ইবিআরসি’তে আবক্ষ ভাস্কর্যে ভাস্বর শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল

প্রকাশিতঃ 1:30 am | March 28, 2022

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

বহুমাত্রিক সৃষ্টিশীল প্রতিভার অধিকারী ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল। মাত্র ২৬ বছর বয়সে তিনি জাতির পিতার ঘাতক ঘৃণ্য শত্রুদের নির্মম-নিষ্ঠুর বর্বরোচিত হত্যাযজ্ঞের শিকার হয়ে শাহাদাত বরণ করেন। তারুণ্যের দীপ্ত প্রতীক শেখ কামাল মুক্তিযুদ্ধে ভারতের শিলিগুড়ির মূর্তি ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন পেয়েছিলেন।

প্রথম বাংলাদেশ ওয়ার কোর্সের সদস্য হিসেবে ১ম ইস্ট বেংগল রেজিমেন্ট তথা সিনিয়র টাইগার্স তাঁর এই কমিশনপ্রাপ্তির সময়টি ছিল ১৯৭১ সালের ৯ অক্টোবর। সিনিয়র টাইগার্স থেকে ক্যাপ্টেন শেখ কামাল মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীর এডিসি (Aid-de-Camp) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ফলত ‘দি ইস্ট বেংগল রেজিমেন্টাল সেন্টার’ (ইবিআরসি) এর সঙ্গে জড়িয়ে তারুণ্যের প্রজ্জ্বলিত শিখা শেখ কামালের নাম।

স্বাধীনতার ৫১ বছরের মাথায় শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে এবং তাঁর উজ্জ্বল স্মৃতিকে মনের হীরক দ্যুতিতে চিরকাল জ্বলজ্বল করে রাখতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। নির্মাণ করা হয় চট্টগ্রাম সেনানিবাসস্থ ‘দি ইস্ট বেংগল রেজিমেন্টাল সেন্টার’ (ইবিআরসি) -এ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’র জ্যেষ্ঠ পুত্র শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের আবক্ষ ভাস্কর্য।

অরুণোদয়ের অগ্নিস্বাক্ষী মহান স্বাধীনতা দিবসের ঠিক পরের দিন রোববার (২৭ মার্চ) বিকেলে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরোচিত ভূমিকা পালনকারী শেখ কামালের আবক্ষ এই ভাস্কর্যটির উদ্বোধন করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। মূলত শিল্পের মাধ্যমে ভাস্কর্যে ভাস্বর করে তোলা হয়েছে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ সেনা কর্মকর্তাকে।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন সিনিয়র টাইগার্স হতে ক্যাপ্টেন শেখ কামাল মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানীর এডিসি (Aid-de-Camp) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইস্ট বেংগল রেজিমেন্টের বিষয়টিকে নিজেদের জন্য বিরল সম্মান ও গর্বের বলেই মনে করে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল, সর্বপ্রথম এবং সর্ববৃহৎ প্রশিক্ষণ সেন্টার ইবিআরসি’র প্রশিক্ষণ ও একাডেমিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের অনুমোদনক্রমে একটি দৃষ্টিনন্দন ও পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এর নামকরণ করা হয় ‘শেখ কামাল কমপ্লেক্স’। বঙ্গবন্ধুকন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৭ সালের ২৭ অক্টোবর এই ভবনের উদ্বোধন করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ইস্ট বেংগল রেজিমেন্ট’র সূর্য সন্তান শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই ভবনের সামনে তাঁর একটি ‘আবক্ষ ভাস্কর্য’ স্থাপন করা হয়েছে।

এ সময় সেনাবাহিনীর আর্টডকের জিওসি লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম মতিউর রহমান, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস’র (বিইউপি) উপাচার্য মেজর জেনারেল মো.মোশফেকুর রহমান, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল সাইফুল আবেদিনসহ ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জলসিঁড়ি পাবলিক স্কুল ও কলেজের উদ্বোধন, বাস উপহার
এর আগে সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ দুপুরে ঢাকার পূর্বাচলে জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্প এলাকায় জলসিঁড়ি পাবলিক স্কুল ও কলেজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুভ উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য বিদ্যালয়টিকে একটি বাস উপহার প্রদান করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার হাসান, কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল (কিউএমজি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইফুল আলমসহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকরা।

আইএসপিআর জানিয়েছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত ৬২টি ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের মধ্যে ৬২তম এই প্রতিষ্ঠানটি ১৩৫ কাঠা জমির উপর নির্মিত ৯৫ হাজার স্কয়ার ফিটের ৭ তলা বিশিষ্ট একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই বিদ্যালয়ের ধারণ ক্ষমতা ২০০০ জন শিক্ষার্থী। এর আগে চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি বিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা হয়।

কালের আলো/বিএস/এমএন