যুবলীগের মহাসমুদ্রে অভাবনীয় গর্জন শুনলো দেশ

প্রকাশিতঃ 10:44 pm | November 11, 2022

এম. আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর, কালের আলো:

সবার গন্তব্য রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। যুবলীগের যুব মহাসমাবেশস্থলের মূল ভেন্যু। নিজ নিজ ইউনিটের পছন্দ ও মনোনিত রঙের টি-শার্ট ও ক্যাপ নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভাকাক্সক্ষীদের যার যার মাথায়। লাল, সবুজ, কমলা, হলুদ, নীল, গোলাপী বা বেগুনি- যেন রংধনু রঙে যুবাদের অভাবনীয় জাগরণ, অবিস্মরণীয় স্রোত। গোটা রাজধানী লোকে লোকারণ্য। এলাকার পর এলাকায় কেবল মানুষ আর মানুষ। ব্যানার-প্ল্যাকার্ড, ভুভুজেলাসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের সমাহার।

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনার ঘোষণা, দুর্ভিক্ষ হবে না বাংলাদেশে

অবিনাশী চেতনাবহ দিনটিতে কেউ আবার বাঙালির গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গ লাঠিখেলায় মেতে উদ্দীপ্ত করলো বাঙালিয়ানায়। সুর মিলিয়ে কন্ঠে কন্ঠে স্লোগান ‘শুভ শুভ শুভ দিন, যুবলীগের জন্মদিন’। শোডাউনে শোডাউনে একাকার রাজপথ। কন্ঠে কন্ঠে যেন অগ্নিসন্ত্রাসী, স্বাধীনতা বিরোধীদের সমূলে মূলোৎপাটনের সুদৃঢ় অঙ্গীকার।

পঞ্চাশ পেরিয়ে একান্নতে পা রাখার সুবর্ণজয়ন্তীর, শুক্রবারের (১১ নভেম্বর) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনটি যেন সরল রৈখিক গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের পাতায় একেবারেই স্বর্ণালী। বিপুল আশার আলোয় সৃষ্টিসুখের উল্লাসে দিনটিকে নিজেদের করে নিলো আওয়ামী লীগের ভাতৃপ্রতীম এই সংগঠন। প্রধানমন্ত্রীর কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে সমস্বরে উচ্চারিত হলো-তারুণ্যের শক্তিই বাংলাদেশের সমৃদ্ধি।

প্রমাণ করলো চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হাসান খান নিখিলের সৃষ্টিশীল নির্ভীক নেতৃত্বে স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তিকে দমনে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত যুব তারুণ্যে দুর্দমনীয়-দুর্বার ও অদম্য যুবলীগ একাই যথেষ্ট। টার্গেট ছিল ১০ লক্ষ যুব-জনতার সমুদ্র। দিনশেষে ছাপিয়ে গেছে লক্ষ্যমাত্রা।

আরও পড়ুন: যুবলীগকে একগুচ্ছ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

লক্ষ লক্ষ সংশয়বিনাশী চিত্ত রুখে দাঁড়ালো অশুভ ও অপশক্তির বিরুদ্ধে। যুব জাগরণের অভূতপূর্ব উপস্থিতির গর্জন শুনলো দেশ। বিশ্ব দেখলো স্বমহিমায় উদ্ভাসিত শেখ ফজলুল হক মনির হাতে গড়া যুবলীগকেই। কাঁপন ধরিয়ে দিলো বিএনপি-জামাতীদের বুকের ভেতর। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটের আগে যুবলীগের মহাসমুদ্রে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ও রাজধানীর প্রায় ১০ লক্ষাধিক যুব-জনতার সমুদ্রে ‘নয়ন মনি’ হয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিভাবকত্বের পরশে অভয় দিলেন দেশবাসীকে। উচ্চারণ করলেন-‘ইনশাআল্লাহ, বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ হবে না।’

বিরোধী দলের হুমকি-ধমকি আর সরকার বিরোধীদের সমালোচনায় বিভ্রান্ত না হতে নেতা-কর্মীদের বার্তা দিলেন সরকারপ্রধান। উৎসাহিত করলেন গ্রামে গ্রামে অনাবাদি জমি চাষাবাদে। ২০৪১ সালের উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তুলতে যুবসমাজের মাঝে চেতনা তৈরির প্রেরণা জাগিয়ে দিলেন। দূরে থাকতে বললেন সন্ত্রাস, মাদক ও জঙ্গিবাদ থেকে।

যুবলীগের ৫০ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বা সুবর্ণজয়ন্তীর এই বিশাল জনারণ্যে যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ সভাপতির বক্তৃতায়, নিজ জবানীতেই ছড়িয়ে দিলেন- ‘শেখ হাসিনা বিশ্বের সেরা ক্রাইসিস ম্যানেজার। তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশকে এখন বলা হচ্ছে-‘নেক্সট এশিয়ান টাইগার।’ আগামী ১৪ মাস নিরলসভাবে কাজ করার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে পুনরায় ক্ষমতায় আনতে দৃঢ় অঙ্গীকারও করলেন যুবলীগ চেয়ারম্যান।

যুবলীগের প্রতিষ্ঠার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত যুব মহাসমাবেশ মঞ্চে দুপুর ২টা ৪৩ মিনিটে আসন গ্রহণের আগে সমাবেশ উদ্বোধন করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। তিনি বেলুন ও কবুতর উড়িয়ে সমাবেশের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এ সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে ছিলেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

আগের দিন রাত থেকেই সমাবেশকে ঘিরে সারা দেশ থেকেই রাজধানীতে আসতে শুরু করেন যুবলীগের নেতাকর্মীরা। সকাল থেকেই আসতে শুরু করে মিছিল। শুক্রবার (১১ নভেম্বর) দুপুরের মধ্যেই কানায় কানায় ভরে ওঠে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। দুপুরের আগেই তিন লক্ষাধিক লোকের আগমনের বার্তা উঠে আসে গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণে। এ সময় আসতে শুরু করেন সংসদ সদস্যসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

এই উদ্যানেই একসঙ্গে জুম্মার নামাজ আদায় করেন মুসলিম ধর্মাম্বলীরা। নামাজ শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান নিখিলের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে দোয়া করা হয়। জুম্মার দুপুর ২ টা থেকে কেন্দ্রীয় নেতারা মঞ্চে বক্তব্য দিতে শুরু করেন।

টিএসসি চত্বরের এক নম্বর গেইট দিয়ে বিশাল শোডাউন করে সমাবেশস্থলে প্রবেশ করেন ময়মনসিংহ মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শাহীনূর রহমান। হলুদ রঙের টি-শার্ট ও ক্যাপ পড়ে যুব সমাবেশস্থলে প্রবেশের আগ মুহুর্তে আলাপে বলেন, ‘মহান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ উপহার দিতে সংগ্রাম করে চলেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নপূরণে মাননীয় চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের নেতৃত্বে দেশের সর্ববৃহৎ যুব সংগঠন যুবলীগ একাগ্রচিত্তেই কাজ করছে। আমরা প্রমাণ করেছি রাজপথ যুবলীগের দখলেই রয়েছে।’

লক্ষীপুর থেকে আসা নেতা-কর্মীদের হাতে নানা রঙের প্ল্যাকার্ড, যুবলীগের সাংগঠনিক ও বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ও গায়ে সম্মেলন উপলক্ষে তৈরিকৃত টি-শার্টে উপস্থিতি নজরে আসে। প্রায় অভিন্ন চিত্র ছিল বিভিন্ন জেলা ও থানা থেকে আগত নেতা-কর্মীদের। ঢাবির টিএসসি, মল চত্বর, ভিসি চত্বর, শাহবাগ, দোয়েল চত্বর, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও তার আশপাশের এলাকা। সব রকমের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিতে দেখা যায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের।

সমাবেশস্থলেই কথা হয় নাটোর থেকে আগত যুবলীগ কর্মী হাসেম আহমদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সংগঠনকে ভালোবেসে এখানে এসেছি। রাতেই এসে পৌঁছেছি, পরে মহসিন হলের মাঠে গাড়িতে অবস্থান করেছি রাতে। এতো বড় সমাবেশ আর এতো মানুষ দেখে সত্যি আমরা আনন্দিত। যেকোনও পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করতে আমরা সব সময় রাজপথে আছি।’

‘সকল অপশক্তিকে দাঁতভাঙা জবাব দিতে যুবলীগ প্রস্তুত’ অবারিত আনন্দ আবহেই বলে দিলেন মানিকগঞ্জ যুবলীগের আহ্বায়ক আবদুর রাজ্জাক রাজা। উচ্ছ্বসিত এই নেতা বললেন, ‘প্রাণের সংগঠন যুবলীগের সুবর্ণজয়ন্তী। এই উপলক্ষে মহাসমাবেশ। আমাদের সকল নেতাকর্মী উচ্ছ্বসিত, আনন্দিত। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে দৃঢ় শপথ নেবে যুবলীগের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী।’

কালের আলো/এসবি/এমএম