খুঁজুন
                               
বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ২৪ বৈশাখ, ১৪৩৩
           

দক্ষিণ সুদানে ‘বিপদের বন্ধু’ বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বৈশ্বিক শান্তি-স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ নৌবাহিনী প্রধান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৫, ১১:০৩ অপরাহ্ণ
দক্ষিণ সুদানে ‘বিপদের বন্ধু’ বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বৈশ্বিক শান্তি-স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ নৌবাহিনী প্রধান

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে আফ্রিকার ভয়ঙ্কর এক দেশ দক্ষিণ সুদান। ২০১১ সালের ৯ জুলাই পূর্ব আফ্রিকার স্বাধীন দেশ হিসেবে জন্ম নেওয়া দেশটি শুরু থেকেই অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ভেঙে পড়ে অর্থনীতিও। অশান্ত দেশটিতে শান্তি ফেরাতে নিরলসভাবে কাজ করছে জাতিসংঘ। আর প্রতি মুহুর্তে চোরা বুলেট, বিদ্রোহীদের হঠাৎ হামলা কিংবা বন্যপ্রাণীর আক্রমণে মৃত্যুর ভয় উপেক্ষা করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। মিশনটিতে অসীম সাহসিকতা আর বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা। ফলত দক্ষিণ সুদানের বাসিন্দাদের ‘বিপদের বন্ধু’ হয়ে ওঠেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

শান্তি প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে মানবিক সাহায্য, রসদ, ওষুধ ও জ্বালানীসহ বিভিন্ন সামগ্রী পৌঁছে দিতে অপরিহার্য এক নাম বাংলাদেশ নৌবাহিনী ফোর্স মেরিন ইউনিট। নৌবাহিনীর সদস্যরা পেশাদারি মনোভাব, কর্তব্যপরায়ণতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে স্থাপন করেছে অনন্য এক নজির। নিজ বাহিনীর সদস্যদের বহুমাত্রিক কর্মযজ্ঞ পরিদর্শন করতে দক্ষিণ সুদান সফর করছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। দক্ষিণ সুদান সফরকালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ‘ইউনাইটেড নেশনস মিশন ইন সাউথ সুদান (আনমিস)’-এ নিয়োজিত ‘বাংলাদেশ ফোর্স মেরিন ইউনিট’ এর সদস্যদের তিনি এই প্রতিশ্রুতির কথা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

নৌবাহিনী নির্ভীকচিত্তে দায়িত্ব পালন করে প্রশংসা কুড়িয়েছে জাতিসংঘেরও
২০১৪ সালে গৃহযুদ্ধে যখন উত্তাল দক্ষিণ সুদান তখন জাতিসংঘের রসদবাহী নৌযানটি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে পড়ে। এরপর জাতিসংঘ বিশেষায়িত একটি বাহিনীর অনুভব করে। তারপর থেকেই নীল নদ পাড়ি দিয়ে প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী, জ্বালানি, ওষুধপত্র ও মানবিক সাহায্য বহনকারী বার্জসমূহের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করে চলেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ফোর্স মেরিন ইউনিট। সফলতার সঙ্গেই হাজারো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে চলেছে বছরের পর বছর। একই সঙ্গে দক্ষিণ সুদানে লড়াইরত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে শান্তি স্থাপন ও যোগাযোগ বাড়াতে কঠিন এবং বিপদজনক পরিস্থিতিতেও অদম্য বাংলাদেশ নৌবাহিনী। যেখানে কাজ করতে ভয় উন্নত বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনী। কিন্তু সেখানে কর্মদক্ষতায় স্বল্পতম সময়ের মধ্যেই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে তাঁরা। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর হামলার ঝুঁকি ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কাছে হার না মেনে তাঁরা নির্ভীকচিত্তে দায়িত্ব পালন করে প্রশংসা কুড়িয়েছে জাতিসংঘেরও।

  • নৌবাহিনী নির্ভীকচিত্তে দায়িত্ব পালন করে প্রশংসা কুড়িয়েছে জাতিসংঘেরও
  • দক্ষিণ সুদানে উজ্জ্বল ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যত গড়তে বিশেষ ভূমিকায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী
  • দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের জন্য বয়ে আনছে গৌরব ও সম্মান

দক্ষিণ সুদানে উজ্জ্বল ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যত গড়তে বিশেষ ভূমিকায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী
দক্ষিণ সুদান সফরকালে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ‘ইউনাইটেড নেশনস মিশন ইন সাউথ সুদান (আনমিস)’-এ নিয়োজিত ‘বাংলাদেশ ফোর্স মেরিন ইউনিট’ এর সদস্যদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, ‘২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফোর্স মেরিন ইউনিট এই মিশনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। যা দক্ষিণ সুদানের জনগণের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিকে তুলে ধরেছে।

নৌবাহিনীর সদস্যরা সুদানের প্রত্যন্ত এলাকায় নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী, জ্বালানী, ওষুধপত্র ও মানবিক সাহায্য বহনকারী বার্জসমূহের নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা বিধান করে। সেই সঙ্গে নৌপথে জলদস্যুতা পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ, অগ্নিনির্বাপণে স্থানীয় জনগণকে সহায়তা প্রদান এবং আহত সামরিক-অসামরিক ব্যক্তিদের উদ্ধার ও জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদানসহ ডুবুরি সহায়তা প্রদানের কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ সুদানে নিয়োজিত মেরিন ইউনিট ছাড়াও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অনেক কর্মকর্তা ও নাবিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পর্যবেক্ষক, স্টাফ অফিসার এবং কন্টিনজেন্ট সদস্য হিসেবে গর্বের সঙ্গে কাজ করছেন। শান্তি, নিরাপত্তা, মানবিক মর্যাদা ও মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর গৃহীত কার্যক্রম দক্ষিণ সুদানের জন্য একটি উজ্জ্বল ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যত গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।’

দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের জন্য বয়ে আনছে গৌরব ও সম্মান
বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় ১৯৯৩ সাল থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর শান্তিরক্ষীরা উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন এবং অনন্য সুনাম অর্জন করেছেন বলে উল্লেখ করেন নৌবাহিনী প্রধান। এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘এরই ফলে ২০১০ সালে, লেবাননের ভূ-মধ্যসাগরে জাতিসংঘ মেরিটাইম টাস্ক ফোর্সের আওতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দুইটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ বানৌজা সংগ্রাম লেবাননে নিয়োজিত থেকে দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের জন্য গৌরব ও সম্মান বয়ে আনছে। নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অধীনে আরও জাহাজ এবং বিশেষায়িত ইউনিট মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। জাতিসংঘের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে এবং বিশ্ব মানবতার উন্নয়নে অবদান রাখতে নৌবাহিনী সদা সচেষ্ট।’ তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত সশস্ত্র বাহিনী এবং বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যদের অভিনন্দন জানান এবং তাদের সাফল্য কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য দক্ষিণ সুদানের জনগণের প্রতি শুভকামনা জানান।

সোমবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, এর আগে দক্ষিণ সুদানে নিয়োজিত বাংলাদেশ নৌবাহিনী ফোর্স মেরিন ইউনিটের একটি চৌকস দল নৌবাহিনী প্রধানকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। তিনি গার্ড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। দক্ষিণ সুদানে অবস্থানকালে নৌবাহিনী প্রধান ইউনাইটেড নেশনস মিশন ইন সাউথ সুদানে নিয়োজিত সেক্রেটারি জেনারেল এর বিশেষ প্রতিনিধি (এসআরএসজি), সাউথ সুদানের চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্স (সিডিএফ), ফোর্স কমান্ডার এবং পরিচালক মিশন সাপোর্ট (ডিএমএস) এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া নৌবাহিনী প্রধান এই মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (ব্যানসেক) পরিদর্শন ও সেখানে কর্মরত শান্তিরক্ষী সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

র‍্যাবের জন্য কেনা হচ্ছে ১৬৩ গাড়ি, খরচ ১২২ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৬:০৭ অপরাহ্ণ
র‍্যাবের জন্য কেনা হচ্ছে ১৬৩ গাড়ি, খরচ ১২২ কোটি টাকা

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) আভিযানের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ১৬৩টি গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে ৩টি জিপ, ১০০টি টহল পিকআপ এবং ৬০টি এসি মাইক্রোবাস রয়েছে। দরপত্র ছাড়াই সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এসব গাড়ি কেনা হবে। এতে ব্যয় হবে ১২২ কোটি টাকার বেশি।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই গাড়ি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন র‍্যাবের ‘র‍্যাব ফোর্সেসের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১২২ কোটি ২৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকার যানবাহন ক্রয়ের প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। মন্ত্রিসভা কমিটি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে অনুমোদন দিয়েছে।

সুপারিশ অনুযায়ী, ৩টি জিপ, ১০০টি প্যাট্রল পিকআপ এবং ৬০টি এসি মাইক্রোবাস রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সংগ্রহ করা হবে। এ সংক্রান্ত প্রস্তাবটি গত ২৭ জানুয়ারি অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিইএ) বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন পায়।

জানা গেছে, গত ৫ এপ্রিল অর্থ বিভাগের পরিপত্র অনুযায়ী সব ধরনের যানবাহন ক্রয় বন্ধ থাকলেও দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং র‍্যাবের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজন বিবেচনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষভাবে এ প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়।

প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ৭ নভেম্বর একনেক থেকে অনুমোদিত হয়। এর মেয়াদ ১ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত নির্ধারিত। চলতি আরএডিপিতে প্রকল্পটির অনুকূলে ১৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

কালের আলো/এসএকে

বাংলাদেশে আরেকটি শিক্ষা আন্দোলনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে: দেবপ্রিয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৫:২৬ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশে আরেকটি শিক্ষা আন্দোলনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে: দেবপ্রিয়

নতুন করে আরেকটি শিক্ষা আন্দোলনের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, এই আন্দোলন শুধু শিক্ষার্থীদের স্কুলে ভর্তি করানোর জন্য নয়, বরং শিক্ষার প্রকৃত মান ও ফলাফল নিশ্চিত করার আন্দোলন হতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে রাজধানীতে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত ‘সরকারের অগ্রাধিকার ও শিক্ষা খাত: বাজেট ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে যেতে হলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হচ্ছে মানসম্পন্ন শিক্ষা। কিন্তু শিক্ষার মান, বরাদ্দ, ব্যয়ের কাঠামো, ঝরে পড়া, বাল্যবিবাহ, শিশুশ্রম ও আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এখনও বড় ঘাটতি রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষাখাত নিয়ে বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা বা বয়ান চালু রয়েছে। কেউ বলেন, সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কিন্তু অর্থনীতির ছাত্র হিসেবে আমরা অগ্রাধিকার বুঝি বরাদ্দ দিয়ে। বরাদ্দ যদি যথেষ্ট না হয়, তাহলে সেই অগ্রাধিকার বাস্তব নয়। আবার শুধু বরাদ্দ দিলেই হবে না, সেই বরাদ্দ কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা, মাধ্যমিক শিক্ষা কিংবা উচ্চশিক্ষা— কোন খাতে কত ব্যয় হচ্ছে, সেটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ সেই ব্যয় অবকাঠামো নির্মাণে যাচ্ছে নাকি শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে ব্যয় হচ্ছে। কেবল ভবন নির্মাণ করলেই শিক্ষার মান বাড়ে না।

সরকারের উপবৃত্তি কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বিভিন্ন সময় বলা হয়েছে যে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে উপবৃত্তি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু শুধু উপবৃত্তি দিয়ে শিক্ষার ব্যয় মোকাবিলা সম্ভব নয়। পরিবারের আরো নানা ধরনের খরচ রয়েছে, যা দরিদ্র ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য বড় চাপ তৈরি করে। বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে, সবাই শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বিগ্ন। মানুষ মনে করছে, শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যমান বিশৃঙ্খলা দূর করা না গেলে এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার ভেতরে ধরে রাখা না গেলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে না।

ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা, বিশেষ করে মেয়েদের ঝরে পড়া, বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম বৃদ্ধিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব সমস্যা সমাধান না হলে প্রকৃত অর্থে শিক্ষার অগ্রগতি হবে না। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও তুলনামূলক মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করাও সম্ভব হবে না।

সম্প্রতি পরিচালিত এক গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, আগামী দিনের শ্রমবাজার বড় ধরনের পরিবর্তনের মুখে পড়তে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স ও প্রযুক্তির বিস্তারের কারণে প্রায় ৫৬ লাখ কর্মসংস্থান হারিয়ে যেতে পারে। আবার নতুন করে প্রায় ৫০ লাখ কাজের সুযোগও সৃষ্টি হবে। কিন্তু সেই নতুন ধরনের কাজের জন্য দেশের তরুণ সমাজ প্রস্তুত কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের আশঙ্কা রয়েছে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আগে আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল সবাইকে শিক্ষার আওতায় আনা। এখন সময় এসেছে শিক্ষার ফলাফল নিশ্চিত করার। ইংরেজিতে যেটা বলা হয়, আগে ছিল ‘ফাইট ফর এডুকেশন’, এখন সময় এসেছে ‘ফাইট ফর আউটকাম অব এডুকেশন’ এর। শিক্ষা আন্দোলনকে শুধু কারিগরি মতামতের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। এটিকে রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। এ লক্ষ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়েও একটি জোট গঠনের চিন্তা করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষা সংস্কার ও মানোন্নয়নের দাবিকে আরো জোরালোভাবে সামনে আনা যায়।

কালের আলো/এসআর/এএএন

দীপু মনি, সাংবাদিক বাবু ও ফারজানাকে হাজিরের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
দীপু মনি, সাংবাদিক বাবু ও ফারজানাকে হাজিরের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের

রাজধানীর মতিঝিলে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এই আবেদন করা হয়। পরে তাদের ১৪ মে হাজিরের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

আদেশের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ২০১৩ সালে হেফাজতের সমাবেশে হত্যাকাণ্ড ছিল পূর্বপরিকল্পিত। ওই ঘটনায় অন্যদের সঙ্গে সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, ৭১ টিভির সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদনে কার কী ভূমিকা ছিল, তা বিস্তারিত উল্লেখ করা হবে। আপাতত তিনজনের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চাওয়া হয়েছে।

আগামী ৭ জুন এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। এরই মধ্যে হেফাজতের সমাবেশকে কেন্দ্র করে ৫৮ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে তদন্ত সংস্থা।

কালের আলো/এসআর/এএএন