উজ্জ্বল-আশাবাদের নতুন অধ্যায়েও দেদীপ্যমান আইজিপি, মিলেছে অর্থবহ-গুরুত্বপূর্ণ-স্বপ্নিল বার্তা

প্রকাশিতঃ 11:09 pm | October 04, 2022

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

৩৩ বছর ছুঁই ছুঁই উজ্জ্বল-বর্ণাঢ্য তাঁর চাকরি জীবন। শাশ্বত সততার অবিকার্যে মাথা উঁচু করেই পথ চলেছেন অবিরাম। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আদর্শে অবিচল। অসাম্প্রদায়িক চেতনার বলিষ্ঠ কন্ঠ স্বপ্নসারথি হয়েই একাত্ম থেকেছেন সাধারণের আবেগ-অনুভূতির সঙ্গেই। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও অপরাধ দমনে রেখেছেন কৃতিত্বের সাক্ষর। এলিট ফোর্স র‌্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছেন চ্যালেঞ্জে। হয়েছেন সফলতার মূর্ত স্মারক। বহুমাত্রিক বৈচিত্র্যমুখর কর্মের ঔজ্জ্বল্যে দেদীপ্যমান শিখা জ্বালিয়ে উজ্জ্বল আশাবাদের নতুন এক অধ্যায়েরই সূত্রপাত করেছেন যেন।

ভিশনারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থা-বিশ্বাসে আরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে, শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশের ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি)। মাত্র চারদিন আগে এই পদে অভিষিক্ত হয়েই মঙ্গলবার (০৪ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরের হল অব ইন্টেগ্রিটিতে গণমাধ্যমের মুখোমুখি পুলিশপ্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বিপিএম (বার), পিপিএম। কৃতজ্ঞতার জাগরণে উচ্চারণ করলেন-‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার ওপর আস্থা রেখে এই সম্মানজনক গুরুত্বদায়িত্ব পালনে আমাকে মনোনীত করায় আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’ আনন্দের সঙ্গেই বললেন, ‘বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার প্রাধিকার চিহ্নিতকরণপূর্বক পুলিশের সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’

অভিজ্ঞতার ঋদ্ধতায় অকপটে বলে গেলেন, পুলিশের সেবা দেওয়ার মূল কেন্দ্র থানা। থানাই জনগণের জনগণের আস্থা ও ভরসার স্থান। মনের অন্তর্গত অনুভূতিতে প্রভাতের সূর্যের মতোই যেন তাঁর স্বপ্নিল কার্যকর ঘোষণা, থানাকে সেবার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে রূপ দেওয়ার। তিনি খোলনলচে পাল্টে আরও উজ্জ্বল করতে মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ গড়া ‘জন্মযোদ্ধা’ গর্বিত বাহিনীটিকে। পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলের কারিগর হিসেবে থানার দায়িত্বশীলদের আইনি সক্ষমতা আর মানবিক মূল্যবোধকে গ্রোথিত করার পাশাপাশি সেবা প্রার্থীদের নির্ভয়ে থানায় আসতে পরিস্ফুট বার্তা দিলেন।

জানিয়ে দিলেন জনগণের সঙ্গে ভালো ব্যবহারের কঠোর নির্দেশনা ও জনগণের কথা শুনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা। বিম্বিত মানবিক আলোর অপরূপ নকশায় সাফ সাফ বলে দিলেন, ‘পুলিশের ভাবমূর্তি নির্ভর করে থানার আচরণের ওপরই। এজন্য স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে থানার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব রাখা হবে। দেশের সম্মানিত নাগরিকরা যাতে সহজে, নির্ভয়ে থানায় আসতে পারেন, তাদের সমস্যার কথা বলতে পারেন এবং সেবা গ্রহণ করতে পারেন সে ব্যাপারে আমি সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছি।’

আবার অভিভাবকত্বের স্নেহের পরশে প্রশংসা করলেন তৃণমূলের পুলিশিং’র। বলে চললেন, ‘সাধারণ মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ, নিরীহ, নির্যাতিত, গরিব, অসহায়দের থানা এখন অনেক আন্তরিকভাবে সেবা দিচ্ছে। জনগণের দোরগোড়ায় এই সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমরা আরও আন্তরিক ও সচেষ্ট হবো। এজন্য প্রধান ও প্রথম কাজ হবে ভালো ব্যবহার ও জনগণের কথা আন্তরিকতার সঙ্গে শোনা এবং অতি দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এক্ষেত্রে যেকোনো ব্যত্যয় গ্রহণযোগ্য হবে না। তাই থানার কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আমি মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছি।’

নিজ বাহিনীর অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে একেবারেই উচ্চকন্ঠ তিনি। স্ফুলিঙ্গের মতোই উদগিরণে তাঁর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি। থানাকে ঘিরে আস্থাহীনতার সংস্কৃতিকে চির বিদায় করতে নিজেদের নানাবিধ কর্মযজ্ঞের উদাহরণ টানলেন। বললেন, ‘আপনারা জানেন, প্রতিটি থানায় ওপেন হাউস করা হয়ে থাকে, তাতে জনগণ তাদের সমস্যার কথা সিনিয়রদের বলার সুযোগ পান। সে অনুযায়ী আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকি।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, থানায় সেবাপ্রত্যাশীদের সমস্যাদীর্ণ ঘটনাপ্রবাহেই গভীরভাবেই মনোযোগ দিয়েছেন নতুন পুলিশপ্রধান। পুলিশ সেবাপ্রার্থীর পারস্পরিক সম্পর্কের কালোত্থিত গতিময় বিন্যাসে সযত্ন উপলবিদ্ধর দীপ্ত সমারোহ ও উৎকর্ষে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন জনবান্ধব নীতিকে। নিজের বক্তব্যে তিনি বিষয়টি পরিস্কার করেছেন।

অর্থবহ ও গুরুত্বপূর্ণ এসব বার্তায় এই সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পুলিশের এই নতুন আইজি ব্যপ্ত, সমগ্র ও দূরসঞ্চারী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে নিবিড় ঐকাত্ম্যের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। নিশ্চিত করেছেন দু:খ-সুখ-সঙ্কটে পাশে থাকার। স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ পুলিশি ব্যবস্থাকে একটি সক্রিয় অনুঘটক হিসেবে বিবেচনা করেন তিনি।

দায়িত্বসতর্ক জীবনবোধে, প্রাগ্রসর ভাবনা-চিন্তার প্রতিচ্ছবি হয়েই অমিত দৃঢ়তায় তাঁর কন্ঠে ধ্বনিত হলো-‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক উদ্যোগ ও প্রাজ্ঞ দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা ও জনবল বাড়ায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে অনেক স্থিতিশীল।’

নিজের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন গণমাধ্যমকর্মীদের কোন প্রশ্নেরই উত্তর এড়িয়ে যাননি। গুটিয়ে নেননি নিজেকে। উদারনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন। র‌্যাব সংস্কার, পুলিশে এলাকাভিত্তিক গ্রুপিং, দুর্নীতি, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জঙ্গি প্রশিক্ষণ, পুলিশের রাজনৈতিক ব্যবহারসহ সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে ইস্পাতের ফলার মতো প্রতিটি প্রশ্নেই সাবলীল ঝকঝকে জবাব দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) কামরুল আহসান, এসবিপ্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত আইজিপি আতিকুল ইসলাম ও হারুন অর রশিদসহ পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি ও অতিরিক্ত ডিআইজিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রাজ্ঞ নেতৃত্বের প্রশংসা, তুলে আনলেন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পুলিশের সক্ষমতার কথা
‘দেশের শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার প্রতীক বাংলাদেশ পুলিশ’-সংবাদ সম্মেলনে বলছিলেন আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তিনি বলেন, ‘অপরাধ দমন, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিধান, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার রক্ষার দায়িত্বে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ পুলিশ। আমরা জানি, টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত স্থিতিশীল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি। আর এই স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিতকরণের মূল দায়িত্ব পুলিশের ওপরই অর্পিত।

আমরা বিশ্বাস করি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির সঙ্গে সুশাসনের সফল সমন্বয় একান্ত অপরিহার্য। এক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ পুলিশি ব্যবস্থা একটি সক্রিয় অনুঘটক হিসেবে বিবেচিত। বাংলাদেশ পুলিশ সেই লক্ষে পেশাদারিত্বের সঙ্গে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

পুলিশপ্রধান বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক উদ্যোগ ও প্রাজ্ঞ দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা ও জনবল বাড়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে অনেক স্থিতিশীল। এই স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক মন্দার মধ্যেও আমাদের অর্থনৈতিক উন্নতি সাধিত হয়েছে। দেশের বর্তমান মাথাপিছু আয় প্রায় ৩ হাজার ডলারে উন্নীত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন, পুলিশ বাহিনী একটি ঐতিহ্যবাহী সাংবিধানিক বাহিনী। এই বাহিনীতে অনেক সৎ, দক্ষ ও মেধাবী সদস্য রয়েছে। এই বাহিনী দেশের ক্রান্তিলগ্নে যেকোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে। ভবিষ্যতেও যেকোন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে এই বাহিনী সক্ষম বলে আমি মনে করি।’

‘বিশ্বায়ন, অবাধ তথ্য প্রবাহ ও প্রযুক্তির উন্নয়নের এই যুগে অপরাধের প্রকার ও প্রকৃতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। বাড়ছে এর মাত্রা ও ব্যাপ্তি। তাই পুলিশকে একটি আধুনিক, জনবান্ধব, প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত উদ্যোগে নানাবিধ যুগোপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

জনবল বাড়ানো, অপরাধ ব্যবস্থাপনার উৎকর্ষ, বিশেষায়িত ইউনিট গঠনসহ জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, মাদক, মানবপাচার, ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম, সাইবার ক্রাইম ও নিত্যনতুন অপরাধ দমনে পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশকে জনসম্পৃক্ত ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে কমিউনিটি পুলিশিং এবং বিট পুলিশিং ব্যবস্থা অত্যন্ত জোরদার করা হয়েছে’-যোগ করেন নতুন এই পুলিশপ্রধান।

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ‘সরকারের ‘রূপকল্প-২০৪১’ অনুযায়ী উন্নত বাংলাদেশের উপযোগী করে পুলিশকে গড়ে তুলতে আমরা সামনের দিনগুলোতে যুগোপযোগী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবো। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে আধুনিক ও প্রযুক্তি বিষয়ক প্রশিক্ষণের ওপর আমরা বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করবো।’

গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নে সুবিস্তৃত বর্ণনায় প্রোজ্জ্বলিত
পুলিশের ক্লিন ইমেজের তারকা চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। নীতির প্রশ্নে একেবারেই আপোসহীন। নতুনত্বের স্পর্শ দিয়ে এগিয়ে নিয়ে গেছেন বাংলাদেশ পুলিশকে। পুলিশপ্রধান হিসেবে নিজের প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই নিজ বাহিনীর কর্মকর্তাদের আচরণ ও সেবার মনোভাবের গুণগত পরিবর্তনের অতলান্ততায় গভীরভাবেই মনোনিবেশের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতিটি প্রশ্নে সুবিস্তৃত সাবলীল বর্ণনায় প্রোজ্জ্বলিত করেছেন নিজেকে। গণমাধ্যমের ভাবনা, জানা-অজানার খুঁটিনাটি আলোকপাত করেছেন।

রাজনৈতিকভাবে পুলিশকে ব্যবহার করা হয় এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক বলেন, ‘যখন দেশে নির্বাচন আসে তখন নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ পুলিশ কাজ করে থাকে। পুলিশ সব সময় পেশাদারত্বের সঙ্গে সব ধরনের দায়িত্ব পালন করে। আমরা (পুলিশ) কীভাবে কোনো বিষয় কন্ট্রোল করবো, কোন দায়িত্ব কীভাবে পালন করবো সেটা আইনে (আছে) এবং ট্রেনিং নিয়েছি। এরপরও যদি কারও সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ থাকে তবে আমাকে জানাবেন, আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবো।’

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জঙ্গিবাদের ট্রেনিং দেওয়া হয়। রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যেতে নিরাপদ বোধ করেন না- এ সম্পর্কিত প্রশ্নে নতুন আইজিপি বলেন, ‘আমরা যখন যেখানে তথ্য পেয়েছি, প্রতিটি তথ্যকে বিবেচনায় নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি। ব্যবস্থা নেওয়ার কারণেই জঙ্গি হামলা হচ্ছে না। জঙ্গি দমনে বাংলাদেশ বিশ্বে রোল মডেল। কোথায় জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বা কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে জানান, আমরা ব্যবস্থা নেবো।’

পুলিশ বাহিনীতে গোপালগঞ্জ-কিশোরগঞ্জ-বরিশাল-চাঁদপুর গ্রুপিং দেখা যায়। বিভিন্ন সময় এক গ্রুপ অন্য গ্রুপকে হেয় করার জন্য লেগে থাকে, গ্রুপের প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর চেষ্টা করে- এমন প্রশ্নের জবাবে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, ‘আমি পুলিশের গ্রুপিং সম্পর্কে জানি না। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিলে বিষয়টি খতিয়ে দেখবো।’

ডিএমপিতে বছরের পর বছর একই কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের পোস্টিং হলেও ডিএমপির বাইরে পাঠানো হয় না। এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘বদলির ক্ষেত্রে কিছু কিছু জিনিস ফলো করি। শুধু পুলিশে না বিভিন্ন অরগানাইজেশনে একই লোক অনেক দিন ধরে কাজ করেন। কর্মকর্তার দক্ষতা দেখে যদি মনে করে থাকে রাখা দরকার তাহলে রেখে দেয়। আর যাকে রাখা দরকার না তাকে বদলি করা হয়।’

সাংবাদিক ও পুলিশ একে অপরের সঙ্গে কাজ করছে। কিন্তু মাঠে কাজ করতে গেলে টার্গেট করে সাংবাদিকদের মারধর করা হয়। এ বিষয়ে পুলিশের পদক্ষেপ জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, ‘এমন অবস্থায় আপনারা আমাদের বলবেন, আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করবো।’

র‌্যাব সংস্কারের প্রশ্নে সদ্য বিদায়ী র‌্যাবের এই ডিজি বলেন, ‘‘র‌্যাব একটি লাইভ প্রতিষ্ঠান। এখানে সংস্কার চলমান প্রক্রিয়া। যেকোনও প্রতিষ্ঠানেই তাই হয়, সবসময় এই সংস্কার চলতে থাকে। অপরাধের ধরন অনুযায়ী সংস্কার হয়ে থাকে। জঙ্গিবাদ ও সাইবার ক্রাইম অপরাধ মোকাবিলায় আধুনিক টেকনোলজি ব্যবহার করতে হবে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।’

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘অপরাধীরা অপরাধ করার জন্য যেমন ইক্যুইপমেন্ট নিয়ে থাকে, যে ধরনের কৌশল নেয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তাদের চেয়ে আরও বেশি কৌশলী হতে হবে। তাই সংস্কার সব লাইভ প্রতিষ্ঠানেই হয়।’

৯৭ হাজার বিদেশির পাসপোর্ট নেই, অবৈধভাবে বাংলাদেশে রয়েছে। তারা জঙ্গিবাদসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়াচ্ছে- এমন প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ‘এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। তদের ওপর তথ্য নেওয়া হয়। যেই দেশের নাগরিক সেই দেশ থেকে তথ্য নেওয়া হয়। আর ক্রাইমের সঙ্গে যদি তারা জড়িত থাকে তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’

সম্প্রতি নিখোঁজ ৫০ তরুণের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে। জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পুলিশ-র‌্যাব জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ চলছে।’

পুলিশের দুর্নীতি নিয়ে টিআইবির রিপোর্ট ও অনেক সময় দুর্নীতির প্রতিবেদন দেখতে পাওয়া যায়। উন্নত পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে আপনি কী ভূমিকা রাখবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ‘আপনারা লক্ষ্য করেছেন ইতোমধ্যে কমিউনিটি পুলিশের কর্যক্রম শুরু হয়েছে। বিট পুলিশের কার্যকর্ম চলছে। প্রতিটি থানায় জবাবদিহিতা নিশ্চিতের জন্য ‘ওপেন হাউজ ডে’ কার্যক্রম চালু রয়েছে। মাঠ পর্যায়ে সকল সদস্যদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেসব জায়গায় ঘাটতি আছে সেগুলো ঠিক করা হবে।’

মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের একগুচ্ছ নির্দেশনা
এদিন সংবাদ সম্মেলনের আগে ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন থেকে ভার্চুয়্যালি পুলিশের সকল মেট্রোপলিটন কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলার পুলিশ সুপার এবং থানার অফিসার ইনচার্জদের (ওসি) সঙ্গে মতবিনিময় করেন। নিজের প্রথম এই মতবিনিময় সভায় তিনি পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে জনগণকে নিরপেক্ষভাবে সেবা প্রদানের জন্য মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, ‘মানুষ পুলিশের সেবা পেতে প্রথম থানায় আসে। থানার দরজা কখনো বন্ধ হয় না। আমরা থানাকে মানুষের সেবা প্রাপ্তির প্রথম ভরসাস্থল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’ সভায় অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মো. কামরুল আহসান ধন্যবাদ জানান। অনুষ্ঠানে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

করোনাকালে চরম বিপর্যয়ের সময় মানবিক পুলিশিংয়ের উদাহরণ দিয়ে আইজিপি বলেন, তখন পুলিশ যেভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, তাদেরকে সেবা দিয়েছে তা জনগণ আজীবন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। আগামীতেও পুলিশ সদস্যদেরকে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সেবার এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি বলেন, জাতির পিতার ‘জনগণের পুলিশ’ হিসেবে পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করে আমাদেরকে অতীতের ন্যায় অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করার চ্যালেঞ্জ নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

আইজিপি বলেন, কিছু পুলিশ সদস্যের বিচ্যুত আচরণের জন্য পুলিশের সম্মান ও ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়, তা কোনভাবেই করা যাবে না। কোন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অনৈতিক কাজ অথবা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, কোন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদকের সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।

পুলিশপ্রধান বলেন, পুলিশের নিয়োগ-পদোন্নতিতে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। ফলে জনগণের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা বেড়েছে। এখন যে কোন সময়ের তুলনায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক উন্নত। এটা ধরে রাখতে হবে। সকলে মিলে একযোগে একসাথে কাজ করে বাহিনীর মর্যাদা সমুন্নত রাখতে হবে।’ পুলিশ সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে প্রতিপালনেরও নির্দেশ দেন আইজিপি।

কালের আলো/এমএএএমকে