নরম-গরম বাণিজ্যমন্ত্রী
প্রকাশিতঃ 7:48 pm | April 03, 2022

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
ঢাকার কাওরান বাজারের কিচেন মার্কেট আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। চালের বাজারে অসঙ্গতি নিজের চোখে দেখেছেন। কোন চাঁদাবাজি হলে নিজের মোবাইলে কল দিয়ে জানাতে বলেছেন। আশ্বস্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের।
রমজানে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ব্যবসায়ীদের সততার সঙ্গে ব্যবসা করার পরামর্শ দিয়েছেন। এও বলেছেন, আল্লাহ আপনাদের মাফ করবেন না। দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রত্যাশা করেছেন গণমাধ্যমের কাছেও। সভা করেছেন কারওয়ান বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সঙ্গেও।
রোববার (০৩ এপ্রিল) এমনই নরম-গরম মেজাজে দেখা মিলেছে বাণিজ্যমন্ত্রীর। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব তপন কান্তি ঘোষ, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) এ এইচ এম সফিকুজ্জামান, পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারসহ অনেকেই।
নিজের এলাকায় বাজার পরিদর্শনের উদাহরণও টেনেছেন মন্ত্রী। বলেছেন, ‘ঢাকায় প্রতি কেজি বেগুন ৫০ টাকা হলেও রংপুরে তা ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দামের এই পার্থক্য আমরা খুঁজে বের করতে চাই। সেজন্য আমরা ভোররাতে ট্রাক বাজারে আসার সময় মনিটরিং বাড়াতে চাই। এতে দামের পার্থক্য বোঝা যাবে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এমপি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, বাজারে প্রতিটি পণ্যের মজুত চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি। ভোজ্যতেল, ডাল, চিনি, ছোলা, মসলাসহ সব পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। ঘাটতির কোনও সম্ভাবনা নেই। মূল্যও স্থিতিশীল রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সয়াবিন তেল নতুন করে কমিয়ে নির্ধারিত মূল্যেই বিক্রয় হচ্ছে। সরকার যে সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে ট্যাক্স এবং ভ্যাট কমিয়েছে, তার সুফল ভোক্তারা পাচ্ছেন। বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এ টাস্কফোর্স গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে।’
টিপু মুনশি জানিয়েছেন, বাজার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। অনিয়ম হলেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের সুফল ভোক্তা পাচ্ছে। ব্যবসায়ীরাও এখন অনেকটা সতর্ক হয়েছেন, পণ্যের মূল্য তালিকা দোকানে দেখা যাচ্ছে। ভোক্তার সচেতনতাও বেড়েছে। পবিত্র রমজান মাস শুরু হয়েছে।
ব্যবসায়ীদেরও আন্তরিক হতে হবে। সততার সঙ্গে ব্যবসা করতে হবে। দেশের প্রচার মাধ্যমগুলোর কাছে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা আশা করছি। আমরা সম্মিলিতভাবে সততার সঙ্গে চেষ্টা করলে চলমান অস্থির বিশ্ব পরিস্থিতিতেও আমাদের বাজার স্বাভাবিক থাকবে।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় দেশের নিম্ন আয়ের এক কোটি পরিবারকে বিশেষ কার্ড দিয়ে টিসিবি’র মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য প্রদান করা হচ্ছে। এতে করে দেশের প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ উপকৃত হবেন। এর প্রথম কিস্তির পণ্য বিক্রয় শেষ হয়েছে, দ্বিতীয় কিস্তির পণ্য নির্ধারিত কার্ড হোল্ডারদের কাছে মধ্য রমজানে বিক্রয় করা হবে। এ ক্ষেত্রে কোনও অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

দেশের কোথায় চাঁদাবাজি হচ্ছে, জানার আগ্রহ মন্ত্রীর
দেশের কোথায় চাঁদাবাজি হচ্ছে, সেটি জানার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেছেন, দেশের কোন কোন পয়েন্টে চাঁদাবাজি হয় তা আমাকে জানান, আমি নিজে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবো।
এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘বাজারে পণ্যের দাম বেড়েছে বলেই আমরা বারবার বাজারে আসছি, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বসছি। বাজারে পাইকারিতে তেমন সমস্যা না থাকলেও খুচরা-পাইকারিতে দামের বেশ পার্থক্য রয়েছে।’
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আল্লাহ আপনাদের মাফ করবেন না। যেখানে উৎসবের সময় বিশ্বের সব দেশে দাম কমে, আমাদের এখানে দাম বাড়ানো হয়। আমাদের প্রতিবেশী ভারতে পূজায় বিভিন্ন পণ্যের দাম কমে, আর আমাদের এখানে সিয়াম-সাধনার মাসে দাম বাড়ানো হয়েছে। তবে কি আল্লাহ আপনাদের মাফ করবেন?’
তিনি বলেন, ‘কোথাও যদি চাঁদাবাজির কারণে পণ্যের দাম বেড়ে যায়, তাহলে আমার নম্বরটি নিন। আমাকে জানান। আমি এ বিষয় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবো।’

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘চালের বাজারে কিছুটা অসঙ্গতি দেখেছি। পাইকারিতে মোটা চাল ৪৩-৪৪ টাকা, খুচরায় সেটা আরও বাড়বে। তবে এখন আর মোটা চাল কেউ খায় না। রিকশাচালকও চিকন চাল খোঁজেন। আমরা খুচরায় আরও মনিটরিং বাড়াতে চাই। এজন্য কাজ করবে টাস্কফোর্স।’
মাংসের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে টিপু মুনশি বলেন, ‘মাংসের দাম সিটি করপোরেশন নিয়ন্ত্রণ করে। আমরা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে বসতে চাই।’
কালের আলো/ডিএসবি/এমএম