খুঁজুন
                               
, ,
           

মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুবদল অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫০ অপরাহ্ণ
মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যুবদল অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে: রিজভী

গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও মানুষের অধিকার রক্ষার সংগ্রামে জাতীয়তাবাদী যুবদল কখনও পিছপা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, গণতন্ত্রের সংগ্রামে যুবদল নিজেদের ইস্পাতকঠিন অগ্রবাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। মানুষের অধিকার রক্ষা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সংগঠনটির অসংখ্য নেতাকর্মী জীবন উৎসর্গ করেছেন। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে সরে যাননি।

যুবদলের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে ৪৮ বছর আগে সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যুবদল দেশের অন্যতম বৃহৎ যুব সংগঠনে পরিণত হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে রিজভী বলেন, সংগ্রাম, সাহস, ঐক্য ও বীরত্বের প্রতীক যুবদলকে রাজপথে বারবার দমন-পীড়নের শিকার হতে হয়েছে। নেতাকর্মীদের মাসের পর মাস কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক কারণে অনেকের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তারপরও সংগঠনটির নেতাকর্মীরা আন্দোলন থেকে পিছিয়ে যাননি।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান উৎপাদন, উন্নয়ন, জনকল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষাভিত্তিক যে নতুন রাজনীতির সূচনা করেছেন, তা বাস্তবায়নে যুবদল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দেশের গঠনমূলক ও পুনর্গঠনমূলক কর্মকাণ্ড এবং মানুষের আর্থিক উন্নয়নে তারেক রহমানের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে সংগঠনটি।

যুবদলের বর্তমান নেতৃত্বের প্রশংসা করে রিজভী বলেন, সংগঠনটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন ছাত্রজীবন থেকেই ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়ে নিজেদের গড়ে তুলেছেন। তারা এখন যুবদলের ঐক্যের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। ফ্যাসিবাদ ও একনায়কতন্ত্রের পতনেও তাদের সাহসী নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং ফাতেহা পাঠ করেন।

এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি 

রাজশাহীর মাঠে ঢাকার দাপুটে জয়, ইনিংস ব্যবধানে হার স্বাগতিকদের

রাজশাহী সংবাদদাতা, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
রাজশাহীর মাঠে ঢাকার দাপুটে জয়, ইনিংস ব্যবধানে হার স্বাগতিকদের

নিজেদের মাঠে ঢাকা বিভাগের কাছে ইনিংস ও ১০৩ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছে রাজশাহী বিভাগ। চলতি প্রতিযোগিতায় এটি রাজশাহীর প্রথম পরাজয়। এর আগে দুটি ম্যাচ ড্র করার পাশাপাশি একটিতে জয় পেয়েছিল দলটি। অন্যদিকে, টানা তিন ম্যাচ ড্র করার পর রাজশাহীকে হারিয়ে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে ঢাকা বিভাগ।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের চতুর্থ ও শেষ দিনে ১৪৪ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে স্বাগতিকরা।

আগের দিনের ৫ উইকেটে ২১৫ রান নিয়ে খেলা শুরু করে রাজশাহী। ক্রিজে ছিলেন সাব্বির রহমান ও মেহরাব হোসেন। সাব্বির আগের দিনের ৬৪ রানেই আউট হন। এরপর দলীয় ২৪০ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৩৩ রানে বিদায় নেন মেহরাব। এতে জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে যায় ঢাকা।

রাজশাহীর হয়ে সানজামুল ২৭ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত ৭০.৪ ওভারে ২৫৬ রানে অলআউট হয় রাজশাহী। ঢাকার বোলারদের মধ্যে আনামুল হক ৪৮ রানে ৩ উইকেট নেন। সুমন খান ৪১ রানে এবং রিপন মন্ডল ৬২ রানে ২টি করে উইকেট শিকার করেন।

এর আগে ঢাকা বিভাগ নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৫২১ রান করে অলআউট হয়। জবাবে রাজশাহীর প্রথম ইনিংস থামে মাত্র ১৬২ রানে। ফলে ৩৫৯ রানের বড় লিড পায় ঢাকা। ফলোঅনে পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ২৫৬ রানেই গুটিয়ে যায় রাজশাহী। এতে ইনিংস ও ১০৩ রানের জয় নিশ্চিত করে ঢাকা বিভাগ।

ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের জন্য ঢাকা বিভাগের নাঈম শেখ নির্বাচিত হন প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

আইনি জটিলতায় তানজিন তিশা, আটকে আছে অভিষেক সিনেমা

বিনোদন ডেস্ক,কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
আইনি জটিলতায় তানজিন তিশা, আটকে আছে অভিষেক সিনেমা

জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানজিন তিশার ক্যারিয়ার ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। একদিকে শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে আইনি জটিলতা, অন্যদিকে অভিষেক সিনেমা ‘সোলজার’-এর মুক্তি নিয়ে সংশয়। শাড়ি বিতর্ককে কেন্দ্র করে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলা ট্রিবিউন। সর্বশেষ মামলায় তাকে আগামী ২৩ নভেম্বর আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) শাড়ি নিয়ে করা আগের মামলার বাদীকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে নতুন মামলাটি করেন ফ্যাশন ডিজাইনার ও ভেলমেট-ইয়ুথ ম্যাগাজিনের সম্পাদক সানায়া আনাম ওয়াফিকাহ চৌধুরী। ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মু. মাহবুব-উল-আলমের আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে মামলাটি গ্রহণ করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রনিও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

হত্যার হুমকির অভিযোগ বাদীর

সানায়া চৌধুরীর অভিযোগ, শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলায় পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে তার নারাজি আবেদন গত রোববার (২৫ অক্টোবর) মঞ্জুর করেন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম। শুনানি ও সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণের পর আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেন। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

বাদীর দাবি, আদালতের এ আদেশের পর তানজিন তিশা বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন এবং তার বাসায় লোকজন পাঠিয়েছেন। এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি নতুন মামলা করেছেন।

সানায়া চৌধুরী বলেন, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা করেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে তানজিন তিশার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সামাজিক মাধ্যমে তিশার প্রশ্ন

নতুন মামলার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তানজিন তিশা ঘটনাটিকে তার সম্মান, ক্যারিয়ার ও অর্জন ধ্বংসের পরিকল্পিত প্রচেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন।

তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, অভিযোগ উঠলেই কি তা সত্য হয়ে যায়? আদালতের রায়ের আগেই সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজনকে দোষী সাব্যস্ত করা কতটা যুক্তিসংগত, সে প্রশ্নও তুলেছেন অভিনেত্রী।

তিশার বক্তব্য, তার কাছে ঘটনার বিষয়ে তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। তবে সেগুলো কীভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে, তা নিয়েও তিনি প্রশ্ন রেখেছেন। অর্থাৎ, অভিযোগের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছেন তিনি।

শাড়ি নিয়ে আগের মামলায় জামিন

শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে গত বছরের ২৭ অক্টোবর তানজিন তিশার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন এ্যাপোনিয়া ফ্যাশনের নির্বাহী মো. আমিনুল ইসলাম। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির অনলাইন পেজ থেকে ২৮ হাজার ৮০০ টাকা মূল্যের একটি শাড়ি পছন্দ করার পর সেটি অভিনেত্রীর বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। শাড়িটি পরে প্রতিষ্ঠানটির প্রচার করার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদী।

বাদীর দাবি, ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি শাড়িটি গ্রহণের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তিশা সেটি পরে প্রচার করেননি। এ ঘটনায় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়। মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদনও করা হয়েছিল।

চলতি বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীনের আদালতে হাজির হয়ে জামিন চান তানজিন তিশা। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিনেত্রী দাবি করেছিলেন, শাড়িটি তাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। তার ভাষ্য, দীর্ঘ ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে একটি শাড়ির ঘটনায় আদালতে আসতে হওয়া তার জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি সঠিক ও ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

অনিশ্চয়তায় অভিষেক সিনেমা ‘সোলজার’

আইনি জটিলতার পাশাপাশি তানজিন তিশার প্রথম সিনেমা ‘সোলজার’ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। গত বছর শাকিব খানের সঙ্গে সিনেমাটিতে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন অভিনেত্রী।

গত বছরের অক্টোবরে সিনেমাটির শুটিং শুরু হয়। পরে আড়াই মিনিটের একটি ভিডিও প্রকাশ করে ওই বছরের ডিসেম্বরে মুক্তির সম্ভাব্য সময় জানানো হয়েছিল। তবে সেই পরিকল্পনা পরিবর্তন করে মুক্তির সময় ২০২৬ সালের ডিসেম্বর নির্ধারণ করা হয়।

বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সিনেমাটির শুটিং এখনো শেষ হয়নি। এ ছাড়া নির্মাতার বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে। দফায় দফায় শিল্পীদের শিডিউল নেওয়া হলেও শুটিং শেষ না হওয়ায় সিনেমাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ফলে একদিকে একাধিক মামলার আইনি প্রক্রিয়া, অন্যদিকে প্রথম সিনেমার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়—সব মিলিয়ে কঠিন পরিস্থিতির মুখে রয়েছেন তানজিন তিশা। তবে মামলাগুলোর অভিযোগ এখনো বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়; অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

সিদ্ধ ডিম নাকি অমলেট, কোনটিতে বেশি পুষ্টি?

লাইফস্টাইল ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
সিদ্ধ ডিম নাকি অমলেট, কোনটিতে বেশি পুষ্টি?

বাঙালির প্রতিদিনের খাবারে ডিমের উপস্থিতি বেশ পরিচিত। সকালের নাশতায় সিদ্ধ ডিম, দুপুরে বা রাতে ডিমের তরকারি, আবার কখনো অমলেট কিংবা পোচ—নানা উপায়ে খাওয়া হয় পুষ্টিকর এই খাবার। তবে ডিম সিদ্ধ করে খাওয়া ভালো, নাকি ভেজে খেলে বেশি পুষ্টি পাওয়া যায়, তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে।

কারও ধারণা, ডিম ভাজলে এর প্রোটিন নষ্ট হয়ে যায়। আবার কেউ মনে করেন, সিদ্ধ ডিমেই সব পুষ্টিগুণ সবচেয়ে ভালোভাবে পাওয়া যায়। পুষ্টিবিজ্ঞানের তথ্য বলছে, রান্নার পদ্ধতি বদলালেও ডিমের প্রোটিনের মোট পরিমাণে সাধারণত বড় কোনো পরিবর্তন হয় না। তবে রান্নায় ব্যবহৃত তেল, মাখন কিংবা অন্যান্য উপকরণ খাবারটির মোট ক্যালরি ও চর্বির পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

প্রোটিনের পরিমাণ কি বদলে যায়?
ডিমকে উন্নত মানের প্রোটিনের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একটি বড় ডিমে সাধারণত প্রায় ৬ থেকে ৬ দশমিক ৩ গ্রাম প্রোটিন থাকে। সিদ্ধ করা হোক কিংবা ভাজা—ডিমের নিজস্ব প্রোটিনের পরিমাণ মোটামুটি একই থাকে।

রান্নার সময় তাপের প্রভাবে প্রোটিনের গঠনে পরিবর্তন ঘটে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘ডিনেচারেশন’। এতে প্রোটিন নষ্ট হয়ে যায় না; বরং শরীরের হজমপ্রক্রিয়ায় তা ভেঙে শোষণ করা সহজ হতে পারে।

তবে ভাজা ডিমে তেল, মাখন, দুধ বা চিজ যোগ করলে খাবারটির ক্যালরি, চর্বি ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ বদলে যায়। তাই সিদ্ধ ও ভাজা ডিমের পুষ্টিগত পার্থক্য বুঝতে শুধু প্রোটিন নয়, রান্নায় ব্যবহৃত উপকরণও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

কাঁচা ডিম খেলে কি বেশি পুষ্টি পাওয়া যায়?
অনেকে মনে করেন, রান্না না করে কাঁচা ডিম খেলে বেশি পুষ্টি পাওয়া যায়। কিন্তু এ ধারণার পক্ষে যথেষ্ট ভিত্তি নেই। বরং রান্না করা ডিমের প্রোটিন শরীর তুলনামূলকভাবে বেশি দক্ষতার সঙ্গে হজম ও শোষণ করতে পারে।

তাপের প্রভাবে ডিমের প্রোটিনের গঠন পরিবর্তিত হওয়ায় হজমকারী এনজাইমের পক্ষে তা ভেঙে ফেলা সহজ হয়। এ ছাড়া কাঁচা বা অপর্যাপ্ত রান্না করা ডিমে সালমোনেলার মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকার ঝুঁকি রয়েছে। এসব ব্যাকটেরিয়া খাদ্যবাহিত অসুস্থতার কারণ হতে পারে।

তাই পুষ্টি পাওয়ার আশায় কাঁচা ডিম খাওয়ার বদলে ভালোভাবে রান্না করা ডিম খাওয়াই নিরাপদ।

সিদ্ধ, পোচ নাকি ভাজা—কোনটি ভালো?
পুষ্টির দিক থেকে তিন ধরনের ডিমই ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে কোনটি বেশি উপযোগী, তা নির্ভর করে রান্নার পদ্ধতি এবং ব্যক্তির খাদ্যাভ্যাসের ওপর।

সিদ্ধ ডিম: এতে বাড়তি তেল বা মাখন লাগে না। ফলে অতিরিক্ত ক্যালরি ছাড়াই ডিমের প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি পাওয়া যায়। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে এটি সুবিধাজনক বিকল্প।

পোচ ডিম: অল্প পানিতে রান্না করা পোচ ডিমেও বাড়তি তেল ছাড়াই পুষ্টি পাওয়া সম্ভব। তবে ডিমটি যথেষ্ট সময় রান্না করা জরুরি।

ভাজা ডিম: অল্প তেলে হালকা আঁচে ভাজলে ডিমের পুষ্টিগুণ ভালোভাবেই বজায় থাকে। তবে বেশি তেল, মাখন বা চিজ ব্যবহার করলে ক্যালরি ও চর্বির পরিমাণ বেড়ে যায়।

খুব বেশি তাপে দীর্ঘ সময় রান্না করা কিংবা ডিম পুড়িয়ে ফেলা এড়িয়ে চলা ভালো। এতে স্বাদ ও গুণগত মানের অবনতি হতে পারে।

প্রতিদিন ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে কী খেয়াল রাখবেন?
ডিমের পুষ্টিগুণ পেতে রান্নার পদ্ধতির পাশাপাশি সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। ডিমের সঙ্গে শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর খাবার রাখলে খাদ্যতালিকায় পুষ্টির বৈচিত্র্য বাড়ে।

যাঁদের হৃদ্‌রোগ, কোলেস্টেরল বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যসমস্যা রয়েছে, তাঁদের ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী ডিম খাওয়ার পরিমাণ নির্ধারণ করা ভালো। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

তাহলে কোনটি বেছে নেবেন?
সব মিলিয়ে, সিদ্ধ ডিম ও অল্প তেলে ভাজা ডিম—দুটিই পুষ্টিকর। শুধু ভাজা হয়েছে বলে ডিমের প্রোটিন নষ্ট হয়ে যায়, এমন নয়। তবে বাড়তি তেল বা মাখন ছাড়াই খাওয়া যায় বলে সিদ্ধ ডিম ক্যালরি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কিছুটা সুবিধাজনক।

তাই স্বাদ ও অভ্যাস অনুযায়ী ডিম খেতে পারেন। মূল বিষয় হলো, ডিম ভালোভাবে রান্না করা, অতিরিক্ত তেল ব্যবহার না করা এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা।

কালের আলো/এএএন/জেএন