‘কর্নেল অব দি রেজিমেন্ট’ হিসেবে অভিষিক্ত হলেন সেনাপ্রধান, ইন্ডিজেনাস ডিফেন্স ইন্ডাষ্ট্রি তৈরির কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা
প্রকাশিতঃ 10:18 pm | February 27, 2025

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের সপ্তম ‘কর্নেল অব দি রেজিমেন্ট’ হিসেবে অভিষিক্ত হয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজশাহী সেনানিবাসে বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টারে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সপ্তম ‘কর্নেল অব দি রেজিমেন্ট’ হিসেবে তিনি অভিষিক্ত হন। এ সময় প্রচলিত রীতি অনুযায়ী তাঁকে রেজিমেন্টের কর্নেল র্যাঙ্ক পরিয়ে দেওয়া হয়। পরে অভিষেক অনুষ্ঠানে ইন্ডিজেনাস ডিফেন্স ইন্ডাষ্ট্রি তৈরির কার্যক্রম শুরুর কথা জানিয়ে বলেছেন, এর ফলে আমাদের সক্ষমতা ও আত্মনির্ভরতাও অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে।’
রেজিমেন্টের সপ্তম কর্নেল অব দি রেজিমেন্ট হিসেবে নির্বাচিত করার জন্য সেনাপ্রধান সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘রেজিমেন্টের প্রত্যেকটি সদস্যকে পেশাদার ও প্রশিক্ষিত হিসেবে গড়ে তুলতে আমি সর্বদা বদ্ধপরিকর। পেশাগত দক্ষতার পাশাপাশি একটি সুন্দর জীবনমানও আমাদের কাম্য। যেকোনো কল্যাণমুখী কার্যক্রমের জন্য আমি সর্বদা সচেষ্ট থাকব। এ ব্যাপারে আমি রেজিমেন্টের সব সদস্যের সহযোগিতা কামনা করছি।’
স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত প্রথম পদাতিক রেজিমেন্ট বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের কথা তুলে ধরে সেনাপ্রধান বলেন, ‘বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্ট ২০০১ সালের পহেলা জানুয়ারি প্রতিষ্ঠা লাভের পর অতি অল্প সময়ের মধ্যেই কঠোর পরিশ্রম, সময়োপযোগী পরিকল্পনা এবং দেশপ্রেমের দৃঢ় অঙ্গীকারের মাধ্যমে আজকের এই মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে আসীন হয়েছে। ‘দুর্জয়, দুরন্ত নির্ভীক’ মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত এই রেজিমেন্ট কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১১ সালে জাতীয় পতাকা লাভের দুর্লভ সম্মানে ভূষিত হয়েছে।’
নিজের বক্তব্যে সেনাপ্রধান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের ৫ জন বীর বিক্রম ও ২৭ জন বীর প্রতীক সেনা সদস্যকে। তিনি বলেন, ‘এই রেজিমেন্টের ৬০ জন অন্যান্য সদস্য গভীর দেশপ্রেম ও অসীম বীরত্বের সঙ্গে দেশের জন্য নিজেদের জীবন বিসর্জন দিয়েছেন। আমি সকল শহীদদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।’
বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের কর্নেল অব দি রেজিমেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিতে পেরে অত্যন্ত গর্বিত উল্লেখ করে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আরও বলেন, ‘আপনারা সকলে অবগত আছেন, একনিষ্ঠ উদ্যোগের ফলে বিগত কয়েক বছরে বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্ট তথা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। এজন্য নতুন নতুন ইউনিট প্রতিষ্ঠা, আধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জামাদিসহ উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম অন্তর্ভূক্ত রয়েছে। আমি কর্নেল অব দি রেজিমেন্ট হিসেবে ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের আভিযানিক সক্ষমতা ও যুদ্ধ উপযুক্ততা বৃদ্ধির চলমান প্রক্রিয়াকে আরও বেগবান করবো ইনশাআল্লাহ। যুগোপযোগী ও আধুনিক প্রযুক্তির যেকোন প্রয়োজনীয় যুদ্ধাস্ত্র ও সরঞ্জাম যোগান দেওয়ার বিষয়ে আমি সর্বদা সচেষ্ট থাকবো। ইতোমধ্যেই আমরা ইন্ডিজেনাস ডিফেন্স ইন্ডাষ্ট্রি তৈরির কার্যক্রম শুরু করেছি। যা আমাদের সক্ষমতা ও আত্মনির্ভরতাও অনেকাংশে বৃদ্ধি পাবে।’
সেনাপ্রধান আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি আশা করবো বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের প্রতিটি সদস্য তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সর্বোচ্চ শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করবে। এই রেজিমেন্টের প্রতিটি সদস্য দেশের যেকোন প্রয়োজনে স্বত:স্ফূর্তভাবে দায়িত্ব পালন করবে এবং প্রয়োজনে নিজের জীবন বিসর্জন দিতে সর্বদা প্রস্তুত থাকবে।’ এর আগে তিনি ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টের সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক প্যারেড পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
কালের আলো/এমএএএমকে