ভারত থেকে শূন্য হাতে আসেননি প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিতঃ 6:27 pm | September 14, 2022

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে চার দিনের ভারত সফরে সেখান থেকে শূন্য হাতে আসেননি বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারত সফরে দেশের অনেকগুলো অর্জন রয়েছে বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। ঐতিহাসিক এই সফরের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের একসঙ্গে নতুনভাবে এগিয়ে চলার গতিও সঞ্চার হয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী নিজে হেসেছেন, হাসিয়েছেনও

বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সরকারি বাসভবন গণভবনে ভারত সফর বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশ্নোত্তর পর্বে এসব কথা বলেন। বার্তা সংস্থা ইউএনবির সম্পাদক ফরিদ হোসেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, ভারত থেকে আমরা কী পেলাম?

এই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কী পেলাম এই প্রশ্ন খুবই আপেক্ষিক। এটি আপনার নিজের ওপর নির্ভর করছে আপনি কীভাবে দেখছেন? আমার কথা হচ্ছে, আমি যা যা পেয়েছি সেটি বললাম। ভৌগোলিক দিক থেকে বাংলাদেশের চারদিকে কিন্তু ভারত। সেই বন্ধুপ্রতীম দেশ থেকে সবদিক দিয়ে যে সহযোগিতা করে। আমরা পাইপ লাইনের মাধ্যমে কিন্তু তেল নিয়ে আসছি। ভারত এই পাইপ লাইন তৈরি করে দিচ্ছে।

রিফাইন করা তেল সহজেই পাবে। উত্তরাঞ্চলের তেল সহজেই পাওয়া যাবে। পণ্য আমাদের আমদানি করতে হয়। সব জায়গায় অনেক সময় সমস্যা দেখা দেয়, সেটি নিয়েও কথা হয়েছে। ভারতের কাছ থেকে যাতে এলএনজি আনতে পারি..এরকমভাবে যদি চিন্তা করেন, বাংলাদেশ অনেক কিছু পেয়েছে। মনে হয় না আমরা ভারত থেকে শূন্য হাতে ফিরে এসেছি এটি বলতে পারবেন না। তবে কী পেলাম আর না পেলাম সেটি মনের ব্যাপার। আমাদের দেশে এত উন্নয়ন হয়েছে তারপরও বিএনপি বলে আমরা নাকি কিছুই করিনি। এ বিষয়ে আমার আসলে কিছুই বলার থাকে না। এগুলো আত্ম-বিশ্বাসের ব্যাপার।’

আরও পড়ুন: বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকে শিল্পীরা ভালো অভিনয় করেছে: প্রধানমন্ত্রী

এর আগে প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ভারতীয় নেতৃত্বের শীর্ষ পর্যায়ে, সংবাদ মাধ্যমে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আমি বাংলাদেশের জন্য যে প্রীতি ও সৌহার্দ্য লক্ষ্য করেছি তা সত্যিই অসাধারণ। এই প্রীতির সম্পর্ককে সুসংহত করে আমরা আরও এগিয়ে যেতে চাই। এই সফরে সহযোগিতার যেসব ক্ষেত্র চিহ্নিত হয়েছে এবং বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করলে উভয় দেশের জনগণ উপকৃত হবে বলে আমি মনে করি।’

সব মিলিয়ে পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে এ সফরের মাধ্যমে দুই দেশের একসঙ্গে নতুনভাবে এগিয়ে চলার গতি সঞ্চার হয়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, উভয় দেশের জনগণের কল্যাণে এই সহযোগিতার ধারা অব্যাহত থাকবে এবং বাংলাদেশ ও ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়া শিগগিরই একটি সমৃদ্ধশালী অঞ্চলে পরিণত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে জানান।
চ্যানেল আইয়ের বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, ভারত থেকে কুশিয়ারার পানি আসার কথা। এর মাধ্যমে পাঁচটি উপজেলায় সেচ সুবিধা পাবো। কবে নাগাদ আমরা এই সেচ সুবিধা পেতে পারি?

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জবাবে বলেন, ‘স্বাধীনতার পরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী যে চুক্তিগুলো করেছিলেন সেগুলো বাস্তবায়িত হলে আমাদের অনেক কল্যাণ বয়ে আসত। এরইমধ্যে আমরা অনেকগুলো কার্যকর করেছি। আমাদের দেশের অনেক জায়গায় সেচ ব্যবস্থা আগের মতো নেই। তবে আমরা এগুলোর ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের জলাভূমির নাব্যতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছি। সেচের খালগুলো নতুন করে মেরামত করা হয়েছে। কুশিয়ারার পানির বিষয়ে আমাদের যৌথ নদী কমিশনের মিটিং হয়েছে। দ্রুতই সেগুলো পেয়ে যাব।’

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের বিষয়ে ভারতের সব দল-মত এক : প্রধানমন্ত্রী

সাংবাদিক নেতা মনজুরুল আহসান বুলবুল প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, আপনি ভারত সফরে যাওয়ার আগে দুটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। আপনি সাক্ষাৎকারে দুই দেশের সম্পর্কে ‘জেনেরোসিটি’ বা আন্তরিকতা শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রত্যাশিত উদারতা উপলব্ধি করেছেন কিনা।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আমার বক্তব্যেও সে কথাটি বলে দিয়েছি। যথেষ্ট আন্তরিকতা আমি পেয়েছি। প্রাইম মিনিস্টার, প্রেসিডেন্ট ও অন্যান্য যার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে তাদের আন্তরিকতা সব সময়ই ছিল এবং আছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, বাংলাদেশ ইস্যুতে ভারতের সব দল এক। যেমন, আমাদের এখানে একাত্তরে সব দল-মত এক হয়ে সমর্থন দিয়েছিল। আবার যখন আমরা আমাদের স্থল সীমানা চুক্তি বাস্তবায়ন করি, যখন ছিটমহল বিনিময় করি, ভারতের পার্লামেন্টে যখন স্থলসীমান্ত বিল পাস হয়, সব দল মিলে কিন্তু আইনটা পাস করেছিল। সেদিক থেকে বিবেচা করতে পারেন বন্ধুপ্রতিম দেশ, তাদের সঙ্গে অবশ্যই সুসম্পর্ক থাকবে। এটাও বাস্তব, পাশাপাশি একটি দেশের সঙ্গে নানা সমস্যা থাকতে পারে। তবে আমি মনে করি আলোচনার মাধ্যমে এগুলো সমাধান করা যায়। আমরা আরও একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমাদের নিজেদের জন্যই সেটি দরকার।

এই প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর আমাদের অনেক রেল যোগাযোগ, সড়ক যোগাযোগ বন্ধ ছিল। এখন একে একে আমরা এগুলো উন্মুক্ত করে দিচ্ছি। আমাদের উত্তরের যে জেলা-উপজেলাগুলো আছে সেগুলোর আর্থসামাজিক উন্নয়ন যাতে আরও গতিশীল হয় সেজন্যই সেটি করা হচ্ছে। কাজেই আন্তরিকতার আমি কোনও অভাব দেখিনি। আপনি যদি নিজে ভালো বন্ধু হন তো সবাই ভালো থাকবে। আর যদি নিজে একটু এদিক-ওদিক করেন, তবে সবাই ভালো থাকে না, তাই না?

আরও পড়ুন: জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন করব কী না, সময় বলে দেবে : প্রধানমন্ত্রী

আমাদের পররাষ্ট্রনীতি অত্যন্ত স্পষ্ট সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়। আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর থেকে আমরা এটি সম্পূর্ণভাবে মেনে চলছি এবং এখনও। আমরা সকলের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে একে একে সমস্যার সমাধান করছি। বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখেও ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আদালতে গিয়ে সমুদ্রসীমার বিষয়টি সমাধান করেছি। আমরা আন্তর্জাতিক আদালতে গিয়েছি সত্য কিন্তু আমাদের বন্ধুত্বে ফাটল ধরেনি। এখানে আন্তরিকতার কোন অভাব নেই।

আরও পড়ুন: আমার ব্যাপারে এত কৃপণতা কেন আপনাদের : প্রধানমন্ত্রী

চার দিনের ভারত সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও একান্ত বৈঠক করেন। বৈঠকে নিরাপত্তা সহযোগিতা, বিনিয়োগ, বাণিজ্য সম্পর্ক, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সহযোগিতা, অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, মাদক চোরাচালান ও মানবপাচার রোধ সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাতটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, চিনি, পেঁয়াজ, আদা, রসুনের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য রপ্তানি বন্ধের আগে বাংলাদেশকে আগাম বার্তা দেবে ভারত। সে অনুযায়ী সরকার পদক্ষেপ নেবে। এই সফরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে সহযোগিতা, ভারতের মধ্য দিয়ে নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে ৭টি এমওইউ বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর নরেন্দ্র মোদি এবং আমি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেই। পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিই।

তিনি আরও বলেন, এবারের সফরে গঙ্গার পর প্রথমবারের মতো অভিন্ন নদী কুশিয়ারা থেকে সুরমা-কুশিয়ারা প্রকল্পের আওতায় ১৫৩ কিউসেক পানিবণ্টনে আমরা একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছি। এই সমঝোতা স্মারকের ফলে রহিমপুর সংযোগ খালের মাধ্যমে ৫ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা পাওয়া যাবে। এছাড়া পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন, সাইবার নিরাপত্তা, মহাকাশ প্রযুক্তি, গ্রিন ইকোনমি, সুনীল অর্থনীতি, সাংস্কৃতিক ও জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ প্রভৃতি ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

সাম্প্রতিক ভারত সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কোভিড মহামারির পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘ তিন বছর বিরতির পর আমার এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। সফরের পুরো সময়ে আমরা ভারতের আন্তরিকতার বহিঃপ্রকাশ ও সৎ-প্রতিবেশী হিসেবে সমতা ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার লক্ষ করেছি।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ভারতীয় নেতৃত্বের শীর্ষ পর্যায়ে, সংবাদমাধ্যমে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আমি বাংলাদেশের জন্য যে প্রীতি ও সৌহার্দ্য লক্ষ করেছি তা সত্যিই অসাধারণ। এই প্রীতির সম্পর্ককে সুসংহত করে আমরা আরও এগিয়ে যেতে চাই। এই সফরে সহযোগিতার যেসব ক্ষেত্র চিহ্নিত হয়েছে এবং বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা বাস্তবায়ন করলে উভয় দেশের জনগণ উপকৃত হবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সব মিলিয়ে পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে এ সফরের মাধ্যমে দুই দেশের একসঙ্গে নতুনভাবে এগিয়ে চলার গতি সঞ্চার হয়েছে। উভয় দেশের জনগণের কল্যাণে এই সহযোগিতার ধারা অব্যাহত থাকবে এবং বাংলাদেশ ও ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়া অচিরেই একটি সমৃদ্ধশালী অঞ্চলে পরিণত হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

ঐতিহাসিক মুজিবনগর থেকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত ‘স্বাধীনতা সড়ক’ চালু করা হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০২২ সালের মধ্যে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের বাণিজ্য কর্মকর্তাদের কাজ শুরু করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এই সফরের উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে ভুটানের সঙ্গে রেল যোগাযোগ ও অন্যান্য আন্তসীমান্ত রেল সংযোগে ভারতের বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, রেলওয়ে সেবার মান বাড়াতে আইটি সল্যুশন বিনিময় করা হবে।

গুরুত্বপূর্ণ এই সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবাই যার যার ধর্ম যেন শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে পারে, সেই পরিবেশ আমরা বাংলাদেশে ভালোভাবে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। কিছু ঘটনা ঘটে বা ঘটানো হয়, তারপরও যারা অপরাধী আমরা তাদের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিই। আমরা তাদের কখনোই ছেড়ে দেই না।’
তিনি বলেন, আমাদের যখন উৎসব হয়, পূজা-পার্বণ হয় সেখানে কিন্তু ভারতের অনেকে এসে যোগ দেয়, আবার ভারতে যখন হয় আমাদের এখান থেকেও অনেকে যোগ দেয়। এটা যেমন পূজা-পার্বণে হয়, আবার আমাদের এখানে যখন ইসলামিক কোনও অনুষ্ঠান হয় বা ধর্মীয় কোনও অনুষ্ঠান হয়, সেখানে বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিনিধিরা আসেন। এটা কিন্তু আছে, একেবারে নাই যে তা না। আর আমরা যে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চেতনা ধারণ করি, বাংলাদেশে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের অধিকার আছে। আমি সবসময় বলি-ধর্ম যার যার উৎসব সবার। এটা আমরা যথাযথভাবে মেনে চলি।

চারবারের এই সরকারপ্রধান আরও বলেন, আমাদের কিছু মানুষ তো আছে সবসময় বাঁকা চোখে দেখে, সেখানেও আছে। কিছু ধর্মান্ধ তো থাকবেই। তাদের বক্তব্যে অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি হতে পারে। সেটাতে আমাদের ওভাবে তো কিছু করার নেই। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে বাংলাদেশ সবসময় অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী, সব ধর্মের সমান অধিকার এটা আমরা বিশ্বাস করি।

কালের আলো/ডিএসবি/এমএম