খুঁজুন
                               
, ,
           

সালমান শাহ হত্যা মামলায় জামিন মেলেনি ডনের

বিনোদন ডেস্ক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:১৭ অপরাহ্ণ
সালমান শাহ হত্যা মামলায় জামিন মেলেনি ডনের

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় এজাহারনামীয় আসামি ঢাকাই চলচ্চিত্রের খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন আবারও নামঞ্জুর করেছেন আদালত। ফলে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে এই অভিনেতাকে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তাওহীদা আক্তার শুনানি শেষে তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আদেশ দেন।

শুনানি শেষে জামিন আবেদন নাকচ
আদালতে আশরাফুল হক ডনের পক্ষে জামিন আবেদনের শুনানি করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মফিজুল ইসলাম আসলাম। শুনানি শেষে বিচারক আবেদনটি নামঞ্জুর করেন। এর আগেও একাধিকবার জামিনের আবেদন করা হলেও ডনের জামিন মেলেনি। সর্বশেষ আদালতের আদেশের ফলে সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার এই আসামিকে কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।

আগস্টে বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার
গত ৯ আগস্ট ভোর ৫টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আশরাফুল হক ডনকে গ্রেপ্তার করে। পরে গত ২৭ আগস্ট আদালত তাঁর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ৯ সেপ্টেম্বর তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

সালমান শাহকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। এজাহারে আশরাফুল হক ডনসহ অন্য আসামি এবং অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের পারস্পরিক যোগসাজশের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এজাহারে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হবে। সর্বশেষ আদেশে ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় মামলাটি নিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছে সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনা।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

মিরপুর টেস্টে দ্বিতীয় সেশনে ক্যারিবীয়দের দাপট

ক্রীড়া প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০৮ অপরাহ্ণ
মিরপুর টেস্টে দ্বিতীয় সেশনে ক্যারিবীয়দের দাপট

মিরপুর টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের জবাবে ব্যাট হাতে ভালো শুরু করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ওপেনার জন ক্যাম্পবেলের অপরাজিত অর্ধশতকে দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশন শেষে ১ উইকেটে ৮৯ রান সংগ্রহ করেছে সফরকারীরা। তবে আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে যায় খেলা। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ২৭২ রানের চেয়ে ১৮৩ রানে পিছিয়ে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হাতে রয়েছে ৯ উইকেট।

আক্রমণাত্মক শুরু দুই ক্যারিবীয় ওপেনারের
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ হওয়ার পর ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই ইতিবাচক ব্যাটিং করেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ওপেনার জন ক্যাম্পবেল ও ব্র্যান্ডন কিং। প্রথম উইকেট জুটিতে দ্রুত রান তোলার চেষ্টা করেন তাঁরা। তাঁদের ব্যাটিংয়ে শুরুতেই চাপে পড়তে হয়নি সফরকারীদের। তবে দলীয় ৩৬ রানের মাথায় ব্র্যান্ডন কিংকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেন পেসার হাসান মাহমুদ। ১৫ রান করে সাজঘরে ফেরেন কিং। তাঁর বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন তেজনারায়ণ চন্দরপল।

ক্যাম্পবেলের ফিফটি, চন্দরপলের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন জুটি
প্রথম উইকেট হারানোর পরও ব্যাটিংয়ে ছন্দ ধরে রাখেন ক্যাম্পবেল। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে তুলে নেন অর্ধশতক। দ্বিতীয় সেশন শেষে ৬৫ বলে ৫৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল একাধিক বাউন্ডারি। অন্য প্রান্তে সতর্ক ব্যাটিং করে ক্যাম্পবেলকে সঙ্গ দেন তেজনারায়ণ চন্দরপল। তিনি ৭৭ বল মোকাবিলা করে অপরাজিত ছিলেন ২১ রানে। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে প্রথম উইকেট হারানোর পর আর কোনো বিপদে পড়েনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

১৮৩ রানে পিছিয়ে সফরকারীরা
বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস ২৭২ রানে শেষ হওয়ার পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের লক্ষ্য ছিল বড় জুটি গড়ে রানসংখ্যার ব্যবধান কমিয়ে আনা। ক্যাম্পবেল ও চন্দরপলের ব্যাটিংয়ে সে পথে এগোচ্ছে দলটি। দ্বিতীয় সেশন শেষে ২৭ ওভারে ৮৯ রান তুলেছে সফরকারীরা। তবে এখনো বাংলাদেশের চেয়ে ১৮৩ রানে পিছিয়ে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হাতে ৯ উইকেট থাকায় ইনিংসের ব্যবধান কমানোর সুযোগ রয়েছে তাদের সামনে। অন্যদিকে দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে সফরকারীদের চাপে ফেলার সুযোগও রয়েছে বাংলাদেশের।

আলোকস্বল্পতায় আগেভাগে বন্ধ খেলা
দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনের খেলা চলাকালে আলোকস্বল্পতা দেখা দিলে নির্ধারিত সময়ের আগেই খেলা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ছিল ১ উইকেটে ৮৯ রান। ক্রিজে ছিলেন জন ক্যাম্পবেল ও তেজনারায়ণ চন্দরপল।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

জাপান সফর শেষ, ঢাকায় ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী

কূটনৈতিক প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:০১ অপরাহ্ণ
জাপান সফর শেষ, ঢাকায় ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী

চার দিনের সরকারি সফর শেষে জাপান থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের পাশাপাশি দেশটির বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এসব আলোচনায় দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা জোরদার এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয় গুরুত্ব পায়।

নারিতা বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১৮ মিনিটে বাংলাদেশের উদ্দেশে যাত্রা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলাদেশ সময় তখন বিকেল ৩টা ১৮ মিনিট। টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।

এর আগে গত ২৬ অক্টোবর চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যান প্রধানমন্ত্রী। সফর শেষে তাঁর দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে দুই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক ও আলোচনার আনুষ্ঠানিক পর্ব শেষ হচ্ছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক
সফরকালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে অংশ নেন তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বিদ্যমান সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নেওয়া এবং ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে এ সফরে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের বিভিন্ন বেসরকারি কোম্পানি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল জাপানি ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়। এসব আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরা এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গেও মতবিনিময়
জাপান সফরকালে দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গেও মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে যোগাযোগ ও তাঁদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী যারা ছিলেন
জাপান সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। সফরসঙ্গী হিসেবে আরও ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ।

এ ছাড়া প্রতিনিধি দলে ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটি’র চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. শাকিরুল ইসলাম খান, অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা। চার দিনের এ সফরে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক, জাপানি ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

ওয়াসার কাজে দৃশ্যমান অগ্রগতি চান প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪৪ অপরাহ্ণ
ওয়াসার কাজে দৃশ্যমান অগ্রগতি চান প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা ওয়াসার চলমান প্রকল্পগুলোতে আগামী দুই মাসের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ব্যর্থ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকেও সরিয়ে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ঢাকা ওয়াসা ভবনের সম্মেলনকক্ষে সংস্থাটির সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। প্রকল্প অনুমোদনের পর বছরের পর বছর ধরে বাস্তবায়নে বিলম্বকে অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নগরবাসীর পানির চাহিদা পূরণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতিতে অসন্তোষ
সভায় ঢাকা ওয়াসার প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরীতে প্রতিদিন পানির চাহিদা ও সরবরাহের পরিমাণ ৩১৪ কোটি লিটার। তবে জনসংখ্যা ও বাসাবাড়ির সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানির চাহিদাও বাড়ছে।

এ পরিস্থিতিতে ওয়াসার কার্যক্রমে গত সাত মাসে উল্লেখযোগ্য নতুন উদ্যোগ কিংবা প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রত্যাশিত গতি দেখা যায়নি বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর মতে, পানির সংকট তৈরি হলে এর দায় শেষ পর্যন্ত সরকারের ওপরই বর্তায়। তাই নগরবাসীকে নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহের জন্য চলমান প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করা জরুরি। প্রকল্প পরিচালকদের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি। আগামী দুই মাস পর আবার ওয়াসার কার্যক্রম পর্যালোচনা করবেন বলেও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

দাসেরকান্দি থেকে গুলশান-বনানীতে পাইপলাইন সংযোগের নির্দেশ
ঢাকা ওয়াসার চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে দাসেরকান্দি স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট থেকে গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় পাইপলাইন সংযোগ প্রকল্প দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে পূর্বাচলে পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে দ্রুত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরির নির্দেশ দেন তিনি। ভবিষ্যতে নগরীর পানির চাহিদা আরও বাড়বে বিবেচনায় নিয়ে এখন থেকেই প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেন প্রতিমন্ত্রী।

সব ওয়াসা থেকে বোর্ড তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত
দেশের সব ওয়াসা থেকে বোর্ড তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, বর্তমান আইনে ওয়াসার বোর্ড গঠনের বিধান থাকলেও সরকার যেকোনো সময় বোর্ড গঠন বা ভেঙে দিতে পারে। মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে ওয়াসার বোর্ড জনসেবামূলক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে। অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও দাপ্তরিক কাজে গতি কমে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে আইন সংশোধন করে দেশের সব ওয়াসা থেকে বোর্ড তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমানোর নির্দেশ
ঢাকা ওয়াসার পানির উৎসের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সরবরাহ করা পানির ৭৪ শতাংশ আসে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে। বাকি ২৬ শতাংশ আসে উপরিভাগের পানির উৎস থেকে। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে তা ২০ থেকে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার নির্দেশ দেন তিনি। এ জন্য উপরিভাগের পানিনির্ভর প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেন প্রতিমন্ত্রী। অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ঝুঁকি কমাতে বিকল্প উৎসের ব্যবহার বাড়ানো জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে চলমান প্রকল্প বাস্তবায়নে আর বিলম্ব না করার নির্দেশ দেন।

রাজস্ব আয় বাড়ানো ও বিলিংয়ে অটোমেশনের তাগিদ
ওয়াসার আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সেবার মান বজায় রেখে নিজস্ব রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে। বিদেশি ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব তহবিল থেকে জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি মিটার রিডিং ও বিলিং কার্যক্রমে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা বা অটোমেশন জোরদার করার নির্দেশ দেন তিনি। এতে বিলিং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের লক্ষ্য। ২০৫০ সালের পানির চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা ওয়াসাকে আধুনিকায়নের নির্দেশও দেন প্রতিমন্ত্রী। এ জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ও আধুনিক জনবল কাঠামো বা অর্গানোগ্রাম তৈরি করে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে বলেন তিনি।

অবৈধ পানির সংযোগের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
শহরের অবৈধ ও চোরাই পানির সংযোগ চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মীর শাহে আলম। এসব কর্মকাণ্ডে প্রভাবশালী ব্যক্তি কিংবা রাজনৈতিক দুর্বৃত্তরা জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে বলেন তিনি। ওয়াসার মতো সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানে দলীয় বা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের সেবা ব্যাহত করা যাবে না বলে কর্মচারী সংগঠনগুলোর নেতাদের সতর্ক করেন প্রতিমন্ত্রী। সংস্থাটির কার্যক্রমে অনিয়ম বা অযাচিত প্রভাব বরদাশত করা হবে না বলেও জানান তিনি।

পানির অপচয় রোধে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব
পানির অপচয় কমাতে নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। দাঁত ব্রাশ করা কিংবা শেভ করার সময় অপ্রয়োজনে পানির কল খোলা না রাখা এবং দৈনন্দিন কাজে সচেতনভাবে পানি ব্যবহারে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে প্রচার চালানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সভা শেষে মীর শাহে আলম আবারও বলেন, দুই মাস পর তিনি ওয়াসার কার্যক্রম পর্যালোচনা করতে আসবেন। এর মধ্যে সংস্থাটির কাজে দৃশ্যমান ও আমূল পরিবর্তন দেখতে চান তিনি, যাতে নগরবাসী পানি সরবরাহ নিয়ে স্বস্তি পায়। ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহা. মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রকৌশলী সমিতি, ডিপ্লোমা অ্যাসোসিয়েশন, সিবিএর নেতা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি