শেখ হাসিনার চোখে ‘আসল গেরিলা’ বঙ্গমাতা

প্রকাশিতঃ 6:57 am | August 08, 2021

নিজস্ব সংবাদদাতা, কালের আলো :

মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ২৫ মার্চের কালো রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারের পর বন্দি হিসেবে নিয়ে যাওয়া হয় পশ্চিম পাকিস্তানে। কঠিন এ সময়টিতে পরিবারের সব সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় সামরিক বাহিনীর প্রহরায় গৃহবন্দি অবস্থায় ছিলেন বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব।

আরও পড়ুনঃ রেণু থেকে বঙ্গমাতা

মহান মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময় নিজের অসীম সাহস, দৃঢ় মনোবল ও ধৈর্য নিয়ে তিনি সঙ্কটময় পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন বুদ্ধিমত্তার সঙ্গেই। ত্যাগের মনোভাব নিয়েই তিনি বঙ্গবন্ধুকে শক্তি ও প্রেরণা জুগিয়েছেন। সঙ্কট থেকে উত্তরণে দিয়েছেন যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। বলা চলে, ঘরে বাইরে বেগম মুজিবই ছিলেন জাতির পিতার পরামর্শক, উপদেষ্টা, সহচর আর নির্ভরতার আশ্রয়স্থল।

আরও পড়ুনঃ বঙ্গমাতার দূরদর্শী সিদ্ধান্তই খুলে দেয় স্বাধীনতার পথ

শুধু তাই-ই নয়, দেশ ও জাতির কঠিন সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে দলের নেতাদের কাছে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনা পৌঁছে দিতেন। দফায় দফায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও শাস্তি-নির্যাতনের প্রবল হুমকি-ধমকিও তাকে কাবু করতে পারেনি। উল্টো তিনি ছিলেন অকুতোভয়। কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধুর সিদ্ধান্ত কর্মীদের কাছে পৌছে দেওয়ার কাজটির জন্যও তিনি ছিলেন প্রকৃত একজন গেরিলা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও নিজের বিভিন্ন বক্তব্যে মমতাময়ী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবকেই ‘আসল গেরিলা’ বলে অবহিত করেছেন। মা নিয়ে বলতে গেলে কখনও কন্ঠ ভেঙে আসে, আবার কখনও গর্বে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে দেশরত্নের দু’চোখ।

আরও পড়ুনঃ অমূল্য সেই দলিলের রূপকার বঙ্গমাতাই

২০১৮ সালে বঙ্গমাতার জন্মদিনে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধু-বঙ্গমাতার জ্যেষ্ঠ সন্তান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ‘আমার মা বঙ্গমাতা বেগম শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিব ছিলেন আসল গেরিলা।’

আন্দোলন কীভাবে করতে হবে সেটি তার মায়ের কাছ থেকেই শেখা উল্লেখ করে তিনি সেদিন বলেছিলেন, ‘আমার মা এমন গেরিলা ছিলেন, পাকিস্তানিরা কিন্তু তাকে ধরতে পারেনি। এমনকি কোনও রিপোর্ট লিখতে পারেনি তার নামে। তিনি ছিলেন আসল গেরিলা।’

বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তৃতায় শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘জাতির পিতার আদর্শ বাস্তবায়নে কীভাবে নেপথ্যে থেকে তার মা অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন। মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস আম্মার যে মনোবল দেখেছি, তা ছিল কল্পনাতীত। স্বামীকে পাকিস্তানিরা ধরে নিয়ে গেছে। দুই ছেলে রণাঙ্গনে যুদ্ধ করছে। তিন সন্তানসহ তিনি গৃহবন্দি।

যোগাযোগ একেবারে বিচ্ছিন্ন। কিন্তু আম্মা মনোবল হারাননি। জাতির পিতার জন্য প্রেরণা, শক্তি এবং সাহসের এক উৎস ছিলেন বঙ্গমাতা। স্বামীর সব সিদ্ধান্তে মানসিক সহযোগিতা ছাড়াও বঙ্গমাতার পরামর্শ অনেক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হয়েছে।’

কালের আলো/এমএএএমকে