খুঁজুন
                               
, ,
           

ইইউর ট্যালেন্ট পার্টনারশিপে স্পেনকে চায় বাংলাদেশ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ
ইইউর ট্যালেন্ট পার্টনারশিপে স্পেনকে চায় বাংলাদেশ

দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়াতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপস’ উদ্যোগে স্পেনকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে দেশটির পররাষ্ট্র ও বৈশ্বিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব দিয়েগো মার্তিনেজ বেলিওর সঙ্গে বৈঠকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৈঠকের বিষয়গুলো জানায়। এতে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি অর্থনীতি, শ্রম অভিবাসন, সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

দক্ষ কর্মীদের বৈধ অভিবাসনে গুরুত্ব
বৈঠকে শামা ওবায়েদ ইসলাম স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশি কমিউনিটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছে। দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপস’ উদ্যোগে স্পেনের অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। এ উদ্যোগে স্পেন যুক্ত হলে দক্ষ কর্মীদের জন্য বৈধভাবে কাজের সুযোগ সম্প্রসারণে সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের শূন্য সহনশীলতার নীতি পুনর্ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি অনিয়মিত ও ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন মোকাবিলার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ
বাংলাদেশ ও স্পেনের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ কাজে লাগানোর বিষয়ে দুই পক্ষ আলোচনা করে। এ ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানো, নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং যৌথ প্রদর্শনীর আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। রপ্তানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের পণ্যের জন্য নতুন বাজারের সুযোগ তৈরি করা এবং দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ জোরদার করার বিষয়েও মতবিনিময় হয়। দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। বৈঠকে স্পেনের পক্ষ থেকেও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।

সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটনে সহযোগিতা
বৈঠকে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে প্রস্তাবিত সাংস্কৃতিক সহযোগিতা স্মারক বা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) দ্রুত চূড়ান্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। এ ছাড়া ক্রীড়াকূটনীতি, সৃজনশীল অর্থনীতি, শিল্পকলা ও পর্যটন খাতে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন প্রতিনিধিরা। দেশব্যাপী ক্রীড়ার প্রসারে সরকারের গুরুত্ব তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক জোরদারে খেলাধুলা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর মতে, ক্রীড়াকূটনীতি দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও যোগাযোগ বৃদ্ধির একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে।

দ্বিপক্ষীয় আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সম্মতি
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে সম্মত দ্বিপক্ষীয় দলিলগুলো দ্রুত চূড়ান্ত করার বিষয়ে একমত হন প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে চলমান আলোচনা ও সমঝোতা স্মারক-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

যত দ্রুত সম্ভব দ্বিতীয় বাংলাদেশ-স্পেন পররাষ্ট্র দপ্তর পর্যায়ের পরামর্শ বৈঠক বা ‘ফরেন অফিস কনসালটেশন’ আয়োজনের আগ্রহও প্রকাশ করা হয়। দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করতে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের সফর ও যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন উভয় দেশের প্রতিনিধিরা। স্পেনের পররাষ্ট্র ও বৈশ্বিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব দিয়েগো মার্তিনেজ বেলিও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনাকে আশাব্যঞ্জক উল্লেখ করেন। এ প্রচেষ্টায় স্পেনের সমর্থনের আশ্বাসও দেন তিনি।

ট্রেন দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ
বৈঠকের শুরুতে স্পেনের টোলেডোতে ওই দিন ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। বৈঠকে আলোচনার বিষয়গুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ও স্পেনের মধ্যে অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে দক্ষ কর্মীদের বৈধ অভিবাসন, নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং দ্বিপক্ষীয় চুক্তি চূড়ান্ত করার অগ্রগতি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

উচ্ছেদের দুই মাসেই ফুটপাত দখলে ফিরল দোকানপাট

দিনাজপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ
উচ্ছেদের দুই মাসেই ফুটপাত দখলে ফিরল দোকানপাট

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে সড়ক দুর্ঘটনায় আট বছর বয়সী স্কুলশিক্ষার্থী শিফা মণির মৃত্যুর পর অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করে ফুটপাত দখলমুক্ত করেছিল উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা। কিন্তু সেই অভিযানের দুই মাস না পেরোতেই আবারও ফুটপাতজুড়ে বসেছে দোকানপাট। নিয়মিত তদারকির অভাবে আগের পরিস্থিতি ফিরে আসায় পথচারী ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় স্কুলগামী শিশুদেরও মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে বাস, ট্রাকসহ ভারী যানবাহনের সঙ্গে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। তাঁদের দাবি, শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালালেই হবে না, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার জন্য নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

শিফার মৃত্যুর পর উচ্ছেদ অভিযান
গত ১৮ আগস্ট সকালে ফুলবাড়ীর শাখা যমুনা নদীর সেতু-সংলগ্ন এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিফা মণি। ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সুযোগ না পেয়ে মায়ের হাত ধরে মূল সড়কে ওঠার পর ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে শিশুটির মৃত্যু হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মর্মান্তিক এ ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবাদ-বিক্ষোভের মুখে সেদিনই উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা যৌথভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালায়। নিমতলা মোড় থেকে ডাবল ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক ও ফুটপাতের অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়। অভিযানের পর কিছুদিন এলাকাটি দখলমুক্ত ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আবারও ফুটপাতের জায়গায় দোকানপাট বসতে শুরু করে। এতে শিফা মণির মৃত্যুর পর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ফুটপাতজুড়ে চটপটি-ফুচকা ও ফলের দোকান
সম্প্রতি ফুলবাড়ী পৌর শহরের শাখা যমুনা নদীর সেতু-সংলগ্ন বটতলী এলাকায় ফুটপাতের ওপর আবারও চটপটি-ফুচকা, ফলের দোকান ও অস্থায়ী হকারদের পসরা দেখা যাচ্ছে। ফলে পথচারীদের হাঁটার জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিশুদের চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বেশি। ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে তাদের মূল সড়কে নামতে হচ্ছে। ব্যস্ত সড়কে দ্রুতগতির যানবাহনের পাশ দিয়ে হাঁটার সময় যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবকেরা। ফুলবাড়ী পৌর শহরের নর্থ পয়েন্ট স্কুলের অধ্যক্ষ মাসুদুর রহমান বলেন, শিফা মণির মৃত্যুর পর ফুটপাত নিরাপদ হবে বলে তাঁরা আশা করেছিলেন। কিন্তু আবারও ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়ে স্কুলে যাতায়াত করতে হচ্ছে। তিনি এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান।

শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা
ফুটপাত দখলের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও বাসিন্দারা। অভিভাবক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন তাঁদের ছেলেমেয়েরা এই পথ দিয়ে হেঁটে স্কুলে যায়। স্কুলের আশপাশ ও সংযোগ সড়কের ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয় বলে তিনি মনে করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সোহরাব আলী বলেন, সম্প্রতি পার্কে আসা-যাওয়ার সময় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ফুটপাতের এ অবস্থা দেখেছেন। কিন্তু উচ্ছেদ অভিযানের পর নিয়মিত তদারকি না থাকায় দখলকারীরা আবারও দোকান বসানোর সুযোগ পাচ্ছেন বলে তাঁর অভিযোগ। অন্যদিকে, ফুটপাত দিয়ে চলাচলের সুযোগ হারিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ পথচারীরাও। হাবিবুর রহমান নামের এক পথচারী বলেন, এখন সড়ক দিয়ে হাঁটতেও ভয় লাগে। পেছন থেকে বাস বা ট্রাক এসে ধাক্কা দেবে কি না, সেই আতঙ্কে থাকতে হয়।

কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি
ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার বিষয়ে ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বলেন, ফুটপাত অবমুক্ত রাখা প্রশাসনের অন্যতম দায়িত্ব। উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পরও কিছু অসাধু ব্যক্তি আবার ফুটপাত দখল করে নেন এবং অনেকে তাঁদের পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তাঁর ভাষ্য, ফুটপাত দখলের কারণে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। মানুষ বাধ্য হয়ে মূল সড়কে নেমে আসায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। এ ধরনের দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। এলাকাবাসীর দাবি, ঢাকা মোড় থেকে নিমতলা মোড় এবং ডাবল ব্রিজ থেকে ফায়ার সার্ভিস পর্যন্ত পুরো এলাকার সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি উচ্ছেদের পর যাতে আবার কেউ দোকান বসাতে না পারেন, সে জন্য নিয়মিত মনিটরিং ও আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

 

বেপরোয়া গতি ঠেকাতে এআই নজরদারিতে এক্সপ্রেসওয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ
বেপরোয়া গতি ঠেকাতে এআই নজরদারিতে এক্সপ্রেসওয়ে

ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনা কমানো ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে যানবাহনের গতিসীমা পর্যবেক্ষণ এবং ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এই এক্সপ্রেসওয়েতে বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এআই ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালু করা গেলে চালকদের মধ্যে আইন মেনে চলার প্রবণতা বাড়তে পারে। এতে দুর্ঘটনা কমানো ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

চার বছরে প্রায় ৫৮৯ দুর্ঘটনা, নিহত ১৫২
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর ২০২২ সালের ২৫ জুন থেকে ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে এলাকায় প্রায় ৫৮৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৫২ জন। আহত হয়েছেন ৯৫০ জন। দুর্ঘটনার এই পরিসংখ্যান সড়কটিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। বিশেষ করে দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল, ঝুঁকি নিয়ে অন্য গাড়িকে অতিক্রম করা এবং ট্রাফিক আইন না মানার মতো প্রবণতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম আগামীর সময়কে বলেন, অধিকাংশ দুর্ঘটনার প্রধান কারণ বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করা।

৫৫ কিলোমিটার সড়কে থাকবে নজরদারি
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মোট দৈর্ঘ্য ৫৫ কিলোমিটার। এর মধ্যে মুন্সীগঞ্জ জেলার অংশ প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই সড়কে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। দ্রুতগতিতে যানবাহন চলাচলের সুযোগ থাকায় এ সড়কে নিরাপদ গতিসীমা বজায় রাখা এবং নিয়ম মেনে ওভারটেকিং করা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু চালকদের অসতর্কতা ও আইন অমান্য করার কারণে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। এআই ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনার আওতায় পুরো এক্সপ্রেসওয়েকে নজরদারির মধ্যে আনার কথা বলা হয়েছে। তবে ক্যামেরা স্থাপনের নির্দিষ্ট সময়সূচি ও মোট ক্যামেরার সংখ্যা সম্পর্কে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।

আইন অমান্য করলে স্বয়ংক্রিয় মামলার পরিকল্পনা
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জে উন্নয়নকাজ পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের জানান, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েকে এআই ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণে আনার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমানে জাতীয় মহাসড়কগুলো এআই ক্যামেরার পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে জেলা ও আঞ্চলিক মহাসড়কেও এআই ক্যামেরা স্থাপন করে সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা করা হবে। সড়ক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করা এবং অন্যান্য ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করা সহজ হতে পারে। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে আইন প্রয়োগের প্রক্রিয়াও আরও কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে।

গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব
পদ্মা সেতু উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোহাম্মদ আক্তার বলেন, ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে অধিকাংশ দুর্ঘটনার কারণ বেপরোয়া গতি। পুরো এক্সপ্রেসওয়েকে এআই ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণে এনে অতিরিক্ত গতি, ওভারটেকিং এবং সড়ক আইন অমান্যকারীদের স্বয়ংক্রিয় মামলার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তাঁর মতে, এআই ক্যামেরার নজরদারি চালু হলে চালকেরা নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং থেকে বিরত থাকতে আরও সচেতন হবেন। এতে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে প্রযুক্তির পাশাপাশি চালকদের সচেতনতা, নিয়মিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং আইন প্রয়োগও গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়।

সড়কে সাইন ও সিসি ক্যামেরা থাকলেও দুর্ঘটনা
সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মমিনুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের গতিসীমা নির্ধারণ করে সাইন ও মার্কিং দেওয়া আছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে সিসি ক্যামেরাও রয়েছে। তবে বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং, আকস্মিক ইউটার্ন, চালকের অসতর্কতা এবং সড়ক আইন অমান্য করার কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়া ঘন কুয়াশাও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে জানান তিনি। সংশ্লিষ্টদের মতে, এআই প্রযুক্তির ক্যামেরা স্থাপন করা হলে বিদ্যমান নজরদারি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে দুর্ঘটনা কমাতে ক্যামেরার কার্যকারিতা, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও জরুরি।

নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার প্রত্যাশা
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে রাজধানী ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ করিডর। এ সড়কে দুর্ঘটনা কমানো গেলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে নিরাপত্তা বাড়বে। একই সঙ্গে সড়কে শৃঙ্খলা বজায় থাকলে যান চলাচল আরও সুশৃঙ্খল হতে পারে। এআই ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অতিরিক্ত গতি ও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে এর বাস্তব ফল নির্ভর করবে প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার, নিয়মিত তদারকি এবং আইন প্রয়োগের ধারাবাহিকতার ওপর।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে ঘুঘুডাঙ্গার ঐতিহাসিক জমিদারবাড়ি

দিনাজপুর সংবাদদাতা,কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ
অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে ঘুঘুডাঙ্গার ঐতিহাসিক জমিদারবাড়ি

দিনাজপুর সদর উপজেলা থেকে মাত্র ৮ কিলোমিটার দূরে পুনর্ভবা নদীর তীরে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী ঘুঘুডাঙ্গা জমিদারবাড়ি। একসময় প্রভাবশালী জমিদারি ব্যবস্থার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই স্থাপনাটি এখন সংরক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ভবনের বিভিন্ন অংশ ও নকশাখচিত প্রবেশদ্বারের ভগ্নদশা দেখে সহজেই বোঝা যায়, সময়ের সঙ্গে কতটা জৌলুস হারিয়েছে ঐতিহাসিক স্থাপনাটি। অথচ যথাযথ সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হলে ঘুঘুডাঙ্গা জমিদারবাড়ি হয়ে উঠতে পারে ইতিহাসচর্চার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। পাশাপাশি এটি দিনাজপুরের পর্যটন সম্ভাবনা বিকাশেও ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু এখনো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষিত পুরাকীর্তির তালিকায় জায়গা হয়নি বাড়িটির।

ব্রিটিশ আমলে প্রভাবশালী জমিদারি ছিল ঘুঘুডাঙ্গায়
দিনাজপুরের ঘুঘুডাঙ্গা গ্রামেই গড়ে উঠেছিল এই জমিদার পরিবার। স্থানীয়ভাবে বসবাসরত জমিদার বংশের উত্তরসূরিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য ও ইতিহাস অনুযায়ী, ব্রিটিশ শাসনামলে দিনাজপুর জেলার প্রভাবশালী জমিদারদের মধ্যে ঘুঘুডাঙ্গার জমিদার অন্যতম ছিলেন। তৎকালীন দিনাজপুরের ১১টি থানায় তাঁদের জমিদারি এস্টেট বিস্তৃত ছিল বলে জানা যায়।

এই বিশাল জমিদারি পরিচালনার জন্য ছিল ১৮টি কাচারি ও ৪১টি তহসিল অফিস। এস্টেট থেকে প্রতিবছর ব্রিটিশ সরকারকে এক লাখ টাকা খাজনা দিতে হতো। জমিদারির বিস্তৃতি ও প্রশাসনিক কাঠামো থেকে সে সময় এই পরিবারের প্রভাব ও অর্থনৈতিক সামর্থ্যের ধারণা পাওয়া যায়। ঘুঘুডাঙ্গা জমিদার বংশের গোড়াপত্তন করেন নবীর মোহাম্মদের একমাত্র ছেলে ফুল মোহাম্মদ। তাঁর উত্তরসূরিদের মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে জমিদারি পরিচালিত হয়। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত ইতিহাস অনুযায়ী, এই জমিদারি প্রায় ৮০ বছর স্থায়ী ছিল।

জমিদারির সূচনা নিয়ে রয়েছে ঐতিহাসিক ধারণা
ঘুঘুডাঙ্গা জমিদারির যাত্রা ঠিক কোন সালে শুরু হয়েছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে তৎকালীন ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার ইতিহাস থেকে এর সূচনাকাল সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৭৭১ সালে পঞ্চসনা ব্যবস্থা চালু করে। পরবর্তী সময়ে সেই ব্যবস্থা ব্যর্থ হলে ১৭৮৯ সালে দশসালা বন্দোবস্ত চালু করা হয়। এ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ধারণা করা হয়, ১৭৭১ থেকে ১৭৮৯ সালের মধ্যে ঘুঘুডাঙ্গা জমিদারির সূচনা হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি নিশ্চিত কোনো সাল নয়, বরং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটভিত্তিক অনুমান। ১৯৫০ সালে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার আগপর্যন্ত ঘুঘুডাঙ্গা জমিদারি টিকে ছিল বলে স্থানীয় ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে। জমিদারি ব্যবস্থার অবসানের পর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ পরিবারের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর গুরুত্ব ও রক্ষণাবেক্ষণ কমে যায়।

একসময় ছিল হাতিশাল, ঘোড়াশাল ও মেহমানখানা
ঘুঘুডাঙ্গা জমিদারবাড়িটি একতলা ও দোতলার সমন্বয়ে নির্মিত একটি পাকা ভবন। স্থাপনাটির বিশাল প্রবেশদ্বারে ফুল ও লতাপাতার নকশা ছিল, যা একসময় এর সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলত। কিন্তু বর্তমানে প্রবেশদ্বারসহ ভবনের বিভিন্ন অংশ ভগ্নদশায় রয়েছে। জমিদারবাড়িতে একসময় হাতিশালে হাতি ও ঘোড়াশালে ঘোড়া রাখা হতো। জমিদারি পরিচালনা ও দৈনন্দিন কাজের জন্য ছিলেন পাইক-পেয়াদা, সিপাহি, বাবুর্চি, খানসামা ও খামারু। পুরো ব্যবস্থাপনা দেখাশোনার জন্য একজন ব্যবস্থাপকও ছিলেন।

বাড়ির বাইরের অংশে ছিল মেহমানখানা ও একটি সুদৃশ্য মসজিদ। সপ্তাহে বা মাসে একবার মেহমানখানা চত্বরে গ্রামপ্রধানদের আসর বসত। সেখানে এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা, সামাজিক সমস্যা, কৃষিকাজ এবং আর্থিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতো। অর্থাৎ জমিদারবাড়িটি শুধু আবাসস্থল ছিল না; স্থানীয় সামাজিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। মেহমানখানার পেছনে রয়েছে জমিদার পরিবারের দুটি কবরস্থান। এসব স্থাপনা ও স্মৃতিচিহ্ন ঘুঘুডাঙ্গার অতীত ইতিহাসের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত স্বর্ণের চেয়ার
ঘুঘুডাঙ্গা জমিদার এস্টেটে একসময় বেশ কিছু দুর্লভ ও মূল্যবান সামগ্রী ছিল। এর মধ্যে একটি স্বর্ণের চেয়ার বর্তমানে জাতীয় জাদুঘরে ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে বলে স্থানীয় ইতিহাসে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া এস্টেটে ছিল ১০১ ভরি ওজনের স্বর্ণের তৈরি কৃত্রিম কই মাছ, রুপার বাটযুক্ত ছাতা, পাখা, রৌপ্যনির্মিত লাঠি এবং তামার ডেকচিসহ নানা সামগ্রী। এসব নিদর্শন জমিদার পরিবারের তৎকালীন ঐশ্বর্য ও জীবনযাত্রার পরিচয় বহন করত। তবে স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে এসব মূল্যবান সামগ্রীর অনেকগুলো লুণ্ঠিত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ফলে জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক সংগ্রহের একটি বড় অংশ হারিয়ে গেছে। বর্তমানে অবশিষ্ট স্থাপনা ও স্মৃতিচিহ্নগুলো সংরক্ষণ করা গেলে অতীতের সেই ইতিহাস সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের জানার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

দর্শনার্থীদের আগ্রহ থাকলেও বাড়িটি অবহেলিত
ঘুঘুডাঙ্গা জমিদার বংশের প্রতিষ্ঠাতা ফুল মোহাম্মদের উত্তরসূরিরা এখনো সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন। তবে তাঁদের পূর্বপুরুষদের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নাজুক অবস্থায় পড়ে আছে।

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহ থেকে অনেক মানুষ এখনো নিরিবিলি ঘুঘুডাঙ্গা গ্রামে জমিদারবাড়িটি দেখতে যান। পুনর্ভবা নদীর তীরবর্তী অবস্থান এবং গ্রামের শান্ত পরিবেশও স্থানটিকে দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। স্থানীয় ইতিহাসের এই গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হলে শিক্ষার্থী, গবেষক ও ইতিহাসপ্রেমীদের জন্য এটি হতে পারে তথ্য ও অভিজ্ঞতা অর্জনের একটি স্থান। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, পরিচর্যা ও প্রচারের মাধ্যমে এলাকাটির পর্যটন সম্ভাবনাও কাজে লাগানো সম্ভব।

সংরক্ষিত পুরাকীর্তির তালিকায় নেই জমিদারবাড়ি
ঘুঘুডাঙ্গা জমিদারবাড়ির সংরক্ষণ নিয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ড. আহমেদ আবদুল্লাহ আগামীর সময়কে জানান, বাড়িটি এখনো সংরক্ষিত পুরাকীর্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। তিনি জানান, এ বিষয়ে কেউ আবেদন করলে স্থাপনাটি পরিদর্শন ও যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বাড়িটি সংরক্ষণের সম্ভাবনা থাকলেও এখনো আনুষ্ঠানিক উদ্যোগের বিষয়টি সামনে আসেনি। ঐতিহাসিক স্থাপনাটি রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় আবেদন, প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রায় দুই শতাব্দীর ইতিহাস বহনকারী ঘুঘুডাঙ্গা জমিদারবাড়ি এখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করছে। দ্রুত সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া না হলে দিনাজপুরের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এই নিদর্শনের আরও অংশ হারিয়ে যেতে পারে। তাই স্থাপনাটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব যাচাই করে যথাযথ সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ঐতিহ্যপ্রেমীরা।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি