খুঁজুন
                               
, ,
           

অপরাজেয় সাহসীদের সুস্থতায় বিজিবি হাসপাতালে একরাশ ডানা মেলা স্বপ্ন

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ
অপরাজেয় সাহসীদের সুস্থতায় বিজিবি হাসপাতালে একরাশ ডানা মেলা স্বপ্ন

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

ইতিহাসের পাতায় যোগ করেছেন নতুন এক অধ্যায়ের। ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানে পরাধীনতার শিকল ভেঙে নতুন এক স্বাধীনতা অর্জনের তৃপ্তি। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নানা বাঁকে সক্রিয় থাকা শত শত আহতের ঠিকানা রাজধানীসহ দেশের কোন না কোন হাসপাতাল। হাসপাতালের বিছানায় থেকেও জয়ের উচ্ছ্বাস এখনও ওদের চোখে-মুখে। অপরাজেয় এই সাহসীদের অনেককেই সুস্থ করে তুলতে গুরুদায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

নিবিড় পরিচর্যায় গুলিবিদ্ধ অনেককেই পরম মমতা আর দায়িত্বশীলতার সঙ্গে চিকিৎসা সেবা প্রদানের মাধ্যমে অন্য রকম এক সংগ্রামে নিজেদের শামিল করেছেন রাজধানীর পিলখানার বর্ডার গার্ড হাসপাতালের চিকিৎসকরা। দেশের জন্য নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বীজ বুনে দেওয়া চিকিৎসাধীন আহতরা একা নয়, এই বিশ্বাসটুকু বুনে দিয়েছেন ওদের হৃদমাঝে। গভীর ও দৃঢ় করেছেন পারস্পরিক বন্ধন।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ির কোনাপাড়ায় রোকেয়া আহসান ইউনিভার্সিটি কলেজের ইংরেজী বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আমান উল্লাহ আমানের (২২) কথাই ধরা যাক। শনির আখড়া গোয়াল বাড়ি মোড় এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থেকে পড়াশুনা করতেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের শুরু থেকেই ঢাকার রাজপথে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। গত ২০ জুলাই শনিবার সকালে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ি এলাকায় দনিয়া কলেজের সামনে রাস্তায় মিছিল করার সময় হঠাৎ তলপেটে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার তলপেটে অস্ত্রোপচারের পর সরকারিভাবে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৯ আগস্ট তাকে পিলখানার বিজিবি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। আগের চেয়ে এখন কিছুটা সুস্থতা অনুভব করছেন। আন্তরিকতার সঙ্গেই চলছে তাঁর চিকিৎসা সেবা।

পিলখানার বিজিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীনদের আদ্যোপান্ত
জানা যায়, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শুরু থেকে রাজধানীর বর্ডার গার্ড হাসপাতালের চিকিৎসকরা জরুরী মেডিকেল টিমের মাধ্যমে নিরলসভাবে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছে। এখন পর্যন্ত মোট ৪২ জন এখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে ৮ জন ছাত্র রয়েছেন। সার্জিক্যাল টিমের মাধ্যমে এখানে ৬ জন রোগীকে প্রয়োজনীয় জটিল অস্ত্রোপচার করা হয়। ৩ জন রোগীকে অর্থোপেডিক টিম প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করেছে।

পিলখানার বিজিবি হাসপাতাল জানায়, আহত রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাদি, ওষুধ, প্রয়োজনীয় উন্নত পথ্য বিজিবি থেকে বিনামূল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে। সকল রোগীর পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদী পূনর্বাসন জরুরী হওয়ায় বিজিবি মহাপরিচালকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে সুপরিকল্পিতভাবে সেটি নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি রোগীর সঙ্গে আসা স্বজনদের থাকা ও খাবার খরচও বহন করছে বিজিবি।

একই সূত্র জানায়, বিজিবি মহাপরিচালকের আন্তরিকতায় ও চিকিৎসা শাখার সার্বিক তত্ত্বাবধানে গত ১৯ জুলাই শুরু থেকেই আহত ছাত্রদের পিলখানা বিজিবি হাসপাতালে নিয়ে এসে মোবাইল অ্যাম্বুলেন্সে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। বেশি আহত রোগীদের হাসপাতালের ভেতরে গোপনে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়।

এর আগে গত বুধবার (২১ আগস্ট) বিজিবি সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানা হয়, কোটা সংস্কার আন্দোলনে সারাদেশে ৩ বিজিবি সদস্য নিহত ও ১৩০ জন বিজিবি সদস্য আহত হন। নিহতদের মধ্যে ২ জন র‍্যাবে কর্মরত ছিলেন। গুরুতর আহত ১৮ জনকে ঢাকায় বর্ডার গার্ড হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে ৪ জন বিজিবি সদস্য চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়াও আন্দোলনে আহত বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ ও বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য স্থান থেকে আসা ২০ জন শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশার মানুষ বর্ডার গার্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর আগে ৩ জন শিক্ষার্থীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতদের শয্যা পাশে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতদের সার্বিক অবস্থার খোঁজ খবর নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম. সাখাওয়াত হোসেন গত মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) ও বর্তমান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বুধবার (২১ আগস্ট) পিলখানায় বর্ডার গার্ড হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এসময় তাঁরা আহত বিজিবি সদস্য এবং আন্দোলনে আহত হয়ে বিজিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন এবং তাদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন। দু’উপদেষ্টাই আহত বিজিবি সদস্য ও শিক্ষার্থীদের উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য বিজিবি মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ প্রদান করেন।

আহত দুর্জয় সাহসীদের সুস্থতায় বিজিবির প্রাণান্তকর প্রয়াস
তারুণ্যের উদ্যম, আগ্রহ ও শক্তি অতুলনীয়। আন্দোলনে অংশগ্রহণ করা প্রত্যেকে সাহসিকতা ও বিপ্লবের প্রতীক। একজন আবু সাঈদ বা মুগ্ধের মতো গল্প সবার চোখের সামনে দৃশ্যমান। দুর্জয় তারুণ্য নির্ভয়ে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়েছেন। মাথা নত করেনি। ওরা একাত্তর দেখেনি কিন্তু চব্বিশের অমরকাব্যের নায়ক ওরাই। চোখের সামনে ভাই-বোনদের মৃত্যু দেখেছে, বিসর্জন দিয়েছে অশ্রু। ছাত্র-জনতার দাবির মুখে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়েছেন। প্রায় দেড় দশকের নির্যাতন-নিপীড়নের অবসান হয়েছে। সব ক্ষমতার উৎস জনগণ, প্রমাণিত হয়েছে আবারও। এখন হাতে হাত রেখে বৈষম্যহীন দেশগড়ার প্রত্যয় ওদের। অনেক গল্প থেকে গেছে অন্তরালে বা অগোচরে। আশার আলো হয়ে আহত দুর্জয় সাহসীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বিজিবি সদর দপ্তর জানায়, ‘সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালনের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি দুর্যোগে-সঙ্কটে দেশের মানুষের পাশে রয়েছে বিজিবি। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত ছাত্র-জনতার সুচিকিৎসা নিশ্চিতে আমাদের আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তাদের মনে ও মননে, চিন্তায় ও চেতনায় একটি সুন্দর ও শান্তির বাংলাদেশের একরাশ ডানা মেলা স্বপ্ন। সেই স্বপ্নপূরণে পিলখানার বিজিবি হাসপাতালের চিকিৎসকরা রাত-দিন একাকার করে কাজ করছেন।’

কালের আলো/এমএএএমকে

দক্ষিণ আফ্রিকার অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৬ জনের ৫ জনই নারায়ণগঞ্জের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৩:৩৫ অপরাহ্ণ
দক্ষিণ আফ্রিকার অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৬ জনের ৫ জনই নারায়ণগঞ্জের

দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ছয় বাংলাদেশির মধ্যে পাঁচজনই নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে চারজন সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের এবং একজন পাশের বক্তাবলী ইউনিয়নের বাসিন্দা। অপর নিহত ব্যক্তি মুন্সিগঞ্জের রিকাবিবাজার এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাত প্রায় ৩টার দিকে ইস্টার্ন কেপের কুইন্সটাউন এলাকায় একটি দোকানে আগুন লাগে। ওই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই ছয় বাংলাদেশির মৃত্যু হয়।

আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রওশন আলী জানান, নিহত ছয়জনের মধ্যে চারজন তার ইউনিয়নের বাসিন্দা। অন্য দুজনের মধ্যে একজন বক্তাবলী ইউনিয়নের এবং একজন মুন্সিগঞ্জের রিকাবিবাজার এলাকার। তারা সবাই পরস্পরের আত্মীয়।

তিনি বলেন, খবরটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। নিহতরা সবাই একে অপরের আত্মীয়। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তবে এ বিষয়ে এখনো সরকারি পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন। তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বার্তা পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকেও প্রশাসনের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেননি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

একই তথ্য নিশ্চিত করেছেন নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুর রহমান।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপান, সুনামি সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৩:১০ অপরাহ্ণ
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল জাপান, সুনামি সতর্কতা

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কিউশু দ্বীপে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে হাজার হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে, রেল চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর সুনামি ও পরাঘাত (আফটারশক) নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ২৭ মিনিটে কুমামোতো প্রিফেকচারের কেন্দ্রস্থলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।

জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর সর্বোচ্চ ১ মিটার (৩ দশমিক ২৮ ফুট) উচ্চতার সুনামির আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর জাপান সরকার কুমামোতো, নাগাসাকি, কাগোশিমা, ফুকুওকা, সাগা, ওইতা ও মিয়াজাকি প্রিফেকচারের জন্য জরুরি ভূমিকম্প সতর্কতা জারি করেছে।

এসব অঞ্চল কিউশু দ্বীপে অবস্থিত।

ভূমিকম্পে কিউশু ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪০ হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

একই সঙ্গে রেলওয়ে কোম্পানি জেআর কিউশু তাদের সব ধরনের ট্রেন চলাচল, দ্রুতগতির শিনকানসেন (বুলেট ট্রেন) সেবাসহ, সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে।

কিউশু অঞ্চলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সেমিকন্ডাক্টর চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সনির কারখানা রয়েছে। সনির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে টিএসএমসি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

এদিকে, জাপানের পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর ওই অঞ্চলের কোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে অস্বাভাবিকতা শনাক্ত হয়নি।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের আগ্নেয়গিরি ও সমুদ্রগর্ভস্থ খাতঘেরা ‘রিং অব ফায়ারে’ অবস্থিত হওয়ায় জাপান বিশ্বের সবচেয়ে ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর একটি। দেশটিতে গড়ে প্রতি পাঁচ মিনিটে অন্তত একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়। বিশ্বে ৬ বা তার বেশি মাত্রার প্রায় ২০ শতাংশ ভূমিকম্প জাপানেই ঘটে।

১০ বছর আগে কুমামোতোতে আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পে সরকারি হিসাব অনুযায়ী ২৭৫ জন নিহত এবং দুই হাজার ৭৩৯ জন আহত হন।

কালের আলো/এসকে/এমএসআইপি

জুলাই মামলার ৮৬ শতাংশের তদন্তে অগ্রগতি নেই

কালের আলো রিপোর্ট:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৩:০৩ অপরাহ্ণ
জুলাই মামলার ৮৬ শতাংশের তদন্তে অগ্রগতি নেই

জুলাই অভ্যুত্থানের সময় হতাহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া মোট মামলার ৮৬ শতাংশের তদন্ত এখনও শেষ করা সম্ভব হয়নি। মূলত সাত কারণে মামলার তদন্ত পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তা ও আইনজীবীরা।

কারণগুলো হলো: এজাহারের দুর্বলতা, ভুল বর্ণনা, শত্রুতামূলক মামলা, ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দাফন, মামলা বাণিজ্য, বাদী ও ভুক্তভোগীর সাক্ষাৎ না পাওয়া এবং ডিজিটাল প্রমাণ যাচাইয়ের দীর্ঘ প্রক্রিয়া। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনায় সারাদেশে মামলা হয়েছে ১ হাজার ৮৬২টি। এরমধ্যে ২৫৪টি মামলার প্রতিবেদন হয়েছে।

তদন্ত শেষ হয়নি ১ হাজার ৬০৮ মামলার। ১৯৯টি মামলার অভিযোগপত্র হয়েছে। প্রমাণ হয়নি ৫৫টি মামলা। এখন পর্যন্ত কোনো মামলার পূর্ণাঙ্গ বিচার শুরু হয়নি। তথ্য বলছে, মোট হত্যা মামলা হয়েছে ৭৯৯টি। আসামি ৩ লাখ ২৭ হাজার ৮৪১ জন। এরমধ্যে ৬৫ হাজার ২১০ জন এজাহারভুক্ত আসামি। সন্দেহভাজন আসামি ২ লাখ ৬২ হাজার ৬৩১ জন।

অভিযোগপত্র হয়েছে ৬৩টি মামলার। আসামি ৫ হাজার ৭৯৩ জন। প্রমাণ হয়নি ৩৭টি মামলা। পিবিআই তদন্ত করছে ২৭৮টি, এরমধ্যে হত্যা মামলা ৮৯টি। সিআইডি তদন্ত করছে ১১৩টি মামলা। এরমধ্যে হত্যা মামলা ৬৫টি। গোয়েন্দা পুলিশ –তদন্ত করছে ৫৯টি মামলা। এটিইউ তদন্ত করছে ৫৩টি মামলা। এরমধ্যে হত্যা মামলা ৫২টি।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সহিংসতায় আহত হওয়ার ঘটনায় সারাদেশে মামলা হয়েছে ১ হাজার ৬৩টি। মোট আসামি ২ লাখ ৮২ হাজার ৮৭৯ জন। এর মধ্যে এজাহারভুক্ত আসামি ৮৯ হাজার ১২১ জন। সন্দেহভাজন আসামি ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৫৮ জন। অভিযোগপত্র হয়েছে ১৫৪টি মামলা। আসামির সংখ্যা ১০ হাজার ২০২ জন।

পিবিআই ও বিভিন্ন থানার থানার পাশাপাশি অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), এন্টি টেরোরিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং গোয়েন্দা পুলিশও (ডিবি) মামলাগুলোর তদন্ত করছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ডিবিতে জুলাই আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট ৫৯টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। প্রায় ৪০ জিবি ডাটা পর্যালোচনা করতে হচ্ছে। আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মামলাগুলোর তদন্ত করছি।’ প্রতিটি ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিলো, কে কোথায় অবস্থান করেছিলেন, কার বিরুদ্ধে কী ধরনের তথ্য-প্রমাণ রয়েছে—এসব বিষয় অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ফরেনসিক বিশ্লেষণ, ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা, ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত উপাত্ত মূল্যায়ন করা হচ্ছে,’ বলেন তিনি।

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সঠিক তদন্ত সম্পন্ন করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।’ পিবিআই (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া) এর পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ জানান, ২৭৮টির তদন্তের ভার পিবিআইয়ের হাতে। এর মধ্যে ২০২টি মামলার তদন্ত শেষ করেছে সংস্থাটি।

নানা জটিলতার মধ্য দিয়ে তদন্ত এগোচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। কিছু মামলার ক্ষেত্রে দেখা গেছে, যে ভিকটিমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে এবং যে স্থানে আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে সেখানে আসলে ভিকটিম যাননি। অথবা ভিকটিম সেখানে গেলেও আহত হননি। এসব কারণে তদন্ত পরিস্থিতি জটিল ও সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠেছে।’

তিনি আরও বলেন, অধিকাংশই হত্যা মামলা, সে কারণে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের ব্যাপার আছে। এসব করতেও সময়ের প্রয়োজন হয়। মেডিক্যাল সার্টিফিকেট সংগ্রহ করতে হয়। সরকারি কর্মকর্তাদের অনুমতির বিষয়টিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকায় নিম্ন আদালত ও বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া প্রায় সাড়ে ৮শ’ মামলা থেকে মাত্র ৪২টির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হয়েছে বলে জানান, ঢাকা মহানগর জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী।

তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে কয়েকটি মামলা বিচারের জন্য মহানগর দায়রা জজ আদালতে এসেছে। দুটি মামলার চার্জ শুনানিও শুরু হয়েছে। দেখা যাচ্ছে মামলায় নির্দোষ ব্যক্তি যেমন আসামি হয়েছেন, তেমনি দোষী ব্যক্তিও বাদ পড়েছেন। অর্থাৎ সমন্বয়হীনতা ছিলো। তবে তদন্ত কর্মকর্তার বিশাল ক্ষমতা। সঠিক তদন্তে তিনি সবকিছু বের করতে পারবেন।’

কালের আলো/এম/এএইচ