খুঁজুন
                               
, ,
           

শিল্পাঞ্চলে ফিরছে কর্মচাঞ্চল্য, অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে সেনাবাহিনী

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪, ৯:২৭ অপরাহ্ণ
শিল্পাঞ্চলে ফিরছে কর্মচাঞ্চল্য, অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে সেনাবাহিনী

কালের আলো রিপোর্ট:

শ্রমিক অসন্তোষের জের ধরে দফায় দফায় বন্ধ হচ্ছে শিল্পকারখানা। পোশাক শিল্প কারখানায় চলমান অস্থিরতা নিরসনে একাধিকবার গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কোন না কোন কারণে সেই উদ্যোগ মুখ থুবড়ে পড়ে। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে গত শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আশুলিয়ায় তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর চলমান সংকট ও উত্তরণের পথ নিয়ে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এই সভায় অন্তর্বর্তী সরকারের শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তা এবং শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন। উভয় পক্ষের আশ্বাসে রোববার (১৫ সেপ্টেম্বর) থেকে দেশের সব তৈরি পোশাক শিল্প কারখানা খোলা ছিল। এতে করে কর্মচাঞ্চল্য ফিরতে শুরু করে শিল্পাঞ্চলে।

বিশেষ করে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের পোশাক কারখানাগুলোতে এদিন সকাল থেকে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ৩৬টি কারখানা বন্ধ থাকলেও এদিন সেটি কমে ১৮টিতে নেমে এসেছে। এছাড়া সকালে কাজে যোগ দিয়ে ৪-৫টি কারখানায় অসন্তোষ দেখা দিলেও পরে শ্রমিকরা কাজে ফিরেছেন। পোশাক শিল্পে চলমান অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এর নির্দেশে নবম পদাতিক ডিভিশন পুরো বিষয়টিতে নেতৃত্ব দিচ্ছে। ইতোমধ্যেই সেনাপ্রধান নবম পদাতিক ডিভিশনের মাধ্যমে ইন্ডাষ্ট্রিয়াল সিকিউরিটি টাস্কফোর্স গঠন করেছেন। সেনাবাহিনীর দু’টি ব্রিগেড এই টাস্কফোর্স পরিচালনা করছে। শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে নিজেদের সচেতনতা ও পূর্ণ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকার কথা জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সাভারের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. মঈন খান।

শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. সারোয়ার আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আজ এই অঞ্চলে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ১৩(১) ধারায় ১৮টি বন্ধ এবং দুটি কারখানায় সাধারণ ছুটি রয়েছে। এর বাইরে শিল্পাঞ্চলের সব কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। স্বাভাবিক রয়েছে শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি। এ ছাড়াও শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। অব্যাহত রয়েছে যৌথ বাহিনীর টহল।’

শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিতে সেনাবাহিনীর বহুমাত্রিক কর্মযজ্ঞ
গত শনিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আশুলিয়ায় তৈরি পোশাক কারখানাগুলোর চলমান সংকট ও উত্তরণের পথ নিয়ে মতবিনিময় সভায় সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সাভারের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. মঈন খান পোশাক শিল্পে অস্থিরতার তিনটি কারণ সনাক্ত করে বলেন, পোশাক শিল্পে চলমান এ অস্থিরতার জন্য মূলত তিনটি কারণ দায়ী। এগুলো হলো বহিরাগতদের আক্রমণ, শ্রমিকদের যৌক্তিক ও অযৌক্তিক দাবির সমন্বয়ে অস্থিরতা ধরে রাখা হচ্ছে; ঝুট ব্যবসার আধিপত্য। তবে বহিরাগতদের আক্রমণ এখন আর এটা হচ্ছে না। আমরা এটি জোর দিয়ে বলতে পারি।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের দাবিগুলো যৌক্তিক। তবে এ সমস্যার সমাধান না হলে শিল্পের অস্থিরতা নিরসন সম্ভব নয়। এসব সমস্যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শক্তি প্রয়োগ করে সমাধান করতে পারবে না। এটি মালিক-শ্রমিক ও নীতি নির্ধারণী মহল মিলে সমাধান করবেন বলে আমরা আশাবাদী। ইতোমধ্যেই ঝুট ব্যবসা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে। এ সমস্যা সমাধানে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা দেখছি, নতুন বোতলে পুরনো মদ অবস্থা। অর্থাৎ, মুখ পরিবর্তন হচ্ছে। নতুন ব্যক্তিবর্গ এসে দাবি দাওয়া দিচ্ছেন আমাদের এ ব্যবসা দিতে হবে। রাজনৈতিক ব্যক্তিরা সম্পৃক্ত হয়ে তাদের দলের লোকজনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে এটি সম্পূর্ণভাবে সমাধান সম্ভব।

পোশাক শিল্পকে রক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করবে সেনাবাহিনী
পোশাক শিল্পকে রক্ষায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন সেনাপ্রধান, এমনটি জানিয়ে নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি তুলে ধরেন নিজেদের বহুমাত্রিক কর্মযজ্ঞের আদ্যোপান্ত। তিনি বলেন, সম্মানিত সেনাবাহিনী প্রধান আমাকে দায়িত্ব প্রদান করেছেন। আমরা আমাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করেছি। যাতে করে গার্মেন্টস শিল্পসহ ওষুধ শিল্প এবং অন্যান্য শিল্প কারখানায় সবগুলো সেক্টরে যেন একটা নিরাপদ পরিস্থিতি ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসে। গত ৮ আগস্ট আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে এখানে মোতায়েন হয়েছি। আমাকে সেনাপ্রধান ওইদিন ডেকে বলেন যে তোমার জন্য অনেক দায়িত্ব আছে।

সেনাপ্রধানকে উদ্ধৃত করে জিওসি বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন জেলায়, ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি। সংখ্যালঘুদের রক্ষায় কাজ করছি। এই রকমের বিভিন্ন কাজ করছি আমরা। কিন্তু এই মুহূর্তে তোমার জন্য সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হচ্ছে তোমাকে এই সেক্টরকে বাঁচাতে হবে। অন্য যত জায়গায় আমরা সাফল্য অর্জন করি না কেন দেশের অর্থনীতির মেরুদন্ড যদি তুমি ধরে রাখতে না পারো তাহলে অন্য যে কোন সেক্টরে যত সফলতা আসুক না কেন কোন লাভ হবে না।’

সেনাপ্রধান নবম পদাতিক ডিভিশনের মাধ্যমে ইন্ডাষ্ট্রিয়াল সিকিউরিটি টাস্কফোর্স করে দিয়েছেন জানিয়ে নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও সাভারের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. মঈন খান বলেন, ‘আমি আমার অধীনস্থ কর্নেল মুহিউদ্দীনকে প্রধান করে দুটি ব্রিগেড তার অধীনস্থ করে দিয়ে গত ৮ আগস্ট থেকে আমরা এই টাস্কফোর্স পরিচালিত করে আসছি। পরবর্তীতে গত ২১ আগস্ট সম্মানিত সেনাপ্রধান তিনি দেশের সকল বিজনেস লিডারদের নিয়ে বসেছিলেন যে আরও কী করা যায়, কীভাবে আমরা আমাদের কর্মকান্ড জোরদার করতে পারি সেজন্য উনি বসেছিলেন এবং সেখান থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট পেয়েছিলেন যেগুলো আমাদের বলেছেন আমরা সেগুলো বাস্তবায়িত করেছি। আমরা আপনাদের বুঝাতে চেষ্টা করলাম এই সেক্টরের নিরাপত্তা ও সেক্টরের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে আমরা কতটুকু প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং সচেতন।

সেনাবাহিনীর কার্যক্রম ও পরিচালনা পদ্ধতির বিস্তারিত
নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি বলেন, ইন্ডাষ্ট্রিয়াল সিকিউরিটি টাস্কফোর্স এর অধীনে দু’জন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তার দু’টি ব্রিগেড নিয়ে আশুলিয়া, টঙ্গি, গাজীপুর, ভালুকা এসব জায়গায় সব কিছু মিলিয়ে আমরা এখানকার শান্তি শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করছি। সঙ্গে আমাদের ইন্ডাষ্ট্রিয়াল পুলিশ, সাধারণ পুলিশ আছে, ৮ প্লাটুন বিজিবি ও র‌্যাব মিলিয়ে আমরা যৌথ বাহিনীর একটি কাঠামো তৈরি করেছি। একেকটি এলাকাতে কতগুলো ইন্ডাষ্ট্রি নিয়ে আমরা একটি ক্লাস্টার তৈরি করেছি। সেই ক্লাস্টারের চারিদিকে ব্যুহ তৈরি করেছি। সেই ব্যুহতে আমাদের সৈনিক মোতায়েন রয়েছে আমাদের এপিসিসহ। আমরা সেখানকার ভেতর-বাইরের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছি।

তিনি বলেন, আমরা দিন-রাত পেট্রোলিং করছি, যাতে করে কেউ ইন্ডাষ্ট্রির আশেপাশে কোন রকম অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে। আমাদের ঢাকা, সাভার ও ময়মনসিংহে ক্যান্টনমেন্টে কুইক রিয়েকশন ফোর্স (কিউআরএফ) প্রস্তুত করে রেখেছি। কয়েকদিন আগে বেক্সিমকোতে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর এরকম কিউআরএফগুলো দ্রুত এই শক্তির বাইরে অতিরিক্ত শক্তি হিসাবে প্রেরণ করছি। যাতে করে তাৎক্ষণিকভাবে সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারি। এছাড়া এই মিলিটারি লাইন অব অপারেশন্স’র পাশাপাশি আমরা জনসংযোগ করছি। বিভিন্ন জায়গায় রাতে-দিনে যাচ্ছি, মাইকিং করছি। যারা এই সেক্টরের সঙ্গে পরোক্ষভাবে জড়িত ওই এলাকার বাড়িওয়ালা ও দোকানদার তাদেরকে আমরা সেনসেটাইজ করছি। আমরা মিলিটারি লাইন অব অপারেশন্স ও অন্যান্য সবকিছু মিলিয়ে আমরা একটি পরিবেশ নিয়ে আসতে পারছি। আমাদের সাফল্য হচ্ছে-কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া আমরা মেজর কোন বেন্ডালিজম হতে দেইনি। আপনাদের প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথভাবে আছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ক্ষতি হয়েছে এজন্য দু:খ প্রকাশ করছি।

তিনি আরও বলেন, শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হলে আমরা সেইসব ফ্যাক্টরিতে গিয়ে উভয়ের মধ্যে বনিবনা করছি, মালিকদের উদ্ধার করছি এবং শ্রমিকদের বুঝাচ্ছি। যারা রাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে তাদের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করছি। রাতে তাদের গিয়ে বুঝাচ্ছি, মাইকিং করছি। তাদের আমরা বুঝাতে সক্ষম হচ্ছি। আমরা সম্পূর্ণ এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করছি। শ্রমিকদের যৌক্তিক ও অযৌক্তিক দাবির ত্রিপক্ষীয় সমাধান না হলে আমরা আরও একটি ব্যাটালিয়ন বা ডিভিশনও যদি এখানে মোতায়েন করি তাহলে এটি ফলপ্রসু হবে না। রাজনৈতিক ও নীতি নির্ধারক মহলের আলোচনার মাধ্যমে আপনারা সমস্যার সমাধান করবেন বলে আমরা আশাবাদী।

সেনাপ্রধানের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় প্রস্তুত সেনাবাহিনী
যেহেতু সেনাপ্রধানের পক্ষ থেকে আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, তাই আমরা আমাদের শেষ ঘামটুকু দিয়ে আপনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই, দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি। তিনি বলেন, ‘আপনারা না থাকলে আমাদের অর্থনীতি থাকবে না। আপনাদের ট্যাক্সের টাকায় আমাদের বেতন হয়, আমাদের বেতন হবে না। এই অনুভূতি আমাদের আছে। আমরা মালিক ও শ্রমিকপক্ষের সহযোগিতা চাই, তাহলে আমাদের কাজগুলো সুন্দর ও সুচারূভাবে করতে পারবো। আমাদের সেনাপ্রধান বলেছেন, এই সরকারকে কোনভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না, যত ধরণের সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন আমাদের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আপনাদের দেওয়া হবে।’

কালের আলো/এমএএএমকে

শিশুর চরিত্র গঠনে মায়ের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৫৯ অপরাহ্ণ
শিশুর চরিত্র গঠনে মায়ের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ?

একটি শিশুর জীবনের প্রথম পাঁচ বছরকে তার বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ সময়ে শিশু দ্রুত শেখে, নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করে এবং তার বেশির ভাগ সময় কাটে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। ফলে শিশুর জীবনে ঘরই হয়ে ওঠে প্রথম পাঠশালা, আর মা-বাবাই হয়ে ওঠেন তার প্রথম শিক্ষক।

শৈশবের এই সময়টিতে শিশুর মানসিকতা, আচরণ, মূল্যবোধ ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে উঠতে শুরু করে। পরিবারের পরিবেশ, মা-বাবার আচরণ এবং শিশুর সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ—সবকিছুই তার ভবিষ্যৎ ব্যক্তিত্বে প্রভাব ফেলতে পারে।

পরিবারের পরিবেশেই মূল্যবোধের শুরু

বর্তমান আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় অনেক পরিবারেই মা-বাবা দুজনকেই কাজের প্রয়োজনে দিনের বড় একটি সময়ের জন্য বাড়ির বাইরে থাকতে হয়। ফলে অনেক শিশু প্লে-স্কুল, ডে-কেয়ার কিংবা অন্য স্বজনের পরিচর্যায় বেড়ে ওঠে।

তবে শিশু বিশেষজ্ঞ ও মনোবিশ্লেষকদের মতে, শিশুর বিকাশে শুধু কতক্ষণ সময় দেওয়া হচ্ছে তা নয়, সেই সময়ের গুণগত মানও গুরুত্বপূর্ণ। মা-বাবার মনোযোগ, কথা বলা, শিশুর কথা শোনা এবং তার অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক মূল্যবোধ তৈরিতে সহায়তা করতে পারে।

পরিবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত ও ইতিবাচক যোগাযোগের মাধ্যমে শিশু ধীরে ধীরে কোন আচরণ গ্রহণযোগ্য আর কোনটি অনুচিত—তা বুঝতে শেখে। এর মাধ্যমে তার আচরণগত নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক স্থিতিশীলতা গড়ে উঠতে পারে।

মায়ের আচরণ থেকেই শেখে শিশু

প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি থাকুক বা না থাকুক, শিশুর প্রাথমিক নৈতিক শিক্ষা তৈরিতে মায়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের পরিবেশেই শিশু ভালোবাসা, যত্ন, সহানুভূতি, সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মতো বিষয়গুলো প্রথম শেখে।

শিশু শুধু মা-বাবার কাছ থেকে সরাসরি বলা কথাই শেখে না; তাঁদের দৈনন্দিন আচরণও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে। মা-বাবা একে অপরের সঙ্গে কীভাবে কথা বলেন, অন্যদের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করেন, সমস্যা হলে কীভাবে তা সামাল দেন—এসব দেখেও শিশু নিজের দৃষ্টিভঙ্গি ও জীবনবোধ তৈরি করতে থাকে।

সময় কম হলেও সচেতন উপস্থিতি জরুরি

আধুনিক ব্যস্ত জীবনে অনেক মা-বাবার পক্ষেই সন্তানের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটানো সম্ভব হয় না। কর্মজীবন, পারিবারিক দায়িত্ব ও অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে সন্তানের জন্য আলাদা সময় বের করা অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে শিশুর সঙ্গে অল্প সময় কাটালেও তা যদি মনোযোগী ও আন্তরিক হয়, তার ইতিবাচক প্রভাব থাকতে পারে। সন্তানের সঙ্গে কথা বলা, তার দিনের অভিজ্ঞতা শোনা, খেলায় অংশ নেওয়া কিংবা কোনো সমস্যায় পাশে থাকা—এসব ছোট ছোট বিষয় শিশুর চরিত্র ও আত্মবিশ্বাস গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।

একই সঙ্গে কিছু শিশু ছোট বয়স থেকেই একা থাকার বা নিজের কাজ নিজে করার অভ্যাস তৈরি করে। এর ফলে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং ধীরে ধীরে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার দক্ষতাও তৈরি হতে পারে।

তাহলে সমাজে অপরাধ বা বৈষম্য কেন?

এখানে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে—মা যদি শিশুর প্রথম শিক্ষক হন এবং পরিবার যদি তার প্রথম শিক্ষার জায়গা হয়, তাহলে বড় হয়ে মানুষ অপরাধ, সহিংসতা বা বৈষম্যমূলক আচরণে জড়িয়ে পড়ে কেন?

এর উত্তর শুধু পারিবারিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব ও আচরণ গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে পরিবার ছাড়াও বন্ধু, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক পরিবেশ, গণমাধ্যম, সংস্কৃতি এবং বৃহত্তর সামাজিক কাঠামোর প্রভাব থাকে।

শৈশবে পরিবার ইতিবাচক মূল্যবোধের ভিত্তি তৈরি করতে পারে। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যক্তি নতুন নতুন মানুষের সংস্পর্শে আসে এবং নানা ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়। এসব বাহ্যিক প্রভাব তার চিন্তা ও আচরণে পরিবর্তন আনতে পারে।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি পারিবারিক শিক্ষাও জরুরি

একটি শিশুর পূর্ণ বিকাশের জন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষা যেমন প্রয়োজন, তেমনি পরিবারের শিক্ষা ও পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ। স্কুল শিশুকে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেয়; আর পরিবার তার আচরণ, মূল্যবোধ, সম্পর্কবোধ ও সামাজিকতার প্রাথমিক ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে।

সব মিলিয়ে শিশুর জীবনের প্রথম বছরগুলোতে মা-বাবার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ভালোবাসা, নিরাপত্তা, যত্ন, শৃঙ্খলা ও ইতিবাচক আচরণের মাধ্যমে পরিবার শিশুর ভবিষ্যৎ ব্যক্তিত্ব গঠনে শক্ত ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

তাই শিশুর লালন-পালনকে শুধু খাবার, পোশাক কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তার সঙ্গে মানসম্মত সময় কাটানো এবং ইতিবাচক পারিবারিক পরিবেশ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

কালের আলো/এসএ

বিশ্ব শিক্ষক দিবসে জাতীয় সম্মাননা পেয়েছেন ১০০ শিক্ষক

শিক্ষা ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ
বিশ্ব শিক্ষক দিবসে জাতীয় সম্মাননা পেয়েছেন ১০০ শিক্ষক

৫ অক্টোবর ২০২৬, বিশ্ব শিক্ষক দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হয়েছে। শিক্ষকদের অবদান স্মরণ, তাঁদের সম্মান জানানো এবং শিক্ষকতা পেশার মর্যাদা তুলে ধরাই দিবসটির মূল লক্ষ্য।

ইউনেসকোর উদ্যোগে ১৯৯৪ সাল থেকে প্রতিবছর ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়ে আসছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য—‘স্ট্যান্ডিং উইথ টিচার্স: সিক্সটি ইয়ার্স অব প্রোটেকটিং দ্য প্রফেশন, অ্যাডভান্সিং ইটস স্ট্যাটাস, শেপিং আওয়ার ফিউচার্স’।

জাতীয় পর্যায়ে সম্মাননা ১০০ শিক্ষককে

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নির্বাচিত শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এ বছর প্রথমবারের মতো প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ১০০ জন শিক্ষককে জাতীয় পর্যায়ে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষককে নগদ দুই লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গুণী শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি এবং পেশাগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে এ বছর জাতীয় সম্মাননার পরিধি বাড়ানো হয়েছে। এর আগে জাতীয় পর্যায়ে ১২ জন শিক্ষককে এই সম্মাননা দেওয়া হলেও এবার সংখ্যা বাড়িয়ে ১০০ করা হয়েছে।

কোন স্তরে কতজন শিক্ষক

এবার প্রাথমিক স্তরে ১০ জন, মাধ্যমিক স্তরে ২০ জন এবং কলেজ পর্যায়ে ২৫ জন শিক্ষক সম্মাননা পেয়েছেন। সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০ জন, মেডিক্যাল কলেজ থেকে ১০ জন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩ জন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩ জন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ অন্যান্য বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৪ জন শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কোটায় আরও ৫ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এবার জাতীয় পর্যায়ে ১০০ জন গুণী শিক্ষককে সম্মানিত করা হয়েছে।

যেভাবে নির্বাচিত হয়েছেন শিক্ষকরা

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) গঠিত পৃথক সার্চ কমিটি শিক্ষকদের একটি প্যানেল তৈরি করে। পরে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি সেই প্যানেল থেকে ১০০ জন শিক্ষককে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করে।

যেভাবে শুরু বিশ্ব শিক্ষক দিবস

বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালনের ইতিহাসও বেশ পুরোনো। ১৯৯৩ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ইউনেসকোর ২৬তম সাধারণ সভায় ৫ অক্টোবরকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর পরের বছর, ১৯৯৪ সালে প্রথমবার দিবসটি পালন করা হয়।

পরবর্তীতে ১৯৯৫ সাল থেকে বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালনের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়। ইউনেসকোর অনুমোদনে প্রতিবছর পৃথক প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়ে আসছে।

কালের আলো/এসএ

ভ্রমণ পরিকল্পনায় নতুন সঙ্গী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

ভ্রমণ ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৯ অপরাহ্ণ
ভ্রমণ পরিকল্পনায় নতুন সঙ্গী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

কোথায় যাবেন, কোথায় থাকবেন কিংবা কোন কোন জায়গা ঘুরে দেখবেন—ভ্রমণের আগে এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এত দিন গুগল সার্চ, ট্রাভেল ব্লগ কিংবা ট্রাভেল এজেন্সির ওপর নির্ভর করতে হতো। তবে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতিতে সেই চিত্র বদলে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে ভ্রমণ পরিকল্পনার নতুন সহকারী।

ভ্রমণকারীর পছন্দ, বাজেট ও প্রয়োজন বুঝে গন্তব্য নির্বাচন থেকে শুরু করে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং বিভিন্ন কার্যক্রমের পরিকল্পনাও করে দিতে পারছে এআই। ফলে একজন ভ্রমণকারীকে আলাদা করে অসংখ্য ওয়েবসাইট ঘেঁটে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে না। বরং এআইয়ের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমেই তৈরি করা সম্ভব হতে পারে পুরো ভ্রমণ পরিকল্পনা।

এআইয়ের মাধ্যমে পুরো ভ্রমণ পরিকল্পনা

এবারের বিশ্ব পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্যও পর্যটনে প্রযুক্তি ও এআইয়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিষয়টি সামনে এনেছে—‘ডিজিটাল এজেন্ডা অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স টু রিডিজাইন ট্যুরিজম’। অর্থাৎ ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পর্যটন খাতকে নতুনভাবে সাজানোর বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

সম্প্রতি মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি বুকিং ডটকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গ্লেন ফোগল বলেন, ভ্রমণের ক্ষেত্রে এআই বিপুল পরিমাণ তথ্যকে মানুষের জন্য সহজে ব্যবহারযোগ্য করে তুলছে।

তাঁর মতে, ভবিষ্যতে একজন ভ্রমণকারী এআইয়ের সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমেই পুরো ভ্রমণের পরিকল্পনা তৈরি করতে পারবেন। শুধু বিমান ও হোটেল বুকিং নয়, রেস্তোরাঁয় টেবিল বুক করা কিংবা গলফ খেলার সময় নির্ধারণের মতো কাজও একই ব্যবস্থার মাধ্যমে করা সম্ভব হতে পারে।

পুরোনো ট্রাভেল এজেন্টের আধুনিক বিকল্প

এ ব্যবস্থাকে পুরোনো দিনের ট্রাভেল এজেন্টের সঙ্গে তুলনা করেছেন গ্লেন ফোগল। তবে তাঁর মতে, বড় পার্থক্য হলো তথ্য ব্যবহারের সক্ষমতায়।

একজন ট্রাভেল এজেন্ট সাধারণত সীমিত কিছু তথ্য ও অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে ভ্রমণ পরিকল্পনা তৈরি করতেন। বিপরীতে এআই একই সময়ে বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করে একজন ভ্রমণকারীর পছন্দ ও প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন বিকল্প সাজিয়ে দিতে পারে।

এমনকি ভ্রমণের কোনো একটি অংশে পরিবর্তন এলে পুরো পরিকল্পনাটিও নতুন করে সাজিয়ে দেওয়ার সুযোগ থাকবে। ফলে সময়, বাজেট কিংবা গন্তব্য পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নতুন পরিকল্পনা তৈরি করাও সহজ হবে।

তৈরি হচ্ছে নতুন প্রশ্নও

তবে পর্যটনে এআইয়ের ব্যবহার যত বাড়ছে, ততই সামনে আসছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এআই কোন গন্তব্যগুলোকে ভ্রমণকারীদের সামনে বেশি তুলে ধরবে—এটি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

অর্থের বিনিময়ে কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্য, হোটেল বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি এআইয়ের পরামর্শে বাড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হলে বড় প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি সুবিধা পেতে পারে। এতে পর্যটকের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণ কতটা প্রভাবিত হবে, সেটিও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে।

অর্থাৎ ভবিষ্যতের পর্যটনে শুধু তথ্য পাওয়ার বিষয়টিই গুরুত্বপূর্ণ নয়; সেই তথ্য কে নিয়ন্ত্রণ করছে এবং কোন তথ্য ভ্রমণকারীর সামনে তুলে ধরা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

কর্মসংস্থানেও প্রভাব পড়তে পারে

পর্যটনে এআইয়ের ব্যবহার কর্মসংস্থানের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। গ্লেন ফোগলের মতে, এআই গ্রাহকসেবা দ্রুত ও সহজ করতে পারলেও এর ফলে ক্যারিয়ারের শুরুতে থাকা কিছু চাকরির সুযোগ কমে যেতে পারে।

বিশেষ করে কাস্টমার সার্ভিস প্রতিনিধি ও কল সেন্টারের মতো কিছু কাজ এআইয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি নতুন ধরনের দক্ষতা তৈরি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাও জরুরি হয়ে উঠবে।

বাংলাদেশের জন্যও বড় সুযোগ

পর্যটনে এআইয়ের এই পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ভ্রমণকারীরা যখন গন্তব্য খুঁজতে এআইনির্ভর ব্যবস্থার ওপর আরও বেশি নির্ভর করবেন, তখন বাংলাদেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সঠিক ও পর্যাপ্ত তথ্য এসব এআই ব্যবস্থায় থাকা জরুরি হয়ে উঠবে।

কক্সবাজার, সুন্দরবন, সিলেট, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটন গন্তব্য সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য, ছবি, যোগাযোগব্যবস্থা, থাকার জায়গা ও পর্যটন সুবিধার তথ্য সহজলভ্য করা গেলে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশের গন্তব্যগুলো আরও দৃশ্যমান হতে পারে।

তাই এআই শুধু ভ্রমণকারীর পরিকল্পনাকে সহজ করছে না, একই সঙ্গে কোন দেশ বা গন্তব্য বিশ্ব পর্যটনের মানচিত্রে কতটা দৃশ্যমান হবে, সেই প্রতিযোগিতাকেও নতুন মাত্রা দিচ্ছে।

কালের আলো/এসএ