আরও সক্ষমতা বাড়বে সার্বিক কার্যক্রমে; প্রযুক্তিগত বিস্ময়কর অগ্রযাত্রায় নয়া মাইলফলক র‌্যাবের

প্রকাশিতঃ 10:15 pm | October 19, 2021

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

আভিযানিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করেছে পুলিশের বিশেষায়িত এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। হাতেনাতে মিলেছে সুফলও। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমেই অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারসহ অন্যান্য কার্যক্রম গতিশীল করার মাধ্যমে দেশজুড়ে কুড়িয়েছে প্রশংসাও।

প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের মাধ্যমে ভার্চুয়াল জগতে ‘রাউন্ড দ্যা ক্লক’ সক্রিয় র‌্যাব। সাইবার অপরাধসহ সব ধরনের অপরাধ নির্মূলের মাধ্যমে অপরাধমুক্ত শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় প্রত্যয় দীপ্ত অঙ্গীকারের ধারাবাহিকতায় প্রযুক্তির বিস্ময়কর অগ্রযাত্রায় নিজেদের সাফল্যের পালকে সংযোজন করেছে আরও একটি মাইলফলক।

সতের কোটি বাংলাদেশীর সবচেয়ে প্রিয় ও আস্থাভাজন এই সংস্থাটি প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন ও সুবিধাদি সম্প্রসারণে মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) র‌্যাব ডাটা হাব ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স (ওএসআইএনটি), র‌্যাব ডিজিটাল অব ম্যানেজমেন্টে সিস্টেম ও র‌্যাব প্রাইভেট ক্লাউডের যাত্রা শুরু করেছে।

এদিন র‌্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তরে প্রধান অতিথি হিসেবে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এমপি। রাজধানীর কুর্মিটোলায় র‌্যাব সদর দপ্তরে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

র‌্যাব সদর দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের উদ্ভাবিত ‘ডাটা হাব’র সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার মাধ্যমে র‌্যাব ফোর্সেস আরও দ্রুততম সময়ে অপরাধী প্রোফাইলিং, অপরাধী শনাক্তকরণ ও গ্রেফতারে সক্ষমতা অর্জন করেছে। এছাড়া ওএসআইএনটি কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে গুজব তৈরি ও বিভিন্ন বিষয়ে উস্কানিদাতা ও অন্যান্য অপরাধীদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে।

ফলশ্রুতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ সব ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় র‌্যাব ফোর্সেসের আভিযানিক কার্যক্রম আরও গতি পাবে। বাড়বে প্রশাসনিক সক্ষমতাও। এর মাধ্যমে র‌্যাবে কর্মরত সব সদস্যের চাকরি, যোগদান, পদায়ন, ছুটি, প্রশিক্ষণসহ র‌্যাবের ক্রয় করা সব মালামাল, গাড়ি, রেশন ও মেডিক্যাল সার্ভিসের বিস্তারিত ডিজিটালি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চলবে দাপ্তরিক কাজ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পেপারলেস অফিস বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থ ও সময় সাশ্রয় হবে। র‌্যাব প্রাইভেট ক্লাউডে আভিযানিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি ডিজিটালি সংরক্ষণের মাধ্যমে র‌্যাবের সার্বিক সক্ষমতা আরও বাড়বে।

র‌্যাব সদরদপ্তরে তথ্য প্রযুক্তির সর্বোত্তম ও সার্বিক ব্যবহার র‌্যাবের সকল ব্যাটালিয়ন ও ক্যাম্প পর্যায়ে বিস্তৃত করার লক্ষে ‘র‌্যাবের প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন’ শীর্ষক কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন র‌্যাব ডিজি অতিরিক্ত আইজিপি (গ্রেড-১) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন ও ইন্সপেকশন) ড.মো.মইনুর রহমান চৌধুরী, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল আহসান।

এ সময় স্বাগত বক্তব্য রাখেন র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল কে এম আজাদ। অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রযুক্তিগত সক্ষমতার মাধ্যমে র‌্যাব অপরাধ দমন ও অপরাধীদের গ্রেফতারের বিষয়ে দু’টি টিভিসি প্রচার করা হয়।

অপরাধীদের শনাক্ত করতে র‌্যাব আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
তথ্য-প্রযুক্তির সর্বোত্তম ও সার্বিক ব্যবহারে র‌্যাব ফোর্সেসের সব ব্যাটালিয়ন ও ক্যাম্প পর্যায়ে বিস্তৃত করার লক্ষে ‘র‌্যাবের প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন’ শীর্ষক কার্যক্রমের শুভ সূচনার মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করতে র‌্যাব আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল’- এমন মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এমপি।

তিনি বলেন, ‘আমি প্রত্যাশা করবো সুযোগ-সুবিধা ব্যবহারে র‌্যাব আরও কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। র‌্যাব দাপ্তরিক কাজ, প্রাইভেট কাজ, গুরুত্বপূর্ণ নথি, তথ্য সংরক্ষণে সক্ষমতা আরও বাড়বে।’

অনুষ্ঠানে সমসাময়িক বিভিন্ন প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করেন মন্ত্রী। একটি স্বার্থান্বেষী মহল অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে এমন অভিযোগ করে আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগেই আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছেন স্বার্থান্বেষী একটি মহল অপপ্রচার ও উস্কানিমূলক প্রচারণা করে যাচ্ছে।

বিভিন্ন সময় ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ব্যবহার করে তারা সাম্প্রতিক সময়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করে যাচ্ছে। গত ১৬ মে রাজধানীর পল্লবীতে একটি নৃশংস হত্যার ঘটনা ঘটে। দুই যুবক একজনকে চাপাতি দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করছেন। সেই হৃদয় বিদারক ঘটনা দেখে সবার হৃদয় কেঁপে উঠেছে। সেই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ক্লিপ আকারে প্রচার করে একটি মহল নোয়াখালীর যতন সাহাকে একইভাবে হত্যা করা হয়েছে মর্মে অপপ্রচার করছে। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক, ন্যক্কারজনক ও অমানবিকও বটে।

মন্ত্রী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘যারা এই ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে ফায়দা লুটার চেষ্টা করছেন, তাদের হুঁশিয়ার করে দিচ্ছি, তাদেরকে অবশ্যই খুঁজে বের করা হবে। তাদের জবাব দিতেই হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করবে। জবাব দিতে হবে তাদের কেন তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তি বিনষ্ট করছে।’

তিনি বলেন, ‘কুমিল্লার মণ্ডপে ঘটনা ঘটিয়েছে, প্রধান অভিযুক্ত তাকে আমরা শনাক্ত করেছি। সে বার বার তার অবস্থান পরিবর্তন করছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে তাকে আমরা ধরে ফেলতে পারবো বলে আমাদের বিশ্বাস। কুমিল্লায় কেন সে এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানবো।

তিনি বলেন, আজ পর্যন্ত কোনো মণ্ডপে কোনো ধরনের কিছু ঘটেনি। কিন্তু এবার দেখছি অপ্রীতিকর কিছু ঘটনা ঘটে গেছে। আসলে ঘটানো হয়েছে। কুমিল্লার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঁদপুরে কিছু উগ্র মানুষ সনাতন সম্প্রদায়ের একটি উপাসনালয়ে ভাঙচুরের চেষ্টা করেছে। সেখানে পুলিশ পরিস্থিতি মোকাবিলায় হিমশিম খেতে হয়েছে। সেখানে ৪ জন মারা গেছে। আজ আরেকজন মেডিক্যাল মারা গেছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, কেন এই হত্যাকাণ্ড, কেন এই মৃত্যু। কার উদ্দেশ্য সফল হওয়ার জন্য এই মৃত্যু। আমরা দেখলাম পরিতোষ নামে এক অল্প বয়সী ছেলে ফেসবুকে আপত্তিকর স্ট্যাটাস দিয়েছে। সেটা কেন্দ্র করে সহিংসতা। আমাদের পুলিশ বাহিনী তার বাড়িঘর রক্ষায় সর্বত্র চেষ্টা করেছে। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

কিন্তু ইতোমধ্যে তার পাশের গ্রামে অগ্নিসংযোগ লুটপাট ভাঙচুর করা হয়েছে। এটার আমরা নিন্দা জানাচ্ছি। ফেসবুকে মিথ্যে প্রচারের মাধ্যমে রামু, নাসিরনগর ভোলায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, যখনই এসব ঘটনা আপনারা (গণমাধ্যমকর্মী) ফেসবুকে দেখেন তার সত্যতা যাচাই করবেন। উত্তেজনা সংবরণ করবেন। খামাখা উসকানিতে কাণ্ড ঘটিয়ে বসবেন না। ইতোমধ্যে রংপুরে এহেন কাণ্ড ঘটিয়েছে।’

দেশের মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসে পরিণত হয়েছে র‌্যাব : জননিরাপত্তা সচিব
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন বলেন, র‌্যাব আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। পুলিশ, বিজিবি, সেনা, নৌ, বিমান ও আনসার বাহিনীসহ সাত বাহিনী সদস্যরা মিলে জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় কাজ করছে। দেশপ্রেম ভালবাসায় উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করছে।

তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্ম যখন সঠিক পথে এগিয়ে চলে, রাষ্ট্র তখন সঠিক পথে এগিয়ে চলে। ১৭ কোটি মানুষের ৫৬ হাজার বর্গমাইলের ছোট্ট একটা দেশ। বিবেক দিয়ে, অথবা আইনশৃংখলা বিচার ব্যবস্থা, আইনের শাসন দ্বারা শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে হয়। অপরাধীরা পার পেয়ে গেলে আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। আমাদের উচিত অপরাধী যেন পার না পায়, ভুক্তভোগীরা যেন বিচার পায়। চুরি ডাকাতি ধর্ষণ, হত্যাসহ সব অপরাধ দমণ করতে হবে। নইলে ১৭ কোটি মানুষ কোথায় যাবে!

অপরাধ করে পার পাবে না কোনো অপরাধী হুঁশিয়ারি দিয়ে স্বরাষ্ট্র সচিব বলেন, দেশ ডিজিটাল হয়েছে, কিন্তু সাইবার স্পেস ব্যবহারে বেড়েছে সাইবার অপরাধ। কিন্তু যারাই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে’ যোগ করেন জ্যেষ্ঠ সচিব।

র‌্যাব তথ্যভান্ডারকে সঠিকভাবে কাজে লাগাবে
পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) ড. মো. মইনুর রহমান চৌধুরী বলেন, র‌্যাবের প্রযুক্তিগত যে আধুনিকায়ন হচ্ছে, এর ভালো দিকটা নিয়ে সোসাইটিকে দিতে পারবো, দেশকে দিতে পারবো এই প্রত্যাশা করছি।

ভুল তথ্যের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আমেরিকার আগ্রাসন হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি এই কথা বললাম কারণ, তথ্যের যদি ভুল ব্যাখ্যা হয়, তাহলে খারাপটাই আমরা পাবো, ভালোটা পাবো না। আশা করছি র‌্যাব উদ্বোধন হওয়া তথ্যভাণ্ডারকে সঠিকভাবে কাজে লাগাবে।’

তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে সতর্ক ও অভিজ্ঞ হতে হবে : এনটিএমসি পরিচালক
দীর্ঘ সময় র‌্যাবের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) পদসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল আহসান। ফলশ্রুতিতে নিজের আবেগ-ভালোবাসার সঙ্গে প্রগাঢ়ভাবেই জড়িয়ে আছে এলিট ফোর্স র‌্যাবের নাম।

এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে নিজের বক্তব্যের শুরুতেই তিনি সেই স্মৃতিচারণ করেন। বিদেহী আত্নার মাগফেরাত কামনা করেন তাঁর প্রয়াত সহকর্মী র‌্যাবের লে: কর্নেল আজাদকে, যিনি না ফেরার দেশে চলে গেছেন ২০১৭ সালের ৩১ মার্চ।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে অপরাধ দমনকে একটি কষ্টসাধ্য বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে এনটিএমসি পরিচালক বলেন, ‘প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে অপরাধীরা প্রতিনিয়ত তাদের অপরাধের ধরন ও মাধ্যম পরিবর্তন করছে। ফলে প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় বর্তমান প্রেক্ষাপটের সঙ্গে তাল মেলাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং তদন্তকারী সংস্থা হিমশিম খাচ্ছে।

তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই বেশি সতর্ক ও অভিজ্ঞ হতে হবে। এজন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত তথ্য-ভাণ্ডার সমৃদ্ধ ইন্টিগ্রিটেড ইন্টেলিজেন্স সিস্টেম এবং এটি পরিচালনার জন্য প্রয়োজন দক্ষ জনশক্তি। এই প্রযুক্তিগত উন্নতি যদি আমরা না ব্যবহার করতে পারি, তাহলে ক্রাইম আরও বাড়বে। ক্রাইম কন্ট্রোলের জন্য বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তিগত শক্তি বাড়ানো প্রয়োজন।

এনটিএমসি পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল আহসান আরও বলেন, ‘আমরা যে ইন্টিগ্রিটিড সল্যুশনস কাঠামো তৈরি করেছি, এর মাধ্যমে সব আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা, তদন্তকারী সংস্থা ছাড়াও সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে তথ্য সরবরাহ করা যাবে। এক্ষেত্রে আমাদের অনেকের মনে অনেক ধরনের ধারণা থাকতেই পারে।

অনেকেই মনে করতে পারেন, তার সব তথ্য মনে হয় নিয়ে গেল। কিন্তু এটি ভুল ধারণা। তবে আমাকে বুঝতে হবে, এ তথ্য যেন কোনো অপরাধ সংঘটিত না করে। তথ্যের সংবরণ ও নিরাপত্তার বিষয়েও আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।

তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা কাজ করছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের সরাসরি দিকনির্দেশনা এবং আমাদের মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মহোদয়ের ডাইরেক্ট সুপারভিশনে কাজগুলো করছি।’

‘আমরা যদি চিন্তা করি, আমার হাতে মোবাইল নেই; তাহলে কি হবে? গুগল ৬ ঘন্টা বন্ধ ছিল; আপনারা জানেন গুগলের এই সময়ে কত কোটি টাকা লস হয়েছে। অর্থাৎ এটি মানুষ ব্যবহার করে এর মাধ্যমে মানুষ ফায়দাও নেয় এবং এর মাধ্যমে মানুষের ক্ষতিও করা যায়। সঠিকভাবে ব্যবহার করাই হচ্ছে আমাদের মূখ্য বিষয়’ বলছিলেন জিয়াউল আহসান।

র‌্যাব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিস্তৃত করার উদ্যোগ নিয়েছে : র‌্যাব মহাপরিচালক
সাফল্যের সঙ্গেই এলিট ফোর্স র‌্যাবের মহাপরিচালকের (ডিজি) নেতৃত্ব দিচ্ছেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (গ্রেড-১) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন। তাঁর দক্ষ ও গতিশীল নেতৃত্বে বিভিন্ন অপরাধীদের গ্রেফতারে জোরালো ভূমিকা পালন করেছে র‌্যাব।

অতীতের ধারাবাহিকতায় তাঁর নেতৃত্বে মাদকের বড় বড় চালান উদ্ধার, অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, খুনি, ছিনতাইকারী, অপহরণকারী ও প্রতারকসহ বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর অপরাধে জড়িতদের গ্রেফতারের মাধ্যমে দেশের মানুষের মনের মনিকোঠরে স্থান করে নিয়েছে র‌্যাব। প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নেও স্পর্শ করেছে নতুন নতুন মাইফলক।

এই অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তৃতায় র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিস্তৃত করার উদ্যোগ নিয়েছি। এখন সার্চ দিলেই কোনো অপরাধ সম্পর্কে ও অপরাধী বা আসামি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য মিলবে। প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার যে ঘোষণা দিয়েছিলেন তার সুফল এখন দেশের মানুষ ভোগ করছে। র‌্যাব এর উৎকর্ষতা অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আজকে যে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার কথা বলছি এই প্রযুক্তির মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা যে তথ্য এক জায়গায় সংরক্ষণ করবো। আমরা এই তথ্যের সহায়তা কিন্তু এনটিএমসি থেকে আগেও পেয়েছি। আমাদের প্রযুক্তিগত সুবিধায় অপরাধ ও অপরাধীদের তথ্য সংরক্ষণ করতে পারবো।

যে তথ্যের জন্য র‌্যাব সদর দপ্তর বা কোনো ব্যাটালিয়নে যোগাযোগ করার প্রয়োজন নেই। অথবা এমটিএমসি’তে যোগাযোগ করার প্রয়োজন নেই। সার্চ দিলেই তথ্য পেয়ে যাবে র‌্যাবের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কোম্পানি (সিপিসি) কর্মকর্তারাও। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও অপারেশনাল কার্যক্রম দ্রুত সময়ের মধ্যে করতে পারবো। এর জন্য আমরা আমাদের নিজস্ব একটি তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলছি।’

সাধারণ মানুষ কখনও তথ্য দিতে ভয় পায় না উল্লেখ করে র‌্যাব ডিজি আরও বলেন, ‘তথ্য দিতে সেই ভয় পায় যে অপরাধী। সাধারণ মানুষ কখনো তথ্য দিতে ভয় পায় না। অপরাধীরা যদি তথ্য দেয় তাহলে হয়তো ধরা পড়ে যাবে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর জালে আটকে যাবে। সেজন্য তথ্য দিতে ভয় পায়।’

র‌্যাবের সম্মান আরও উঁচুতে রাখার অঙ্গীকার অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল কে এম আজাদের
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশনস) কর্নেল কে এম আজাদ বলেন, ‘প্রযুক্তি বর্তমান সময়ে একটি অন্যতম আলোচিত বিষয়। যে দেশ প্রযুক্তিতে যত উন্নত, অপরাধ দমনে সেই দেশ তত এগিয়েছে। র‌্যাব সদরদপ্তর ও ব্যাটেলিয়নে যুক্ত অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে যে কোনো ধরনের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি অতীতের চেয়ে আরো সক্ষমতার সঙ্গে অপরাধী শনাক্ত ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং যেকোনো বিষয়ে র‌্যাব অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোনার বাংলা ও সুখী দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ করে এই ডিজিটাল সেক্টরে অভূতপূর্ব উন্নতি করেছেন। এই অগ্রগতি এগিয়ে চলছে। র‌্যাব বাংলাদেশ সরকারের একটি বিশেষায়িত বাহিনী। সৃষ্টির শুরু থেকে র‌্যাব প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধী দমন, জঙ্গি, চরমপন্থিদের মূল উৎপাটন ও দুর্নীতিবিরোধী বিভিন্ন কার্যক্রম সফলতার সঙ্গে পরিচালনা করছে।’

কর্নেল কে এম আজাদ আরও বলেন, ‘আপনারা সবাই জানেন, সাম্প্রতিক সময়ে র‌্যাব কর্তৃক উদ্ভাবিত জেল ডাটাবেজ, ক্রিমিনাল ডাটাবেজ সিস্টেম, ওআইবিএস ইত্যাদি আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সফলভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অপরাধ দমন করেছে এবং অপরাধীকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশে প্রযুক্তি সম্বলিত গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফর্ম হচ্ছে এনটিএমসি, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার। বর্তমানে বিশ্বে যত ধরনের উন্নত প্রযুক্তি বা যন্ত্রপাতি আছে তার সবই এখানে আছে। এই এনটিএমসি থেকে বিভিন্ন অভিযানিক এবং অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন অতীতের চেয়ে অনেক সহজে অপরাধ দমন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হচ্ছে।

এই এনটিএমসি থেকেই বিভিন্ন আভিযানিক এবং অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনেক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন অতীতের চেয়ে অনেক সহজেই অপরাধ দমন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধীদেরকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হচ্ছে।

র‌্যাব সদরদপ্তর এনটিএমসি থেকে ডাটা হাবসহ অনেক সহযোগিতা পাচ্ছে। এই সহযোগিতা শুধু সদর দপ্তর না, এখন থেকে র‌্যাবের ১৫টি ব্যাটেলিয়ন এই সুবিধা পাবে। এছাড়া দুর্গম এলাকায় থাকা ক্যাম্পগুলোও ব্যাটেলিয়ন থেকে সুবিধা পাবে। র‌্যাব অতীতের চেয়ে আরো ভালোভাবে সক্ষমতার সঙ্গে অপরাধী শনাক্ত ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং যেকোনো বিষয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে।’

র‌্যাবের এই অতিরিক্ত মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘এর ফলে র‌্যাব অতীতের চেয়ে আরও ভালোভাবে, আরও সক্ষমতার সাথে অপরাধীদের শনাক্ত করতে, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করতে এবং যেকোন বিষয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে অনেক বেশি সক্ষমতা অর্জন করবে। আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি এনটিএমসিকে এবং ধন্যবাদ জানাচ্ছি মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে যিনি অনুমোদন দিয়েছেন, সুযোগ করে দিয়েছেন আমাদেরকে এই কার্যক্রম আগের চেয়ে সহজভাবে পাওয়ার জন্য।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, প্রযুক্তি এমন একটি জিনিস যা সকলেই ব্যবহার করতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনিও পারে অপরাধীরাও পারে; তবে সবসময় খেয়াল রাখতে হবে। আমরা যেন যেকোন অপরাধীর চেয়ে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আধিপত্য বজায় রাখতে পারি। আমরা যদি এই আধিপত্য বজায় রাখতে না পারি, অপরাধীরা আমাদের চেয়ে এগিয়ে যাবে। কিন্তু এটি কখনোই হতে দেওয়া যাবে না।

যার ফলে এই বর্তমান সময়ে সকল প্রযুক্তির সুবিধা ব্যবহার করে এই অপরাধী দমন করতে হবে। আজ আমরা নিশ্চিত, গতকাল যে ক্ষমতা র‌্যাব ফোর্সেসের ছিল আজকে তা এগিয়ে যাবে বহুদূর।

সবশেষে আমি বলতে চাই, র‌্যাবের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে, মোটো- বাংলাদেশ আমাদের অহংকার। আমি আজকে বলতে চাই, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা দেখিয়ে র‌্যাবের সম্মান উঁচুতে রাখার অঙ্গীকার।’

কালের আলো/জিকেএম/এমএএএমকে