প্রভাবমুক্ত থেকে সৎ-যোগ্যদের সেনা নেতৃত্বে আনার গুরুত্ব প্রধানমন্ত্রীর
প্রকাশিতঃ 8:08 pm | July 15, 2021

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :
পিতা মুজিবের মতোই দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও অবিচল আস্থা, গভীর বিশ্বাস আর ভালোবাসাও অকৃত্রিম। নিজের দু’সহোদর শেখ কামাল ও শেখ জামাল ছিলেন সেনাবাহিনীর দক্ষ ও চৌকস কর্মকর্তা। টানা তিন মেয়াদে সেনাবাহিনী তথা সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর পদাঙ্ক অনুসরণ করেই নিরবচ্ছিন্নভাবে তিনি কাজ করে চলেছেন।
আরও পড়ুন: কর্তব্যবোধ ও নিষ্ঠার সঙ্গে পদস্থ কর্মকর্তাদের পদায়ন নিশ্চিতের অঙ্গীকার সেনাপ্রধানের
চারবারের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন এই সরকারের নিবিড় পরিচর্যায় শতভাগ পেশাদার, দক্ষ ও আধুনিক বাহিনীতে পরিণত হয়েছে সেনাবাহিনী। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় স্বমিহমায় উদ্ভাসিত ও গৌরবমন্ডিত এই বাহিনীর নির্বাচনী পর্ষদের অনুষ্ঠানে প্রতিবারই সেনাবাহিনীর নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের সবকিছুর উর্ধ্বে থেকে নিরপেক্ষ বিচার বিশ্লেষণ করে যোগ্য নেতৃত্বকে খুঁজে বের করার কার্যকর দিকনির্দেশনা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।
দৃঢ়ভাবে বঙ্গবন্ধু কন্যা বিশ্বাস করেন- উপযুক্ত এবং যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমেই যেকোন বিজয় বা সাফল্য অর্জন করা সম্ভব। বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সেনা সদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২১ (প্রথম পর্ব) এ প্রধান অতিথির দেওয়া বক্তব্যেও অভিন্নভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে সৎ, নির্মোহ, ন্যায়পরায়ণ, জনবান্ধব, মানবিক গুণসম্পন্ন এবং সর্বোপরি কর্মজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব প্রদানে সফল অফিসারদের খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন সরকারপ্রধান।
তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্যরা ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে, প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণ বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিকেই পদোন্নতির জন্য নির্বাচিত করবেন বলে আমার বিশ্বাস। সেনা কমান্ড, স্টাফ, প্রশিক্ষকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নিযুক্তির জন্য উপযুক্ত অফিসারদের পদোন্নতি দেওয়া হলে সবার গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে’ এ বিষয়টিও বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই উপস্থাপন করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা।
শুধু তাই নয়, করোনাকালীন সময়ে সেনাবাহিনীর জনকল্যাণমূলক নানা কাজেরও উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন হ্যাট্টিক প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘সাম্প্রতিককালের করোনা মহামারি প্রতিরোধসহ নানা উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে আমাদের সেনাবাহিনী অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে চলছে, যা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। শুধু দেশেই নয়, আমাদের সেনাবাহিনী বিশ্বদরবার থেকে দেশের জন্য এক বিরল সম্মান ও মর্যাদা বয়ে এনেছে।’
সেনাসদর মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্স থেকে এই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। তিনি করোনা মহামারির মধ্যেও নীতি নির্ধারণ সংক্রান্ত এই বৈঠক আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে কর্তব্যবোধ ও নিষ্ঠার সাথে পদস্থ কর্মকর্তাদের পদায়ন নিশ্চিত করবে নির্বাচনী পর্ষদ-এমন বিষয়টিও অমিত দৃঢ়তার সঙ্গেই উপস্থাপন করেন জেনারেল শফিউদ্দিন। পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম গণমাধ্যমকর্মীদের ব্রিফ করেন।

অনুষ্ঠানে গণভবন প্রান্তে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল নকিব আহমদ চৌধুরী, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মো. মজিবুর রহমান প্রমুখ।
সেনা সদরে উপস্থিত ছিলেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ড. মো: আবু হেনা মোস্তফা কামাল, সেনাবাহিনীর চীফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান, এনডিসি কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল আকবর হোসেন, আর্টডকের জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম মতিউর রহমান, কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো.সাইফুল আলমসহ উর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা।
অত্যাধুনিক এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ সেনাবাহিনীর ওপর গুরুত্বারোপ
বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি অত্যাধুনিক এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ সেনাবাহিনীর ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, দেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত রাখতে একটি সুশৃঙ্খল ও অত্যাধুনিক সেনাবাহিনী অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এজন্যই মহান মুক্তিযুদ্ধের আদর্শে বলীয়ান, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বোচ্চ ত্যাগে সদা প্রস্তুত, পেশাদার এবং দায়িত্বজ্ঞান সম্পন্ন অফিসারদের হাতে এর নেতৃত্ব ন্যাস্ত করতে হবে।’
আওয়ামী লীগ সরকার সর্বদাই জনগণের সেবক হিসেবে দেশ পরিচালনা করে, শাসক হিসেবে নয়, উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত রাখতে একটি সুশৃঙ্খল ও অত্যাধুনিক সেনাবাহিনী অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

শৃঙ্খলাই সেনাবাহিনীল মেরুদন্ড, খুঁজে বের করতে হবে যোগ্য নেতৃত্ব
শৃঙ্খলাই সেনাবাহিনীর মেরুদন্ড উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পদোন্নতির ক্ষেত্রে সৎ, নির্মোহ, ন্যায়পরায়ণ, জনবান্ধব, মানবিক গুণসম্পন্ন এবং সর্বপরি কর্মজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব প্রদানে সফল অফিসারদের খুঁজে বের করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমি জেনে খুশি হয়েছি যে, সেনাবাহিনীর অফিসারদের পদোন্নতির জন্য টিআরএসিই-ট্রেস (টার্বুলেটেড রেকর্ড এন্ড কম্পারেটিভ ইভাল্যুয়েশন) পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, যা তাদের পেশাগত দক্ষতার বিভিন্ন দিকের তুলনামূলক মূল্যায়ন প্রকাশ করে।
এর সাথে নির্বাচকমন্ডলীগণ ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে, প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণ বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিকেই পদোন্নতির জন্য নির্বাচিত করবেন বলে আমার বিশ্বাস। তিনি তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আরও বলেন, ‘আপনাদেরকে সকল প্রভাব থেকে মুক্ত থেকে নিরপেক্ষতার সঙ্গে যোগ্য নেতৃত্ব খুঁজে বের করতে হবে।’
সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে যতো কর্মযজ্ঞ
সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা গত সাড়ে ১২ বছরে তাঁর সরকার সশস্ত্র বাহিনীর জন্য যেসব উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করেছেন তার সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেনাবাহিনীতে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র, সেনা বিমান ও হেলিকপ্টারসহ আধুনিক ইনফ্যান্ট্রি গেজেট, ইঞ্জিনিয়ারিং সরমঞ্জামাদি সংযোজন করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু প্রণিত প্রতিরক্ষা নীতির ভিত্তিতে নতুন করে ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি, ২০১৮’ প্রণয়ন করেছে, যা মন্ত্রিপরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বের সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।
‘৯৬ সালে ২১ বছর পর সরকার গঠন করেই আওয়ামী লীগ সরকার সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপ সমূহের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের শীর্ষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ (এনডিসি) এবং ১৯৯৮ সালে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি), ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ পিস্ সাপোর্ট অপারেশন ট্রেইনিং (বিপসট) এবং আর্মড ফোর্সেস মেডিক্যাল কলেজ (এএফএমসি) প্রতিষ্ঠা করি।

তাঁর সরকার সে সময় নতুন নতুন ব্রিগেড, ইউনিট ও ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠা করে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান আরো বলেন, ‘সেনাবাহিনীতে পর্যাপ্ত সংখ্যক আর্মাড পার্সোনাল ক্যারিয়ার (এপিসি), আর্মাড রিকভারি ভেহিকেল (এআরভি), ব্যাটল ট্যাংক, হেলিকপ্টার এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সমরাস্ত্র এবং সরঞ্জামাদি ক্রয় করে।’
তিনি বলেন, ‘২০০০ সালে আর্মি মেডিক্যাল কোরসহ অন্যান্য কোরে নারী অফিসার নিয়োগ শুরু করি। এছাড়া, ২০০০ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলে গৃহীত ১৩২৫ নম্বর সিদ্ধান্তের আওতায় নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়ে আমরা বদ্ধপরিকর।
তাঁর সরকার ‘ফোর্সেস গোল-২০৩০’ প্রণয়ন করে সেনাবাহিনীর সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এর সাংগঠনিক কাঠামোতে ৩টি নতুন ফর্মেশনসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইউনিট ও প্রতিষ্ঠান যুক্ত করেছে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ পিস বিল্ডিং সেন্টার (বিপিসি) প্রতিষ্ঠা করেছে।’
জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও মাদক নির্মূলে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতিতে কাজ
প্রধানমন্ত্রী ‘মুজিবশতবর্ষ’ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের প্রেক্ষাপট টেনে এনে বলেন, ‘সেখানে বিশ্বনেতৃবৃন্দ বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। আমরা জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও মাদক নির্মূলে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতিতে কাজ করছি। ২০৩০ সালের মধ্যে ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট’ অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি। ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’ গ্রহণ করেছি।
পেশাদার সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলায় গুরুত্ব দিয়েছিলেন জাতির পিতা
প্রধানমন্ত্রী এবং জাতির পিতার কন্যা তাঁর ভাষণে ’৭৫ এর বিয়োগান্তক অধ্যায়ের উল্লেখ করে জাতির পিতা স্বাধীন বাংলাদেশে একটি সুশৃঙ্খল, উন্নত ও পেশাদার সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে যে ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা নীতি, ১৯৭৪’ প্রণয়ন করেছিলেন, তাঁর উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, বিভিন্ন সেনানিবাসের অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি একটি বিশ্বমানের মিলিটারি একাডেমি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন জাতির পিতা এবং ১৯৭৪ সালে কুমিল্লা সেনানিবাসে তিনি সেই মিলিটারি একাডেমির উদ্বোধন করেন ।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় ১৯৭৫ সালের ১১ জানুয়ারি বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রদত্ত জাতির পিতার ভাষণের উল্লেখযোগ্য অংশ উদ্ধৃত করেন।
জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের মালিক আজ বাংলাদেশের জনসাধারণ। এখন তোমাদের প্রতি আছে দেশ এবং জাতির প্রতি দায়িত্ব, জনগণের প্রতি দায়িত্ব, যে সমস্ত সৈনিকদের তোমরা আদেশ-উপদেশ দেবে-তাদের প্রতি দায়িত্ব এবং তোমাদের নিজেদের প্রতি দায়িত্ব। তোমরা সৎ পথে থাকবে, মাতৃভূমিকে ভালবাসবে। তোমরা হবে আমাদের জনগণের বাহিনী।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা দেশ গঠনের জন্য মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন। মাত্র নয় মাসেই তিনি একটি সংবিধান উপহার দিয়েছিলেন। জাতির পিতা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সারা জীবন সংগ্রাম করেছিলেন, আমরাও বিশ্বাস করি-গণতন্ত্রেই সর্বস্তরের মানুষের মুক্তি, কল্যাণ এবং দেশের উন্নতি, যোগ করেন শেখ হাসিনা।
কালের আলো/এমএএএমকে