খুঁজুন
                               
, ,
           

দক্ষিণ সুদানে ‘বিপদের বন্ধু’ বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বৈশ্বিক শান্তি-স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ নৌবাহিনী প্রধান

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৫, ১১:০৩ অপরাহ্ণ
দক্ষিণ সুদানে ‘বিপদের বন্ধু’ বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বৈশ্বিক শান্তি-স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ নৌবাহিনী প্রধান

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে আফ্রিকার ভয়ঙ্কর এক দেশ দক্ষিণ সুদান। ২০১১ সালের ৯ জুলাই পূর্ব আফ্রিকার স্বাধীন দেশ হিসেবে জন্ম নেওয়া দেশটি শুরু থেকেই অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ভেঙে পড়ে অর্থনীতিও। অশান্ত দেশটিতে শান্তি ফেরাতে নিরলসভাবে কাজ করছে জাতিসংঘ। আর প্রতি মুহুর্তে চোরা বুলেট, বিদ্রোহীদের হঠাৎ হামলা কিংবা বন্যপ্রাণীর আক্রমণে মৃত্যুর ভয় উপেক্ষা করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। মিশনটিতে অসীম সাহসিকতা আর বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা। ফলত দক্ষিণ সুদানের বাসিন্দাদের ‘বিপদের বন্ধু’ হয়ে ওঠেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।

শান্তি প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে মানবিক সাহায্য, রসদ, ওষুধ ও জ্বালানীসহ বিভিন্ন সামগ্রী পৌঁছে দিতে অপরিহার্য এক নাম বাংলাদেশ নৌবাহিনী ফোর্স মেরিন ইউনিট। নৌবাহিনীর সদস্যরা পেশাদারি মনোভাব, কর্তব্যপরায়ণতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে স্থাপন করেছে অনন্য এক নজির। নিজ বাহিনীর সদস্যদের বহুমাত্রিক কর্মযজ্ঞ পরিদর্শন করতে দক্ষিণ সুদান সফর করছেন বাংলাদেশ নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ নৌবাহিনী দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। দক্ষিণ সুদান সফরকালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ‘ইউনাইটেড নেশনস মিশন ইন সাউথ সুদান (আনমিস)’-এ নিয়োজিত ‘বাংলাদেশ ফোর্স মেরিন ইউনিট’ এর সদস্যদের তিনি এই প্রতিশ্রুতির কথা পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন।

নৌবাহিনী নির্ভীকচিত্তে দায়িত্ব পালন করে প্রশংসা কুড়িয়েছে জাতিসংঘেরও
২০১৪ সালে গৃহযুদ্ধে যখন উত্তাল দক্ষিণ সুদান তখন জাতিসংঘের রসদবাহী নৌযানটি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে পড়ে। এরপর জাতিসংঘ বিশেষায়িত একটি বাহিনীর অনুভব করে। তারপর থেকেই নীল নদ পাড়ি দিয়ে প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী, জ্বালানি, ওষুধপত্র ও মানবিক সাহায্য বহনকারী বার্জসমূহের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করে চলেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ফোর্স মেরিন ইউনিট। সফলতার সঙ্গেই হাজারো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে চলেছে বছরের পর বছর। একই সঙ্গে দক্ষিণ সুদানে লড়াইরত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে শান্তি স্থাপন ও যোগাযোগ বাড়াতে কঠিন এবং বিপদজনক পরিস্থিতিতেও অদম্য বাংলাদেশ নৌবাহিনী। যেখানে কাজ করতে ভয় উন্নত বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনী। কিন্তু সেখানে কর্মদক্ষতায় স্বল্পতম সময়ের মধ্যেই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে তাঁরা। বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর হামলার ঝুঁকি ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কাছে হার না মেনে তাঁরা নির্ভীকচিত্তে দায়িত্ব পালন করে প্রশংসা কুড়িয়েছে জাতিসংঘেরও।

  • নৌবাহিনী নির্ভীকচিত্তে দায়িত্ব পালন করে প্রশংসা কুড়িয়েছে জাতিসংঘেরও
  • দক্ষিণ সুদানে উজ্জ্বল ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যত গড়তে বিশেষ ভূমিকায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী
  • দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের জন্য বয়ে আনছে গৌরব ও সম্মান

দক্ষিণ সুদানে উজ্জ্বল ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যত গড়তে বিশেষ ভূমিকায় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী
দক্ষিণ সুদান সফরকালে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন ‘ইউনাইটেড নেশনস মিশন ইন সাউথ সুদান (আনমিস)’-এ নিয়োজিত ‘বাংলাদেশ ফোর্স মেরিন ইউনিট’ এর সদস্যদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, ‘২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ফোর্স মেরিন ইউনিট এই মিশনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। যা দক্ষিণ সুদানের জনগণের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিকে তুলে ধরেছে।

নৌবাহিনীর সদস্যরা সুদানের প্রত্যন্ত এলাকায় নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী, জ্বালানী, ওষুধপত্র ও মানবিক সাহায্য বহনকারী বার্জসমূহের নিরাপদ চলাচলের নিশ্চয়তা বিধান করে। সেই সঙ্গে নৌপথে জলদস্যুতা পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ, অগ্নিনির্বাপণে স্থানীয় জনগণকে সহায়তা প্রদান এবং আহত সামরিক-অসামরিক ব্যক্তিদের উদ্ধার ও জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদানসহ ডুবুরি সহায়তা প্রদানের কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ সুদানে নিয়োজিত মেরিন ইউনিট ছাড়াও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অনেক কর্মকর্তা ও নাবিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পর্যবেক্ষক, স্টাফ অফিসার এবং কন্টিনজেন্ট সদস্য হিসেবে গর্বের সঙ্গে কাজ করছেন। শান্তি, নিরাপত্তা, মানবিক মর্যাদা ও মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর গৃহীত কার্যক্রম দক্ষিণ সুদানের জন্য একটি উজ্জ্বল ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যত গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে।’

দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের জন্য বয়ে আনছে গৌরব ও সম্মান
বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় ১৯৯৩ সাল থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর শান্তিরক্ষীরা উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন এবং অনন্য সুনাম অর্জন করেছেন বলে উল্লেখ করেন নৌবাহিনী প্রধান। এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, ‘এরই ফলে ২০১০ সালে, লেবাননের ভূ-মধ্যসাগরে জাতিসংঘ মেরিটাইম টাস্ক ফোর্সের আওতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দুইটি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ বানৌজা সংগ্রাম লেবাননে নিয়োজিত থেকে দক্ষতা ও পেশাদারিত্ব প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের জন্য গৌরব ও সম্মান বয়ে আনছে। নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের অধীনে আরও জাহাজ এবং বিশেষায়িত ইউনিট মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। জাতিসংঘের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে এবং বিশ্ব মানবতার উন্নয়নে অবদান রাখতে নৌবাহিনী সদা সচেষ্ট।’ তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত সশস্ত্র বাহিনী এবং বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যদের অভিনন্দন জানান এবং তাদের সাফল্য কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য দক্ষিণ সুদানের জনগণের প্রতি শুভকামনা জানান।

সোমবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, এর আগে দক্ষিণ সুদানে নিয়োজিত বাংলাদেশ নৌবাহিনী ফোর্স মেরিন ইউনিটের একটি চৌকস দল নৌবাহিনী প্রধানকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। তিনি গার্ড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। দক্ষিণ সুদানে অবস্থানকালে নৌবাহিনী প্রধান ইউনাইটেড নেশনস মিশন ইন সাউথ সুদানে নিয়োজিত সেক্রেটারি জেনারেল এর বিশেষ প্রতিনিধি (এসআরএসজি), সাউথ সুদানের চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্স (সিডিএফ), ফোর্স কমান্ডার এবং পরিচালক মিশন সাপোর্ট (ডিএমএস) এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এছাড়া নৌবাহিনী প্রধান এই মিশনে নিয়োজিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (ব্যানসেক) পরিদর্শন ও সেখানে কর্মরত শান্তিরক্ষী সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

কালের আলো/এমএএএমকে

এল নিনোর প্রভাবে পাঁচ মাসে সাড়ে ৪ লাখ মৃত্যুর আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪১ অপরাহ্ণ
এল নিনোর প্রভাবে পাঁচ মাসে সাড়ে ৪ লাখ মৃত্যুর আশঙ্কা

চলতি বছরের শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে রেকর্ড দাবদাহ, তীব্র খরা, দাবানল ও পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

এর প্রভাবে আগামী পাঁচ মাসে বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে। খবর এপির।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।

ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের এই ভয়াবহ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অন্যান্য স্বাভাবিক বছরের তুলনায় এ বছরের জুন থেকে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত এল নিনোর প্রভাবে অতিরিক্ত ৪ লাখ ৫১ হাজার মানুষের তাপমাত্রাজনিত মৃত্যু হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে দরিদ্র দেশগুলোতে, যেসব দেশ ইতোমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে খাদ্যসংকট এবং জ্বালানির অতিরিক্ত মূল্যের সঙ্গে লড়াই করছে।

গবেষণার সহ-লেখক ও ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল গ্রিনস্টোন বলেন, ফেব্রুয়ারি নাগাদ এই এল নিনোর প্রভাব শেষ হওয়ার কথা থাকলেও গরমের ঝুঁকি ফেব্রুয়ারির পরও থাকতে পারে।

আবহাওয়ার এই চরম পরিবর্তনের প্রভাব আগামী বছরের গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত অনুভূত হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, এই গবেষণা স্পষ্ট করে, অতিরিক্ত তাপমাত্রা বিশেষ করে সেসব স্থানে বেশি বিপজ্জনক, যেগুলো আগে থেকেই তুলনামূলক উষ্ণ ও দরিদ্র।

গ্রিনস্টোন বলেন, “আপনি যদি আগে থেকেই কোনো তপ্ত অঞ্চলে থাকেন, তাহলে তাপমাত্রা আর কয়েক ডিগ্রি বাড়া মানেই তা জীবনের জন্য বহু গুণ বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠা।”

তিনি বলেন, ধনী দেশগুলোতে সাধারণত শীতাতপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি), নির্ভরযোগ্য পানি সরবরাহ ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বেশি থাকে।

গবেষণায় বিশ্বজুড়ে ২৪ হাজারের বেশি অঞ্চলের স্থানীয় তাপমাত্রার প্রাক্কলন এবং তা মানুষের মৃত্যুতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেই তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষকরা গত তিন দশকের গড় তাপমাত্রার মৃত্যুর হারের সঙ্গে চলতি ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত পুরো এল নিনো সময়ের সম্ভাব্য মৃত্যুর হারের তুলনা করে এই অতিরিক্ত প্রাণহানির হিসাব বের করেছেন।

গ্রিনস্টোন ও তার সহকর্মীদের গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে, জলবায়ুর এই অতিরিক্ত গরমের সবচেয়ে বড় ধকল যাবে গ্লোবাল সাউথের উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির দক্ষিণ প্রান্তের শুষ্ক ‘সাহেল অঞ্চল’ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সেখানে এল নিনোর কারণে সৃষ্ট গরমে অতিরিক্ত প্রায় ৬৬ হাজার ৮০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে।

এ ছাড়া দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গবেষকরা বলেছেন, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া মিলিয়ে প্রায় ১৯ হাজার ৪০০ জন; ইন্দোনেশিয়ায় ১৯ হাজার ৩০০, ভারতে ১৫ হাজার ৮০০ এবং ব্রাজিলে ১৩ হাজার ৩০০ জন মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যু হতে পারে।

এত বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কার বিপরীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারের জন্য কিছু পদক্ষেপের কথা সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এর মধ্যে রয়েছে, দাবদাহের আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, শীতলীকরণ কেন্দ্র, বিনামূল্যে খাবার পানির বুথ স্থাপন, উন্মুক্ত স্থানে কর্মরত শ্রমিকদের সুরক্ষা, হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বয়স্ক ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকা মানুষদের বাড়তি নজরদারির আওতায় আনা।

পাশাপাশি, তাপমাত্রা চরম আকার ধারণ করার আগেই যেন সরকারগুলো জরুরি অর্থ ছাড় ও সম্পদ তৈরি রাখতে পারে, সে জন্য ‘পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়নের’ আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকরা।

এই গবেষণার বাইরে থাকা ভারতভিত্তিক জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অভিযন্ত তিওয়ারি বলেছেন, প্রতিবেদনটি আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য নয়, বরং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ হিসেবে দেখা উচিত।

তিনি বলেন, ভারতের মতো দেশগুলোর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকা এক জিনিস, আর তা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা সম্পূর্ণ অন্য চ্যালেঞ্জ।

এল নিনো মূলত একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র। তবে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইতোমধ্যে উত্তপ্ত হয়ে থাকা এই পৃথিবীতে চলতি বছরের অস্বাভাবিক শক্তিশালী এল নিনো যুক্ত হয়ে চরম তাপমাত্রার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব বলেছে, এল নিনোর সময়ে বিশ্বের স্থলভাগের তাপমাত্রা সাধারণ বছরের চেয়ে প্রায় ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে, যা স্বাভাবিক বছরের তুলনায় ৪৪ শতাংশ বেশি চরম তাপদাহের দিন তৈরি করবে।

সংস্থাটি বলেছে, এ বছরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির চিত্রে বোঝা যাচ্ছে, আজ থেকে প্রায় ২০ বছর পর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পৃথিবীর স্বাভাবিক আবহাওয়া কেমন হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সে কারণেই পৃথিবী আরও উত্তপ্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভবিষ্যতে কী ঘটতে যাচ্ছে, এই এল নিনো তারই একটি আগাম বার্তা দিচ্ছে।

একই সঙ্গে নীতি-নির্ধারকদের জন্য এটি একটি সুযোগ, “ঠিক কোন কোন জায়গায় এখনই জরুরি পদক্ষেপ নিয়ে হাজার হাজার মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব, তা চিহ্নিত করা।”

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

টহল-অভিযানেও বেপরোয়া ছিনতাই,  রাজধানীতে সক্রিয় সহস্রাধিক

কালের আলো রিপোর্ট
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৬ অপরাহ্ণ
টহল-অভিযানেও বেপরোয়া ছিনতাই,  রাজধানীতে সক্রিয় সহস্রাধিক

সন্ধ্যা নামার পর রাজধানীর ব্যস্ত সড়কগুলোতেই যেন বদলে যায় অপরাধের মানচিত্র। আলো-আঁধারির সুযোগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড়, নির্জন সড়ক কিংবা ব্যস্ত এলাকার আশপাশে ওত পেতে থাকে ছিনতাইকারীরা। সুযোগ পেলেই মোটরসাইকেল কিংবা প্রাইভেট কারে এসে পথচারীকে টার্গেট করে মুহূর্তেই কেড়ে নেয় মোবাইল ফোন, টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী। বাধা এলেই ব্যবহার করছে চাপাতি, ছুরি, ক্ষুর, ব্লেড কিংবা আগ্নেয়াস্ত্র। সামান্য একটি ছিনতাই তাই পরিণত হচ্ছে প্রাণঘাতী হামলায়।

  • সন্ধ্যা নামলেই আতঙ্কের ছায়ায় ছিনতাইকারীদের দাপট 
  • মোবাইল-টাকার সঙ্গে যাচ্ছে প্রাণও
  • সাত মাসে সারা দেশে ছিনতাই-দস্যুতা ও ডাকাতির ১ হাজার ২৮৬ মামলা

সংখ্যায়ও স্পষ্ট উদ্বেগ

পুলিশ সদর দপ্তরের মাসিক অপরাধ পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে সারা দেশে ছিনতাই বা দস্যুতা ও ডাকাতির ঘটনায় ১ হাজার ২৮৬টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ছিনতাই বা দস্যুতার মামলা ১ হাজার ৬৮টি এবং ডাকাতির মামলা ৩১৮টি।রাজধানীর চিত্রও স্বস্তিদায়ক নয়। ডিএমপি সদর দপ্তরের হিসাবে, একই সময়ে ঢাকার বিভিন্ন থানায় ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনায় মামলা হয়েছে ২০০টি। এর মধ্যে ডাকাতির মামলা ২২টি এবং ছিনতাই বা দস্যুতার মামলা ১৭৮টি। দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যানেও ছিনতাইয়ের ধারাবাহিক উপস্থিতি দেখা যায়। ২০২৩ সাল থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত তিন বছর সাত মাসে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ছিনতাই ও দস্যুতার অভিযোগে ১ হাজার ৭৪৩টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালে ৫২৩টি মামলা হয়ে সংখ্যাটি সর্বোচ্চ ছিল। ২০২৪ সালে মামলা হয় ৩৯৫টি।

রাজধানীতে সহস্রাধিক সক্রিয়

পুলিশের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর আটটি ক্রাইম জোনেই সক্রিয় ছিনতাইকারীর উপস্থিতি রয়েছে। মিরপুর ও তেজগাঁও বিভাগে পাঁচ শতাধিক, মতিঝিল ও ওয়ারী বিভাগে ৩১৩ জন, রমনা ও লালবাগ বিভাগে ২৮৭ জন এবং উত্তরা ও গুলশান বিভাগে ৪৭৩ জন ছিনতাইকারী সক্রিয় রয়েছে বলে পুলিশের কাছে তথ্য আছে। সব মিলিয়ে রাজধানীতে এক হাজারের বেশি ছিনতাইকারী সক্রিয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এদের বড় একটি অংশ মাদকাসক্ত। মাদকের অর্থ জোগাড়, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা—সব মিলিয়ে ছিনতাইয়ের ধরনও হয়ে উঠছে আগের চেয়ে বেশি সহিংস।

ছিনতাই থেকে হত্যাকাণ্ড

সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করেছে। গত ২৯ আগস্ট ভোরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা-সংলগ্ন এলাকায় রিকশায় থাকা শিক্ষিকা রনজিলা পারভিনকে মোটরসাইকেলে আসা ছিনতাইকারীরা হ্যাঁচকা টান দিলে তিনি রিকশা থেকে পড়ে নিহত হন। একই দিন পুরান ঢাকার কদমতলীতে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন জনি (৩৫)। ৯ সেপ্টেম্বর পল্লবীর এ ব্লক এলাকায় ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন সজীব নামে এক ব্যক্তি। এর আগে ২৬ জুলাই মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজারে ছিনতাইকারীদের হামলায় প্রাণ হারান ফজলে রাব্বি নামের এক যুবক। অর্থাৎ ছিনতাই এখন আর কেবল অর্থ বা মালামাল হারানোর ঘটনা নয়; প্রতিরোধ কিংবা সামান্য বাধাও অনেক ক্ষেত্রে ডেকে আনছে প্রাণঘাতী পরিণতি।

বড় অঙ্কের টাকাও নিরাপদ নয়

ছিনতাইকারীদের লক্ষ্য শুধু পথচারী নয়, বড় অঙ্কের অর্থ বহনকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানও। সম্প্রতি উত্তরা বিমানবন্দর সড়কের ক্রাউন প্লাজার সামনে ডিএল পেট্রল পাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা লুট করে দুর্বৃত্তরা। পালানোর সময় পাম্পের সহকারী ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আল আমিনকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়।মতিঝিলেও এক ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে গুলি করে বৈদেশিক মুদ্রাসহ ১৭ হাজার ডলার ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত ১ মে রাতে মালিবাগ রেলগেটের ইবনে সিনা হাসপাতালের সামনে তিন পোশাকশ্রমিক—করিমন, নবী ও রিফাত—ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন।

বাড়ছে টহল, কাটছে না আতঙ্ক

ছিনতাই নিয়ন্ত্রণে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে ডিএমপি। আটটি ক্রাইম জোনের ওসিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন ডিএমপি কমিশনার। অপরাধপ্রবণ এলাকায় টহল বাড়ানোর পাশাপাশি সিটিটিসি, ডিবি ও ক্রাইম বিভাগের সমন্বয়ে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি ও অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছেন তিনি।

ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলামও বলেছেন, ডাকাতি-ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গোয়েন্দা পুলিশ তৎপর রয়েছে।তবে মাঠের বাস্তবতা বলছে, অভিযান ও টহলের পাশাপাশি ছিনতাইকারীদের পুনরায় অপরাধে ফিরে আসা ঠেকানোও বড় চ্যালেঞ্জ। মাদক, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এবং দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ—এসব কারণ চিহ্নিত করে সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা না নিলে শুধু অভিযান দিয়ে পরিস্থিতি কতটা বদলানো যাবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

রাজধানীবাসীর কাছে তাই সন্ধ্যার পরের শহর ক্রমেই হয়ে উঠছে অনিশ্চয়তার জায়গা। রাস্তা ব্যস্ত থাকলেও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা মিলছে না—আর সেই ফাঁকেই ছিনতাইকারীরা খুঁজে নিচ্ছে তাদের পরবর্তী ‘শিকার’।

কালের আলো/এসআর/এএএন

হাসিনার দেশত্যাগ নিয়ে কলকাতায় টেলিছবি, প্রদর্শনী ২৬ সেপ্টেম্বর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩২ অপরাহ্ণ
হাসিনার দেশত্যাগ নিয়ে কলকাতায় টেলিছবি, প্রদর্শনী ২৬ সেপ্টেম্বর

এবার বাংলাদেশের পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে ছবি নির্মাণ করেছেন তার অনুসারী প্রবাসীরা।

তারা সবাই কার্যক্রম নিষিদ্ধ শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত। বাংলাদেশের পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে কলকাতা ও নয়াদিল্লিতে এই টেলিছবি প্রদর্শীত হবে।

ছয় দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন তারা। তার অংশ হিসেবে টেলিছবি ‘আমি শেখ মুজিবের মেয়ে’-র উদ্বোধন হবে কলকাতায়।

আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর, শনিবার সল্টলেকে উন্নয়ন ভবনে সন্ধ্যায় মিনিট পঞ্চাশের ছবিটি দেখানো হবে।

গত এক বছর ধরে কলকাতায় ওই ছবির শুটিং হয়েছে। ছবিটির চিত্রনাট্য ও পরিচালনা করেছেন সহিদ রাহমান।

তিনি বলেন, ‘এটা কোনও রাজনৈতিক ছবি নয়। কেন ও কোন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে দেশ ছাড়তে হল, তা তুলে ধরা হয়েছে।’

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সল্টলেকে এক সাংবাদিক সম্মেলনে আমেরিকা, কানাডা, গ্রিস, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের আওয়ামী লীগপন্থি প্রবাসী বাংলাদেশিরা ছিলেন।

তারা জানিয়েছেন, তারা যেসব দেশে থাকেন, সেখানের প্রশাসন ও বিভিন্ন রাষ্ট্রদূতদের কাছে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরছেন।

অস্ট্রেলিয়া আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি মোল্লা হক বলেন, অস্ট্রেলিয়ার তিনজন মন্ত্রী এবং একজন সিনেটরের সঙ্গে আমি নিজে যোগাযোগ করে বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরেছি।

কানাডার আওয়ামী লীগের সভাপতি সারওয়ার হোসেন বলেন, শেখ হাসিনার সঙ্গে ডিসেম্বরে আমরাও বাংলাদেশে ফিরব। কেউ আটকাতে পারবে না।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ