খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর তিন সমুদ্রবন্দর

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুলাই, ২০২৪, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ
প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর তিন সমুদ্রবন্দর

কালের আলো রিপোর্ট:

সম্প্রতি আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য ও কারফিউর কারণে স্থবির থাকার পর আবারও আগের মতোই কর্মব্যস্ততা আর প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে ওঠেছে চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা চালু হওয়ায় স্বাভাবিক হয়েছে বন্দর ও কাস্টমসের কার্যক্রম। আমদানি-রপ্তানি নতুন চালান শুল্কায়নের মাধ্যমে পণ্য খালাস ও রপ্তানি পণ্য জাহাজীকরণ শুরু হয়েছে। সড়কের পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ায় ইতোমধ্যেই খালাস পণ্য নির্ধারিত স্থানগুলোতে নিতে শুরু করেছেন আমদানিকারকরা। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই তিনটি সমুদ্র বন্দরই তাদের সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী পুরো বিষয়টি মনিটরিং করছেন। পাশাপাশি বন্দরসমূহের নিরাপত্তায় সরকারের নির্দেশে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থান দ্রুতই পরিস্থিতি উত্তরণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। বড় ধরণের বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পায় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি। তিনি বন্দরে কর্মরত ৬ হাজার ৭০০ শ্রমিকের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। সেদিন প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অচলাবস্থায়ও চট্টগ্রাম বন্দর থেমে থাকেনি। চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডেলিং ঠিকভাবে হওয়ায় এখানে একটা কনটেইনারের উপরে চারটা-পাঁচটা করে কনটেইনার বসানো হয়েছে। এ দুর্যোগের মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দর সাত আট হাজার কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং করেছে। কিন্তু সেগুলো চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বেরিয়ে যেতে পারেনি। কারণ আমাদের কাস্টমস পুরোপুরি ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। সে কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের সব কনটেইনার জট লেগে গেছে। করোনাকালে আমরা বিভিন্ন অফ ডকে কনটেইনার রেখে কাস্টমসের সহযোগিতায় সবগুলো রিলিজ করেছিলাম। আশা করি, এবারও আমরা সবার সহযোগিতা পাবো।’

সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র, বঙ্গবন্ধু টানেল, ইস্টার্ন রিফাইনারি, পদ্মা, মেঘনা, যমুনা অয়েল কোম্পানিসহ উপকূলবর্তী গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে নৌবাহিনী। এসব কার্যক্রম সরেজমিন দেখতে গত মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শনে যান নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। পরদিন বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) একইভাবে তিনি মোংলা বন্দর পরিদর্শন করেন। সকল বন্দরের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে নিজেদের সতর্ক অবস্থানের কথা জানান নৌবিহিনী প্রধান।

চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য ডেলিভারি বেড়েছে। শত শত ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও ট্রেইলার পণ্য নিতে বন্দরে প্রবেশ করছে। মাল বোঝাই করে এগুলো চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। বন্দর ব্যবহারকারীরা জানান, আমদানি-রপ্তানি পণ্য জমে যাওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসে কাজের চাপ বেড়েছে। জমে যাওয়া কনটেইনার ডেলিভারি দিতে দিতে জাহাজ থেকে নামছে আরও নতুন পণ্যের চালান। গত কয়েক দিনের অচলাবস্থার কারণে বন্দরের ভেতরে আমদানি পণ্যের স্তূপ বেড়ে গিয়েছিল। খালাস না হওয়ায় প্রায় ৪১ হাজার কনটেইনারের স্তূপ জমে বন্দরে। পণ্য খালাস শুরু হওয়ায় এ সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। পণ্য খালাসের চাপের কারণে বন্দরের ভেতরে যান চলাচলে জট লেগে গেছে। এই চাপ স্বাভাবিক হতে কিছুদিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন বন্দর কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম সোহায়েল বিভিন্ন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বন্দরের সবগুলো জেটিতে জাহাজ থেকে পণ্য ওঠা-নামার কাজ স্বাভাবিকই ছিল৷ কিন্তু ডেলিভারিতে সমস্যা হয়ে যায়। সে কারণে বন্দরে থাকা কন্টেইনারের সংখ্যা বেড়ে যায়। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচল শুরু হওয়ায় এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাস্টমসে কিছু পণ্যের শুল্কায়ন ম্যানুয়ালি করতে শুরু করায় অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। কিন্তু পুরো স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরতে আরও কিছু দিন সময় লাগতে পারে।’

মোংলা সমুদ্র বন্দর
খালাসকরা পণ্য নির্ধারিত স্থানগুলোতে নিতে শুরু করেছেন আমদানিকারকরা। গত পাঁচ দিনে বিদেশ থেকে মোংলা বন্দরে ১৩টি জাহাজে করে প্রায় ৯৪ হাজার মেট্রিক টন ক্লিংকার, খাদ্যশস্য, পাথর বন্দরে খালাস হয়। কিন্তু সড়কে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান চলাচল না করার তা নির্ধারিত স্থানে নিতে পারেনি আমদানিকারকরা। গত বুধবার থেকে এসব পণ্য সড়কপথে নিজ গন্তব্যে নেওয়া শুরু হয়। একই সঙ্গে নৌপথেও খালাস পণ্য নেওয়া হচ্ছে। গত পাঁচ দিনে যেসব জাহাজ ক্লিংকার ও খাদ্যশস্য নিয়ে বন্দরে এসেছিল তা কনটেইনারবাহী ছিল না। ফলে সেগুলো কোনো পণ্য না নিয়ে ফিরে গেলেও রপ্তানি কার্যক্রমে প্রভাব ফেলেনি।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল শাহীন রহমান বলেন, ‘বন্দরের কার্যক্রম এখন স্বাভাবিক। দাপ্তরিক সব কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। নিরাপত্তার জন্য বন্দরের জেটি ও বন্দরের সদর দপ্তরের সামনে নৌবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বন্দর জেটিতে একটি নৌবাহিনীর জাহাজ রাখা আছে। এ ছাড়া কোস্টকার্ডসহ বন্দরের নিজস্ব বাহিনী টহলে আছে।’

পায়রা সমুদ্র বন্দর
পায়রা বন্দরের দাপ্তরিক সব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন পায়রা সমুদ্র বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল আব্দুল্লাহ আল-মামুন চৌধুরীর নেতৃত্বে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত পায়রা বন্দরের জেটিতে ভিড়েছে ইন্দোনেশিয়া থেকে কয়লাবাহী ৪টি মাদার ভেসেল। এর মধ্যে ১৫ জুলাই ওয়ান ব্রাইট ২৪ হাজার মেট্রিক টন কয়লা, ১৯ জুলাই সি স্প্রিট ২৪ হাজার মেট্রিক টন ও সর্বশেষ ২০ জুলাই এম ভি আবদুল্লাহ ২৫ হাজার মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে নোঙর করেছে বন্দরের জেটিতে। পর্যায়ক্রমে এসব জাহাজ থেকে কয়লা খালাস করা হয় তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে। এমনকি এমভি আবদুল্লাহ মাদার ভেসেল কয়লা খালাস করে বন্দর ছেড়ে গন্তব্যে চলে গেছে। এছাড়াও মোট ৩১টি লাইটার জাহাজে বিভিন্ন পণ্য হ্যান্ডেলিং করা হয়েছে। মোট ১ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন পণ্য আসছে বন্দরে। এর মধ্যে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ লাখ টন কয়লা রয়েছে। শুধু তাই নয় পটুয়াখালীতে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কয়লা নিয়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে মাদার ভেসেল এসেছে পায়রা বন্দরে। জাহাজ ৪টি কয়লা খালাস করে আবার ফিরে গেছে।

পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আব্দুল্লাহ আল-মামুন চৌধুরী বলেন, কারফিউয়ের মধ্যেও বন্দরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক নিয়মিত কাজ করছেন। শ্রমিকদের নিরাপত্তাসহ বন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় বন্দরের ৩১ জন নিরাপত্তাকর্মী, ৪৮ জন আনসার সদস্য এবং নৌবাহিনীর ৪২ জন সদস্য কাজ করছেন। বন্দর সচল রাখতে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আর এ কারণে এখন পর্যন্ত পায়রা সমুদ্র বন্দরকে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়নি বলেও জানান তিনি।

কালের আলো/এমএএএমকে

এল নিনোর প্রভাবে পাঁচ মাসে সাড়ে ৪ লাখ মৃত্যুর আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪১ অপরাহ্ণ
এল নিনোর প্রভাবে পাঁচ মাসে সাড়ে ৪ লাখ মৃত্যুর আশঙ্কা

চলতি বছরের শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে রেকর্ড দাবদাহ, তীব্র খরা, দাবানল ও পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

এর প্রভাবে আগামী পাঁচ মাসে বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে। খবর এপির।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।

ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের এই ভয়াবহ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অন্যান্য স্বাভাবিক বছরের তুলনায় এ বছরের জুন থেকে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত এল নিনোর প্রভাবে অতিরিক্ত ৪ লাখ ৫১ হাজার মানুষের তাপমাত্রাজনিত মৃত্যু হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে দরিদ্র দেশগুলোতে, যেসব দেশ ইতোমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে খাদ্যসংকট এবং জ্বালানির অতিরিক্ত মূল্যের সঙ্গে লড়াই করছে।

গবেষণার সহ-লেখক ও ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল গ্রিনস্টোন বলেন, ফেব্রুয়ারি নাগাদ এই এল নিনোর প্রভাব শেষ হওয়ার কথা থাকলেও গরমের ঝুঁকি ফেব্রুয়ারির পরও থাকতে পারে।

আবহাওয়ার এই চরম পরিবর্তনের প্রভাব আগামী বছরের গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত অনুভূত হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, এই গবেষণা স্পষ্ট করে, অতিরিক্ত তাপমাত্রা বিশেষ করে সেসব স্থানে বেশি বিপজ্জনক, যেগুলো আগে থেকেই তুলনামূলক উষ্ণ ও দরিদ্র।

গ্রিনস্টোন বলেন, “আপনি যদি আগে থেকেই কোনো তপ্ত অঞ্চলে থাকেন, তাহলে তাপমাত্রা আর কয়েক ডিগ্রি বাড়া মানেই তা জীবনের জন্য বহু গুণ বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠা।”

তিনি বলেন, ধনী দেশগুলোতে সাধারণত শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি), নির্ভরযোগ্য পানি সরবরাহ ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বেশি থাকে।

গবেষণায় বিশ্বজুড়ে ২৪ হাজারের বেশি অঞ্চলের স্থানীয় তাপমাত্রার প্রাক্কলন এবং তা মানুষের মৃত্যুতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেই তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষকরা গত তিন দশকের গড় তাপমাত্রার মৃত্যুর হারের সঙ্গে চলতি ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত পুরো এল নিনো সময়ের সম্ভাব্য মৃত্যুর হারের তুলনা করে এই অতিরিক্ত প্রাণহানির হিসাব বের করেছেন।

গ্রিনস্টোন ও তার সহকর্মীদের গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, জলবায়ুর এই অতিরিক্ত গরমের সবচেয়ে বড় ধকল যাবে গ্লোবাল সাউথের উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির দক্ষিণ প্রান্তের শুষ্ক ‘সাহেল অঞ্চল’ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেখানে এল নিনোর কারণে সৃষ্ট গরমে অতিরিক্ত প্রায় ৬৬ হাজার ৮০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে।

এ ছাড়া দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গবেষকরা বলেছেন, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া মিলিয়ে প্রায় ১৯ হাজার ৪০০ জন; ইন্দোনেশিয়ায় ১৯ হাজার ৩০০, ভারতে ১৫ হাজার ৮০০ এবং ব্রাজিলে ১৩ হাজার ৩০০ জন মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যু হতে পারে।

এত বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কার বিপরীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারের জন্য কিছু পদক্ষেপের কথা সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এর মধ্যে রয়েছে, দাবদাহের আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, শীতলীকরণ কেন্দ্র, বিনামূল্যে খাবার পানির বুথ স্থাপন, উন্মুক্ত স্থানে কর্মরত শ্রমিকদের সুরক্ষা, হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বয়স্ক ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা মানুষদের বাড়তি নজরদারির আওতায় আনা।

পাশাপাশি, তাপমাত্রা চরম আকার ধারণ করার আগেই যেন সরকারগুলো জরুরি অর্থ ছাড় ও সম্পদ তৈরি রাখতে পারে, সে জন্য ‘পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়নের’ আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকরা।

এই গবেষণার বাইরে থাকা ভারতভিত্তিক জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অভিযন্ত তিওয়ারি বলেছেন, প্রতিবেদনটি আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য নয়, বরং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ হিসেবে দেখা উচিত।

তিনি বলেন, ভারতের মতো দেশগুলোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা এক জিনিস, আর তা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা সম্পূর্ণ অন্য চ্যালেঞ্জ।

এল নিনো মূলত একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র। তবে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইতোমধ্যে উত্তপ্ত হয়ে থাকা এই পৃথিবীতে চলতি বছরের অস্বাভাবিক শক্তিশালী এল নিনো যুক্ত হয়ে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব বলেছে, এল নিনোর সময়ে বিশ্বের স্থলভাগের তাপমাত্রা সাধারণ বছরের চেয়ে প্রায় ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে, যা স্বাভাবিক বছরের তুলনায় ৪৪ শতাংশ বেশি চরম তাপদাহের দিন তৈরি করবে।

সংস্থাটি বলেছে, এ বছরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির চিত্রে বোঝা যাচ্ছে, আজ থেকে প্রায় ২০ বছর পর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পৃথিবীর স্বাভাবিক আবহাওয়া কেমন হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সে কারণেই পৃথিবী আরও উত্তপ্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে কী ঘটতে যাচ্ছে, এই এল নিনো তারই একটি আগাম বার্তা দিচ্ছে।

একই সঙ্গে নীতি-নির্ধারকদের জন্য এটি একটি সুযোগ, “ঠিক কোন কোন জায়গায় এখনই জরুরি পদক্ষেপ নিয়ে হাজার হাজার মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব, তা চিহ্নিত করা।”

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

টহল-অভিযানেও বেপরোয়া ছিনতাই,  রাজধানীতে সক্রিয় সহস্রাধিক

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৬ অপরাহ্ণ
টহল-অভিযানেও বেপরোয়া ছিনতাই,  রাজধানীতে সক্রিয় সহস্রাধিক

সন্ধ্যা নামার পর রাজধানীর ব্যস্ত সড়কগুলোতেই যেন বদলে যায় অপরাধের মানচিত্র। আলো-আঁধারির সুযোগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড়, নির্জন সড়ক কিংবা ব্যস্ত এলাকার আশপাশে ওত পেতে থাকে ছিনতাইকারীরা। সুযোগ পেলেই মোটরসাইকেল কিংবা প্রাইভেট কারে এসে পথচারীকে টার্গেট করে মুহূর্তেই কেড়ে নেয় মোবাইল ফোন, টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী। বাধা এলেই ব্যবহার করছে চাপাতি, ছুরি, ক্ষুর, ব্লেড কিংবা আগ্নেয়াস্ত্র। সামান্য একটি ছিনতাই তাই পরিণত হচ্ছে প্রাণঘাতী হামলায়।

  • সন্ধ্যা নামলেই আতঙ্কের ছায়ায় ছিনতাইকারীদের দাপট 
  • মোবাইল-টাকার সঙ্গে যাচ্ছে প্রাণও
  • সাত মাসে সারা দেশে ছিনতাই-দস্যুতা ও ডাকাতির ১ হাজার ২৮৬ মামলা

সংখ্যায়ও স্পষ্ট উদ্বেগ

পুলিশ সদর দপ্তরের মাসিক অপরাধ পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে সারা দেশে ছিনতাই বা দস্যুতা ও ডাকাতির ঘটনায় ১ হাজার ২৮৬টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ছিনতাই বা দস্যুতার মামলা ১ হাজার ৬৮টি এবং ডাকাতির মামলা ৩১৮টি।রাজধানীর চিত্রও স্বস্তিদায়ক নয়। ডিএমপি সদর দপ্তরের হিসাবে, একই সময়ে ঢাকার বিভিন্ন থানায় ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনায় মামলা হয়েছে ২০০টি। এর মধ্যে ডাকাতির মামলা ২২টি এবং ছিনতাই বা দস্যুতার মামলা ১৭৮টি। দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যানেও ছিনতাইয়ের ধারাবাহিক উপস্থিতি দেখা যায়। ২০২৩ সাল থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত তিন বছর সাত মাসে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ছিনতাই ও দস্যুতার অভিযোগে ১ হাজার ৭৪৩টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালে ৫২৩টি মামলা হয়ে সংখ্যাটি সর্বোচ্চ ছিল। ২০২৪ সালে মামলা হয় ৩৯৫টি।

রাজধানীতে সহস্রাধিক সক্রিয়

পুলিশের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর আটটি ক্রাইম জোনেই সক্রিয় ছিনতাইকারীর উপস্থিতি রয়েছে। মিরপুর ও তেজগাঁও বিভাগে পাঁচ শতাধিক, মতিঝিল ও ওয়ারী বিভাগে ৩১৩ জন, রমনা ও লালবাগ বিভাগে ২৮৭ জন এবং উত্তরা ও গুলশান বিভাগে ৪৭৩ জন ছিনতাইকারী সক্রিয় রয়েছে বলে পুলিশের কাছে তথ্য আছে। সব মিলিয়ে রাজধানীতে এক হাজারের বেশি ছিনতাইকারী সক্রিয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এদের বড় একটি অংশ মাদকাসক্ত। মাদকের অর্থ জোগাড়, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা—সব মিলিয়ে ছিনতাইয়ের ধরনও হয়ে উঠছে আগের চেয়ে বেশি সহিংস।

ছিনতাই থেকে হত্যাকাণ্ড

সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করেছে। গত ২৯ আগস্ট ভোরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা-সংলগ্ন এলাকায় রিকশায় থাকা শিক্ষিকা রনজিলা পারভিনকে মোটরসাইকেলে আসা ছিনতাইকারীরা হ্যাঁচকা টান দিলে তিনি রিকশা থেকে পড়ে নিহত হন। একই দিন পুরান ঢাকার কদমতলীতে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন জনি (৩৫)। ৯ সেপ্টেম্বর পল্লবীর এ ব্লক এলাকায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন সজীব নামে এক ব্যক্তি। এর আগে ২৬ জুলাই মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজারে ছিনতাইকারীদের হামলায় প্রাণ হারান ফজলে রাব্বি নামের এক যুবক। অর্থাৎ ছিনতাই এখন আর কেবল অর্থ বা মালামাল হারানোর ঘটনা নয়; প্রতিরোধ কিংবা সামান্য বাধাও অনেক ক্ষেত্রে ডেকে আনছে প্রাণঘাতী পরিণতি।

বড় অঙ্কের টাকাও নিরাপদ নয়

ছিনতাইকারীদের লক্ষ্য শুধু পথচারী নয়, বড় অঙ্কের অর্থ বহনকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানও। সম্প্রতি উত্তরা বিমানবন্দর সড়কের ক্রাউন প্লাজার সামনে ডিএল পেট্রল পাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা লুট করে দুর্বৃত্তরা। পালানোর সময় পাম্পের সহকারী ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আল আমিনকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়।মতিঝিলেও এক ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে গুলি করে বৈদেশিক মুদ্রাসহ ১৭ হাজার ডলার ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত ১ মে রাতে মালিবাগ রেলগেটের ইবনে সিনা হাসপাতালের সামনে তিন পোশাকশ্রমিক—করিমন, নবী ও রিফাত—ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন।

বাড়ছে টহল, কাটছে না আতঙ্ক

ছিনতাই নিয়ন্ত্রণে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ডিএমপি। আটটি ক্রাইম জোনের ওসিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন ডিএমপি কমিশনার। অপরাধপ্রবণ এলাকায় টহল বাড়ানোর পাশাপাশি সিটিটিসি, ডিবি ও ক্রাইম বিভাগের সমন্বয়ে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি ও অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।

ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলামও বলেছেন, ডাকাতি-ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা পুলিশ তৎপর রয়েছে।তবে মাঠের বাস্তবতা বলছে, অভিযান ও টহলের পাশাপাশি ছিনতাইকারীদের পুনরায় অপরাধে ফিরে আসা ঠেকানোও বড় চ্যালেঞ্জ। মাদক, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এবং দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ—এসব কারণ চিহ্নিত করে সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা না নিলে শুধু অভিযান দিয়ে পরিস্থিতি কতটা বদলানো যাবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

রাজধানীবাসীর কাছে তাই সন্ধ্যার পরের শহর ক্রমেই হয়ে উঠছে অনিশ্চয়তার জায়গা। রাস্তা ব্যস্ত থাকলেও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা মিলছে না—আর সেই ফাঁকেই ছিনতাইকারীরা খুঁজে নিচ্ছে তাদের পরবর্তী ‘শিকার’।

কালের আলো/এসআর/এএএন

হাসিনার দেশত্যাগ নিয়ে কলকাতায় টেলিছবি, প্রদর্শনী ২৬ সেপ্টেম্বর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩২ অপরাহ্ণ
হাসিনার দেশত্যাগ নিয়ে কলকাতায় টেলিছবি, প্রদর্শনী ২৬ সেপ্টেম্বর

এবার বাংলাদেশের পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ছবি নির্মাণ করেছেন তার অনুসারী প্রবাসীরা।

তারা সবাই কার্যক্রম নিষিদ্ধ শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশের পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে কলকাতা ও নয়াদিল্লিতে এই টেলিছবি প্রদর্শীত হবে।

ছয় দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন তারা। তার অংশ হিসেবে টেলিছবি ‘আমি শেখ মুজিবের মেয়ে’-র উদ্বোধন হবে কলকাতায়।

আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর, শনিবার সল্টলেকে উন্নয়ন ভবনে সন্ধ্যায় মিনিট পঞ্চাশের ছবিটি দেখানো হবে।

গত এক বছর ধরে কলকাতায় ওই ছবির শুটিং হয়েছে। ছবিটির চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন সহিদ রাহমান।

তিনি বলেন, ‘এটা কোনও রাজনৈতিক ছবি নয়। কেন ও কোন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়তে হল, তা তুলে ধরা হয়েছে।’

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সল্টলেকে এক সাংবাদিক সম্মেলনে আমেরিকা, কানাডা, গ্রিস, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের আওয়ামী লীগপন্থি প্রবাসী বাংলাদেশিরা ছিলেন।

তারা জানিয়েছেন, তারা যেসব দেশে থাকেন, সেখানের প্রশাসন ও বিভিন্ন রাষ্ট্রদূতদের কাছে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরছেন।

অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি মোল্লা হক বলেন, অস্ট্রেলিয়ার তিনজন মন্ত্রী এবং একজন সিনেটরের সঙ্গে আমি নিজে যোগাযোগ করে বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরেছি।

কানাডার আওয়ামী লীগের সভাপতি সারওয়ার হোসেন বলেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে ডিসেম্বরে আমরাও বাংলাদেশে ফিরব। কেউ আটকাতে পারবে না।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ