দুর্যোগ মোকাবেলা এবং সক্ষমতায় বিশ্বে ‘মডেল’ বাংলাদেশ, প্রধানমন্ত্রীকেই কৃতিত্ব প্রতিমন্ত্রীর
প্রকাশিতঃ 9:14 pm | March 09, 2022

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর :
দুর্যোগ মোকাবেলা এবং সক্ষমতা অর্জনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে মডেল। দুর্যোগ সহনশীলতাকে আরও টেকসই ও সমন্বিত করার মাধ্যমে মানব ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষেও কাজ করে যাচ্ছে সরকার। ঘূর্ণিঝড়ের পাশাপাশি নানান প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় দেশটির সক্ষমতার কথা উচ্চারিত হচ্ছে বৈশ্বিক পরিমন্ডলেও।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাজ্ঞ নেতৃত্ব এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা: মো. এনামুর রহমানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে দুর্যোগ মোকাবেলায় দেশটির এই অর্জন ও সাফল্য সারা বিশ্বে অনুকরণীয় বলেও একাধিকবার মন্তব্য করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সংক্রান্ত সংস্থার দায়িত্বশীলরাও।
জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় সামনের সারিতে থেকে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সচেতন থেকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে তিনি যেমন আহ্বান জানিয়েছেন তেমনি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শও দিয়ে যাচ্ছেন বিশ্ব নেতাদের।
‘নিয়মানুবর্তিতা ও কঠোর পরিশ্রমের ‘রোল মডেল’ শেখ হাসিনাই সেই সরকারপ্রধান যিনি প্রতি বছর জলবায়ু অভিযোজন এবং টেকসই অবকাঠামো নির্মাণে নিজেদের জিডিপির ২ দশমিক ৫ শতাংশ অর্থাৎ ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছেন। জলবায়ুর পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ বিচক্ষণতার সঙ্গে মোকাবেলা করে দারিদ্র্য জয়ের লড়াইয়ে শেখ হাসিনার অনন্য নেতৃত্বের প্রশংসায় পঞ্চমুখ বিশ্ব নেতারাও।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা: মো. এনামুর রহমান সব সময়ই দুর্যোগে-সঙ্কটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যকর ও দূরদর্শী নেতৃত্বগুণের সারি সারি চিত্রপট উপস্থাপন করেন। দারিদ্র্য বিমোচনসহ সামাজিক নিরাপত্তা অর্জনে নিজ দেশের সফল কর্মপ্রয়াসও সুনিপুণ দক্ষতায় তুলে ধরেছেন। জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ মোকাবেলায় নিজ মন্ত্রণালয়ের নানামুখী উদ্যোগের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সফল কর্মপ্রয়াস গোটা বিশ্বেই প্রশংসা কুড়িয়েছে বলেও মনে করেন।

তিনি দুর্যোগ সহনীয় টেকসই নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পিতভাবে কাঠামোগত ও অকাঠামোগত কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়টিও তথ্য-উপাত্ত ও চমৎকারিত্বের মধ্যে দিয়ে জানান দিয়েছেন বারবার। দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবেলায় বিশ্বে সুখ্যাতি অর্জনকারী বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস পালন করছে।
‘মুজিববর্ষে সফলতা দুর্যোগ প্রস্তুতিতে গতিশীলতা’ স্লোগানে এদিন সকাল ১০ টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা: মো: এনামুর রহমান এমপি। এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো.কামরুল হাসান।
দুর্যোগ মোকাবেলায় বিশ্বে দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ২০১৯ সালে দু’টি বড় সাইক্লোন হয়েছিল বাংলাদেশে। ওই সময় ১৮ লাখ এবং ২৩ লাখ মানুষকে নিরাপদে সাইক্লোন সেন্টারে নিয়ে আসতে সক্ষমতা দেখিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। সাইক্লোন সেন্টারে তাদের খাবার ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করা হয়।
দুর্যোগে বাস্তুচ্যুত মানুষকে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সহযোগিতা দেওয়া এবং তাদের জন্য দুর্যোগ সহনশীল ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার বিষয়টিও উচ্ছ্বসিত প্রশংসা হচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ড, নদী ভাঙন, খরার মত দুর্যোগ মোকাবেলা করেই বাংলাদেশ টিকে রয়েছে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুর্যোগ মোকাবোয় শক্তিশালী প্রস্তুতি গ্রহণ করে। ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এসবের ফলেই যেকোন দুর্যোগ মোবেলায় সারা বিশ্বে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ।
৪৮টি দেশ নিয়ে গঠিত উচ্চ পর্যায়ের আন্তর্জাতিক ফোরাম সিভিএফ বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবেলায় কাজ করার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টানা দ্বিতীয়বারের মতো জলবায়ু পরিবর্তনে ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলোর জোট ‘ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম-সিভিএফ এবং ‘ভালনারেবল টোয়েন্টি’ বা ভি-২০ গ্রুপের সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।
দুর্যোগ মোকাবেলায় তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে কৃত্রিম উপায়ে ম্যানগ্রোভ বন এবং সবুজ বেষ্টনী তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা করেছে। এসবের মাধ্যমে জলোচ্ছ্বাস থেকে দেশকে রক্ষার পাশাপাশি রক্ষা পাবে প্রাকৃতিক ভারসাম্যও।
গত এক দশকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ৭০ কোটি মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই চক্র ভাঙতে দক্ষিণ এশিয়াকে দুর্যোগে টিকে থাকার সক্ষমতা বাড়াতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০০৯ সালের বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেইঞ্জ স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড অ্যাকশন প্ল্যানের আওতায় জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি কমাতে নানা পদক্ষেপ এবং অভিযোজন কর্মসূচি নিয়েছে সরকার।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়
দুর্যোগ মোকাবেলায় ধারাবাহিক সাফল্যের দৌলতে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঘুর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) নারী ক্ষমতায়ন উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে ‘এসডিজি অর্জনে জেন্ডার-রেসপন্সিভ সেবা’ ক্যাটাগরিতে তারা পেয়েছে এই পদক। শ্রেষ্ঠত্বের এই পদকের মাধ্যমে বিশ্ব পরিমন্ডলে নতুনভাবে উচ্চারিত হচ্ছে হ্যাটট্রিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের নাম।

মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাইডলাইনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা: মো.এনামুর রহমান এমপির দক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে গত বছরের সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরে জাতিসংঘ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই পদক হস্তান্তর করা হবে। অবারিত আনন্দের ফল্গুধারায় দেশের জন্য বিশাল এক সম্মান বয়ে আনা প্রতিমন্ত্রী ডা: এনামুর রহমান নিজেই এই পদকটি গ্রহণ করেন।
কী বলছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী?
দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবেলায় বাংলাদেশের নেওয়া নানামুখী কার্যক্রম এবং স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় জনসাধারণের অংশগ্রহণমূলক সংস্কৃতি গোটা বিশ্বে দেশটিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ‘রোল মডেল’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। দুর্যোগ ঝুঁকি বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আগে জাতিসংঘের ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।’
সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে প্রাকৃতিক এবং মানবসৃষ্ট দুর্যোগজনিত কারণে জনগণের জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিরোধে ব্যাপক সাফল্য মিলেছে। হালনাগাদ করা হয়েছে দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলী।
দুর্যোগকে অন্তর্ভুক্ত করে ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ গ্রহণ করেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো.এনামুর রহমান এমপি’র নেতৃত্বে বিভিন্ন কার্যক্রম ও কর্মসূচিতে অনুপ্রাণিত হয়েছেন দেশের মানুষ। শুধু তাই নয়, দুর্যোগে নিজেদের জীবন ও সম্পদ সুরক্ষায় সচেষ্ট এবং প্রস্তুত থাকার মনোবলও অর্জন করেছে তাঁরা।
জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা: মো. এনামুর রহমান বলেন, ‘বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ হলেও বাংলাদেশকে এখন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ‘রোল মডেল’ হিসেবে গণ্য করা হয়।’ তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় যে সমস্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন ১৯৭৫ সালে তার মর্মান্তিক মৃত্যুর পর স্তিমিত হয়ে যায়।
‘বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করার পর দুর্যোগ প্রস্তুতি ও প্রশমনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু নেওয়া পদক্ষেপগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়। তার সুদৃঢ় নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ হয়েও আজ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় ‘রোল মডেল’ হিসেবে গণ্য।’
তিনি আরও বলেন, ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) ৭৪ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের মাধ্যমে আগাম দুর্যোগ সতর্ক বার্তা প্রচার, অপসারণ ও উদ্ধার, বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র, মুজিব কিল্লা সংস্কার ও নির্মাণ, দুর্যোগ সহনীয় বাড়ি, নদী এবং উপকূলীয় বাঁধ নির্মাণ, মহামারী করোনা মোকাবিলা প্রভৃতির মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ প্রস্তুতি ও প্রশমনের এসব কর্মপ্রয়াস বিশ্বপরিমন্ডলেও প্রশংসিত হয়েছে।’

কালের আলো/ডিএসবি/এমএম