আপন আলোয় উদ্ভাসিত প্রযুক্তি বিপ্লবের অগ্রনায়ক
প্রকাশিতঃ 5:48 pm | July 27, 2021

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো :
বাংলাদেশের সমান বয়স তার। অনেক পরিচিয়েই তিনি পরিচিত। বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র বা প্রধানমন্ত্রীর জ্যেষ্ঠ সন্তান। প্রধানমন্ত্রীর অবৈতনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা। কিন্তু সব পরিচয় ছাপিয়ে আপন আলোয় উদ্ভাসিত সজীব ওয়াজেদ জয়। নিজেকে একজন মধ্যবয়সী প্রযুক্তি উদ্যোক্তা বলতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। নীরবে ঘটে যাওয়া আইসিটি বিপ্লবের অগ্রনায়ক অভিধায় ভূষিত করা হয়েছে তাকে।
আরও পড়ুন: ৫১ বছর আগের অমলিন স্মৃতি, জন্মের পর জয়কে দেখেছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কম্পিউটার বিজ্ঞানী ও এই হার্ভার্ড গ্র্যাজুয়েট অনেক পরিশ্রমী এবং পরিচ্ছন্ন জীবনের অধিকারী। নিজের জীবন ও কর্মের প্রতিটি ক্ষেত্রেই রয়েছে সততার অনুশীলন। দেশের লাখ লাখ তরুণের প্রাণে স্বপ্নজয়ের বীজ তিনিই বপন করেছেন। কেবল উন্নয়নই নয়, প্রবৃদ্ধি অর্জন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও উদীয়মান অর্থনৈতিক ব্যাঘ্র-বাংলাদেশ এক অনন্য উদাহরণ।
আরও পড়ুন: আপন আলোয় উদ্ভাসিত প্রযুক্তি বিপ্লবের অগ্রনায়ক
নির্মোহ মন মননের স্বপ্নবান এই বিজ্ঞানী দেশের আইসিটি খাতে পরিবর্তনের স্থপতি। তাঁর দূরদর্শী ভাবনা-চিন্তার আলোকেই বিশ্ব যোগাযোগ আর গতিময় জীবনযাপনের পথনকশা মিলেছে। বরাবরই মায়ের পাশে থেকে প্রযুক্তি বিপ্লবের মহানায়ক হিসেবে নিজের ক্যারিশমা দেখাতে সক্ষম হয়েছেন এই ভিশনারি লিডার।
একজন সজীব ওয়াজেদ জয় স্বপ্ন দেখেন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রতিযোগিতার মাধ্যমেই রোবোটিকস, আইওটি, এআই-সেক্টরে একদিন নেতৃত্ব দেবে বাংলাদেশের তরুণরা। এ লক্ষ্যপূরণে কোমরবেঁধে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে উচ্চ প্রযুক্তির ৩১টি বিশেষায়িত ল্যাব। আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর বসানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে।
দেশপ্রেমিক ও নিবেদিতপ্রাণ সজীব ওয়াজেদ জয়ের হাত ধরেই ভবিষ্যত প্রযুক্তিখাতে বিশ্বে নেতৃত্ব দেওয়ার স্বপ্ন দেখছে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের দৌলতেই বাংলাদেশের জিডিপি শুধুমাত্র ভারত বা পাকিস্তানকেই নয়, চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে ইতোমধ্যেই।
বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বদলে যাওয়া বাংলাদেশের সুযোগ্য, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক কর্মবীর, কোটি তরুণের স্বপ্নসারথি সজীব ওয়াজেদ জয়। প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক অর্থনীতির দেশ হিসেবে বিশ্ব পরিমন্ডলে উপস্থাপন করেছেন সতের কোটির দেশকে।

প্রায় এক যুগ আগেও যেখানে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল সাকুল্যে ১০ লাখ। এখন সেটি গিয়ে ঠেকেছে ১০ কোটিতে। ৩০ হাজার কিলোমিটার ফাইবার অপটিক ক্যাবল স্থাপন করা হয়েছে সারাদেশে। এর মাধ্যমে ৩ হাজার ৮০০ ইউনিয়নে ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। ১৮ হাজার ৫০০টি সরকারি অফিসকে একই নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে।
সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরিকল্পনায় ২০১৮ সালে ফোরজি নেটওয়ার্ক যুগে প্রবেশ করে বাংলাদেশ। প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা চলে এসেছে ফোরজি নেটওয়ার্কের আওতায়। এরই ধারাবাহিকতায় ফাইভজি যুগে প্রবেশের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে দেশ, এটিও নি:সন্দেহে একটি বড় মাইলফলক।
আইসিটি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, হাই-টেক শিল্পের বিকাশ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য সরকার ৩৯টি হাই-টেক পার্ক ও সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপন করছে। এগুলো নির্মাণ সম্পন্ন হলে তিন লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। ২০২৫ সালের মধ্যে ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত করা হয়েছে। এরই মধ্যে চালুকৃত পাঁচটি পার্কে ১২০টি প্রতিষ্ঠান ৩২৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে এবং আইটিতে দক্ষ ১৩ হাজারের অধিক কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবাধেই মারণঘাতী করোনার ছোবলের মধ্যেও জরুরি সেবাসহ অর্থনৈতিক কর্মকান্ড চালু রাখা সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিক অনুষ্ঠানে বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই এই বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর অবৈতনিক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টার দিক নির্দেশনায় দেশব্যাপী ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন, ডিজিটাল সেন্টার পরিচালনায় নারীসহ ব্যাপক উদ্যোক্তা সৃষ্টি, ডিজিটাল পদ্ধতিতে জাতীয় পরিচয়পত্রে প্রয়নের মাধ্যমে ব্যাপক তথ্য-ব্যাংক সৃষ্টি, মোবাইলের মাধ্যমে বিভিন্ন ভাতা পরিশোধ, ই-সরকার, ই-নথি, ই-জুডিশিয়ারি, টেলি ও অনলাইন স্বাস্থ্য সেবা, সরকারি দপ্তরসমূহের মধ্যে ভিডিও কনফারেন্সিং ব্যবস্থা, জাতীয় হটলাইন স্থাপনসহ বাংলাদেশে নাগরিক জীবনধারার প্রতিটি স্তরে তথ্য-প্রযুক্তি সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়েছে।
আইটি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেই দেশের প্রায় প্রতিটি স্কুলেই শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। সরকার দুই মিলিয়নেরও বেশি নাগরিককে বিভিন্ন ধরনের আইটি প্রশিক্ষণ দিয়েছে। আর এভাবেই তথ্য-প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, ও উদ্ভাবনের সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটালি পশ্চাদপদ একটি দেশ থেকে বাংলাদেশকে শেখ হাসিনা সরকার একটি পরিপূর্ণ ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের পথিকৃৎ বলেই মনে করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে শ্রম নির্ভর অর্থনীতি থেকে প্রযুক্তি নির্ভর অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। পূর্ণাঙ্গ-স্বয়ংসম্পূর্ণ ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকল লেনদেন নগদের বদলে ডিজিটাল মাধ্যমে করা এবং সকল সরকারি সেবা অনলাইনে নিয়ে আসার পরিকল্পনা নিয়ে এখন কাজ চলছে।’

কালের আলো/এমএএএমকে