খুঁজুন
                               
, ,
           

মাতৃভূমি রক্ষায় ব্রত নবীন সেনারা, পথনির্দেশকের ভূমিকায় জ্ঞানোদ্দীপক উপস্থাপন সেনাপ্রধানের

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৩, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
মাতৃভূমি রক্ষায় ব্রত নবীন সেনারা, পথনির্দেশকের ভূমিকায় জ্ঞানোদ্দীপক উপস্থাপন সেনাপ্রধানের

কালের আলো রিপোর্ট:

তখন নবীন অফিসারদের মধ্যে যেন বয়ে যাচ্ছে অবারিত আনন্দের ফল্গুধারা। রঙবেরঙের বাহারি বেলুনে ছেয়ে গেছে আকাশ। তাঁর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যেন আকাশছোঁয়ার চেষ্টা করছে নবীন সেনাদের টুপি। এই আনন্দ রীতিমতো বাঁধভাঙা। দীর্ঘ ৩ বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজের মাধ্যমে ৮৫তম বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির (বিএমএ) দীর্ঘ মেয়াদী কোর্সের মোট ২৫০ জন অফিসার ক্যাডেট এবং এক বছরের সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে ৫৮তম বিএমএ স্পেশাল কোর্সের ৩ জন অফিসার ক্যাডেট এবং ৭ জন ট্রেইনি অফিসার কমিশন লাভ করেন। মেধার সঙ্গে নিরলস শ্রম, কঠোর অভিনিবেশ আর অসামান্য পেশাদারিত্বের মাধ্যমে প্রত্যেকে গড়ে তুলেছেন নিজেকে।

সোমবার (০৪ ডিসেম্বর) সকালে চট্টগ্রামের ভাটিয়ারিস্থ বিএমএ প্যারেড গ্রাউন্ডে বিএমএ’র ৮৫তম বিএমএ দীর্ঘ মেয়াদী কোর্সের অফিসার ক্যাডেটদের কমিশনপ্রাপ্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেধাবী নবীন সেনা কর্মকর্তাদের পথনির্দেশকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। নিজের পেশাদারিত্বের গভীর নির্যাসে দূরদৃষ্টির পরিচয়বহ, দিকনির্দেশনামূলক এবং সুমিত ভাষায় জ্ঞানোদ্দীপক এক দীর্ঘ বক্তব্যই উপস্থাপন করলেন তিনি। অন্তরমথিত ভালোবাসায় সেই বক্তব্যে কালের বিবর্তনে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় শক্তিশালী ও সক্ষম সেনাবাহিনী, দেশপ্রেম ও সাহসিকতার সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা, নিজ বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস-ঐতিহ্য-বাদ যায়নি কোন কিছুই।

পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার নিরবচ্ছিন্ন চর্চার আলোকেই সেনাপ্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ও সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ সেনাবাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা নিজেদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতায় কর্তব্য, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। এই সেনাবাহিনী একটি স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনে ও দেশের মানুষের সেবায় সর্বদা নিয়োজিত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।’

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের মধ্যে ২২৮ জন পুরুষ ও ৩১ জন মহিলা অফিসার রয়েছেন। এছাড়াও কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের মধ্যে ১ জন শ্রীলংকান অফিসার রয়েছেন যিনি নিজ সেনাবাহিনীতে যোগদান করবেন। সর্ব বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার এ এম সানজিদ ৮৫তম বিএমএ দীর্ঘ মেয়াদী কোর্সে সেরা চৌকস ক্যাডেট বিবেচিত হন এবং অসামান্য গৌরবমন্ডিত ‘সোর্ড অব অনার’ অর্জন করেন। এছাড়া কোম্পানি সিনিয়র আন্ডার অফিসার রিয়াদ হোসেন সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ‘সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক’ অর্জন করেন এবং অফিসার ক্যাডেট হারসা নিমেসা তিলান্থা হিথারচ্ছি বেস্ট ওভারসিজ ক্যাডেট এওয়ার্ড অর্জন করেন। পরে ক্যাডেটরা আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ করেন এবং পিতা-মাতা ও অভিভাবকরা নবীন অফিসারদের র‌্যাংক-ব্যাজ পরিয়ে দেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি সেনাপ্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ বিএমএ প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছালে আর্মি ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ডের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহম্মেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও চট্টগ্রামের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ শাহিনুল হক ও বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল এস এম কামরুল হাসান তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। পরে সেনাপ্রধান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও প্যারেডের অভিবাদন গ্রহণ করেন। এরপর তিনি কৃতি ক্যাডেটদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এখন অনেক আধুনিক ও চৌকস একটি বাহিনী
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ প্রশিক্ষণ শেষ করা ক্যাডেটদের উদ্দেশ্যে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দিকনির্দেশনামূলক ঐতিহাসিক ভাষণের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘ আজ এই শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তোমাদের উপর ন্যস্ত হলো দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব।’ তিনি জাতির পিতার হাতে গড়া এই সেনাবাহিনীকে একটি প্রশিক্ষিত, সুশৃংখল এবং আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে ওঠা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পূর্বের তুলনায় বর্তমানে অনেক আধুনিক ও চৌকস একটি বাহিনী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য আমাদের সেনাবাহিনী এখন সুপ্রশিক্ষিত, দক্ষ ও সর্বদা প্রস্তুত। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলা, পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা বজায় রাখাসহ বিশ্ব পরিমণ্ডলে শান্তিরক্ষা করে বিশ্বব্যাপী সুখ্যাতি ও প্রভূত সুনাম অর্জন করেছে।’

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ দেশের সীমানা পেরিয়ে বহির্বিশ্বে ও ভূয়সি প্রশংসা অর্জন করেছে মন্তব্য করে সেনাপ্রধান আরও বলেন, ‘১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এই স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখার জন্য একটি দক্ষ ও আধুনিক সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয়তা ছিল অপরিহার্য। এই প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে কুমিল্লা সেনানিবাসে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমী প্রতিষ্ঠা করেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই বঙ্গবন্ধু মিলিটারি একাডেমি আজ বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেশে ও বিদেশে বিশেষভাবে সমাদৃত। এই একাডেমি থেকে প্রশিক্ষিত অফিসারদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ দেশের সীমানা পেরিয়ে বহির্বিশ্বেও ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেছে।

নতুন অফিসারদের উদ্দেশ্যে সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা সকলের জন্য অত্যন্ত গর্বের ও সৌভাগ্যের বিষয়। বিশ্বমানের এই একাডেমিতে দীর্ঘ তিন বছর কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে আজ তোমরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কাঙ্খিত কমিশনের দ্বারপ্রান্তে। আমি নিশ্চিত আজকের এই দিনটি তোমাদের জীবনের একটি অনন্য স্মরণীয় দিন। তোমাদের জীবনের বিরল এই অর্জনের জন্য তোমাদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।’

নবীনদের দিকনির্দেশনা দিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘একজন সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে সবসময় তোমাদের কার্যকর নেতৃত্বের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। সততা, কর্তব্য, নিষ্ঠা ও আনুগত্য দ্বারা তোমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করবে। এজন্য তোমাদের অধীনস্থ সৈনিকদের সঙ্গে সুদৃঢ় বন্ধন তৈরি করতে হবে। সহমর্মিতা দিয়ে যেকোনো পরিস্থিতিতে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। ভ্রাতৃত্ববোধ, দলগত চেতনা ও মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে অধীনস্থদের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে তাদের পরিচালনা করার নিরন্তন চেষ্টা তোমাদের মধ্যে থাকতে হবে। যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দেশপ্রেমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিবে। মনে রাখবে, তোমাদের উপর অর্পিত হবে সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ নেতৃত্বদানের গুরুদায়িত্ব। তোমাদের সেই নেতৃত্বের জন্য জানাই অভিনন্দন।’

জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আজকের যে অর্জন রয়েছে তাকে ধরে রেখে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া তোমাদের দায়িত্ব। তোমাদের নবীন নেতৃত্বের দৃপ্ত স্পৃহাই এই সেনাবাহিনীকে আরও আধুনিক ও যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। আমার বিশ্বাস তোমরা যে ধরনের উন্নত ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছো তা তোমাদের ভবিষ্যতে দেশ ও সেনাবাহিনীর কল্যাণে সঠিক ও দূরদর্শি সিদ্ধান্ত গ্রহণে আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলবে। আশা করি তোমরা গত দিনের চেয়ে ভালো করার প্রয়াস নিয়ে প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখবে এবং নিজেদের জ্ঞান ক্রমান্বয়ে সমৃদ্ধ করতে থাকবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তোমাদের নবীন নেতৃত্বে এবং সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় জাতির গর্বের প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা দেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সফল হবে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

উন্নয়নের অধিকার নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক ঐক্যের আহ্বান শামা ওবায়েদের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৪ অপরাহ্ণ
উন্নয়নের অধিকার নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক ঐক্যের আহ্বান শামা ওবায়েদের

উন্নয়নের অধিকার বাস্তবায়নে বিশ্বের সব দেশের অঙ্গীকার, দায়িত্বশীলতা ও সম্মিলিত পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে উন্নয়নের অধিকার বিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের উদ্যোগে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। জাতিসংঘের ‘উন্নয়নের অধিকার বিষয়ক ঘোষণা’ গ্রহণের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন।

উন্নয়ন অবিচ্ছেদ্য মানবাধিকার

বক্তব্যে শামা ওবায়েদ বলেন, উন্নয়ন একটি অবিচ্ছেদ্য মানবাধিকার। এ অধিকার নিশ্চিত করতে অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি বাংলাদেশের জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। এ সময় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়ার উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে নারী ও তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রেইনবো নেশন’-এর স্বপ্ন

শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি ‘রেইনবো নেশন’-এর স্বপ্ন দেখে, যেখানে কেউ পিছিয়ে থাকবে না।

তিনি বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোকে আরও ন্যায়সঙ্গত করার ওপর গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি উন্নয়ন ও জলবায়ু অর্থায়নে পূর্বানুমেয়তা ও সমতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) সবার সমান সুযোগ সৃষ্টি এবং উন্নয়নের অধিকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে একটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক কাঠামো গঠনের প্রস্তাবও দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী দেশগুলো উন্নয়নের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বৈশ্বিক সমৃদ্ধি এগিয়ে নিতে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

জলবায়ু সংকটে বাংলাদেশের পাশে আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

কালের আলো ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ণ
জলবায়ু সংকটে বাংলাদেশের পাশে আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তুলতে বিশ্ব নেতাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

স্থানীয় সময় বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিলে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেসের উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সুলভ অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখা, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বাড়ানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান শূন্য দশমিক ৫ শতাংশেরও কম। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে কোটি কোটি মানুষের জীবিকা ও দেশের খাদ্যনিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাংলাদেশের জিডিপির প্রায় ১ শতাংশের সমান। চলতি বছরের বাজেটে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য প্রায় ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া বড় ধরনের জলবায়ুজনিত ক্ষতির ঝুঁকি মোকাবিলা করা কঠিন।

বাংলাদেশের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পানি সংরক্ষণ, বন্যার ঝুঁকি কমানো, জলাভূমি পুনরুজ্জীবন ও ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণের লক্ষ্যে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের কাজ চলছে। পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা ব্যারাজের মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এর মধ্যে রয়েছে বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য পূর্বানুমেয় ও সুলভ অর্থায়ন নিশ্চিত করা, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বাড়ানো, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান তহবিলের পূর্ণ বাস্তবায়ন।

তিনি বলেন, এককভাবে বাংলাদেশের পক্ষে এসব লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। ‘অভিন্ন কিন্তু পৃথক দায়িত্ব ও নিজ নিজ সক্ষমতা’ নীতির ভিত্তিতে সম্মিলিত পদক্ষেপ এখন অপরিহার্য। বাংলাদেশের জলবায়ু পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে—এমন অংশীদারত্ব প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ছয় বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ, দুর্ভোগে মির্জাপুরের মানুষ

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
ছয় বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ, দুর্ভোগে মির্জাপুরের মানুষ

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কামারপাড়া নদীর ওপর নির্মিত সেতু থাকলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয়রা। প্রায় দুই বছর আগে সেতুর মূল কাঠামোর নির্মাণ শেষ হলেও এখনও পুরোপুরি চালু হয়নি। ফলে বাঁশের সাঁকো বেয়ে সেতুতে উঠে ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। অনেকে বাধ্য হয়ে পাশের খেয়া নৌকায় নদী পার হচ্ছেন।

জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের কামারপাড়া নদীর ওপর ৯০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এতে ব্যয় ধরা হয় ১০ কোটি ৬০ লাখ টাকা। ২০২৪ সালের মধ্যে সেতুর মূল কাঠামোর নির্মাণ শেষ হলেও এখনও রেলিংয়ের কিছু কাজ বাকি রয়েছে।

ভূমি জটিলতায় আটকে সংযোগ সড়ক

সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য ২০২৫ সালের জুনে কাজ শুরু হয়। এ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে তিন কোটি ৫০ লাখ টাকা। তবে ১৫ মাসেও কাজ অর্ধেক শেষ হয়নি। ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে দীর্ঘ সময় কাজ বন্ধ ছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সেতুর উত্তর পাশে কিছু মাটি ফেলে সংযোগ সড়কের কাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এক দিন কাজ হলে পরবর্তী কয়েক দিন কাজ বন্ধ থাকে। দক্ষিণ পাশের কাঁচা রাস্তা থেকে সেতু পর্যন্ত প্রায় ৫০ ফুট আঁকাবাঁকা ও ঢালু পথের ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। সেটি দিয়েই স্থানীয়রা ঝুঁকি নিয়ে সেতুতে উঠছেন।

দীর্ঘদিনের অপেক্ষা

কামারপাড়া গ্রামের আবজাল হোসেন বলেন, মির্জাপুর-ধানতারা ভায়া কামারপাড়া আঞ্চলিক সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেতুটি চালু হলে মির্জাপুরের সঙ্গে ধামরাই ও মানিকগঞ্জের যোগাযোগ সহজ হবে। পাশাপাশি ঢাকায় যাতায়াতের জন্য এটি একটি বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে।

স্থানীয় মজিবর রহমান বলেন, তাঁর বয়স প্রায় ৭০ বছর। সেতুর কাজ যেভাবে এগোচ্ছে, জীবদ্দশায় সেতু দিয়ে হেঁটে বাজারে যেতে পারবেন কি না, তা নিয়েই তিনি শঙ্কিত।

দ্রুত কাজ শেষের আশ্বাস

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্সের অংশীদার মো. ইসলাম বলেন, সংযোগ সড়কের কাজ কিছুটা জটিল। জায়গা নিয়ে সমস্যাও ছিল। পরে সেই সমস্যা সমাধান হয়েছে। দীর্ঘদিন বৃষ্টির কারণে কাজ ব্যাহত হয়েছে। আগামী জুন পর্যন্ত কাজ শেষ করার সময় রয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে তিনি দাবি করেন।

ভাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান বলেন, সেতুর নির্মাণে অনেক সময় লেগেছে। এরপর সংযোগ সড়ক নির্মাণে ভূমি-সংক্রান্ত জটিলতায় দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ ছিল। বিষয়টি মামলা পর্যন্ত গড়ায়। পরে স্থানীয়দের ও ঠিকাদারের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করে সমস্যার সমাধান করা হয়েছে। এখন কাজ চলছে, তবে কাজের গতি আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

উপজেলা প্রকৌশলী জালাল উদ্দিন বলেন, তিনি মির্জাপুরে নতুন যোগ দিয়েছেন। যোগদানের পর গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর বিষয়ে নজর দিয়েছেন। কামারপাড়া সেতু ও সংযোগ সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। সব জটিলতা নিরসন হয়েছে। দ্রুত কাজটি শেষ হবে বলে আশা করছেন তিনি।

কালের আলো/এমএসআইপি