প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্পের বাস্তবায়ন, বস্তিবাসী পাচ্ছে আধুনিক ফ্ল্যাট

প্রকাশিতঃ 2:16 pm | July 30, 2021

নিজস্ব সংবাদদাতা, কালের আলো:

রাজধানীতে বাস করা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করেছে সরকার। অত্যাধুনিক এসব ফ্ল্যাট নির্মাণের ফলে তাদের আর বস্তিতে নানা সমস্যায় জর্জরিত বাসগৃহে থাকতে হবে না।

জানা যায়, রাজধানীর মিরপুরের ১১ নম্বর সেকশনে ছয় বিঘা জমিতে বিশাল এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার। যেখানে ১৪ তলার পাঁচটি ভবনে তৈরি করা হয়েছে ৫৩৩টি আধুনিক ফ্ল্যাট।

এসব ফ্ল্যাটে লিফট, জেনারেটর, সৌরবিদ্যুৎ, প্রশস্ত ওয়াকওয়ে, বিদ্যুতের সাবস্টেশন ও সৌন্দর্যবর্ধনের লাইটিংসহ আধুনিক নগর জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাই রয়েছে। দৃষ্টিনন্দন প্রধান ফটক দিয়ে প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করলেই বোঝা যাবে পরিকল্পিত ও আধুনিক আবাসনের ছোঁয়া লেগেছে বস্তিবাসীর জীবনে।

কর্মকর্তারা বলছেন, ১৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি করা ফ্ল্যাটগুলো বস্তিতে বসবাসকারীদের বরাদ্দ দেওয়া হবে। আগামী ৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব ফ্ল্যাটের বরাদ্দপত্র বস্তিবাসীর মাঝে বিতরণ করবেন।

স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময়ে বস্তিবাসীদের নিয়ে এমন উন্নত বাসস্থানের চিন্তা দেশে এটিই প্রথম। রাজধানী ঢাকায় নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এটি হবে প্রথম আধুনিক বাসস্থানের ‘দলিল’।

এ প্রসঙ্গে গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার বলেন, কয়েক বছর আগেও এখানে (প্রকল্প এলাকা) ঘিঞ্জি ঘরে বসবাস করত নিম্ন আয়ের মানুষ। ‘সবার জন্য আবাসন/কেউ গৃহহীন থাকবে না’— প্রধানমন্ত্রীর এমন ঘোষণার পর গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সংস্থা দিয়ে আমরা ব্যাপক কর্মযজ্ঞ হাতে নিই।

‘এখানে বস্তিবাসীর জন্য সব আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রেখে উন্নত আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভাড়াভিত্তিক এ ফ্ল্যাট প্রকল্পটি ৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন।’

বস্তিবাসীদের জন্য ভাড়াভিক্তিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের চিন্তার ফসল জানিয়ে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষকের চেয়ারম্যান মো. দেলওয়ার হায়দার বলেন,  ভাড়া দিয়ে বস্তির জনগণ একটি অস্বাস্থ্যকর ও ঘিঞ্জি পরিবেশে বসবাস করে, সে জায়গায় একই ভাড়ায় উন্নত আবাসনের ব্যবস্থা করেছে সরকার।

‘আমরা এ যাত্রায় ৫৩৩টি ফ্ল্যাট প্রস্তুত করেছি। আরও এক হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে রয়েছে,’ যোগ করেন তিনি।

তথ্যমতে, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে রাজধানীর মিরপুরের ১১ নম্বর সেকশনে বস্তিবাসীর জন্য ভাড়াভিত্তিক ৫৩৩টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ১৪৯ কোটি ব্যয়ে এ প্রকল্পে মোট ছয় বিঘা জমির ওপর ১৪ তলার পাঁচটি ভবন নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে চারটি ভবনে ৬৭৩ বর্গফুটের ৪৬৮টি এবং আরেকটি ভবনে আরও ৬৫টি ফ্ল্যাট রয়েছে।

প্রতিটি ফ্ল্যাটে বসবাসের কক্ষের পাশাপাশি রান্নাঘর, বেসিন, টয়লেট ও আলাদা গোসলখানা রয়েছে।

জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও সমন্বয়) কাজী ওয়াসিফ আহমাদ বলেন, বস্তিবাসীর এ প্রকল্পের সীমানা প্রাচীর, প্রশস্ত রাস্তা, সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ওয়াকওয়ে, প্রতিটি ভবনের জন্য লিফট, প্রতিটি ভবনে ৪০ কেভিএ জেনারেটর, ২৫০ কেভিএ সাবস্টেশন, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং লাইটিং ও দৃষ্টিনন্দন প্রধান ফটকসহ সব ভবনের জন্য সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল বসানো হয়েছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, ৩ আগস্ট বস্তিবাসীর ফ্ল্যাট প্রকল্প ছাড়াও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রাজধানীর মতিঝিল, আজিমপুর, মিরপুর, মালিবাগ ও তেজগাঁও এলাকায় পাঁচটি আবাসন প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

একই সঙ্গে মাদারীপুরে একটি সমন্বিত সরকারি অফিস ভবনও উদ্বোধন করবেন।

জানা যায়, বর্তমান সরকার ছিন্নমূল মানুষের আবাসন সংকট দূর করতে দেশের চিহ্নিত তিনটি পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন (কুমিল্লা, সিরাজগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জ) এলাকায় বাসস্থান উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে।

বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত প্রকল্পটিতে ৫ হাজার ৭০০ ইউনিট বাসস্থান নির্মাণের সংস্থান রাখা হয়েছে।

এটি বাস্তবায়নে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ   অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে বলে জানান সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. দেলওয়ার হায়দার

এদিকে ৩ আগস্ট রাজধানীতে বসবাসরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নির্মিত ২ হাজার ৪১৬টি ফ্ল্যাটেরও উদ্বোধন করবেন সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা।

আজিমপুর, মিরপুর, মতিঝিল ও মালিবাগ এলাকায় এসব প্রকল্পের।

এর মধ্যে আজিমপুর সরকারি কলোনিতে রয়েছে ১৭টি ২০ তলা ভবনে ১ হাজার ২৯২টি ফ্ল্যাট, মিরপুর ৬ নম্বর সেকশনে ২৮৮টি ফ্ল্যাট, মালিবাগে চারটি ২০ তলা ভবনে ৪৫৬টি ফ্ল্যাট এবং মতিঝিলে পাঁচটি ২০ তলা ভবনে ৩৮০টি ফ্ল্যাট।

উদ্বোধনের জন্য সব বিষয়ে প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ শামীম আখতার।

কালের আলো/বিএস/এমএন