চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে বাংলাদেশের পথচলাকে আরও বেগবান করবে বিদ্যুৎ খাত

প্রকাশিতঃ 11:58 pm | March 21, 2022

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো:

বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব হাবিবুর রহমান চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে বাংলাদেশের পথচলাকে আরও বেগবান করবে বিদ্যুৎ খাত এমন দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে। তিনি বলেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আলোকিত নেতৃত্বে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতির এক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আর্থ সামাজিক উন্নয়নে আমাদের অর্জন আজ সমগ্র বিশ্বে প্রশংসিত।

আরও পড়ুনঃ বঙ্গবন্ধুর আলোকিত বাংলাদেশের স্বপ্নপূরণ করলেন শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব আর জনমুখী কৌশল আজ মডেল হিসেবে সমাদৃত। বিদ্যুৎ খাতকে গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই খাতের অর্জনকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। তারই ফল হিসেবে এই দেশের মানুষ কোভিডকালে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবাসহ অন্যান্য সরকারি পরিষেবাসমূহ ভোগ করেছে। আপনার নেতৃত্বে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে বাংলাদেশের সকল পথচলাকে বিদ্যুৎ খাত আরও বেগবান করবে, আজ আমরা আপনার নিকট সেই অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি।’

আরও পড়ুনঃ বরণে নতুনত্ব বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের, মোহিত প্রধানমন্ত্রীও

সোমবার (২১ মার্চ) পটুয়াখালীর পায়রায় দেশের সবচেয়ে বড় এবং অত্যাধুনিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশকে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আনার অনুষ্ঠানটিতে নিজের বক্তব্যে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব হাবিবুর রহমান বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার সানুগ্রহ নির্দেশনার আলোকে বিদ্যুৎ বিভাগ মুজিববর্ষকে সেবাবর্ষ হিসেবে ঘোষণা করে মুজিববর্ষের মধ্যে সবার জন্য বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ নির্ধারণ করা হয়। আপনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই আমরা ইতোমধ্যেই শতভাগ মানুষের নিকট বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দিতে পেরেছি। এজন্য আপনাকে জানাই প্রাণঢালা অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা।’

আরও পড়ুনঃ ‘গর্বিত’ নসরুল হামিদ বিপু, উচ্ছ্বাস স্বপ্নের পূর্ণতায়

তিনি বলেন, ‘গত দু’বছর যাবত পুরো বিশ্ব যখন প্রাণঘাতি মহামারি কোভিড-১৯’র কারণে বিপর্যস্ত তখন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল রাখতে বিদ্যুৎ কর্মীরা নিরলসভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করেছে। শুধু তাই নয়, বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজও সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলেছে।

২০০৯ সালের পূর্বে বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০ ঘন্টা লোডশেডিং’র ফলে জনজীবন ছিল বিপর্যস্ত। এমন দুর্বিষহ পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু কন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০০৯ সালে জনগণের বিপুর ম্যান্ডেট নিয়ে দায়িত্বভার গ্রহণ করে ঘোষণা করেন রূপকল্প ২০২১। যার অন্যতম লক্ষ্য ছিল ২০২১ সালের মধ্যেই ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছে দেওয়া। সে অভিষ্টে লক্ষ্য অর্জনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী ও দৃঢ় পদক্ষেপের ফলে বিদ্যুৎখাতে গত এক যুগে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে।’

বিদ্যুৎ সচিব আরও বলেন, ‘এ সময়ে বিদ্যুতের স্থাপিত ক্ষমতা ৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২৫ হাজার ৫১৪ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সক্ষমতার সাথে তাল মিলিয়ে সঞ্চালন লাইনের পরিমাণ প্রায় ৬৫ শতাংশ এবং বিতরণ লাইনের পরিমাণ ১৪০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিদ্যুৎ সুবিধাভুগী জনসংখ্যা ৪৭ ভাগ থেকে শতভাগে উন্নীত হয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সেবার আওতার বাইরে কেউ নেই। দক্ষিণ এশিয়ায় এটি এক নজিরবিহীন সফলতা। জ্বালানী নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আঞ্চলিক ও উপ আঞ্চলিক সহযোগীতা কার্যক্রমের আওতায় বর্তমানে ভারত থেকে দুইটি গ্রিড আন্ত:সংযোগের মাধ্যমে মোট ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। নেপাল ও ভূটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানির প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। সরকারের চলমান উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানী লিমিটেড কর্তৃক ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দু’টি কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কার্যক্রম ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ শুরু করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দু’টি ইউনিটের বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়েছে। যা প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি মাইলফলক হিসেবে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’

তিনি বলেন, ‘শতভাগ বিদ্যুতায়নের কার্যক্রম হিসেবে ইতোমধ্যে সন্দীপ, রাঙাবালি, চর সোনারামপুর ও নিঝুম দ্বীপসহ বেশ কিছু এলাকায় সাব মেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়াও সোলার প্যানেল ও ইঞ্জিনভিত্তিক ছোট ছোট বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে হাতিয়া, মনপুরাসহ দেশের দুর্গম ও প্রত্যন্ত চরাঞ্চলে বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। ফলে দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষও এখন অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে সরাসরি নিজেদের সম্পৃক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রিড এবং আপগ্রিডের বিষয়ে সকলকে একই রেটে বিদ্যুৎ সেবা পৌঁছে দেওয়ার আপনার জনমুখী নির্দেশনা আমরা বাস্তবায়ন করছি।’

কালের আলো/বিএসবি/এমএন