খুঁজুন
                               
, ,
           

দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টার নেপথ্যে কারা?

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর :
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুলাই, ২০২৪, ১:০২ পূর্বাহ্ণ
দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টার নেপথ্যে কারা?

সাম্প্রতিক সময়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে উত্তপ্ত দেশ। গত কয়েকদিনের সহিংসতার ঘটনার পর বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় সরকারি নির্দেশে মাঠে নামে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক গর্বের সেনাবাহিনী তথা সশস্ত্র বাহিনী। শান্তিপূর্ণভাবে সহিংসতা ঠেকানোর কাজের পাশাপাশি জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে বিশ্বজুড়ে নন্দিত, সুদক্ষ, সুশৃঙ্খল ও সুপ্রশিক্ষিত এই বাহিনী। কিন্তু সময় গড়াতেই পুরো ঘটনাপ্রবাহকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার মাধ্যমে রক্তক্ষয়ী মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া দেশপ্রেমী এই বাহিনীটিকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। দেশে ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অসত্য, মিথ্যা এবং অপপ্রচার চলে দেদারছে, নজিরবিহীনভাবে। নানারকম বানোয়াট তথ্য সরবরাহ করা হয়।

গণতন্ত্র বিরোধী, স্বঘোষিত ‘অজ্ঞেয়বাদী’, মস্তিষ্ক বিকৃত গুটিকয়েক কথিত বিশ্লেষক, ফেসবুক-ইউটিউবার দেশের প্রতিটি দুর্যোগে-সঙ্কটে দেশপ্রেমের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা সর্বোচ্চ পেশাদার মনোভাবসম্পন্ন সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। মূলত কুরুচিপূর্ণ গুজব ছড়ানো ও মিথ্যাচার এ চক্রটির পেশা ও নেশা। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে দেশের চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জনগণের স্বার্থে ও রাষ্ট্রের যেকোন প্রয়োজনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে বলে জানিয়েছে আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। একই সঙ্গে রোববার (২৮ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বার্থান্বেষী মহলের বিভ্রান্তিকর তথ্য ও সংবাদে বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করছে বলেও জানিয়েছে তিন বাহিনীর মুখপাত্র এ সংস্থা।

জানা যায়, মোতায়েনের পর থেকে রাজধানীসহ দেশের কোথাও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আগ্রাসী আচরণ করতে দেখা যায়নি। তবুও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে এক নম্বর পজিশনে থাকা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অন্তর্ভুক্তিকে বিতর্কিত করার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এজন্য বিভিন্ন কল্পকাহিনীর মাধ্যমে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে কুৎসা রটিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে ডিজিটাল প্রচার মাধ্যমকে যাচ্ছেতাই কায়দায় ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেকটাই ‘পেইড এজেন্ট’ স্টাইলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে টার্গেট করে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত খবর প্রকাশের মাধ্যমে বিষবাষ্প ছড়াচ্ছে। সাধারণ বিবেক-বুদ্ধি ও যুক্তির প্রয়োগ করলেই অনুমান করা সম্ভব এসবের বিন্দুমাত্র গ্রহণযোগ্যতা ও সত্যতা নেই।

বাঙালি জাতির ঐক্য ও আস্থার প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বরাবরই গণতন্ত্রের পক্ষে সাহসী ও তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশের সেনাবাহিনী তথা সশস্ত্র বাহিনী এখন অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে পেশাদার ও বিশ্বমানের। নিরপেক্ষ অবস্থানে থেকে বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এর নেতৃত্বে তাঁরা দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক হয়ে আছেন। তাদের কোন রাজনৈতিক উচ্চভিলাষ নেই। কোন রকম বিভ্রান্তির প্রলোভনে তাঁরা গত দুই যুগে পা দেয়নি। এক্ষেত্রে সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বে সেনাপ্রধানের ব্যক্তিত্ব ও ক্যারিশমা বড় ভূমিকা রেখেছে।

আইএসপিআর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও বলা হয়েছে, ‘দেশব্যাপী ক্রম অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে জনসাধারণের জানমাল ও সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসমূহের সার্বিক নিরাপত্তা প্রদানে গত ২০ জুলাই ভোর থেকে নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীর উপস্থিতি দ্রুত নৈরাজ্য প্রশমন করতে সাহায্য করে। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল বিভিন্ন বিদেশি গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়াসমূহে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য দেশে এবং বিদেশে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা বলে অনুমিত। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের সংবিধান সমুন্নত রেখে প্রচলিত আইনের আওতায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, দেশবাসীর জানমালের নিরাপত্তা ও জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে।’

সম্প্রতি পৃথক পৃথকভাবে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে, শেরপুর ও নরসিংদী জেলায় মোতায়েকৃত সেনাসদস্যদের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। পর্যবেক্ষণ করেন নরসিংদী জেলা কারাগারও। স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও আনসার সদস্যরাও কাজ করছেন বলে জানান সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর স্বাভাবিক পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। আমি মনে করি পরিস্থিতির আরো উন্নতি করতে পারব।’ ওইদিন সেনাপ্রধান দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে আরও বলেন, ‘জনগণের স্বার্থে এবং রাষ্ট্রের যেকোনো প্রয়োজনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী কাজ করে যাচ্ছেন।’

বিশ্লেষকরা বলছেন, সেনাবাহিনীকে টার্গেট করে জলঘোলার সব আয়োজন চলছে। এখন তাঁরা বীরের জাতি বাঙালির আস্থার ঠিকানা সেনাবাহিনীকে ঘৃণ্য কায়দায় অপতথ্যের মাধ্যমে ঘায়েল করতে সব রকমের হীন অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দেশপ্রেমিক সেনা সদস্যদের অটল মনোভাব প্রমাণ করেছে শেষ পর্যন্ত তাঁরা দেশের স্বার্থ বিরোধী যেকোন অপকৌশল রুখে দিতে প্রস্তুত।

বিশ্বের সব প্রান্তের দুর্গত, নিপীড়িত ও নিরীহ মানুষের সেবায় বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের হাত প্রসারিত। সংঘাতপূর্ণ ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজের জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়েও তারা আর্তমানবতার সেবা করে চলেছেন। দেশে ও বিদেশে নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে স্বীয় দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের জন্য সব মহলের প্রশংসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু চার দশকের বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের সফল যাত্রাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে একটি চিহ্নিত অপশক্তির সাম্প্রতিক দুরভিসন্ধিমূলক অবস্থানে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকরা। তাঁরা বলছেন, প্রতিটি সেনা সদস্যের দক্ষতা ও বিচক্ষণতায় দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে। সবার উচিত সুষ্ঠুভাবে তাদের দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা করা। বরাবরের মতো এবারও দীর্ঘ চার দশকের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের সফল অগ্রযাত্রাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপতৎপরতা সফল হবে না। মনে রাখতে হবে আমাদের সেনাবাহিনী দেশমাতৃকার সম্মান আর গৌরবের প্রতীক। জনগণের পাশে থেকেই তাঁরা পালন করে যাবে সাহসী ও বলিষ্ঠ ভূমিকা।

কালের আলো/এমএএএমকে

এল নিনোর প্রভাবে পাঁচ মাসে সাড়ে ৪ লাখ মৃত্যুর আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪১ অপরাহ্ণ
এল নিনোর প্রভাবে পাঁচ মাসে সাড়ে ৪ লাখ মৃত্যুর আশঙ্কা

চলতি বছরের শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে রেকর্ড দাবদাহ, তীব্র খরা, দাবানল ও পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

এর প্রভাবে আগামী পাঁচ মাসে বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে। খবর এপির।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।

ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের এই ভয়াবহ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অন্যান্য স্বাভাবিক বছরের তুলনায় এ বছরের জুন থেকে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত এল নিনোর প্রভাবে অতিরিক্ত ৪ লাখ ৫১ হাজার মানুষের তাপমাত্রাজনিত মৃত্যু হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে দরিদ্র দেশগুলোতে, যেসব দেশ ইতোমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে খাদ্যসংকট এবং জ্বালানির অতিরিক্ত মূল্যের সঙ্গে লড়াই করছে।

গবেষণার সহ-লেখক ও ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল গ্রিনস্টোন বলেন, ফেব্রুয়ারি নাগাদ এই এল নিনোর প্রভাব শেষ হওয়ার কথা থাকলেও গরমের ঝুঁকি ফেব্রুয়ারির পরও থাকতে পারে।

আবহাওয়ার এই চরম পরিবর্তনের প্রভাব আগামী বছরের গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত অনুভূত হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, এই গবেষণা স্পষ্ট করে, অতিরিক্ত তাপমাত্রা বিশেষ করে সেসব স্থানে বেশি বিপজ্জনক, যেগুলো আগে থেকেই তুলনামূলক উষ্ণ ও দরিদ্র।

গ্রিনস্টোন বলেন, “আপনি যদি আগে থেকেই কোনো তপ্ত অঞ্চলে থাকেন, তাহলে তাপমাত্রা আর কয়েক ডিগ্রি বাড়া মানেই তা জীবনের জন্য বহু গুণ বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠা।”

তিনি বলেন, ধনী দেশগুলোতে সাধারণত শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি), নির্ভরযোগ্য পানি সরবরাহ ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বেশি থাকে।

গবেষণায় বিশ্বজুড়ে ২৪ হাজারের বেশি অঞ্চলের স্থানীয় তাপমাত্রার প্রাক্কলন এবং তা মানুষের মৃত্যুতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেই তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষকরা গত তিন দশকের গড় তাপমাত্রার মৃত্যুর হারের সঙ্গে চলতি ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত পুরো এল নিনো সময়ের সম্ভাব্য মৃত্যুর হারের তুলনা করে এই অতিরিক্ত প্রাণহানির হিসাব বের করেছেন।

গ্রিনস্টোন ও তার সহকর্মীদের গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, জলবায়ুর এই অতিরিক্ত গরমের সবচেয়ে বড় ধকল যাবে গ্লোবাল সাউথের উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির দক্ষিণ প্রান্তের শুষ্ক ‘সাহেল অঞ্চল’ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেখানে এল নিনোর কারণে সৃষ্ট গরমে অতিরিক্ত প্রায় ৬৬ হাজার ৮০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে।

এ ছাড়া দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গবেষকরা বলেছেন, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া মিলিয়ে প্রায় ১৯ হাজার ৪০০ জন; ইন্দোনেশিয়ায় ১৯ হাজার ৩০০, ভারতে ১৫ হাজার ৮০০ এবং ব্রাজিলে ১৩ হাজার ৩০০ জন মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যু হতে পারে।

এত বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কার বিপরীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারের জন্য কিছু পদক্ষেপের কথা সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এর মধ্যে রয়েছে, দাবদাহের আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, শীতলীকরণ কেন্দ্র, বিনামূল্যে খাবার পানির বুথ স্থাপন, উন্মুক্ত স্থানে কর্মরত শ্রমিকদের সুরক্ষা, হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বয়স্ক ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা মানুষদের বাড়তি নজরদারির আওতায় আনা।

পাশাপাশি, তাপমাত্রা চরম আকার ধারণ করার আগেই যেন সরকারগুলো জরুরি অর্থ ছাড় ও সম্পদ তৈরি রাখতে পারে, সে জন্য ‘পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়নের’ আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকরা।

এই গবেষণার বাইরে থাকা ভারতভিত্তিক জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অভিযন্ত তিওয়ারি বলেছেন, প্রতিবেদনটি আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য নয়, বরং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ হিসেবে দেখা উচিত।

তিনি বলেন, ভারতের মতো দেশগুলোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা এক জিনিস, আর তা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা সম্পূর্ণ অন্য চ্যালেঞ্জ।

এল নিনো মূলত একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র। তবে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইতোমধ্যে উত্তপ্ত হয়ে থাকা এই পৃথিবীতে চলতি বছরের অস্বাভাবিক শক্তিশালী এল নিনো যুক্ত হয়ে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব বলেছে, এল নিনোর সময়ে বিশ্বের স্থলভাগের তাপমাত্রা সাধারণ বছরের চেয়ে প্রায় ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে, যা স্বাভাবিক বছরের তুলনায় ৪৪ শতাংশ বেশি চরম তাপদাহের দিন তৈরি করবে।

সংস্থাটি বলেছে, এ বছরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির চিত্রে বোঝা যাচ্ছে, আজ থেকে প্রায় ২০ বছর পর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পৃথিবীর স্বাভাবিক আবহাওয়া কেমন হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সে কারণেই পৃথিবী আরও উত্তপ্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে কী ঘটতে যাচ্ছে, এই এল নিনো তারই একটি আগাম বার্তা দিচ্ছে।

একই সঙ্গে নীতি-নির্ধারকদের জন্য এটি একটি সুযোগ, “ঠিক কোন কোন জায়গায় এখনই জরুরি পদক্ষেপ নিয়ে হাজার হাজার মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব, তা চিহ্নিত করা।”

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

টহল-অভিযানেও বেপরোয়া ছিনতাই,  রাজধানীতে সক্রিয় সহস্রাধিক

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৬ অপরাহ্ণ
টহল-অভিযানেও বেপরোয়া ছিনতাই,  রাজধানীতে সক্রিয় সহস্রাধিক

সন্ধ্যা নামার পর রাজধানীর ব্যস্ত সড়কগুলোতেই যেন বদলে যায় অপরাধের মানচিত্র। আলো-আঁধারির সুযোগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড়, নির্জন সড়ক কিংবা ব্যস্ত এলাকার আশপাশে ওত পেতে থাকে ছিনতাইকারীরা। সুযোগ পেলেই মোটরসাইকেল কিংবা প্রাইভেট কারে এসে পথচারীকে টার্গেট করে মুহূর্তেই কেড়ে নেয় মোবাইল ফোন, টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী। বাধা এলেই ব্যবহার করছে চাপাতি, ছুরি, ক্ষুর, ব্লেড কিংবা আগ্নেয়াস্ত্র। সামান্য একটি ছিনতাই তাই পরিণত হচ্ছে প্রাণঘাতী হামলায়।

  • সন্ধ্যা নামলেই আতঙ্কের ছায়ায় ছিনতাইকারীদের দাপট 
  • মোবাইল-টাকার সঙ্গে যাচ্ছে প্রাণও
  • সাত মাসে সারা দেশে ছিনতাই-দস্যুতা ও ডাকাতির ১ হাজার ২৮৬ মামলা

সংখ্যায়ও স্পষ্ট উদ্বেগ

পুলিশ সদর দপ্তরের মাসিক অপরাধ পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে সারা দেশে ছিনতাই বা দস্যুতা ও ডাকাতির ঘটনায় ১ হাজার ২৮৬টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ছিনতাই বা দস্যুতার মামলা ১ হাজার ৬৮টি এবং ডাকাতির মামলা ৩১৮টি।রাজধানীর চিত্রও স্বস্তিদায়ক নয়। ডিএমপি সদর দপ্তরের হিসাবে, একই সময়ে ঢাকার বিভিন্ন থানায় ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনায় মামলা হয়েছে ২০০টি। এর মধ্যে ডাকাতির মামলা ২২টি এবং ছিনতাই বা দস্যুতার মামলা ১৭৮টি। দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যানেও ছিনতাইয়ের ধারাবাহিক উপস্থিতি দেখা যায়। ২০২৩ সাল থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত তিন বছর সাত মাসে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ছিনতাই ও দস্যুতার অভিযোগে ১ হাজার ৭৪৩টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালে ৫২৩টি মামলা হয়ে সংখ্যাটি সর্বোচ্চ ছিল। ২০২৪ সালে মামলা হয় ৩৯৫টি।

রাজধানীতে সহস্রাধিক সক্রিয়

পুলিশের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর আটটি ক্রাইম জোনেই সক্রিয় ছিনতাইকারীর উপস্থিতি রয়েছে। মিরপুর ও তেজগাঁও বিভাগে পাঁচ শতাধিক, মতিঝিল ও ওয়ারী বিভাগে ৩১৩ জন, রমনা ও লালবাগ বিভাগে ২৮৭ জন এবং উত্তরা ও গুলশান বিভাগে ৪৭৩ জন ছিনতাইকারী সক্রিয় রয়েছে বলে পুলিশের কাছে তথ্য আছে। সব মিলিয়ে রাজধানীতে এক হাজারের বেশি ছিনতাইকারী সক্রিয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এদের বড় একটি অংশ মাদকাসক্ত। মাদকের অর্থ জোগাড়, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা—সব মিলিয়ে ছিনতাইয়ের ধরনও হয়ে উঠছে আগের চেয়ে বেশি সহিংস।

ছিনতাই থেকে হত্যাকাণ্ড

সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করেছে। গত ২৯ আগস্ট ভোরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা-সংলগ্ন এলাকায় রিকশায় থাকা শিক্ষিকা রনজিলা পারভিনকে মোটরসাইকেলে আসা ছিনতাইকারীরা হ্যাঁচকা টান দিলে তিনি রিকশা থেকে পড়ে নিহত হন। একই দিন পুরান ঢাকার কদমতলীতে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন জনি (৩৫)। ৯ সেপ্টেম্বর পল্লবীর এ ব্লক এলাকায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন সজীব নামে এক ব্যক্তি। এর আগে ২৬ জুলাই মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজারে ছিনতাইকারীদের হামলায় প্রাণ হারান ফজলে রাব্বি নামের এক যুবক। অর্থাৎ ছিনতাই এখন আর কেবল অর্থ বা মালামাল হারানোর ঘটনা নয়; প্রতিরোধ কিংবা সামান্য বাধাও অনেক ক্ষেত্রে ডেকে আনছে প্রাণঘাতী পরিণতি।

বড় অঙ্কের টাকাও নিরাপদ নয়

ছিনতাইকারীদের লক্ষ্য শুধু পথচারী নয়, বড় অঙ্কের অর্থ বহনকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানও। সম্প্রতি উত্তরা বিমানবন্দর সড়কের ক্রাউন প্লাজার সামনে ডিএল পেট্রল পাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা লুট করে দুর্বৃত্তরা। পালানোর সময় পাম্পের সহকারী ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আল আমিনকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়।মতিঝিলেও এক ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে গুলি করে বৈদেশিক মুদ্রাসহ ১৭ হাজার ডলার ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত ১ মে রাতে মালিবাগ রেলগেটের ইবনে সিনা হাসপাতালের সামনে তিন পোশাকশ্রমিক—করিমন, নবী ও রিফাত—ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন।

বাড়ছে টহল, কাটছে না আতঙ্ক

ছিনতাই নিয়ন্ত্রণে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ডিএমপি। আটটি ক্রাইম জোনের ওসিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন ডিএমপি কমিশনার। অপরাধপ্রবণ এলাকায় টহল বাড়ানোর পাশাপাশি সিটিটিসি, ডিবি ও ক্রাইম বিভাগের সমন্বয়ে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি ও অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।

ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলামও বলেছেন, ডাকাতি-ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা পুলিশ তৎপর রয়েছে।তবে মাঠের বাস্তবতা বলছে, অভিযান ও টহলের পাশাপাশি ছিনতাইকারীদের পুনরায় অপরাধে ফিরে আসা ঠেকানোও বড় চ্যালেঞ্জ। মাদক, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এবং দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ—এসব কারণ চিহ্নিত করে সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা না নিলে শুধু অভিযান দিয়ে পরিস্থিতি কতটা বদলানো যাবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

রাজধানীবাসীর কাছে তাই সন্ধ্যার পরের শহর ক্রমেই হয়ে উঠছে অনিশ্চয়তার জায়গা। রাস্তা ব্যস্ত থাকলেও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা মিলছে না—আর সেই ফাঁকেই ছিনতাইকারীরা খুঁজে নিচ্ছে তাদের পরবর্তী ‘শিকার’।

কালের আলো/এসআর/এএএন

হাসিনার দেশত্যাগ নিয়ে কলকাতায় টেলিছবি, প্রদর্শনী ২৬ সেপ্টেম্বর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩২ অপরাহ্ণ
হাসিনার দেশত্যাগ নিয়ে কলকাতায় টেলিছবি, প্রদর্শনী ২৬ সেপ্টেম্বর

এবার বাংলাদেশের পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ছবি নির্মাণ করেছেন তার অনুসারী প্রবাসীরা।

তারা সবাই কার্যক্রম নিষিদ্ধ শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশের পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে কলকাতা ও নয়াদিল্লিতে এই টেলিছবি প্রদর্শীত হবে।

ছয় দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন তারা। তার অংশ হিসেবে টেলিছবি ‘আমি শেখ মুজিবের মেয়ে’-র উদ্বোধন হবে কলকাতায়।

আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর, শনিবার সল্টলেকে উন্নয়ন ভবনে সন্ধ্যায় মিনিট পঞ্চাশের ছবিটি দেখানো হবে।

গত এক বছর ধরে কলকাতায় ওই ছবির শুটিং হয়েছে। ছবিটির চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন সহিদ রাহমান।

তিনি বলেন, ‘এটা কোনও রাজনৈতিক ছবি নয়। কেন ও কোন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়তে হল, তা তুলে ধরা হয়েছে।’

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সল্টলেকে এক সাংবাদিক সম্মেলনে আমেরিকা, কানাডা, গ্রিস, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের আওয়ামী লীগপন্থি প্রবাসী বাংলাদেশিরা ছিলেন।

তারা জানিয়েছেন, তারা যেসব দেশে থাকেন, সেখানের প্রশাসন ও বিভিন্ন রাষ্ট্রদূতদের কাছে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরছেন।

অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি মোল্লা হক বলেন, অস্ট্রেলিয়ার তিনজন মন্ত্রী এবং একজন সিনেটরের সঙ্গে আমি নিজে যোগাযোগ করে বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরেছি।

কানাডার আওয়ামী লীগের সভাপতি সারওয়ার হোসেন বলেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে ডিসেম্বরে আমরাও বাংলাদেশে ফিরব। কেউ আটকাতে পারবে না।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ