খুঁজুন
                               
, ,
           

সর্বাত্মক ত্যাগের মানসিকতার বার্তা সেনাপ্রধানের, দুর্যোগ মোকাবেলা করতে চান সম্মিলিতভাবেই

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুন, ২০২২, ১০:৪০ অপরাহ্ণ
সর্বাত্মক ত্যাগের মানসিকতার বার্তা সেনাপ্রধানের, দুর্যোগ মোকাবেলা করতে চান সম্মিলিতভাবেই

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

বন্যায় মহাদুর্যোগ নেমে এসেছে সিলেটে। শহর থেকে গ্রাম ডুবেছে বন্যায়। অচল জীবনযাত্রা। পানিবন্দি অগণিত মানুষ। ফলত সময়টি কথার নয়, কাজের বলেই মনে করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। মানবতার জয়গান গেয়ে এমন দু:সময়ে সবাই মিলে সম্মিলিতভাবে কাজ করলে এই দুর্যোগ মোকাবেলা করা সম্ভব বলেও আশাবাদী উচ্চারণ ধ্বনিত তাঁর কন্ঠে।

নির্ভীক চিত্তে, আলোর পথরেখা অঙ্কন করে ত্যাগের মনোভাব নিয়ে কাজ করতে উজ্জীবিত করেছেন নিজ বাহিনীর সদস্যদের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুস্পষ্ট নির্দেশনার কথা বলেছেন। নিজেদের সর্বোচ্চ প্রয়াসে বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে চান। দীপ্ত অঙ্গীকারও করেছেন সরকার ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে।

রবিবার (১৯ জুন) সিলেটের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিবেকের জাগ্রত কন্ঠে মানবিকতার উজ্জ্বল আভায় পরশ পাথর হয়েই সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুর্গতদের পাশে থাকার সুদৃঢ় প্রতিশ্রুতি সমুজ্জ্বল হয়ে উঠলো সেনাপ্রধানের কন্ঠের ঐক্যতানে।

বন্যায় সীমাহীন কষ্টের ঘূর্ণিপাকে সিলেটের মানুষ।বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ খাবার পানি ও খাদ্য সঙ্কট নিয়েছে চরম আকার। কঠিন এই দুর্যোগে বিপন্ন মানুষকে উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দিতে গত শুক্রবার (১৭ জুন) থেকে সিলেট অঞ্চলে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই দিন-রাত একাকার করে চলছে কার্যক্রম।

সেনাবাহিনীর এমন মানবিক কার্যক্রমের পদক্ষেপ স্থানীয়দের মাঝে জাগিয়েছে আশার আলো। নিজ বাহিনীর সদস্যরা চ্যালেঞ্জ নিয়েই বানভাসীদের পাশে দাঁড়িয়েছে। বিপন্ন মানুষকে ‘নিরাপদ’ করতে ছুটছে অহর্নিশ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বান্তকরণে সব রকমের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

দায়িত্ব পালনে অনগ্রাউন্ডে তাদের কষ্ট কেমন, আবেগ-অনুভূতি, কীভাবে সেনা সদর দপ্তর থেকে তাদের আরও সহযোগিতা করা সম্ভব, বন্যা পরবর্তী সময়ের আগাম প্রস্তুতি- এসব বিষয় নিজ চোখে দেখতে রবিবার (১৯ জুন) হেলিকপ্টারে সিলেটে আসেন সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন।

আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় হেলিকপ্টার আকাশে উড়তে না পারায় এবং সড়কপথে লম্বা সময়ের পাশাপাশি দুর্গত এলাকায় এসে পৌঁছার ঝক্কির কারণেই গত দু’দিন সিলেটে আসতে পারেননি তিনি। সেনাবাহিনী মোতায়েনের তৃতীয় দিনের মাথায় এদিন সকালেই ছুটে গেছেন সিলেটে দুর্গতদের পাশে।

জেনারেল শফিউদ্দিন সিলেটের বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্ক ও নিকটবর্তী বন্যা কবলিত এলাকায় বন্যার্তদের হাতে ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলেন। দুর্গতদের কষ্টের দিনলিপি শোনেন এবং সব রকমের সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।

সেনাবহিনী প্রধান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিরলসভাবে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রাখা, জরুরি ত্রাণকার্যক্রম পরিচালনা, চিকিৎসা সহায়তা প্রদান এবং বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সর্বাত্মকভাবে আত্মত্যাগের মাধ্যমে সহায়তার কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।

এ সময় সেনাবাহিনীর মাস্টার জেনারেল অফ অর্ডন্যান্স মেজর জেনারেল মো. আবু সাঈদ সিদ্দিক, ১৭ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল হামিদুল হকসহ সেনা সদরের ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে ছিলেন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা
এদিন গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা পাওয়ার কথাও জানান সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ‘সেনাবাহিনী দুর্গত মানুষের সহায়তায় যা কিছু করা সম্ভব তা করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ঢাকা, সাভারসহ বিভিন্ন ক্যান্টনমেন্টের সেনাসদস্যদের বন্যার্তদের সহায়তায় নিয়োজিত করা হয়েছে। আরও অনেককে স্ট্যান্ডবাই রাখা হয়েছে। নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে সেনাবাহিনী দুর্গতদের পাশে থাকবে।’

‘সব রেকর্ড ভঙ্গ করে বন্যার কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যেটা কাটিয়ে উঠতে আমরা সবাই কাজ করছি। সেনাবাহিনী সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছে। শুধু সেনাবাহিনী না, সরকারের সব প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে’- যোগ করেন সেনাপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘আমরা দুর্গত মানুষের সহায়তায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। তাদের সহায়তায় সেনাসদস্যরা কী পরিমাণ কষ্ট করছে তা নিজে দেখতে এসেছি।’

গণমাধ্যমকে সেনাপ্রধান বলেন, ‌‘সেনাবাহিনী এর চেয়ে ভালো কাজ করতে পারত কি না- আমরা এই আলোচনায় যেতে চাই না। আমাদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। তবে বৈরী আবাহাওয়া, প্রবল স্রোত, টানা বৃষ্টি, নেটওয়ার্কহীনতা সত্ত্বেও সেনাসদস্যরা বন্যাকবলিতদের সহায়তায় কাজ করে যাচ্ছে।’

পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী প্রস্তুতি নিচ্ছে
সেনাপ্রধান বলেন, ‘দ্রুত বন্যার পানি নেমে যাবে বলে মনে হচ্ছে না। তবে বন্যার পানি কমলেও মানুষের দুর্ভোগ সহসা কমবে না। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিও হবে। পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী প্রস্তুতি নিচ্ছে। আমরা ত্রাণ ও চিকিৎসা প্রদান শুরু করেছি। সেনাসদস্যদের বলেছি কষ্ট যতই হোক মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।’

সেনাবাহিনী প্রধান কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলায় সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে যদি সম্মিলিতভাবে কাজ করি এই দুর্যোগ মোকাবেলা করতে পারব। তাই সেনা সদস্যদের সর্বাত্মকভাবে ত্যাগের মনোভাব নিয়ে আন্তরিকতার কাজ করতে হবে।’ সেনাপ্রধান সুনামগঞ্জসহ বন্যা দুর্গত এলাকাসমূহে যাওয়ারও ঘোষণা দেন।

কী বলছে আইএসপিআর?
আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, গত শুক্রবার (১৭ জুন) থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিলেট অঞ্চলের ১৭ পদাতিক ডিভিশন সিলেট জেলার সিলেট সদর, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, জয়িন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলা এবং সুনামগঞ্জ জেলার সুনামগঞ্জ সদর, ছাতক, দোয়ারা বাজার, দিরাই ও জামালগঞ্জ উপজেলা এবং কুমারগাঁও বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালন করছে।

সেনাবাহিনীর অন্যান্য ফরমেশন থেকে সিলেট এলাকায় উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য বিভিন্ন নৌযান মোতায়েন করা হয়। এছাড়াও কমান্ডো ব্যাটালিয়ানের সদস্যরা উদ্ধার অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। একই সাথে নৌবাহিনীর একটি দল সিলেট এলাকায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে উদ্ধার কাজে অংশ গ্রহণ করেছে।

নেত্রকোনার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার প্রেক্ষাপটে শনিবার (১৮ জুন) থেকে ১৯ পদাতিক ডিভিশন’র ১২৫ জন সেনাসদস্য নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ এবং চিকিৎসা সহায়তা প্রদানের জন্য মোতায়েন রয়েছে।

দু’বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার
আইএসপিআর আরও জানায়, শনিবার (১৮ জুন) সেনা সদস্যরা সুনামগঞ্জ থেকে এমআইএসটি’র ১৫ জন শিক্ষার্থী এবং রবিবার (১৯ জুন) সুনামগঞ্জের ছাতকে আটকে পড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ জন শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে এসেছে।

এছাড়াও সিলেট ও সুনামগঞ্জ থেকে ২০১০ জন বন্যাদুর্গত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। ৩ হাজার ৬২৫ জনকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান ও ২ হাজার ২০০ জনের মাঝে ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি বন্যার্তদের মাঝে সুপেয় পানির ব্যবস্থা, পানি বিশুদ্ধকরণ ওষুধ বিতরণ এবং ইমার্জেন্সি রেসপন্স সেল গঠন করেছে।

সেনাবাহিনী প্রধানের নির্দেশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অনান্য সকল অঞ্চলের ফরমেশনসমূহ নিজস্ব দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করছে এবং অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। সেনাবাহিনী প্রধান বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত জাতির আস্থার প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে এই মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

কালের আলো/এসবি/এমএম

টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এগিয়ে যাওয়ার লড়াইয়ে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক,কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:১৭ পূর্বাহ্ণ
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে এগিয়ে যাওয়ার লড়াইয়ে বাংলাদেশ

আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে প্রথমবারের মতো জায়গা করে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে মাঠে নামছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। অন্যদিকে, পয়েন্ট তালিকার নিচের দিকে থাকা ক্যারিবীয়দের লক্ষ্য নিজেদের অবস্থানের উন্নতি করা। ফলে দুই দলের জন্যই সিরিজটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে সিরিজের প্রথম টেস্ট। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ৫ নভেম্বর সিলেটে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হওয়ায় দুই ম্যাচেই পয়েন্ট অর্জনের সুযোগ থাকছে দুই দলের সামনে।

ফাইনালের স্বপ্নই বাংলাদেশের অনুপ্রেরণা
বর্তমানে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। এটি দলটির জন্য উল্লেখযোগ্য অবস্থান। সামনের ম্যাচগুলোতে ভালো ফল করতে পারলে প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। সিরিজের আগে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেন, টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনাকে তাঁরা চাপ হিসেবে নয়, বরং অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন।

শান্তর ভাষ্য, দল প্রস্তুতি শুরুর পর থেকেই সাম্প্রতিক সিরিজগুলোতে নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা করেছে। বাড়তি কিছু করার চেষ্টা না করে নিজেদের স্বাভাবিক খেলা এবং ইতিবাচক ফল এনে দেওয়া প্রক্রিয়াগুলো অনুসরণ করতে চান তাঁরা। অধিনায়ক বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ হলেও দল নিজেদের পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে চায়। খেলোয়াড়দের ওপর অবাস্তব প্রত্যাশা না চাপিয়ে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী পারফর্ম করার দিকেই মনোযোগ দিচ্ছেন তাঁরা।

চার জয়ে ফাইনালের সম্ভাবনা
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের পর দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে বাংলাদেশ। এরপর জানুয়ারিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুই টেস্টের সিরিজ খেলার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে সামনে থাকা ছয়টি টেস্ট বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সমীকরণ অনুযায়ী, এই ছয় ম্যাচের মধ্যে চারটিতে জিততে পারলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে বাংলাদেশের সামনে। তবে চূড়ান্ত অবস্থান নির্ভর করবে অন্য দলগুলোর ফল এবং পয়েন্ট তালিকার হিসাবের ওপরও। অন্যদিকে, বর্তমানে তালিকার আট নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের লক্ষ্য সেরা ছয়ের মধ্যে থেকে চক্র শেষ করা। ফলে সিরিজের প্রতিটি ম্যাচেই পয়েন্ট অর্জনের জন্য লড়তে হবে ক্যারিবীয়দের।

পরিসংখ্যানে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ
টেস্ট ক্রিকেটে মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিসংখ্যানে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই দল এখন পর্যন্ত ২২টি টেস্ট খেলেছে। এর মধ্যে ক্যারিবীয়রা জিতেছে ১৫টিতে, বাংলাদেশ পাঁচটিতে। বাকি দুটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। এটি দুই দলের ১২তম টেস্ট সিরিজ। আগের সিরিজগুলোর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আটটি এবং বাংলাদেশ দুটি জিতেছে। একটি সিরিজ ড্র হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশের মাটিতে দুই দলের আগের ১০ টেস্টের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতেছে সাতটিতে। বাংলাদেশ জয় পেয়েছে দুটি ম্যাচে, অন্যটি ড্র হয়েছে। মিরপুরে দুই দলের আগের চার টেস্টের তিনটিতে জিতেছে ক্যারিবীয়রা, বাংলাদেশ জিতেছে একটিতে। ২০২১ সালে মিরপুরে সর্বশেষ টেস্টে বাংলাদেশকে ১৭ রানে হারিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এবার ঘরের মাঠে সেই পরিসংখ্যান বদলানোর লক্ষ্য থাকবে স্বাগতিকদের।

সাম্প্রতিক ফল নিয়ে সতর্ক বাংলাদেশ
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতার ঘাটতি দেখা গেছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুই টেস্টের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জয়ের পর জিম্বাবুয়ের মাঠে ইনিংস ব্যবধানে হারের অভিজ্ঞতা হয়েছে দলের। পরে অস্ট্রেলিয়া সফরে ডারউইন টেস্টে স্বাগতিকদের হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয় বাংলাদেশ। তবে সম্প্রতি আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ড্র করার পর ত্রিদেশীয় সিরিজের দুই ম্যাচেই হেরেছে দলটি। এমন পরিস্থিতিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ বাংলাদেশের জন্য নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগও। ঘরের মাঠে পরিচিত কন্ডিশন কাজে লাগিয়ে ভালো ফল করতে চাইবে শান্তর দল।

পেস আক্রমণে তাসকিনসহ চারজন
গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজে বাংলাদেশের পেস আক্রমণে থাকছেন তাসকিন আহমেদ, এবাদত হোসেন, হাসান মাহমুদ ও শরিফুল ইসলাম। তাঁদের ভূমিকা এবং কন্ডিশন অনুযায়ী খেলোয়াড় নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী অধিনায়ক শান্ত।

তিনি বলেন, পেসাররা প্রত্যেকে নিজেদের ভূমিকা সম্পর্কে জানেন। কোন পরিস্থিতিতে কে খেলবেন, সে বিষয়েও তাঁদের ধারণা রয়েছে। সিরিজের যেকোনো ম্যাচে খেলার জন্য প্রত্যেকে প্রস্তুত থাকাটা দলের জন্য ইতিবাচক দিক বলে মনে করেন তিনি। সব মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজে বাংলাদেশের সামনে রয়েছে দুটি লক্ষ্য—টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় নিজেদের অবস্থান ধরে রাখা এবং ফাইনালের স্বপ্নের পথে এগিয়ে যাওয়া। তবে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অতীতের পরিসংখ্যান ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ওঠানামা বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি ম্যাচেই সতর্ক থাকতে হবে স্বাগতিকদের।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

আইজিপির বক্তব্য নিয়ে ব্যাখ্যা দিল বিপিএসএ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৩ পূর্বাহ্ণ
আইজিপির বক্তব্য নিয়ে ব্যাখ্যা দিল বিপিএসএ

আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যরা অযথা দ্বিধাগ্রস্ত হলে অপরাধীরা উৎসাহিত হতে পারে এবং সামগ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএসএ)। একই সঙ্গে আইনের সীমার মধ্যে থেকে দৃঢ়তা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের সই করা এক বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়। বিবৃতিতে দেশের পরিবর্তিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মব কালচার এবং ৫ আগস্ট-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দায়িত্ব পালন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল বিপিএসএ
সোমবার পুরান ঢাকার চকবাজারে একটি কমিউনিটি ব্যাংকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) দেওয়া বক্তব্যকে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের আলোকে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছে বিপিএসএ। সংগঠনটির বিবৃতিতে বলা হয়, আইজিপির বক্তব্যের মূল তাৎপর্য ছিল—আইনের সীমার মধ্যে থেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাগত আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিশ্চিত করা। বিপিএসএর মতে, অপরাধ দমনে আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের অযথা দ্বিধাগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়। দায়িত্ব পালনের সময় আইন প্রয়োগে অকারণ দ্বিধা তৈরি হলে অপরাধীরা উৎসাহিত হতে পারে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে বলেও মনে করে সংগঠনটি।

১০ মাসে পুলিশের ওপর ১৭৬ হামলা
বিবৃতিতে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিপিএসএ জানায়, ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় চারজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন ৩৭০ জন। সংগঠনটির ভাষ্য, পুলিশের ওপর হামলার এসব ঘটনা সদস্যদের নিরাপত্তা ও উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত আত্মরক্ষার অধিকার এবং প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুসরণের সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। বিপিএসএ মনে করে, নিরাপদ কর্মপরিবেশ থাকলে পুলিশ সদস্যরা আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তবে সেই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আইনগত সীমারেখা মেনে চলার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনের মধ্যে থেকেই দৃঢ়ভাবে দায়িত্ব পালনের তাগিদ
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ পুলিশ সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করে। এসব আইনের মধ্যে রয়েছে দণ্ডবিধি, ১৮৬০; ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮; পুলিশ আইন, ১৮৬১ এবং পুলিশ রেগুলেশনস অব বেঙ্গল। তবে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। এ পরিস্থিতিতে আইন অতিক্রম না করে দৃঢ়তা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিপিএসএর মতে, অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা সুদৃঢ় করাও গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য আইন প্রয়োগে পেশাদার আচরণ, নিরপেক্ষতা এবং বিধিবিধানের যথাযথ অনুসরণ প্রয়োজন।

জননিরাপত্তায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান
বিবৃতিতে আইজিপির বক্তব্যকে অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের সক্ষমতা আরও জোরদার করার সময়োপযোগী আহ্বান হিসেবে বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইন প্রয়োগে তাঁদের পেশাগত আত্মবিশ্বাস বজায় রাখা—দুটি বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আইনগত সীমা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্ব বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

৩১ অক্টোবর ১১ দলের লংমার্চ, বাধা এলে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কালের আলো
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
৩১ অক্টোবর ১১ দলের লংমার্চ, বাধা এলে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা

আগামী ৩১ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চে কোনো ধরনের বাধা বা অপতৎপরতা চালানো হলে তা প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই ও শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ডের বিচার, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট নিরসন এবং দুর্নীতি-চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করবে জোটটি।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এসব কথা জানান। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

মামুনুল হক জানান, লংমার্চের তৃতীয় ধাপের কর্মসূচি আগামী ৩১ অক্টোবর সকাল ৭টায় বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। এরপর বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ শেষে কর্মসূচি কুষ্টিয়ায় গিয়ে শেষ হবে।

তিনি বলেন, লংমার্চ সফল করতে প্রশাসন সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। তবে কোনো পক্ষ অপতৎপরতা চালালে যেকোনো মূল্যে তা প্রতিহত করা হবে।

গোপালগঞ্জের ওপর দিয়ে লংমার্চ যাওয়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মামুনুল হক বলেন, তাঁরা সেখানে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির আশঙ্কা করছেন না। কর্মসূচিতে ইসলামপন্থি ও দেশপ্রেমিক বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেবেন বলে আশা করছেন তাঁরা। কোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে এর দায় সরকার ও প্রশাসনকে নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারের সমালোচনা করে খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, বিরোধী দল সরকারকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করলেও সরকারের আচরণে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মামুনুল হক। তাঁর অভিযোগ, ইসি সচিব পর্যায়ে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ এবং ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তাঁদের প্রশ্ন রয়েছে। ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এ ছাড়া পুলিশের মহাপরিদর্শকের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা ক্রসফায়ার নিয়ে সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক রাষ্ট্রীয় সফর নিয়েও প্রশ্ন তুলে সফরে অংশগ্রহণকারীদের নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা করেন।

বৈঠকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি