খুঁজুন
                               
, ,
           

নভেম্বরে জ্বালানি তেলের দামে পরিবর্তন নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
নভেম্বরে জ্বালানি তেলের দামে পরিবর্তন নেই

দেশের বাজারে নভেম্বর মাসের জন্য জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য ঘোষণা করেছে সরকার। তবে নতুন মাসে কোনো ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো বা কমানো হচ্ছে না। ফলে অক্টোবর মাসে নির্ধারিত দামেই নভেম্বরজুড়ে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিন বিক্রি হবে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

কোন তেলের দাম কত
সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি হবে ১৩৫ টাকায়। এ ছাড়া প্রতি লিটার অকটেনের দাম ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। অর্থাৎ, নভেম্বর মাসে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে ভোক্তাদের নতুন করে বাড়তি খরচের মুখে পড়তে হচ্ছে না। আগের নির্ধারিত দামেই জ্বালানি তেল কিনতে পারবেন গ্রাহকেরা।

বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দাম নির্ধারণ
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ওঠানামার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশে প্রতি মাসে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের বিক্রয়মূল্য সমন্বয় করে থাকে জ্বালানি বিভাগ। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নভেম্বর মাসের জন্যও দাম পর্যালোচনা করা হয়েছে। তবে এবার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ সেপ্টেম্বরে বেড়েছিল দাম
এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম প্রতি লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছিল। নতুন দাম ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়। এরপর নভেম্বর মাসের জন্য ঘোষিত মূল্যেও কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। জ্বালানি তেলের দাম পরিবহন ব্যয় থেকে শুরু করে পণ্য পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন খাতের খরচে প্রভাব ফেলে। তাই নতুন মাসে দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তে আপাতত জ্বালানি তেল ব্যবহারকারীদের ব্যয় বাড়ছে না।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

একসঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে আলাদা হন তাহসিফ-দ্বীপ

আদালত প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২০ অপরাহ্ণ
একসঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে আলাদা হন তাহসিফ-দ্বীপ

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির নিখোঁজ হওয়ার আগের রাতের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নতুন তথ্য জানিয়েছেন তার পরিচিত আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপ। তার দাবি, গত ২৭ অক্টোবর তাহসিফের সঙ্গে মোটরসাইকেল মেরামত থেকে শুরু করে রাতের খাবার খাওয়া পর্যন্ত একসঙ্গেই ছিলেন তিনি। পরে উত্তরার হাউস বিল্ডিং এলাকায় দুজন আলাদা হয়ে যান। এরপর তাহসিফকে ফোন করলেও তার মোবাইল বন্ধ পান দ্বীপ।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মোবাইল ফোনে  এসব তথ্য জানান দ্বীপ। তিনি দাবি করেন, তাহসিফের সঙ্গে তার প্রায় ছয় বছরের পরিচয়। তাহসিফ তার কাছে কাছের বড় ভাইয়ের মতো ছিলেন।

মোটরসাইকেল মেরামত করতে একসঙ্গে বের হন
দ্বীপের ভাষ্য অনুযায়ী, তাহসিফের মোটরসাইকেলটি নষ্ট হয়ে গিয়েছিল এবং সেটি চালু হচ্ছিল না। এ বিষয়ে পরামর্শ চাইলে তিনি তাহসিফের বাসায় যান। সেখানে দুজনে প্রায় ১০ থেকে ২০ মিনিট চেষ্টা করে মোটরসাইকেলটি চালু করেন। পরে মোটরসাইকেলটি একটি ওয়ার্কশপে নিয়ে প্রয়োজনীয় মেরামত করানো হয় এবং তেল পরিবর্তন করা হয়। কাজ শেষে তাহসিফ তাকে রাতের খাবারের আমন্ত্রণ জানান।

রুআপ শপিং কমপ্লেক্সের রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার
দ্বীপ জানান, উত্তরার রুআপ শপিং কমপ্লেক্সের ‘কুকরুক্কু’ রেস্তোরাঁয় দুজনে একসঙ্গে রাতের খাবার খান। খাওয়ার সময় তাহসিফের আচরণে অস্বাভাবিক কিছু তার চোখে পড়েনি বলেও দাবি করেন তিনি। দ্বীপের ভাষ্য, রাতের খাবারের সময় তাহসিফের এক বন্ধু ফোন করেছিলেন বলে তার মনে আছে। তবে সেই সময় কথাবার্তা স্বাভাবিক ছিল বলে জানান তিনি।

হাউস বিল্ডিং এলাকায় আলাদা হন দুজন
রাতের খাবার শেষে দুজন আলাদা মোটরসাইকেলে করে রওনা দেন। দ্বীপের দাবি, উত্তরার হাউস বিল্ডিং এলাকায় এসে তিনি ইউটার্ন নিয়ে একদিকে চলে যান, আর তাহসিফ অন্যদিকে চলে যান। রাত ১২টার দিকে তাদের বিচ্ছিন্ন হওয়ার কথা জানান তিনি। তাহসিফ কোথায় যাবেন, তা তাকে স্পষ্ট করে বলেননি বলে দাবি দ্বীপের। তার ভাষ্য, তাহসিফ বয়সে বড় হওয়ায় তিনি সাধারণত কোথায় যাচ্ছেন, তা সরাসরি জিজ্ঞাসা করতেন না।

ফোন বন্ধ পেয়ে প্রথমে অন্য ধারণা করেছিলেন
দ্বীপ জানান, বাসায় পৌঁছে তাহসিফকে ফোন করে নিজের পৌঁছানোর খবর দিতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তখন তাহসিফের মোবাইল ফোন বন্ধ পান। রেস্তোরাঁয় তাহসিফ তার পাওয়ার ব্যাংক দিয়ে ফোন চার্জ দিচ্ছিলেন। তাই চার্জ শেষ হয়ে ফোন বন্ধ হয়ে গেছে বলে ধারণা করেছিলেন দ্বীপ। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে আবার ফোন করলেও একই অবস্থা দেখতে পান বলে জানান তিনি। তাহসিফের সঙ্গে শেষ দেখা হওয়ার সময় কোনো অস্বাভাবিক আচরণ চোখে পড়েনি বলেও দাবি করেন দ্বীপ।

নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় কাউকে সন্দেহ করছেন না দ্বীপ
তাহসিফের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় কাউকে সন্দেহ করেন কি না, জানতে চাইলে দ্বীপ বলেন, এখন পর্যন্ত কাউকে সন্দেহ করার মতো অবকাশ তার নেই। তার দাবি, তাহসিফের সঙ্গে কথাবার্তা স্বাভাবিক ছিল এবং পরিচয়ের পর থেকে এমন কোনো কথোপকথন হয়নি, যা থেকে কোনো দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা যেত। দ্বীপ বলেন, ‘বাকি ১০ জন যেমন রহস্যের মধ্যে আছে, আমিও একদম একই রহস্যের মধ্যে আছি।’ তাহসিফের পরিবারের পক্ষ থেকে দ্বীপ তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন বলে যে কথা বলা হয়েছে, সে প্রসঙ্গে দ্বীপ জানান, মোটরসাইকেল মেরামতের বিষয়েই মূলত তাদের দেখা হয়েছিল। পরে তারা একসঙ্গে রাতের খাবার খান।

নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহের ব্যবসায়ও সম্পর্ক ছিল
দ্বীপ জানান, তাহসিফের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহের ব্যবসা নিয়েও তার সম্পর্ক ছিল। এ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে পরিচিতদের মধ্যে ব্যক্তিগত মনোমালিন্য থাকতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে বিষয়টি তেমন বড় কিছু ছিল না বলে দাবি তার। তাহসিফের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও তার পরিচয় ছিল বলে জানান দ্বীপ। তার ভাষ্য, তাহসিফ মাঝেমধ্যে তাকে বলতেন, তিনি না থাকলে যেন তার ছোট ভাইকে দেখে রাখেন। তবে কেন তাহসিফ এমন কথা বলতেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে চাননি দ্বীপ।

ভাইরাল ভিডিও নিয়ে তাহসিফের সঙ্গে আলোচনা হয়নি
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগ নিয়ে তাহসিফের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে দ্বীপ বলেন, তিনি বিষয়টি সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। এ নিয়ে তাহসিফের সঙ্গে তার কোনো আলোচনা হয়নি।

দ্বীপ আরও জানান, সম্প্রতি তিনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক শেষ করেছেন। তাহসিফের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে মর্গ থেকে নেওয়ার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এরপর পরিবারের উদ্বেগের কথা বিবেচনা করে আর বাইরে বের হননি বলে জানান তিনি। তাহসিফের নিখোঁজ হওয়ার আগের রাতের ঘটনাগুলো নিয়ে দ্বীপের বক্তব্য সামনে এলেও, তার নিখোঁজ হওয়ার পেছনে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে এই বক্তব্য থেকে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

কালের আলো/এএএন/এমএসআইপি

বসতে চেয়েছিলেন অসুস্থ শিক্ষক, কেউ এগিয়ে আসেননি—মেট্রোরেলে মানবিকতার পরীক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:১৫ অপরাহ্ণ
বসতে চেয়েছিলেন অসুস্থ শিক্ষক, কেউ এগিয়ে আসেননি—মেট্রোরেলে মানবিকতার পরীক্ষা

ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হচ্ছিল ৬৪ বছর বয়সী শিক্ষক ড. নজীবুর রহমানের। অসুস্থ বোধ করায় সহযাত্রীদের কাছে বসার জায়গা চেয়েছিলেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, কেউ তাঁকে আসন ছেড়ে দেননি। এর এক থেকে দুই মিনিটের মধ্যে মেট্রোরেলের মেঝেতে পড়ে যান তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

চার দিন আগে ঘটে যাওয়া এই মৃত্যু এখন শুধু একটি পরিবারের শোকের ঘটনা নয়; গণপরিবহনে মানুষের মানবিকতা, পারস্পরিক দায়িত্ববোধ এবং জরুরি মুহূর্তে সহায়তার প্রস্তুতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। প্রবীণ ও অসুস্থ যাত্রীর জন্য নির্ধারিত অগ্রাধিকার আসন কতটা নিয়ম মেনে ব্যবহার করা হচ্ছে, আর কেউ বিপদে পড়লে সহযাত্রীরা কতটা এগিয়ে আসছেন—ড. নজীবুরের মৃত্যুর পর সেই প্রশ্নগুলো নতুন করে সামনে এসেছে।

  • ড. নজীবুর রহমানের মৃত্যুর পর অগ্রাধিকার আসনের ব্যবহার ও সহযাত্রীদের দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন 
  • জরুরি চিকিৎসা ও সহমর্মিতা বাড়ানোর তাগিদ

তাঁর ছেলে নাকিবুর রহমানের ভাষায়, বসার সুযোগ পেলে তাঁর বাবা অন্তত কিছুটা স্বস্তি পেতেন। তবে আসন না পাওয়াই তাঁর মৃত্যুর কারণ, এমন দাবি করেননি তিনি। এই আক্ষেপের মধ্যেই রয়েছে ঘটনাটির মানবিক তাৎপর্য—কোনো মানুষের অসুস্থতা চোখে পড়লে তাঁর পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব কি কেবল নির্ধারিত নিয়মের, নাকি নাগরিক বিবেকেরও?

কয়েক মিনিটেই বদলে গেল সব
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নজীবুর রহমান ঘটনার দিন সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়েছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে বিকেল তিনটার দিকে শাহবাগ মেট্রোস্টেশন থেকে উত্তরা যাওয়ার জন্য ট্রেনে ওঠেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক, তাঁর সহকর্মী। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রেনে আসন না পেয়ে দুজনই দাঁড়িয়ে যাত্রা শুরু করেন। ভিড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কিতে তাঁরা একে অপরের কাছ থেকে কিছুটা দূরে সরে যান।

বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ট্রেনটি শেওড়াপাড়া এলাকায় পৌঁছালে ড. নজীবুর অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন। তাঁর ছেলে নাকিবুরের অভিযোগ, এ সময় বাবা আশপাশের যাত্রীদের কাছে কয়েকবার বসার জায়গা চান। কিন্তু কেউ তাঁকে আসন ছেড়ে দেননি। কিছুক্ষণ পর তিনি মেঝেতে পড়ে গেলে আশপাশের যাত্রীরা তাঁকে ধরে তোলার চেষ্টা করেন। হৈচৈ শুনে তাঁর সহকর্মীও সেখানে পৌঁছান। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে তাঁকে সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে তাঁকে উত্তরার উত্তর স্টেশনে নেওয়া হয়।

নাকিবুরের ভাষ্য অনুযায়ী, আনসার সদস্যদের সহায়তায় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগ করা হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। বিকেল পাঁচটার দিকে চিকিৎসকেরা জানান, তিনি আর বেঁচে নেই। ড. নজীবুরের উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস ছিল বলে জানিয়েছেন তাঁর ছেলে। তবে তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাগত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

‘বাবাকে বসতে দিলে অন্তত একটু স্বস্তি পেতেন’
বাবার মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নাকিবুর রহমান আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘আমি বলছি না বাবাকে বসতে দিলে তিনি মারা যেতেন না। তবুও কেউ যদি আমার বাবাকে বসার সুযোগ দিতেন, তিনি একটু হলেও স্বস্তি পেতেন। হয়তো এভাবে নিচে পড়ে যেতেন না।’ নাকিবুর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য। পাশাপাশি তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। তাঁর বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—তিনি কাউকে সরাসরি দায়ী করতে চান না; বরং অসুস্থ একজন মানুষের অনুরোধে সাড়া দেওয়ার মতো মানবিক আচরণের গুরুত্ব তুলে ধরতে চান।

তিনি বলেন, ‘বাবার মৃত্যুর ঘটনায় কাউকে দোষারোপ করছি না। সেখানে যাত্রীরা তাঁকে ধরে তোলার চেষ্টা করেছেন। আনসার সদস্যরাও সহযোগিতা করেছেন।’ তবে অসুস্থ হওয়ার আগেই কেউ পাশে দাঁড়ালে তাঁর বাবা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারতেন—এমনটাই মনে করেন তিনি।

নাকিবুরের মতে, গণপরিবহন সবার জন্য। সেখানে প্রবীণ, শিশু, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও অসুস্থ মানুষও চলাচল করেন। সব সময় কাউকে আসন ছেড়ে দিতেই হবে, বিষয়টি এমন নয়; কিন্তু কারও শারীরিক কষ্ট চোখে পড়লে তাঁর প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

পরিবারের কাছে খবর পৌঁছাতেও ছিল জটিলতা
ড. নজীবুরের স্ত্রী ও ছোট ছেলে তখন ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে ছিলেন। তাঁর ফোন লকড থাকায় সেটি থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান নাকিবুর। বাবার সহকর্মীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে পৌঁছান। পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতিতে শেষকৃত্যের আয়োজনও করতে হয়। উত্তরার ৫ নম্বর সেক্টরের আইইএস মসজিদ প্রাঙ্গণে এশার নামাজের পর তাঁর জানাজা হয়। পরে গৌরনদী উপজেলায় তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর অপর দুই সন্তান নিউজিল্যান্ডে থাকেন।

অগ্রাধিকার আসন আছে, প্রয়োগে ঘাটতি কোথায়?
মেট্রোরেলের প্রতিটি বগিতে অগ্রাধিকার আসনের ওপর স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। প্রবীণ নাগরিক, গর্ভবতী নারী, শিশুসহ অভিভাবক এবং শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আসন ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে সেখানে। কিন্তু নির্দেশনা থাকলেই যে তার যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে, বাস্তব চিত্রে সব সময় তা দেখা যায় না।

এমআরটি-৬ লাইনের কয়েকটি স্টেশনে যাত্রীদের চলাচল পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, অগ্রাধিকার আসনে প্রবীণদের পাশাপাশি তরুণ ও মধ্যবয়সী পুরুষেরাও বসে আছেন। কোনো স্টেশনে প্রবীণ যাত্রী উঠলে কেউ কেউ আসন ছেড়ে দেন, আবার কেউ বসেই থাকেন।

কয়েকজন যাত্রীর ভাষ্য, মতিঝিল থেকে উত্তরা যাওয়ার পথে ভিড় বাড়তে থাকায় আসন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। কেউ কেউ দীর্ঘ পথ দাঁড়িয়ে যাওয়ার পরিবর্তে আসন খালি হওয়ার অপেক্ষা করেন। তবে অগ্রাধিকার আসন ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।

শাহবাগ স্টেশনে এক প্রবীণ যাত্রীকে দেখে নিজের আসন ছেড়ে দেন শিক্ষার্থী মেহেদি হাসান। তাঁর মতে, তরুণদের জন্য কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা যতটা সহজ, প্রবীণদের জন্য তা ততটা নয়। মেহেদি বলেন, ‘মেট্রোতে আমাদের যেতে সময় লাগে কয়েক মিনিট। এই সময় দাঁড়িয়ে থাকলে আমাদের কিছু হবে না। কিন্তু প্রবীণদের দাঁড়িয়ে যেতে কষ্ট হয়। এমনিতেই ঠেলাঠেলিতে তারা অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন।’

ফার্মগেট থেকে মতিঝিল যাওয়ার পথে কথা হয় ৬৮ বছর বয়সী শাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে। তাঁর অভিজ্ঞতা, অনেক সময় কম বয়সী যাত্রীরা তাঁকে বসার সুযোগ করে দেন। তবে সব সময় আসন পাওয়া যায় না। তাঁর মতে, গণপরিবহনে প্রবীণদের অগ্রাধিকার দেওয়ার শিক্ষা পরিবার থেকেই শুরু হওয়া উচিত।

স্টেশনে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা কতটা জরুরি?
মেট্রোরেলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন। এই বিপুল যাত্রীসমাগমের মধ্যে কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত কীভাবে সহায়তা দেওয়া হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান জানান, মেট্রোরেলে যাতায়াতের সময় তিনি কখনো খালি আসন পাননি। তাঁর পর্যবেক্ষণ, অনেক ক্ষেত্রে কম বয়সী যাত্রীরা আসনে বসে থাকেন, যা প্রবীণ ও অসুস্থ যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়াতে পারে।

তিনি মনে করেন, অগ্রাধিকার আসন ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি গণপরিবহনে জরুরি সহায়তার ব্যবস্থাও জোরদার করা প্রয়োজন। এ জন্য স্কুল-কলেজ, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমে প্রচারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

সাইদুর রহমান বলেন, ‘প্রতিটি স্টেশনে নির্ধারিত একটি প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা উচিত। যাতে কেউ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রাথমিক চিকিৎসা পেতে পারেন।’ প্রবীণ ও অসুস্থ যাত্রীর জন্য আসন নিশ্চিত করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত পরিস্থিতি বুঝে কর্মীদের জানানো, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা ডেকে দেওয়া এবং তাঁকে নিরাপদে সহায়তা করাও জরুরি। এ ক্ষেত্রে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের জরুরি সাড়াদানের প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মানবিকতা কি শুধু নিয়ম মেনে চলার বিষয়?
গণমাধ্যমকর্মী নাজমুস সাকিব রহমানের মতে, ড. নজীবুরের মৃত্যুর ঘটনা মানুষের সাধারণ বিবেচনাবোধের ঘাটতি নিয়ে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ‘ড. নজীবুরের মৃত্যুর ঘটনা আমাদের কাণ্ডজ্ঞান বা কমনসেন্সের সংকট সামনে নিয়ে এসেছে। আমরা অনেক সময় নিয়মকানুন জানি, কিন্তু কখন কোথায় মানবিক আচরণ করতে হবে, সেই বোধটুকু হারিয়ে ফেলি।’ তাঁর বক্তব্য, গণপরিবহনে সহানুভূতি দেখানো কেবল ভালো আচরণ নয়, পারস্পরিক দায়িত্ববোধেরও অংশ। তিনি আরও বলেন, ‘গণপরিবহনে সহানুভূতি পারস্পরিক দায়িত্ববোধের অংশ। আজ একজন অন্যের সহযোগিতা চাইছেন, কাল সেই পরিস্থিতিতে আমরাও পড়তে পারি। তাই পরিস্থিতি বুঝে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পাশে দাঁড়ানো সবচেয়ে জরুরি।’

যে প্রশ্নগুলো থেকে যায়
ড. নজীবুর রহমানের মৃত্যুর সঙ্গে অগ্রাধিকার আসন না পাওয়ার অভিযোগ সামনে এলেও আসন পেলে তাঁর মৃত্যু ঠেকানো যেত কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাগত কারণও এখানে নিশ্চিত নয়। তাই ঘটনাটিকে কোনো একক যাত্রী বা একটি আচরণের ফল হিসেবে চিহ্নিত করার পরিবর্তে, অসুস্থ যাত্রীর প্রতি সহায়তার সুযোগ এবং জরুরি চিকিৎসাব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। এই ঘটনা অন্তত তিনটি বিষয়ে নতুন করে মনোযোগ দাবি করে।

প্রথমত, অগ্রাধিকার আসনের নির্দেশনা শুধু বগিতে লিখে রাখলেই হবে না; যাত্রীদের তা মানতে উৎসাহিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, মেট্রোরেল স্টেশন ও ট্রেনে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা সম্পর্কে যাত্রীদের স্পষ্ট ধারণা থাকা দরকার। তৃতীয়ত, প্রবীণ, অসুস্থ ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের প্রতি সহমর্মিতা তৈরিতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহন কর্তৃপক্ষকে ভূমিকা রাখতে হবে।

ড. নজীবুরের ছেলে নাকিবুর রহমান নিজেই বলেছেন, তিনি কাউকে দোষারোপ করতে চান না। তাঁর এই অবস্থান শোকের মধ্যেও একটি বৃহত্তর সামাজিক বার্তা দেয়—মানুষের চলাচলকে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করতে নিয়মের পাশাপাশি মানবিক আচরণও অপরিহার্য। একটি আসন হয়তো জীবন বাঁচানোর নিশ্চয়তা নয়। কিন্তু অসুস্থ মানুষের কষ্ট বুঝতে পারা, তাঁর পাশে দাঁড়ানো এবং দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা করা আমাদের নাগরিক দায়িত্ব। ড. নজীবুর রহমানের মৃত্যু তাই শুধু অগ্রাধিকার আসনের ব্যবহার নয়, গণপরিবহনে আমরা একে অন্যের প্রতি কতটা দায়িত্বশীল—সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে।

কালের আলো/এমএসএএকে/এমকে

সাদমানের শতক, তাইজুলের ঘূর্ণিতে চাপে ক্যারিবীয়রা

ক্রীড়া প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৬ অপরাহ্ণ
সাদমানের শতক, তাইজুলের ঘূর্ণিতে চাপে ক্যারিবীয়রা

মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনটি ব্যাট হাতে সাদমান ইসলাম এবং বল হাতে তাইজুল ইসলামের নৈপুণ্যে নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। সাদমানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে ২৭২ রান সংগ্রহের পর তাইজুলের জোড়া আঘাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে চাপে ফেলেছে স্বাগতিকরা। দিন শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৩৪ রান তুলেছে ক্যারিবীয়রা। ফলে হাতে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে এখনো ১৩৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে সফরকারীরা।

সাদমানের ব্যাটে বাংলাদেশের ২৭২ রান
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু হয় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের বাকি অংশ নিয়ে। দিনের শুরুতে স্বাগতিকদের ইনিংস থামে ২৭২ রানে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১০৫ রান করেন ওপেনার সাদমান ইসলাম।

২৩৪ বলের ধৈর্যশীল ইনিংসে ১১টি চার মারেন সাদমান। টেস্টে তার ব্যাটিং দৃঢ়তা বাংলাদেশের সংগ্রহকে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া তাওহীদ হৃদয় ৪২, মুমিনুল হক ২৮ এবং লিটন দাস অপরাজিত ৩৪ রান করেন। তবে শেষ দিকে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান ছিলেন সবচেয়ে সফল বোলার। ৫৩ রান খরচায় ৫ উইকেট নেন তিনি। শামার জোসেফ ও জশুয়া বিশপ দুটি করে এবং জেডেন সিলস একটি উইকেট শিকার করেন।

শুরুতে ভালো খেলেও চাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ
২৭৩ রানের লক্ষ্য সামনে রেখে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা মন্দ করেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই ওপেনার জন ক্যাম্পবেল ও ব্র্যান্ডন কিং প্রথম উইকেটে যোগ করেন ২৯ রান। তবে ১৫ রান করা কিংকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ। এরপর তেজনারায়ণ চন্দরপালকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নিতে থাকেন ক্যাম্পবেল। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ফিফটি তুলে নেন এই ক্যারিবীয় ওপেনার। কিন্তু তার সেই ইনিংস বেশি দূর এগোতে দেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। ৭৬ বলে ৬টি চার ও ২টি ছক্কায় ৫৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন ক্যাম্পবেল। তার বিদায়ে ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায় বাংলাদেশ।

তাইজুলের জোড়া আঘাতে বিপাকে ক্যারিবীয়রা
ক্যাম্পবেলের বিদায়ের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিংয়ে চাপ আরও বাড়িয়ে দেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। দলীয় ৯৭ রানে ৭ রান করা কাভেম হজকে ফিরিয়ে দেন তিনি। এরপর দলীয় স্কোরে আর কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই আমির জাঙ্গুকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন এই স্পিনার। কোনো রান না করেই মাঠ ছাড়েন জাঙ্গু। মাত্র ৮ রানের ব্যবধানে দুই উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের সামনে দ্রুত উইকেট হারানোয় স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংসের রান টপকানোর পথও কঠিন হয়ে পড়ে সফরকারীদের জন্য।

আলোকস্বল্পতায় আগেভাগে দিনের খেলা শেষ
তাইজুলের জোড়া আঘাতের পর তেজনারায়ণ চন্দরপাল ও জাস্টিন গ্রেভস মিলে দলকে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। দিনের বাকি সময়ে আর উইকেট না হারিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তারা। শেষ পর্যন্ত আলোকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন আম্পায়াররা।

দ্বিতীয় দিন শেষে ৪৮ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ ১৩৪ রান। তেজনারায়ণ চন্দরপাল ৪৩ এবং জাস্টিন গ্রেভস ১৫ রানে অপরাজিত আছেন। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের চেয়ে এখনো ১৩৮ রানে পিছিয়ে রয়েছে সফরকারীরা। সাদমানের সেঞ্চুরিতে গড়া সংগ্রহের পর তাইজুলের গুরুত্বপূর্ণ দুই উইকেট বাংলাদেশের জন্য স্বস্তি এনে দিয়েছে। তৃতীয় দিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কত দ্রুত এই ব্যবধান কমাতে পারে, আর বাংলাদেশ তাদের বাকি উইকেটগুলো তুলে নিতে পারে কি না—সেদিকেই থাকবে নজর।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি