খুঁজুন
                               
, ,
           

যুদ্ধবিরতি ভেঙে সংঘাত, সৌদিকে লক্ষ্য করে ফের হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক , কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১২ অপরাহ্ণ
যুদ্ধবিরতি ভেঙে সংঘাত, সৌদিকে লক্ষ্য করে ফের হামলা

সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চল লক্ষ্য করে আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের দাবি, ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের ছোড়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও চারটি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ার মধ্যেই মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এ তথ্য জানিয়েছে জোটটি।

জোটের ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের দিকে তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে চারটি ড্রোন ছোড়া হয়। তবে এসব হামলায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংসের দাবি
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।

একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের দিকে ছোড়া চারটি ড্রোনও প্রতিহত করার দাবি করেছে জোট। হামলার বিষয়ে হুতিদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সৌদি সিভিল ডিফেন্স পূর্বাঞ্চল ও খারজ গভর্নরেটে আগাম সতর্কতা জারি করেছিল। পরে সংস্থাটি জানায়, উভয় এলাকায় বিপদ কেটে গেছে।

লোহিত সাগর ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা
সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের কৌশলগত এলাকাগুলো ঘিরে হুতিদের তৎপরতা এবং সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক পদক্ষেপে আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়েছে। গত মাসে লোহিত সাগর উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে হুতিদের অগ্রযাত্রার পর তাদের বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

এ সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর একটি বাব আল-মানদেব প্রণালি। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই নৌপথ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল রপ্তানিসহ বৈশ্বিক পণ্য পরিবহনে এ পথের কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। ফলে প্রণালিটি ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ও জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

ভেঙেছে যুদ্ধবিরতি, নতুন করে সংঘাত
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত অনেকটাই কমে আসে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই বিরতি ভেঙে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও লড়াই শুরু হয়েছে।

ইয়েমেনের রাজধানী সানাসহ দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে। অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে।

সাম্প্রতিক সংঘাতে সৌদি আরবের বিমানবন্দর, জ্বালানি অবকাঠামো ও বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনাও সামনে এসেছে। নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার এ ঘটনা দুই পক্ষের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।

কালের আলো/এমএসআইপি/জেএন

এল ক্লাসিকোয় হারের কারণ জানালেন পেদ্রি ও ফ্লিক

ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৫ অপরাহ্ণ
এল ক্লাসিকোয় হারের কারণ জানালেন পেদ্রি ও ফ্লিক

নিজেদের মাঠ ক্যাম্প ন্যুতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হার। লা লিগায় টানা নয় জয়ের পর এই পরাজয় বার্সেলোনার জন্য বড় ধাক্কা। হারের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নিজেদের ভুলের কথা স্বীকার করেছেন বার্সার মিডফিল্ডার পেদ্রি। অন্যদিকে কোচ হান্সি ফ্লিক মনে করছেন, খেলোয়াড়দের ক্লান্তি ও চোটের সমস্যাও দলের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছে।

ম্যাচের প্রথমার্ধে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারেনি বার্সেলোনা। বারবার বল হারানো এবং রক্ষণে ভুলের কারণে প্রতিপক্ষকে সুযোগ করে দিয়েছে তারা। পেদ্রির মতে, এসব ভুলের মাশুলই দিতে হয়েছে দলকে।

ম্যাচ শেষে পেদ্রি বলেন, ‘প্রথমার্ধে আমরা নিজেদের মতো খেলতে পারিনি। খুব ধীরগতিতে খেলেছি, আর অনেকবার বোকামি করে বল হারিয়েছি। এসব ভুলের মাশুল দিতে হয়েছে আমাদের। দ্বিতীয় গোলটার সময়ও আমরা ঠিকভাবে রক্ষণ সামলাতে পারিনি। ওরা দ্রুত আক্রমণে উঠেছিল, আর আমরা সেটা ঠেকাতে পারিনি।’

এক সপ্তাহে দ্বিতীয় হার বার্সার
লা লিগায় প্রথম নয় ম্যাচ জয়ের পর রিয়ালের কাছে হেরে থামল বার্সেলোনার জয়যাত্রা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১১ ম্যাচ জয়ের পর প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) কাছে হেরেছিল কাতালান ক্লাবটি। এবার এল ক্লাসিকোয় পরাজয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে টানা দ্বিতীয় হারের মুখ দেখল ফ্লিকের দল।

তবে এই হারকে দলের সামর্থ্য নিয়ে বড় কোনো সতর্কবার্তা হিসেবে দেখতে রাজি নন বার্সা কোচ। তাঁর মতে, খেলোয়াড়দের শারীরিক অবস্থা, ক্লান্তি এবং রক্ষণভাগে একাধিক খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতি পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছে।

ফ্লিক বলেন, ‘দুটি হার নিয়ে আমি হতাশ। তবে এটাকে রিয়েলিটি চেক বলব না। বিষয়টা হলো, খেলোয়াড়েরা কতটা সতেজ আছে এবং তাদের শারীরিক অবস্থা কেমন। প্রথমার্ধে আমরা ভালো খেলিনি, কিন্তু সমতা ফেরানোর পর দ্বিতীয়ার্ধে আমাদের খেলায় উন্নতি হয়েছিল। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমরা সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারিনি। রিয়াল আমাদের খুব বেশি জায়গা দেয়নি।’

ব্যস্ত সূচি ও ভ্রমণের ধকল
বার্সেলোনার সাম্প্রতিক ব্যস্ত সূচির কথাও তুলে ধরেছেন ফ্লিক। একের পর এক ম্যাচের পাশাপাশি দীর্ঘ ভ্রমণ ও হোটেলে অবস্থান খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে বলে মনে করেন তিনি।

বার্সা কোচ বলেন, ‘গত কয়েকটা সপ্তাহ সহজ ছিল না। আপনারা শুধু ম্যাচগুলোই দেখেন, কিন্তু সেভিয়ার পথে তিন ঘণ্টা বিমানে থাকা, হোটেলে ফেরা, এরপর প্যারিসে যাওয়া—এগুলো অনেক কিছু। তবে হেরে যাওয়ার পর আমি এ নিয়ে কথা বলতে চাই না; জেতার সময় এগুলো বলা ভালো।’

টানা দুই হারে হতাশা থাকলেও লা লিগার পয়েন্ট তালিকায় এখনো ২৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা। ফলে শিরোপার লড়াইয়ে এখনই পিছিয়ে পড়েছে, এমনটা বলার সুযোগ নেই।

এল ক্লাসিকোর জয় নয়, রিয়ালের লক্ষ্য শিরোপা
বার্সেলোনার মাঠে জয় পেলেও আত্মতুষ্টিতে ভুগতে চান না রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হোসে মরিনিও। তাঁর কাছে এল ক্লাসিকোর জয় গুরুত্বপূর্ণ হলেও মৌসুমের চূড়ান্ত লক্ষ্য লা লিগার শিরোপা জেতা।

ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে মরিনিও বলেন, ‘এটা দারুণ একটা জয়, কিন্তু কাজে ফেরার পর আমি কাউকে অতিরিক্ত আত্মতুষ্ট হতে দেব না। আজ জিতে যদি আমরা এল সারদিনেরোয় গিয়ে হেরে যাই, তাহলে আজকের জয়ের গুরুত্বও একই থাকবে না। কারণ, রিয়াল মাদ্রিদ ক্যাম্প ন্যুতে জেতার জন্য খেলে না। রিয়াল মাদ্রিদ শিরোপা জেতার জন্য খেলে। আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।’

এল ক্লাসিকোয় জয় নিয়ে উচ্ছ্বাস থাকলেও সামনে আরও কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে রিয়ালকে। অন্যদিকে বার্সেলোনার সামনে এখন ভুল শুধরে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ।

কালের আলো/এমএসআইপি/জেএন

শুধু ক্রিকেটারদের দোষ নয়, প্রস্তুতিতেও ঘাটতি দেখছে বিসিবি

ক্রীড়া প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৭ অপরাহ্ণ
শুধু ক্রিকেটারদের দোষ নয়, প্রস্তুতিতেও ঘাটতি দেখছে বিসিবি

টেস্ট ক্রিকেটে ভালো করলেও ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না বাংলাদেশ। সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর এবার ব্যর্থতার কারণ খুঁজতে নিজেদের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। শুধু ক্রিকেটারদের দায়ী না করে, তাদের প্রস্তুত করার প্রক্রিয়ায় কোনো ঘাটতি আছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখতে চান বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল।

এ লক্ষ্যে জাতীয় দলের কোচিং স্টাফ, অধিনায়ক, নির্বাচক এবং বিসিবির বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন তিনি। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার ওই সভায় জাতীয় দলের পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো ও অনুশীলনপদ্ধতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

ব্যর্থতার দায় শুধু ক্রিকেটারদের নয়
জাতীয় দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ক্রিকেটারদের পাশাপাশি বোর্ডের নিজস্ব কার্যক্রমও পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন তামিম। তাঁর মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পেছনে খেলোয়াড়দের ঘাটতি যেমন থাকতে পারে, তেমনি তাদের প্রস্তুত করার পদ্ধতিতেও সমস্যা থাকতে পারে।

বৈঠক শেষে তামিম বলেন, ‘যে কোনো ব্যর্থতার জন্য শুধু খেলোয়াড়দের দিকে আঙুল তোলার আগে আমরা নিজেদের মধ্যে কথা বলে বুঝতে চেয়েছি, আমাদের কোনো ভুলের জন্য তারা খারাপ খেলছে কি না, তাদের ওয়ানডের জন্য প্রস্তুত করায় প্রক্রিয়াগত কোনো ভুল আছে কি না।’

বিসিবি সভাপতির ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে আলোচনায় বেশ কিছু বিষয় উঠে এসেছে। সেগুলোর সমাধান খুঁজে বের করার কাজ ভবিষ্যতে জাতীয় দলসহ ক্রিকেটের অন্য পর্যায়েও চালানো হবে।

৩০০-৩৫০ রান করার অভ্যাস গড়তে নতুন উদ্যোগ
ওয়ানডে ক্রিকেটে বড় সংগ্রহ গড়া কিংবা বড় লক্ষ্য তাড়া করার সক্ষমতা বাড়াতে ঘরোয়া ক্রিকেটের অনুশীলন ও প্রস্তুতিপদ্ধতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন দেখছে বিসিবি।

তামিমের মতে, জাতীয় দল ওয়ানডেতে ৩০০ থেকে ৩৫০ রান করতে চাইলে কিংবা এমন লক্ষ্য তাড়া করতে চাইলে ক্রিকেটারদের আগে থেকেই এ ধরনের পরিস্থিতিতে খেলার অভ্যাস থাকতে হবে। অথচ ঘরোয়া ৫০ ওভারের ক্রিকেটে প্রতি মৌসুমে খুব বেশি ম্যাচে এমন বড় লক্ষ্য তাড়া করার পরিস্থিতি তৈরি হয় না।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের জাতীয় দল ওয়ানডেতে ৩০০-৩৫০ করুক, ৩০০-৩৫০ রান তাড়া করুক। কিন্তু ঘরোয়া ৫০ ওভারের ক্রিকেটে কি তারা সেটা করছে? খুব বেশি হলে প্রতি মৌসুমে এ রকম দুই-তিনটা ম্যাচই হয়, যেখানে এত রান তাড়া করতে হয়। এখন ঘরোয়া ক্রিকেটেই যদি তাদের এই চর্চাটা না থাকে, তাহলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গিয়ে কীভাবে করবে!’

অনুশীলনেই থাকবে ম্যাচের চ্যালেঞ্জ
বড় লক্ষ্য তাড়া করার অভ্যাস গড়ে তুলতে ব্যাটসম্যান ও বোলারদের নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অনুশীলন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে বিসিবি। প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে ছয়-সাতজন ব্যাটসম্যানের বিপরীতে ছয়-সাতজন বোলার থাকবেন। ব্যাটসম্যানদের সামনে থাকবে ৩২০ থেকে ৩৫০ রান করার লক্ষ্য। নির্ধারিত ৫০ ওভারের মধ্যে সেই লক্ষ্য পূরণ করতে হবে তাঁদের। অন্যদিকে বোলারদের কাজ হবে ব্যাটসম্যানদের লক্ষ্য অর্জনে বাধা দেওয়া।

এ ধরনের অনুশীলনে ক্রিকেটাররা বাস্তব ম্যাচের চাপ, রান তোলার গতি এবং বড় লক্ষ্য তাড়া করার কৌশল নিয়ে কাজ করার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে বোলাররাও বড় সংগ্রহ আটকে দেওয়ার পরিস্থিতিতে নিজেদের দক্ষতা যাচাই করতে পারবেন।

তামিমের মতে, এটি বড় রান করার অভ্যাস তৈরির একটি সম্ভাব্য উপায়। সামনে বিভিন্ন পর্যায়ের দলের অনুশীলনেও এ ধরনের সেশন দেখা যেতে পারে।

ঘরোয়া ক্রিকেটেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত
বিসিবির পরিকল্পনা শুধু জাতীয় দলের অনুশীলনে সীমাবদ্ধ থাকছে না। ক্রিকেটারদের প্রস্তুতির ভিত্তি শক্ত করতে ঘরোয়া ক্রিকেটের বিভিন্ন পর্যায়েও প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের কথা ভাবছে বোর্ড।

ওয়ানডে ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা আনতে বড় লক্ষ্য নির্ধারণ, সেই লক্ষ্য অর্জনের অনুশীলন এবং ম্যাচের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো—এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিতে চায় বিসিবি।

তবে আলোচনায় উঠে আসা পরিকল্পনাগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তামিম। আপাতত ব্যর্থতার কারণ চিহ্নিত করে প্রস্তুতির ঘাটতি দূর করার দিকেই নজর দিচ্ছে বোর্ড।

কালের আলো/এএএন/জেএন

সংশোধনাগারে ধারণক্ষমতার তিন গুণ শিশু, মুক্তির পরও অপরাধের ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৮ অপরাহ্ণ
সংশোধনাগারে ধারণক্ষমতার তিন গুণ শিশু, মুক্তির পরও অপরাধের ঝুঁকি

সংশোধনের আশায় শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয় অপরাধে জড়িয়ে পড়া কিশোরদের। লক্ষ্য থাকে, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা। কিন্তু সংশোধনাগারের সীমাবদ্ধতা, পারিবারিক তদারকির অভাব এবং অপরাধপ্রবণ সঙ্গের প্রভাবের কারণে অনেক কিশোর মুক্তির পরও পুরোনো অপরাধজগতে ফিরে যাচ্ছে। কেউ ফিরছে পরিবারের কাছে, কেউ আবার জড়িয়ে পড়ছে নতুন অপরাধে।

গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের চিত্র এই সংকটেরই প্রতিফলন। ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বালক কেন্দ্রে ৩০০ আসনের বিপরীতে বর্তমানে রয়েছে ৯৮০ জন শিশু-কিশোর। অর্থাৎ ধারণক্ষমতার তিন গুণেরও বেশি বন্দিকে নিয়ে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

গত ১৩ অক্টোবর কেন্দ্রটির সামনে দেখা যায়, স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় রয়েছেন বহু মা-বাবা। কারও হাতে সন্তানের জন্য কেক, কলা ও চিপস, কারও চোখে সন্তানকে একনজর দেখার আকুলতা। হত্যা মামলায় বন্দি ১৬ বছরের ছেলেকে দেখতে আসা এক মা বলেন, অপরাধের অভিযোগ থাকলেও সন্তান তো তাঁরই। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিতে গিয়ে তাঁর ছেলে আজ হত্যা মামলার আসামি।

একইভাবে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় বন্দি ১৬ বছরের ছেলেকে দেখতে নিয়মিত আসেন কামরাঙ্গীরচরের রিকশাচালক রিপন মিয়া। তাঁর আক্ষেপ, যে ছেলের স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল, সে এখন সংশোধনাগারে বন্দি।

কেন্দ্রের সাক্ষাৎকক্ষেও দেখা যায় আবেগঘন পরিবেশ। স্বজনদের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর কেউ সন্তানের শুকিয়ে যাওয়া চেহারা দেখে উদ্বিগ্ন হন, কেউ খাবার নিয়ে আদর করে খাইয়ে দেন। গরাদের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মা-বাবা ও সন্তানদের চোখের পানি যেন তুলে ধরে অপরাধের পরিণতিতে একটি পরিবারের ভেঙে পড়ার চিত্র।

প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার উদ্যোগ

কেন্দ্রের ভেতরে শিশু-কিশোরদের জন্য রয়েছে পড়াশোনা ও বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা। কম্পিউটার, কাঠশিল্প, ইলেকট্রনিকস ও দর্জি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের দক্ষ করে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বন্দিদের মধ্য থেকেই ‘ক্যাপ্টেন’ নির্বাচন করা হয়। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, শারীরিক শাস্তির পরিবর্তে পড়াশোনা, বই পড়া ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের সংশোধনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক মো. এমরান খানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত বন্দির চাপের পাশাপাশি জনবল ও স্যানিটেশনসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। প্রতি ৪০ শিশুর জন্য মাত্র একটি বাথরুম থাকায় স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

কোন অপরাধে কতজন

কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে থাকা শিশু-কিশোরদের মধ্যে ২৩ দশমিক ৯১ শতাংশ নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামি। চুরি ও ছিনতাইয়ের মামলায় ২১ দশমিক ৭৪ শতাংশ এবং হত্যা মামলায় ১৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ রয়েছে। এ ছাড়া মাদকসংক্রান্ত মামলায় ১৬ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং বিস্ফোরক ও অস্ত্রসংক্রান্ত মামলায় ৮ দশমিক ৭০ শতাংশ শিশু-কিশোর বন্দি রয়েছে। বয়সের হিসাবে ১৬ থেকে ১৭ বছর বয়সীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ।

প্রতিবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কেন্দ্রের প্রায় ৬০ শতাংশ শিশু-কিশোর সচ্ছল বা উচ্চবিত্ত পরিবারের। পারিবারিক তদারকির ঘাটতি, অবাধ স্বাধীনতা এবং বন্ধুদের নেতিবাচক প্রভাব তাদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

ব্যয় ও ব্যবস্থাপনায় চাপ

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকার নির্ধারিত বাজেটে প্রতি শিশুর জন্য মাসিক বরাদ্দ ৫ হাজার টাকা। তবে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও অনুদানসহ অন্যান্য উৎস মিলিয়ে প্রতি শিশুর পেছনে বাস্তব প্রাতিষ্ঠানিক ব্যয় প্রায় ১৪ হাজার ২৪০ টাকা বলে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

খাবারের তালিকায় সকালের নাশতায় ভাত-আলুভর্তা বা খিচুড়ি, দুপুরে মাছ, মাংস, সবজি ও ডাল এবং রাতে নিয়মিত খাবার দেওয়া হয়। এ ছাড়া সপ্তাহে চারবার টেলিফোনে এবং মাসে চারবার সরাসরি স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে।

মুক্তির পরও ফেরার ঝুঁকি

সংশোধনাগারে থাকা সব শিশু-কিশোর যে অপরাধ থেকে ফিরে আসছে, তা নয়। ফেনীর ১৫ বছরের ইসাহাকের ঘটনাটি সেই চ্যালেঞ্জের উদাহরণ। বারবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় তাঁর বাবা নিজেই আদালতের মাধ্যমে তাঁকে সংশোধনাগারে পাঠিয়েছিলেন। পরে ছেলেকে বাড়ি ফিরিয়ে নিতে আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। অনুমতি পাওয়ার পর সন্তানকে নিয়ে ফিরলেও ভবিষ্যতে সে আবার অপরাধে জড়াবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে।

সংশোধনাগারের উদ্দেশ্য কেবল অপরাধে জড়িয়ে পড়া শিশু-কিশোরদের আটক রাখা নয়; বরং তাদের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন এনে সমাজে পুনর্বাসন করা। সে জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত আবাসন, জনবল, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, মানসিক সহায়তা, মানসম্মত শিক্ষা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ। একই সঙ্গে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি।

টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের বাস্তবতা দেখাচ্ছে, সংশোধনের সুযোগ তৈরি করাই যথেষ্ট নয়; মুক্তির পরও শিশু-কিশোরদের পাশে থাকতে হবে। তা না হলে সংশোধনাগার থেকে বাড়ি ফেরা অনেকেই আবার পুরোনো অপরাধচক্রে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি