মাঠের সৈনিকদের সঙ্গে ‘সরাসরি সংযোগ’ সেনাপ্রধানের, সমন্বিত প্রচেষ্টায় সন্তুষ্টি!

প্রকাশিতঃ 11:54 am | August 11, 2021

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর :

‘সেনাবাহিনীর কাছ থেকে আমরা সব রকমের সহযোগিতা পেয়েছি। সবাই একসঙ্গে আছি। করোনা যুদ্ধে আমরা আত্নবিশ্বাসী’-টাঙ্গাইলের এসপি সঞ্জিত কুমার রায়ের এই মন্তব্য প্রবলভাবেই আশান্বিত করেছে সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদকে।

সন্তুষ্টির বাতাবরণে অদৃশ্য শত্রু করোনার সঙ্গে লড়াইয়ে দেশের সাধারণ মানুষকে সুরক্ষিত করতে সবার ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাকেই নব উচ্চতায় উন্নীত করে উপলব্ধির শব্দমালায় মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) সেনাপ্রধানের গভীর তাৎপর্যবহ এমন উচ্চারণ-‘সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। পুলিশ, বাংলাদেশ পুলিশ। সবাই বাংলাদেশ। আমরা সবাই সরকার এবং দেশের জন্য কাজ করছি।’

জনকল্যাণ আর দেশমাতৃকার সেবায় আত্ননিবেদিত সেনা ও পুলিশ সদস্যদের অবদানকে উপস্থাপনের পাশাপাশি সিভিল প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অগ্রণী ভূমিকাকেও ‘ফোকাস’ করলেন জেনারেল শফিউদ্দিন। সম্মিলিত প্রচেষ্টার দৌলতেই সব শঙ্কাকে পেছনে ফেলেই করোনার সঙ্কটময় কঠিন পরিস্থিতি থেকে এখন উত্তরণের পথেই হাঁটছে দেশ।

যে কোন কঠিন চ্যালেঞ্জে সফল এবং কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছতে একক প্রচেষ্টার বদলে ‘টিম ওয়ার্ক’ অপরিহার্য এই বিষয়টিও যেন বড় এক ক্যানভাসেই উঠে এসেছে সেনাপ্রধানের অনন্য এই ভাববিন্যাসে।

ভাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও শুভ্রতার ছোঁয়ায় সবার সমন্বিত প্রয়াসেই করোনার মতো বৈশ্বিক বিপর্যয়কেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাজ্ঞ ও গতিশীল নেতৃত্বে দৃঢ়চিত্তে মোকাবেলায় সক্ষম হবে বাংলাদেশ- হৃদচেতনার গহিনে সূক্ষ্ম অনুভূতির এমন বার্তাই যেন টাঙ্গাইলে দিয়ে এসেছেন জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

সূত্র জানায়, সেনাপ্রধান প্রাণঘাতী ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের চলমান নানা পদক্ষেপের পাশাপাশি জনসচেতনতাও জরুরি বলেও মত দিয়েছেন। মাস্ক পড়া, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখাসহ বিভিন্ন বিষয় যথাযথ প্রতিপালনে গুরুত্ব দিয়ে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে সামাজিক শক্ত অবস্থান গড়তেও জোর দিয়েছেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললেই ভাইরাসটির উর্ধ্বমুখী সংক্রমণের রাশ টেনে ধরা সম্ভব বলেও মনে করেন তিনি।

করোনার যন্ত্রণাদগ্ধ মৃত্যুর বিভীষিকাময় সময়ে সরকারের নির্দেশে সাধারণ মানুষের জীবনকে সুরক্ষিত করতে কয়েক দফার লকডাউনে সম্মুখে থেকেই জেলায় জেলায় কাজ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ ও সিভিল প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

সবার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিজ বাহিনীর কার্যক্রম মানসচক্ষে পর্যবেক্ষণে নিজে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন জেলা সফর করছেন সেনাপ্রধান। এরই ধারাবাহিকতায় ওইদিন টাঙ্গাইলে নিজ বাহিনীর টহল কার্যক্রম ও মাঠ পর্যায়ের তৎপরতা দেখতে গিয়েছিলেন।

মাঠ পর্যায়ে সেনাপ্রধানের সরাসরি উপস্থিতি তৃণমূলে নিজ বাহিনীর সৈনিকদের মনোবল চাঙ্গা ও আত্নবিশ্বাসের পারদকে উর্ধ্বমুখী করেছে। বাহিনী প্রধানের সঙ্গে ‘সরাসরি সংযোগ’ মাঠের সৈনিকদের মননে স্নেহময় সুনিবিড় ছায়ার মতোন রেখাপাত করছে।

এতে করে লড়াকু সেনারা আরও উজ্জীবিত এবং বলীয়ান হচ্ছেন দ্বিগুণ প্রাণশক্তিতে। চিরঞ্জীব জীবন মহিমায় অনিবার্ণ মানবিকতায় নক্ষত্রের হরফে জ্বলে থেকে সবার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সেনাদের কাজ করার এই গৌরবগাঁথা সুন্দরের সঞ্চরণে পুনরায় আলোকিত করেছে যেকোন দুর্যোগে-সঙ্কটে ভরসার প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে।

কালের আলো/এমএএএমকে