পরিবর্তন-আধুনিকায়নের ‘প্রতীক’ আইজিপি, অনবদ্য উচ্চারণ মন্ত্রী-সচিব-ডিএমপি কমিশনারের

প্রকাশিতঃ 12:03 am | February 27, 2022

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

প্রযুক্তিনির্ভর, ডাইনামিক ও প্রাগ্রসর নেতৃত্বেরই এক প্রতিচ্ছবি। সমকালীন সময় ছাপিয়ে তাঁর ভাষ্যে উচ্চারিত হয় দিনবদলের পালাবদলে ২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশের। প্রায় ৩৪ বছরের উজ্জ্বল বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার তাঁর। নিজের নেতৃত্বের বাঁকে বাঁকে সন্নিবেশিত করেছেন আধুনিকতার। সমাহার ঘটিয়েছেন নতুনত্বের।

আরও পড়ুনঃ নবযাত্রায় নবপ্রত্যয়ে ডিএমপি, রাজারবাগে মিলনমেলা

নানান বৈচিত্রীয় চিন্তায় নিমগ্ন থেকেছেন দিনের পর দিন। শুভ্রতার নান্দনিক চমক, স্নিগ্ধতা আর সুন্দরের আবাহনেই মাথা উঁচু করেই দাঁড় করিয়েছেন প্রায় সোয়া দু’লক্ষ সদস্যের বিশাল বাংলাদেশ পুলিশকে। সময়ের বিবর্তনে উন্নত দেশের উপযোগী পুলিশ বাহিনী গড়তে দায়িত্ব নিয়েই নিজের কন্ঠে উচ্চারণ করেছিলেন পাঁচ মূলনীতি। কঠিন এক ব্রত নিয়েই পাহাড় কেটেই পথ চলেছেন।

৫০ বছরের ইতিহাসে নানান ক্ষেত্রে সংস্কার এনেছেন। জনবান্ধব করেছেন সাধারণের বিপদে শেষ ভরসা বাহিনীটিকে। পরিবর্তনের রঙে বর্ণিল করেছেন মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিদের বিপরীতে প্রথম বুলেট ছুঁড়া বাহিনীটির সদস্যদের। উজ্জ্বল হৃদয়ে অপার সম্ভাবনায় পাল্টে দিতে চেয়েছিলেন নিজের নেতৃত্বাধীন দেশপ্রেমিক বাহিনীটিকে। সফলও হয়েছেন।

নতুন নতুন সব ভাবনা আর উদ্যোগের মাধ্যমে পুলিশের উন্নয়ন নিশ্চিত করেছেন। সদস্যদের পেশাদারি মনোভাব জাগ্রত করার পাশাপাশি দক্ষতাও বাড়িয়েছেন। স্বচ্ছতার সঙ্গে পদোন্নতির জন্য মেধা ও যোগ্যতাকেই মূল মাপকাঠি করেছেন। তদবির-বাণিজ্যের প্রথাকে পাঠিয়েছেন নির্বাসনে। বন্দোবস্ত করেছেন সদস্যদের উন্নত আবাসনের।

‘বিট পুলিশিং’ প্রবর্তনের মাধ্যমে রচনা করেছেন পুলিশ-জনতার সেতুবন্ধ। ভোগান্তি কমিয়ে এনেছেন। ঘরে বসেই দিয়েছেন সেবাপ্রাপ্তির সুযোগ। বদলে যাওয়া পুলিশের নেতৃত্বে যারপরেনাই পরিবর্তন আর মঙ্গলের প্রতীক হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) ড.বেনজীর আহমেদ, বিপিএম (বার)।

দুর্নীতি-মাদক নির্মূলের সুদৃঢ় অঙ্গীকারের পাশাপাশি অমানবিক ও অপেশাদার আচরণ বন্ধ করা এবং পুলিশের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিতে বাহিনীটির সব কর্মকর্তা-সদস্যদের নিজের অন্তরের আলো-উত্তাপের পরশ মাখিয়ে ঐক্য, বিকাশ, সত্য, সুন্দর ও আলোকের ঝরণাধরায় প্রবাহিত করেছেন।

শাশ্বত সংগ্রামশীলতার শক্তিতে নিজেদের ভেতরকার সঙ্কট মোচন করেছেন। সমস্যা চিহ্নিত করেছেন আবার সমাধানও করেছেন। তাঁর সময়ে নিজ বাহিনীর ৪০ বছরের ইতিহাসে যুগান্তকারী এক উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমেও ইতিহাসের নতুন ধারাপাত সৃষ্টি করেছেন।

পুলিশ সদস্য (কনস্টেবল), এসআই, সার্জেন্ট ও টিএসআই পদে নিয়োগের প্রক্রিয়ায় আইন সংশোধন করে নতুন প্রবিধান নিশ্চিত করেছেন। সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতায় কনস্টেবল পদে ৩ হাজার ‘বেস্ট অব দি বেস্ট’ প্রার্থী নিয়োগ দিয়েছেন। চলমান রয়েছে সাব-ইন্সপেক্টর পদে নিয়োগও।

দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ পুলিশের আলোর পথে পথচলায় অন্ধকার তাড়ানোয়, অবরুদ্ধতাকে পরাজিত করা এবং প্রত্যয়-প্রতীতিতে নবতর আবহে প্রাণময় স্পর্শে জাগিয়ে তোলার অনুঘটক ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) ড.বেনজীর আহমেদ’র সাহসী, বিচক্ষণ ও দূরদর্শী নেতৃত্বের নানা দিক এবার উচ্চারিত হয়েছে উচ্চ পরিমন্ডলে।

পুলিশ বাহিনীর অভিভাবক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল থেকে শুরু করে জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো: আখতার হোসেনের কন্ঠে। প্রাণখুলেই আইজিপি ড.বেনজীর আহমেদ’র নেতৃত্বকে নিজের চেতনা আর বিশ্বাসের জমিন থেকেই অনবদ্যরূপে উপস্থাপন করেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা: শফিকুল ইসলাম।

শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ৪৭তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত নাগরিক সম্মিলনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সুনিপুণভাবেই আধুনিক ও স্মার্ট নেতৃত্বের প্রতীক আইজিপি ড.বেনজীর আহমেদকে অনন্য উপমায় উপস্থাপন করেন সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী, সচিব ও রাজধানীর পুলিশপ্রধান।

যে উচ্চারণ ছিল মন্ত্রী-সচিব ও ডিএমপি কমিশনারের কন্ঠে
দেশপ্রেমিক পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক পুলিশে রূপান্তরিত করার কারিগর হিসেবে ড.বেনজীর আহমেদকেই মনে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। অনুষ্ঠান মঞ্চে নিজের বক্তব্যের প্রারম্ভেই এমন বলিষ্ঠ উচ্চারণ ছিল সরকারের সফল এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কন্ঠে।

জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো: আখতার হোসেন বর্তমান আইজিপি ড.বেনজীর আহমেদ’র ডিএমপি কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সঙ্কটে ক্রাইসিস ম্যানেজার হিসেবে ভূমিকা পালনের বিষয়টিও যেন স্মরণ করিয়ে দেন। জ্যেষ্ঠ সচিব বলেন, ‘ইতোপূর্বে আমাদের পুলিশ বাহিনীর প্রধান ডিএমপি’র কমিশনার ছিলেন। তখনও আমরা দেখেছি অনেক রকমের রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার ভেতরেও অনেক ঠান্ডা মাথায় তিনি ঢাকা শহরের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন।’

পুলিশ মহাপরিদর্শক ড.বেনজীর আহমেদকে ‘অহংকারের ধন’ উপমায় ভূষিত করেন আলোকময় ভাবনা-চিন্তার সৃষ্টিশীল মানুষ ডিএমপি কমিশনার মোহা: শফিকুল ইসলাম, বিপিএম (বার)। নিজের বক্তব্যের শুরুতেই বলেন, ‘মাননীয় আইজিপি ড.বেনজীর আহমেদ বাংলাদেশ পুলিশকে আধুনিকায়নের পথে একক নেতৃত্বে কাক্সিক্ষত মানে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘এই পুলিশ বাহিনীতে মন্দ লোক যারা আছে তাদের বিরদ্ধে মাননীয় আইজিপির নেতৃত্বে আমাদের জিহাদ চলছে। ভালো মানুষকে রিক্রুট করা হচ্ছে। মাননীয় আইজিপি মহোদয় নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কোন চাপের কাছে তিনি নতি শিকার করেননি। একেবারে যাদের চাকরি পাওয়ার দরকার মেধা অনুযায়ী তাদেরই চাকরি হচ্ছে। একটি পয়সা খরচ করা ছাড়া, কোন রকম তদবির ছাড়াই তারা চাকরি পাচ্ছেন।’

ডিএমপি কমিশনার আরও বলেন, ‘মাননীয় আইজিপি সারাদেশের পুলিশ সদস্যদের পদোন্নতির নতুন পদ্ধতি চালু করেছেন। এর মাধ্যমে সেন্ট্রালে পরীক্ষা হচ্ছে, কেন্দ্রীয়ভাবে মেধা তালিকা করা হচ্ছে। যোগ্যতা অনুযায়ীই সবাই পদোন্নতি পাচ্ছেন। পদায়নকে তিনি একেবারে চ্যালেঞ্জ হিসাবে গ্রহণ করেছেন। একটি পদায়ন পয়সার বিনিময়ে ঢাকা মহানগর পুলিশে হয়েছে এমন কেউ দেখাতে পারবে না। আমরা মাননীয় আইজিপির দক্ষ ও বিচক্ষণ নেতৃত্বে ভেতর থেকে পরিবর্তনের চেষ্টাগুলো করে যাচ্ছি।’

কালের আলো/বিএস/এমএম