খুঁজুন
                               
, ,
           

রমজানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে কাটছে দুশ্চিন্তা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১২:৩২ পূর্বাহ্ণ
রমজানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে কাটছে দুশ্চিন্তা

কালের আলো রিপোর্ট:

আসছে গরমের দিন। চাহিদা বাড়বে বিদ্যুতের। ফলে গরমে বিদ্যুতের চাহিদা দাঁড়াতে পারে ১৮ হাজার মেগাওয়াট। এর ফলে ৭০০ থেকে ১৪০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হতে পারে। তবে পুরো রমজান মাসকে লোডশেডিং মুক্ত রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান স্বয়ং এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ফলে রমজানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটতে শুরু করেছে।

জানা যায়, আগামী মার্চ দেশে গরম পড়তে শুরু করবে। একই মাসে শুরু হবে পবিত্র রমজান। শিগগিরই শুরু হচ্ছে সেচ মৌসুম। এ তিনে মিলে এবারের গ্রীষ্মে বিদ্যুতের বাড়তি চাপ থাকবে। এজন্য বিদ্যুতের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত না হলে লোডশেডিং বাড়বে। বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীরা এবার গরমে সর্বোচ্চ চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন। আর চাহিদা ও সরবরাহে পার্থক্য বেশি হলে ভোগান্তিতে পড়বে সাধারণ মানুষ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বকেয়া না পাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী উদ্যোক্তারা প্রাথমিক জ্বালানি কিনতে পারছেন না। দিনদিন সরকারের কাছে বকেয়ার পরিমাণ বাড়ছেই। গ্যাসের সংকট তীব্র হচ্ছে। এই অবস্থায় পরিস্থিতি সামাল দিতে হলে উচ্চ দামের ডিজেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো চালাতে হবে। এতে সরকারের ব্যয় ও লোকসান দুটোই বেড়ে যাবে। এ ছাড়া লোডশেডিং হলে মাঠ পর্যায়ে সেচেও ডিজেলচালিত সেচপাম্পের খরচ বাড়বে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র মতে, বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে উৎপাদন সক্ষমতার কোনো ঘাটতি নেই। তবে ঘাটতি আছে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লা, এলএনজি ও জ্বালানি তেলের সরবরাহে। চাহিদা মতো জ্বালানি না পাওয়ায় গেল দু’বছর গ্রীষ্ম মৌসুমে ব্যাপক লোডশেডিংয়ে ভুগতে হয়েছে গ্রাহককে। এবার গ্রীষ্ম মৌসুমে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ধরা হয়েছে প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট। গত বছরের চেয়ে চাহিদা বেড়েছে ১১ শতাংশের মতো। একই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতাও বেড়েছে একই হারে। তবে গত বছরের মতোই সক্ষমতার বড় একটি অংশ বসিয়ে রাখতে হতে পারে জ্বালানির অভাবে।

একই সূত্র জানায়, বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে উৎপাদন সক্ষমতার কোনো ঘাটতি নেই। তবে ঘাটতি আছে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য কয়লা, এলএনজি ও জ্বালানি তেলের সরবরাহে। চাহিদা মতো জ্বালানি না পাওয়ায় গেল দু’বছর গ্রীষ্ম মৌসুমে ব্যাপক লোডশেডিংয়ে ভুগতে হয়েছে গ্রাহককে। এবার গ্রীষ্ম মৌসুমে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা ধরা হয়েছে প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট। গত বছরের চেয়ে চাহিদা বেড়েছে ১১ শতাংশের মতো। একই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতাও বেড়েছে একই হারে। তবে গত বছরের মতোই সক্ষমতার বড় একটি অংশ বসিয়ে রাখতে হতে পারে জ্বালানির অভাবে। যদিও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, বেসরকারি কেন্দ্রগুলোর বিদ্যুৎ সরবরাহ যাতে বন্ধ করতে না হয়, সেজন্য তাদের বকেয়াও পরিশোধ করা হবে। সম্পূর্ণ হয়ত করা যাবে না।

বুধবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিদ্যুৎ ভবনে আসন্ন রমজান ও সেচ মৌসুমে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এই উপদেষ্টা বলেছেন, আসন্ন গরম মৌসুমে (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) সাতশ থেকে সর্বোচ্চ ১৪শ মেগাওয়াট লোডশেডিং হতে পারে। গ্রীষ্মে বিদ্যুতের চাহিদা ধরা হয়েছে ১৮ হাজার মেগাওয়াট। তবে রমজানে লোডশেডিং মুক্ত রাখতে চেষ্টা করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রমজানে বিদ্যুতের চাহিদা হবে ১৫ হাজার ৭শ মেগাওয়াট।

এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, বিদ্যুতের ক্ষেত্রে প্রাথমিক জ্বালানি গ্যাসের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। রমজানে লোডশেডিং মুক্ত রাখতে অতিরিক্ত চার কার্গো গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করব। বিদ্যুৎ উৎপাদনে এখন ৯০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। রমজান মাসের জন্য ১২০ কোটি ঘনফুট এবং এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১১০ কোটি গ্যাস সরবরাহ করা হবে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়বে। গ্রীষ্মে মূলত সেচ ও এয়ারকন্ডিশনের জন্য চাহিদা বেড়ে যায়। আমরা সেচে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ দিতে চাই। তবে এয়ারকন্ডিশনের লোড কমানোর চেষ্টা করা হবে।

ফাওজুল কবির খান বলেন, প্রাথমিক জ্বালানি সমস্যার কারণে লোডশেডিং করতে হয়। রোজা এবং গ্রীষ্মে মৌসুমে কী পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংক ও অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছি। যাতে করে জ্বালানি আমদানি করতে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট না হয়।

লোডশেডিংয়ের কারণ সম্পর্কে বিদ্যুৎ উপদেষ্টা বলেন, আর্থিক কারণে নয়, অপচয়ের কারণে লোডশেডিং বেশি হয়। তিনি বলেন, গ্রীষ্মে কুলিং লোডের (এসির লোড) পরিমাণ হচ্ছে ৬ হাজার মেগাওয়াট। আমরা যদি এসি তাপমাত্রা ২৪-২৫ রেখে চালাই, তাহলে দুই হাজার থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট সাশ্রয় করা সম্ভব। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এবার লোডশেডিং করার ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য করা হবে না। ঢাকা থেকে লোডশেডিং শুরু হবে। শহর গ্রামে সমান লোডশেডিং হবে।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দুটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেসব কমিটির প্রতিবেদন পাওয়া গেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, বড় কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি পর্যালোচনায় যে কমিটি কাজ করছে, তাদের আইনি সহায়তা প্রয়োজন। সেটি নিয়ে কাজ চলছে। এছাড়া ট্যারিফ পুনর্মূল্যায়নের জন্য গঠিত কমিটি কাজ করছে। তিনি বলেন, কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের বিদ্যুতের দামের বিষয়ে একটি বেঞ্চমার্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। মাতারবাড়ি কেন্দ্রের ইউনিট প্রতি খরচ হচ্ছে ৮ টাকা ৪০ পয়সা। এখন এই বেঞ্চমার্ক ধরে অন্যান্য কেন্দ্রের চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।

কালের আলো/আরআই/এমকে

জিম থেকে বের হতেই গুলি,হরিয়ানভি গায়ক অঙ্কিত বালিয়ানকে হত্যা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:৩৫ অপরাহ্ণ
জিম থেকে বের হতেই গুলি,হরিয়ানভি গায়ক অঙ্কিত বালিয়ানকে হত্যা

ভারতের উত্তর প্রদেশের শামলিতে জিম থেকে বের হওয়ার পর গুলিতে নিহত হয়েছেন হরিয়ানভি গায়ক ও ইউটিউবার অঙ্কিত বালিয়ান। হামলার পুরো ঘটনা ধরা পড়েছে সিসিটিভি ক্যামেরায়। ফুটেজে দেখা যায়, চার অস্ত্রধারী অঙ্কিতকে অনুসরণ করে তাঁর ওপর গুলি চালাচ্ছে। প্রায় ২৫ সেকেন্ড ধরে চলে এ হামলা।

৩৫ বছর বয়সী অঙ্কিত গত বুধবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে শামলির একটি জিম থেকে বের হন। হাতে ছিল কিট ব্যাগ। এরপর নিজের গাড়ির দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় চার ব্যক্তি তাঁকে অনুসরণ করতে থাকে। তাঁদের একজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।

অঙ্কিত গাড়ির কাছে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা গুলি চালাতে শুরু করে। একের পর এক গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে। পথচারী ও স্থানীয় দোকানিরা ভয়ে নিজেদের আড়াল করেন। কেউ কেউ দোকানের ভেতর থেকে পরিস্থিতি দেখার চেষ্টা করলেও গুলির শব্দ চলতে থাকায় দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় মোট ১২টি গুলি ছোড়া হয়েছে। আতঙ্ক তৈরি করতে হামলাকারীরা কয়েকটি গুলি শূন্যেও ছোড়ে। তাঁদের কাছে .৩০ ও .৩২ ক্যালিবারের পিস্তল ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অঙ্কিতকে স্থানীয় একটি কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের পর তাঁর শরীরে কতটি গুলি লেগেছিল এবং আঘাতের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

ঘটনাস্থল হরিয়ানা সীমান্ত থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে। হামলাকারীরা হরিয়ানা থেকে শামলিতে এসে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

শামলির বান্টি খেদা গ্রামের বাসিন্দা অঙ্কিত বালিয়ান হরিয়ানভি সংগীতজগতে পরিচিত ছিলেন। ইউটিউবেও তাঁর উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয়তা ছিল। তাঁর চ্যানেলের গ্রাহকসংখ্যা ৩ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি।

অঙ্কিতের গানের ভিডিওতে প্রায়ই বন্দুক, সংঘর্ষ ও বিলাসবহুল এসইউভির উপস্থিতি দেখা যেত। তাঁর বেশ কিছু গানের কথায় উঠে আসত সহিংসতা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা, দাপট ও শত্রুতার বিষয়। কয়েকটি গান ইউটিউবে লাখ লাখবার দেখা হয়েছে।

তাঁর জনপ্রিয় গানগুলোর একটি ‘ভারি কোর্ট ম্যায় গোলি মারেঙ্গে মেরি জান’। গানটির অর্থ দাঁড়ায়, ‘আদালতের মধ্যেই তোমাকে গুলি করব, প্রিয়’।

তবে অঙ্কিতের মৃত্যুর সঙ্গে সবচেয়ে আলোচিত হয়ে উঠেছে তাঁর শেষ ইনস্টাগ্রাম পোস্ট।

মৃত্যুর মাত্র দুই ঘণ্টা আগে বুধবার ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করেন অঙ্কিত। সেখানে তাঁকে গাড়িতে বসে একটি হরিয়ানভি গান গাইতে দেখা যায়। গানের একটি লাইনের অর্থ-‘রাস্তায় হত্যা করো’।

এর কয়েক ঘণ্টা পরই রাস্তায় হামলার শিকার হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। ফলে অঙ্কিতের শেষ পোস্টটি এখন অনেকের কাছে এক অস্বস্তিকর কাকতালীয় ঘটনা হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

অঙ্কিত হত্যার দায় স্বীকার করেছে কুখ্যাত গোগি গ্যাং। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে গ্যাংটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অঙ্কিত তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। এমনকি গ্যাং-সংশ্লিষ্ট একটি ঘটনার ওপর তিনি গান তৈরি করেছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

গ্যাং-সংশ্লিষ্ট বলে পরিচিত ভোলু শাহপুরিয়ার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকেও একটি হুমকিমূলক পোস্ট দেওয়া হয়েছে। সেখানে আরও হামলার ইঙ্গিত দিয়ে বলা হয়েছে, ‘এটা কেবল শুরু, সবার পালা আসবে।’

পোস্টটিতে উত্তর প্রদেশ পুলিশকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

অঙ্কিতের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে চার অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছে পুলিশ। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে তাঁরা কোথা থেকে এসেছিল এবং হামলার পর কোন পথে পালিয়ে গেছে, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

সুত্রঃইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে

কালের আলো/এসএ

সৌদি অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর ৭ প্রবাসীর জানাজা সম্পন্ন

নওগাঁ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:২৯ অপরাহ্ণ
সৌদি অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর ৭ প্রবাসীর জানাজা সম্পন্ন

সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে নিহত নওগাঁর সাত প্রবাসীর জানাজার নামাজ একসঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় জানাজা শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

শুক্রবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে আত্রাই উপজেলার মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে নিহত সাতজনের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য ও বিপুলসংখ্যক স্থানীয় মানুষ অংশ নেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে সৌদি আরবের অগ্নিকাণ্ডে নিহত নয়জনের মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। তাদের মধ্যে সাতজনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। পরে প্রশাসনের সহায়তায় রাত দেড়টার দিকে মরদেহগুলো আত্রাইয়ে পৌঁছায়।

জানাজা শেষে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে নিজ নিজ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।

নিহতদের জানাজায় নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব আলমসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু জানান, নিহতদের পরিবারকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

সৌদি দূতাবাসের পাঠানো তালিকা অনুযায়ী নিহত সাতজন হলেন—আত্রাই উপজেলার উদনপৈ গ্রামের ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের রুবেল প্রামাণিক, মোহন আলী, সুমন আলী ও কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আব্দুল জলিল সরদার।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

ঋণের নামে তথ্য চুরি ও হয়রানি, ৩১ অ্যাপ নিয়ে সতর্কতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:১৭ অপরাহ্ণ
ঋণের নামে তথ্য চুরি ও হয়রানি, ৩১ অ্যাপ নিয়ে সতর্কতা

সহজ শর্তে দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখানো অনুমোদনহীন মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। একই সঙ্গে এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঋণ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এক সতর্কবার্তায় বিএফআইইউ জানায়, বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপ ব্যবহার করে দ্রুত ও সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। এসব অননুমোদিত অ্যাপ ব্যবহারকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, মোবাইল ফোনের যোগাযোগ তালিকা, ছবি ও অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করছে।

পরবর্তী সময়ে ঋণ আদায়ের নামে গ্রাহকদের ওপর অযাচিত চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি দেখানো, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও আর্থিক নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে জানিয়েছে বিএফআইইউ।

সংস্থাটি বলেছে, বাংলাদেশে ঋণ প্রদান একটি নিয়ন্ত্রিত আর্থিক কার্যক্রম। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন এবং প্রচলিত আইন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো অনুসরণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না।

বিএফআইইউর নজরে আসা ৩১টি অবৈধ বা অননুমোদিত ঋণদাতা অ্যাপের মধ্যে রয়েছে—সাথী লোন, পপক্যাশ, ফিনক্যাশ, কুইক লোন, কুইক টাকা, ঢাকা ফিন, লোনভাইব, দোস্ত লোন, টাকা ক্যাশ লোন, কেওয়নজা লোন, এসএসএইচ মানি, লোনবাডি, সাথি লোন, ক্যাশহোরা, আলো ক্যাশ, ফাস্ট লোন, ইজি টাকা, ধৈর্য লোন, ফিন ডট ডু, বঙ্গক্যাশ, আশা লোন, সুবিধা লোন, স্মার্ট লোন বিডি, অনলাইন লোন বিডি, সিটি অনলাইন লোন, বিডি সহজ লোন, ক্যাশ লোন, সোনালী, লোনহাট ও টাকানাও।

বিএফআইইউ বিশেষভাবে সতর্ক করে বলেছে, ঋণের প্রলোভনে অপরিচিত কোনো অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্মে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক হিসাবের তথ্য, ব্যক্তিগত ছবি, মোবাইলের যোগাযোগ তালিকা কিংবা অন্য কোনো সংবেদনশীল তথ্য দেওয়া যাবে না। ঋণ দেওয়ার আগে অগ্রিম টাকা, নিবন্ধন ফি বা প্রসেসিং ফি দাবি করা হলেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ধরনের অননুমোদিত ঋণ কার্যক্রমে প্রতারণা, আর্থিক অপরাধ ও মানিলন্ডারিংয়ের ঝুঁকি রয়েছে উল্লেখ করে সংস্থাটি সবাইকে এসব কার্যক্রম থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

এ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ ধরনের অবৈধ ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে বা কোনো অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপের মাধ্যমে মানুষকে প্রতারিত করছে—এমন তথ্য জানা থাকলে বিএফআইইউর কাছে অভিযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি