ শতাংশ মেয়ে, কলেজে ৫১.৯১ শতাংশ, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের অংশ মাত্র ৩৯.৩৪ শতাংশ। কর্মসংস্থানমুখী কারিগরি শিক্ষায় তা আরও কম—২৯.৭১ শতাংশ। আর ডিপ্লোমা পর্যায়ে নারী শিক্ষার্থীর হার নেমে এসেছে ২৩.৮২ শতাংশে। অর্থাৎ শিক্ষার প্রাথমিক ধাপগুলোতে এগিয়ে থাকা মেয়েদের অগ্রযাত্রা উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে এসে আর সমান গতিতে এগোচ্ছে না।

  • মাধ্যমিক ও কলেজে মেয়েরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থী ৩৯ শতাংশ
  • কারিগরি শিক্ষায় ৩০ শতাংশেরও কম, ডিপ্লোমায় মাত্র ২৩.৮২ শতাংশ
  • শিক্ষার সিঁড়ি পেরোতে পেরোতে কমছে নারীর অংশগ্রহণ

বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) _শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২৫_ প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে নারীশিক্ষার এই বৈপরীত্য। একদিকে মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে মেয়েরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি শিক্ষা ও পেশাগত জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম। ফলে শিক্ষায় প্রবেশের সুযোগ বাড়লেও সেই অগ্রগতিকে উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনে সমানভাবে রূপান্তর করা যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

মাধ্যমিক-কলেজে অগ্রগতি, বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবধান
গত এক দশকে মাধ্যমিক পর্যায়ে নারী শিক্ষার্থীর অংশ বেড়েছে ধারাবাহিকভাবে। ২০১৫ সালে এ পর্যায়ের মোট শিক্ষার্থীর ৫৩.৩১ শতাংশ ছিল মেয়ে। ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪.৬৭ শতাংশে। অর্থাৎ দশ বছরে নারীর অংশ বেড়েছে ১.৩৬ শতাংশ।

কলেজ পর্যায়ে অগ্রগতি আরও স্পষ্ট। ২০১৫ সালে কলেজের মোট শিক্ষার্থীর ৪৬.৪৬ শতাংশ ছিলেন নারী। ২০২০ সালে তা বেড়ে হয় ৫০.৫৫ শতাংশ। ২০২৫ সালে নারী শিক্ষার্থীর অংশ দাঁড়ায় ৫১.৯১ শতাংশে। এক দশকে বেড়েছে ৫.৪৫ শতাংশ।

শুধু অংশগ্রহণের হার নয়, বেড়েছে নারী শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। ২০১৫ সালে কলেজে নারী শিক্ষার্থী ছিলেন ১৭ লাখ ৯ হাজার ১৭১ জন। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৩ লাখ ৮১ হাজার ১২৩ জনে। অর্থাৎ এক দশকে কলেজ পর্যায়ে নারী শিক্ষার্থী বেড়েছেন প্রায় ৬ লাখ ৭২ হাজার।

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে এই চিত্র আর একই রকম থাকছে না। ২০১৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর ৩২.৮৫ শতাংশ ছিলেন নারী। ২০২০ সালে এ হার বেড়ে হয় ৩৫.১৯ শতাংশ। ২০২৫ সালে তা দাঁড়িয়েছে ৩৯.৩৪ শতাংশে। অর্থাৎ নারীর অংশগ্রহণ বাড়লেও বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থীর অর্ধেকের অনেক নিচে রয়ে গেছে তাদের অবস্থান।

ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশের ১৭৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থী ছিলেন ১১ লাখ ১৩ হাজার ৯৮২ জন। তাঁদের মধ্যে নারী ৪ লাখ ৩৮ হাজার ২৬২ জন। অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর ৩৯.৩৪ শতাংশ নারী।

উচ্চশিক্ষার পথে বাধা কোথায়?
শিক্ষার এক স্তর থেকে অন্য স্তরে যাওয়ার সময় মেয়েদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজনীন ইসলামের মতে, পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য, নিরাপদ যাতায়াত ও আবাসনের অভাব, বাল্যবিয়ে, পারিবারিক দায়িত্ব এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিশেষ করে উচ্চমাধ্যমিকের পর বাড়ির বাইরে গিয়ে পড়াশোনার প্রয়োজন হলে নিরাপদ আবাসন ও যাতায়াতের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলে উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন করাও কঠিন হতে পারে। এর সঙ্গে বিয়ে, সংসার ও পরিবারের দায়িত্ব যুক্ত হলে অনেক মেয়ের পক্ষে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া আরও জটিল হয়ে পড়ে।

অধ্যাপক নাজনীন ইসলামের মতে, ১২ বছরের শিক্ষাজীবন শেষ করার পর একটি মেয়ে কেন উচ্চশিক্ষায় গিয়ে আর এগোতে পারছে না, তা চিহ্নিত করা সরকারের দায়িত্ব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মজিবুর রহমানও মনে করেন, শিক্ষার এক স্তর থেকে অন্য স্তরে যাওয়ার পথে মেয়েদের অংশগ্রহণ কমে যাওয়ার কারণগুলো শনাক্ত করা জরুরি। উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সীমিত সুযোগ, পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য, নিরাপদ যাতায়াত ও আবাসনের সংকট, বাল্যবিয়ে এবং পারিবারিক দায়িত্ব এ ব্যবধান তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে মাধ্যমিক বা কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে ঠিক কতজন মেয়ে ঝরে পড়ছে, কিংবা কী কারণে তারা উচ্চশিক্ষায় যেতে পারছে না, ব্যানবেইসের পরিসংখ্যানে তার সরাসরি ব্যাখ্যা নেই। বিভিন্ন স্তরে নারী শিক্ষার্থীর অংশের তুলনা ব্যবধানের ইঙ্গিত দিলেও এর পেছনের কারণ নিশ্চিত করে না। এ জন্য স্তরভিত্তিক উত্তরণের হার, ঝরে পড়ার প্রবণতা, অঞ্চলভেদে সুযোগ এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে নারীর অংশগ্রহণ নিয়ে আরও অনুসন্ধান প্রয়োজন।

কারিগরি শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ আরও কম
সাধারণ শিক্ষায় মেয়েরা এগিয়ে থাকলেও কর্মসংস্থানমুখী কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় তাদের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে কম। ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশের ১০ হাজার ৫২১টি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মোট শিক্ষার্থী ছিলেন ১৩ লাখ ৫৭ হাজার ৮৯৪ জন। তাঁদের মধ্যে নারী ৪ লাখ ৩ হাজার ৪৫৮ জন। অর্থাৎ এ খাতের মোট শিক্ষার্থীর মাত্র ২৯.৭১ শতাংশ নারী।

ডিপ্লোমা পর্যায়ে ব্যবধান আরও বেশি। সেখানে নারী শিক্ষার্থীর অংশ মাত্র ২৩.৮২ শতাংশ। অর্থাৎ কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় প্রতি চারজন শিক্ষার্থীর মধ্যে নারী রয়েছেন একজনেরও কম।

এই চিত্র গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কারিগরি শিক্ষা ও পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করে। এ ধারায় নারীর অংশগ্রহণ কম থাকলে দক্ষতা উন্নয়ন ও পেশাগত প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও নারী-পুরুষের ব্যবধান তৈরি হতে পারে।

তবে সামগ্রিক অংশগ্রহণের হার দিয়ে সমস্যার পুরো চিত্র বোঝা সম্ভব নয়। কোন বিষয়ে মেয়েরা বেশি বা কম ভর্তি হচ্ছেন, প্রশিক্ষণ শেষ করার হার কত, প্রশিক্ষণ শেষে কতজন কর্মসংস্থানে প্রবেশ করছেন এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবেশ নারীদের জন্য কতটা উপযোগী—এসব তথ্যও বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

শিক্ষকতায়ও উচ্চপর্যায়ে কম নারী
শিক্ষার্থী হিসেবে নারীর অংশগ্রহণের পাশাপাশি শিক্ষকতার ক্ষেত্রেও উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষায় উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে। ব্যানবেইসের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ১৭৪টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষক ৩৪ হাজার ৮৩১ জন। তাঁদের মধ্যে নারী ১০ হাজার ৬১৮ জন, যা মোট শিক্ষকের ৩০.৪৮ শতাংশ।

সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষকের অংশ ২৭.৮৭ শতাংশ। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ হার ৩৩.১৪ শতাংশ। অন্যদিকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় নারী শিক্ষকের অংশ ২৬.১৮ শতাংশ।

তবে প্রাথমিক শিক্ষায় চিত্রটি ভিন্ন। প্রাথমিক শিক্ষা তথ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের (আইপিইএমআইএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষক ৩ লাখ ৭১ হাজার ৯২৮ জন। তাঁদের মধ্যে নারী ২ লাখ ৪৮ হাজার ৭৯৫ জন। অর্থাৎ নারী শিক্ষকের অংশ প্রায় ৬৬.৮৯ শতাংশ। পুরুষ শিক্ষক রয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ২০৩ জন, যা মোট শিক্ষকের প্রায় ৩৩.১১ শতাংশ।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে নারীদের জন্য ৬০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের বিষয়টি এ পর্যায়ে নারী শিক্ষকের অংশ বেশি থাকার অন্যতম কারণ। প্রাথমিক শিক্ষায় নারীর সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষায় তাঁদের কম উপস্থিতি উচ্চতর পর্যায়ে নারী শিক্ষকের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তবে এই পরিসংখ্যান থেকেই নারী শিক্ষক কম থাকার নির্দিষ্ট কারণ কিংবা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক নির্ধারণ করা যায় না। নিয়োগ, পদোন্নতি, গবেষণার সুযোগ, বিষয়ভিত্তিক যোগ্যতা ও কর্মপরিবেশের তথ্যও বিবেচনায় নিতে হবে।

সরকারি চাকরিতে ক্যাডারভেদে ভিন্ন চিত্র
শিক্ষা থেকে কর্মজীবনে প্রবেশের ক্ষেত্রেও নারীর অগ্রগতি সব জায়গায় সমান নয়। ৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত সুপারিশের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রশাসন, পুলিশ ও পররাষ্ট্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ ক্যাডারে নারী সুপারিশপ্রাপ্তির সংখ্যা তুলনামূলক কম।

প্রশাসন ক্যাডারের ১৫৯টি পদের বিপরীতে নারী সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন মাত্র ৯ জন। পুলিশ ক্যাডারে ৬৪ জনের মধ্যে নারী চারজন এবং পররাষ্ট্র ক্যাডারে ১৩ জনের মধ্যে নারী তিনজন। এ ছাড়া আনসার ক্যাডারে একজন, নিরীক্ষা ও হিসাবে পাঁচজন এবং কর ক্যাডারে তিনজন নারী সুপারিশ পেয়েছেন।

এই বিসিএসে মোট ৯৩৪ জন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীর মধ্যে নারী ছিলেন ২৪৯ জন। সাধারণ ক্যাডারের ৪৪৯টি পদের মধ্যে নারীরা পেয়েছেন ৮৫টি। অন্যদিকে কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারে ৮৮৫টি পদের বিপরীতে নারী সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন ১৬৪ জন।

বিশেষ বিসিএসে অবশ্য ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। ৩৯তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৪ হাজার ৭৯২ জন চিকিৎসক নিয়োগের ক্ষেত্রে নারীরা ৪৭ শতাংশের বেশি সুযোগ পেয়েছিলেন। ৪২তম বিশেষ বিসিএসেও নারী সুপারিশপ্রাপ্তির হার ছিল প্রায় ৪৯.২ শতাংশ।

কৃষি ও শিক্ষা ক্যাডারেও নারীদের তুলনামূলক ভালো প্রতিনিধিত্ব দেখা যায়। কৃষি ক্যাডারের ৮৫টি পদের বিপরীতে নারীরা পেয়েছেন ৪৩টি। শিক্ষা ক্যাডারের ইংরেজি, অর্থনীতি, বাংলা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য বিষয়ের বিভিন্ন পদেও নারী প্রার্থীদের সুপারিশপ্রাপ্তির চিত্র তুলনামূলক ইতিবাচক।

ক্যাডারভেদে এই পার্থক্য থেকে বোঝা যায়, সরকারি চাকরিতে নারীর অংশগ্রহণের ধরন নিয়োগের ক্ষেত্র অনুযায়ী বদলে যায়। তবে শুধু সুপারিশপ্রাপ্তির সংখ্যা দিয়ে নারীদের আগ্রহ, যোগ্যতা কিংবা নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বৈষম্যের মাত্রা নির্ধারণ করা যায় না। আবেদনকারীর সংখ্যা, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার হার, পদসংখ্যা ও নিয়োগের শর্তসহ সংশ্লিষ্ট তথ্যও বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

প্রয়োজন লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগ
বাংলাদেশে মেয়েদের শিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়ার সাফল্য স্পষ্ট। মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা দীর্ঘদিনের অগ্রগতির প্রতিফলন। কিন্তু এই সাফল্যকে পূর্ণাঙ্গ অর্জনে রূপ দিতে হলে উচ্চশিক্ষা, দক্ষতাভিত্তিক প্রশিক্ষণ এবং কর্মজীবনে প্রবেশের ক্ষেত্রেও ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা জরুরি।

এ জন্য প্রথমেই শনাক্ত করতে হবে, শিক্ষার কোন পর্যায়ে মেয়েদের অগ্রযাত্রা বেশি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং এর পেছনে কোন কারণগুলো কাজ করছে। আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহায়তা, নিরাপদ যাতায়াত ও আবাসন, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ এবং শিক্ষাবান্ধব সামাজিক পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

কারিগরি শিক্ষায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রশিক্ষণের সুযোগ, বিষয় নির্বাচনের স্বাধীনতা, নিরাপদ ব্যবহারিক পরিবেশ এবং প্রশিক্ষণ-পরবর্তী কর্মসংস্থানের বাস্তবতা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি চাকরিতে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হলে ভর্তি, উত্তরণ, নিয়োগ এবং কর্মজীবনে টিকে থাকার প্রতিটি ধাপের তথ্য বিশ্লেষণ করতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নারীশিক্ষার অগ্রগতি শুধু স্কুলে ভর্তি কিংবা মাধ্যমিক ও কলেজে অংশগ্রহণের হার দিয়ে বিচার না করা। কতজন মেয়ে উচ্চশিক্ষায় পৌঁছাচ্ছে, কতজন দক্ষতা অর্জন করছে এবং কতজন নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে—সেই হিসাবও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে।

মাধ্যমিক ও কলেজে মেয়েরা এগিয়ে—এটি বাংলাদেশের নারীশিক্ষার বড় অর্জন। এখন চ্যালেঞ্জ সেই অগ্রযাত্রাকে বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্র পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া। শিক্ষার প্রতিটি ধাপে মেয়েদের জন্য সুযোগ নিশ্চিত করা না গেলে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের সাফল্য পূর্ণাঙ্গ সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে রূপ নেওয়ার পথেই থেকে যাবে বড় প্রশ্ন।

কালের আলো/টিইকে/এমকে