দক্ষ নেতৃত্বগুণাবলীতে নির্ভরযোগ্য মেজর জেনারেল হামিদুল হক ডিজিএফআই’র নেতৃত্বে

প্রকাশিতঃ 10:20 am | October 27, 2022

এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

প্রায় ৩৪ বছরের বর্ণাঢ্য সাফল্যমণ্ডিত ক্যারিয়ারের দিগন্তরেখায় ঊষার উন্মেষে আলোকিত করেছেন নিজেকে। দক্ষতা, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব আর সততার সঙ্গে আধুনিক-অগ্রসর চিন্তার মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন। তার ইস্পাতকঠিন মনোবলের সঙ্গে পরিণত ভাবনার মননশীলতার মূল্যবোধকে উচ্চকিত করেছেন।

প্রতিনিয়ত নিজেকে অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে চলার প্রতীতিতে আশাবাদের স্বর্ণালোকে আরও চ্যালেঞ্জিং অধ্যায়ের সূত্রপাত করতে চলেছেন মেজর জেনারেল হামিদুল হক। মহান মুক্তিযুদ্ধের অনির্বাণ চেতনা, স্বাধীনতার অবিরাম প্রেরণা ও গভীর দেশপ্রেমের বিশ্বস্ততায় দক্ষ নেতৃত্বগুণাবলীতে নির্ভরযোগ্য হিসেবেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন ১৭ পদাতিক ডিভিশনের এই জিওসি ও সিলেটের এরিয়া কমান্ডার।

এই দুই তারকা জেনারেলের হাতেই এবার প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) নেতৃত্ব তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (২৬ অক্টোবর) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে তাকে ডিজিএফআই’র নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মেজর জেনারেল হামিদুল হক বিদায়ী ডিজি আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরীর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। ঢাকা সেনানিবাসের কচুক্ষেতে ডিজিএফআই’র ১৪ তলা ভবনে গত এক বছর ১৯ দিন এই পদটিতে দায়িত্ব পালন করে এখন লেফটেন্যান্ট জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে ময়মনসিংহে অবস্থিত আর্মি ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ডের জিওসি হয়েছেন আহমেদ তাবরেজ শামস।

সামরিক বাহিনীর অত্যন্ত প্রভাবশালী ও গুরুত্বপূর্ণ এই পদটিতে সাধারণত সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়। সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা নিজেই এই পদটিতে ‘বেস্ট অব দ্য বেস্ট’ সেনা কর্মকর্তাকেই মনোনীত করেন। এবার প্রধানমন্ত্রী গভীর আস্থা রেখেছেন ১৭ পদাতিক ডিভিশনের বিদায়ী জিওসি’র ওপর।

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার জালালাবাদ এলাকার প্রয়াত গোলাম মুর্তজা ও আঙ্গুর আরা বেগমের প্রথম সন্তান মেজর জেনারেল হামিদুল হক। ডিজিএফআই’র ডিজি হিসেবে তাঁর অভিষিক্ত হওয়ার বার্তা স্বভাবতই আনন্দ মহিমান্বিত সুসংবাদ পর্যটন নগরীর বাসিন্দাদের জন্য।

অবারিত আনন্দের ফল্গুধারার আবাহনে অযুত সম্ভাবনাময় নতুন অধ্যায়ের প্রারম্ভে সোশ্যাল মিডিয়ার বিশাল ক্যানভাসে নিজ জেলার বাসিন্দাদের প্রীতি ও শুভেচ্ছায় সিক্ত হচ্ছেন এই চৌকষ সেনা কর্মকর্তা। নিজের উজ্জ্বল নেতৃত্বের ধারাবাহিকতায় ডিজিএফআই’র ডিজির এই চ্যালেঞ্জিং দায়িত্বেও তিনি দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সর্বোচ্চ প্রমাণ রাখতে সক্ষম হবেন বলেই মনে করছেন অনেকেই।

দেশপ্রেমিক এই গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হিসেবেও অভিজ্ঞতা ও অর্জনের স্বর্ণালী সংযোগসূত্রে দেশের মানুষের ভালোবাসা আর আত্মপ্রত্যয়ের মিলিত শক্তিতে সংস্থাটিকে তিনি আরও অনন্য-অনুপম উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হবেন, এমন অভিমত বিশ্লেষকদের।

১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করে ১৯৯০ সালের ২২ জুন ইনফ্যান্ট্রি কোরে কমিশন লাভ করা হামিদুল হকের মানসপটে চিরভাস্বর, মৃত্যুঞ্জয়ী ও শৃঙ্খলমুক্তির চির আরাধ্য পুরুষ, মহান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ৩৪ বছর ছুঁইছুঁই ক্যারিয়ারে নিবিড় প্রসন্নতায় হৃদয়ের বিভায় নিজেকে নিজ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যের সঙ্গে তিনি মিশিয়েছেন কর্মের চাঞ্চল্যে; সাহসিক প্রেরণাশক্তিতে।

গত বছরের মঙ্গলবার (১৭ আগস্ট) সেনা সদর দপ্তরে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল থেকে মেজর জেনারেল পদে হামিদুল হককে পদোন্নতি দিয়ে র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন সেনাপ্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ।

পদ্মা সেতুর নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেড এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে দায়িত্বরত ২০৩ ইনফ্যান্ট্রি ব্রিগেডের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন হামিদুল হক। তিনি সুনামের সঙ্গে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর এজিএসও-১ ও পরিচালক (আইএবি) এবং ঘাঁটাইল ক্যান্টনমেন্টে কর্নেল স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছিলেন স্কুল অফ ইনফ্যান্ট্রি অ্যান্ড ট্যাকটিকস এ ডাইরেক্টিং স্টাফ ও বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে স্টাফ অফিসার। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন সিয়েরালিওনে ও সুদানের দারফুরে ডেপুটি সেক্টর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বরিশাল শেখ হাসিনা ক্যান্টমেন্ট’র স্টেশন কমান্ডার ও মিরপুর ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ভারপ্রাপ্ত কলেজ সেক্রেটারিরও দায়িত্বে ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে