‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠা করতে চায় জাতীয় নাগরিক পার্টি

প্রকাশিতঃ 7:15 pm | February 28, 2025

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

সব জল্পনা-কল্পনা শেষে তরুণদের আকাক্সক্ষা পূরণের ঘোষণা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে নতুন রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে এই দলের নাম ঘোষণা করেন শহীদ মো. ইসমাইল হাসান রাব্বির বোন মিম আক্তার। এসময় তিনি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিদায়ী উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামকে আহ্বায়ক এবং সদস্য সচিব হিসেবে আখতার হোসেনের নাম ঘোষণা করেন। মিম আক্তার বলেন, ‘আপনাদের মনে আছে- গত ৫ আগস্ট দুই বোনের কাঁধে ভাইয়ের লাশ; সে দুই বোনের মধ্যে আমি একজন। ইতিহাসে এমন ঘটনা ঘটে নাই। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে রাজনৈতিক দলের নাম জাতীয় নাগরিক পার্টি ঘোষণা করছি।’

নতুন রাজনৈতিক দলটির আহ্বায়ক পদে আসা মো. নাহিদ ইসলাম একটি লিখিত বক্তব্যে নতুন এই দল গঠনের প্রেক্ষাপট, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলো তুলে ধরেন। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ের সূচনা করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক নতুন সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে আমাদের সাংবিধানিক স্বৈরতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সব সম্ভাবনার অবসান ঘটাতে হবে। আমাদের সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার জন্য গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন আমাদের অন্যতম প্রাথমিক লক্ষ্য।’

সেকেন্ড রিপাবলিক কেমন হবে, তার রূপরেখাও লিখিত বক্তব্যে তুলে ধরেছেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় শক্তিশালী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। ভেঙে পড়া রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় গড়ে তোলা এবং সেগুলোর গণতান্ত্রিক চরিত্র রক্ষা করা হবে তাঁদের রাজনীতির অগ্রাধিকার। এর মধ্য দিয়েই একটি পরিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে আবির্ভূত হওয়া যাবে বলে উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম।

বিকেল সোয়া ৪টার দিকে জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান শুরু হয়। শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয়। এরপর পবিত্র গীতা, ত্রিপিটক ও বাইবেল থেকে পাঠ করা হয়। ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের পর জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এরপর জুলাই আগস্টে নিহতদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং নিজ নিজ ধর্মমতে তাদের জন্য দোয়া করা হয়।

  • কানায় কানায় পূর্ণ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ
  • গণতান্ত্রিক, সমতাভিত্তিক ও জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দল হবে এনসিপি : নাহিদ ইসলাম
  • সংবিধান সংস্কারের জন্য গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি সদস্য সচিব আখতার হোসেনের
  • বিভাজনের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে একতার রাজনীতি চালুর প্রত্যয় হাসনাতের
  • বুকের রক্ত ঢেলে দেশ স্বাধীন করেছি, বললেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

এর আগে স্লোগানে স্লোগানে মিছিল নিয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জড়ো হন বিপুলসংখ্যক ছাত্র-জনতা। জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশ ঘিরে পতাকা হাতে মিছিল নিয়ে উচ্ছ্বাস করেন তারা। দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা, মহানগর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে হাজির হন ছাত্র-জনতা। কানায় কানায় পূর্ণ মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ। জাতীয় নাগরিক পার্টির আত্মপ্রকাশের অনুষ্ঠানে সার্বিক নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সরেজমিনে দেখা যায়, এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে মেডিকেল টিম, অস্থায়ী ওয়াশ রুম, পুলিশ বুথ, নারীদের জন্য বুথ, ভিআইপি বুথ ও পানির ব্যবস্থা করা হয়। সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিও বিশেষভাবে লক্ষ্য করা গেছে।

অনুষ্ঠানে যোগ দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির আহমেদ আলী কাসেমী, বিকল্পধারার নেতা মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমেদ, লেবার পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ইসলামী ঐক্য জোটের সহসভাপতি জসিম উদ্দিন, বিএলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমেদ আবদুল কাদের। এছাড়া অনুষ্ঠানে কূটনৈতিকদের মধ্যে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের পক্ষে একজন কাউন্সিল অংশ নিয়েছেন বলে মঞ্চ থেকে জানানো হয়।

গণতান্ত্রিক, সমতাভিত্তিক ও জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দল হবে এনসিপি
জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা বিপুল আত্মত্যাগের মাধ্যমে এক অভূতপূর্ব অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে জেঁকে বসা ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটিয়েছে বলে নিজের বক্তব্যে উল্লেখ করেন আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমাদের স্মরণ রাখতে হবে, হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই নতুন স্বাধীনতা কেবল একটি সরকার পতন করে আরেকটি সরকার বসানোর জন্যই ঘটেনি। জনগণ বরং রাষ্ট্রের আষ্টেপৃষ্ঠে জেঁকে বসা ফ্যাসিবাদী-ব্যবস্থা বিলোপের মাধ্যমে একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের আকাক্সক্ষা থেকে এই অভ্যুত্থানে সাড়া দিয়েছিল, যেন জনগণের অধিকারভিত্তিক একটি রাষ্ট্র পুনর্গঠিত হয়।’ এই লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করেন নাহিদ ইসলাম। তাঁর ঘোষণায়, এই দল হবে একটি গণতান্ত্রিক, সমতাভিত্তিক ও জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দল।

জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাহিদ বলেন, তাঁরা এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশ চান, যেখানে সমাজে ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরে বিভেদের বদলে ঐক্য, প্রতিশোধের বদলে ন্যায়বিচার এবং পরিবারতন্ত্রের বদলে মেধা ও যোগ্যতার মানদণ্ড প্রতিষ্ঠিত হবে। তাঁদের রাজনীতিতে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির কোনো স্থান হবে না।’ সেকেন্ড রিপাবলিকে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বরকে মূলধারায় তুলে আনা হবে বলে জানান নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের রিপাবলিকে সাধারণ মানুষ, একমাত্র সাধারণ মানুষই হবে ক্ষমতার সর্বময় উৎস। তাদের সব ধরনের গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকারের শক্তিশালী সুরক্ষাই হবে আমাদের রাজনীতির মূলমন্ত্র। আমরা রাষ্ট্রে বিদ্যমান জাতিগত, সামাজিক, লিঙ্গীয়, ধর্মীয় আর সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ ও বৈচিত্র্য রক্ষার মাধ্যমে একটি বহুত্বপূর্ণ ও সমৃদ্ধ সমাজ বিনির্মাণ করতে চাই। আমাদের রিপাবলিক সব নাগরিককে দারিদ্র্য, বৈষম্য ও ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে শক্তিশালী সুরক্ষা প্রদান করবে। আমাদের সেকেন্ড রিপাবলিকে বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর কোনো অংশকেই অপরায়ণ করা হবে না; বরং রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিককে সমান গুরুত্ব প্রদান ও সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’

জাতীয় নাগরিক পার্টির অর্থনৈতিক পরিকল্পনা তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, তাঁরা কৃষি-সেবা-উৎপাদন খাতের যথাযথ সমন্বয়ের মাধ্যমে এমন একটি জাতীয় অর্থনীতি গড়ে তুলতে চান, যেটা হবে স্বনির্ভর, আয়-বৈষম্যহীন ও প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশের প্রতি সংবেদনশীল। নাহিদ ইসলাম বলেন, অর্থনীতিতে সম্পদ একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে পুঞ্জীভূত হবে না; বরং সম্পদের সুষম পুনর্বণ্টন হবে তাঁদের অর্থনীতির মূলমন্ত্র। বেসরকারি খাতের সিন্ডিকেট ও গোষ্ঠীস্বার্থ নিয়ন্ত্রণে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ভোক্তা ও জনস্বার্থ সংরক্ষণে কাজ করবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। নাহিদ বলেন, ‘অর্থনৈতিক অগ্রগতির মাধ্যমে এই অঞ্চলের একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে আমরা আঞ্চলিক সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব নিশ্চিত করব এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তি খাতে জোর দিয়ে উদ্ভাবনী সংস্কৃতি গড়ে তোলার মাধ্যমে একটি টেকসই, আধুনিক অর্থনীতি গড়ে তুলব।’

ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাক্সিক্ষত সেকেন্ড রিপাবলিক প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে দৃঢ়চিত্তে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নাহিদ ইসলাম। ‘আমাদের দেশ, আমাদের অধিকার, আমাদের ভবিষ্যৎ-আমাদের সেকেন্ড রিপাবলিক অধরা কোনো স্বপ্ন নয়, এটি আমাদের প্রতিজ্ঞা’ বলে বক্তব্য শেষ করেন তিনি।

সংবিধান সংস্কারের জন্য গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি সদস্য সচিব আখতার হোসেনের
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নামে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশের পরপরই সংবিধান সংস্কারের জন্য গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। শহীদ মো. ইসমাইল হাসান রাব্বির বোন মিম আক্তার দলটির নাম ঘোষণার পরই বক্তব্য রাখেন দলটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, আপনারা দোয়া করবেন বাংলাদেশের তরুণ সমাজ আজকে যে দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছে মহান রাব্বুল আলামিন যেন আমাদের সেই দায়িত্ব পালনের তৌফিক দেন। আখতার আরও বলেন, তরুণরা স্বপ্ন দেখে আগামী বাংলাদেশ নতুন এক সংবিধানের মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে। সেই স্বপ্ন নিয়ে গণপরিষদ নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আমি আমার বক্তব্য শেষ করছি।

এর আগে আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের নাম ঘোষণার পর দলের আংশিক অর্গ্যানোগ্রাম পড়ে শোনান আখতার হোসেন। কমিটিতে মোট ১৫১টি পদ রয়েছে। আখতার হোসেন বলেন, নতুন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রয়েছেন সামান্তা শারমিন ও আরিফুল ইসলাম আদীব। জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব পদে রয়েছেন তাসনিম জারা ও নাহিদা সারওয়ার নিভা। মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) পদে রয়েছেন হাসনাত আবদুল্লাহ এবং মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) পদে রয়েছেন সারজিস আলম।

আখতার হোসেন আরও জানান, নতুন দলের মুখ্য সমন্বয়ক পদে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক পদে আবদুল হান্নান মাসউদ দায়িত্ব পালন করবেন। পরে দলের যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম সদস্যসচিব ও যুগ্ম মুখ্য সংগঠকদের নাম ঘোষণা করেন তিনি।

বিভাজনের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে একতার রাজনীতি চালুর প্রত্যয় হাসনাতের
বিভাজনের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে বাংলাদেশে একতার রাজনীতি চালু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নতুন রাজনৈতিক দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠকের দায়িত্ব পেতে যাওয়া হাসনাত আব্দুল্লাহ। শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা এতদিনে ভূখণ্ডের অধিকার আদায় করতে পারিনি। বিদেশের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক থাকবে কিন্তু প্রেসক্রিপশনের সম্পর্ক থাকবে না। তিনি বলেন, যতদিন না পর্যন্ত এদেশ থেকে পরিবারতন্ত্র কবরস্থ হবে আমরা ততদিন লড়ে যাবো। এদেশে কামারের ছেলে মন্ত্রী হবে, কুমারের ছেলে প্রধানমন্ত্রী হবে। যোগ্যতার ভিত্তিতে দেশের নেতৃত্ব গড়ে উঠবে। আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই, এখানে ভেদাভেদ থাকবে না, মতামত-দ্বিমত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই নেতা আরও বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের আন্দোলনের পর আমরা সংসদ ভবনকে স্বৈরাচার মুক্ত করেছি। দেড় দশকের বেশি সময় ধরে আমাদের দেশে ছিল বিচারহীনতার সংস্কৃতি। আপনারা দেখেছেন বিডিআর হত্যাকাণ্ডকে বিডিয়ার বিদ্রোহ হিসেবে চালানো হয়েছে। শাপলা চত্বরে আমাদের দাড়ি টুপিওয়ালা ভাইদের রাতের অন্ধকারে কীভাবে গণহত্যা চালানো হয়েছে। কীভাবে তাদের থেকে মাইক কেড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আপনারা দেখেছেন কীভাবে বাংলাদেশে দিনের ভোট রাতের করার সংস্কৃতি চালু করা হয়েছে, ডামি ইলেকশন করা হয়েছে। তিনি বলেন, গণভবনে কে যাবে সেটা বাংলাদেশের জনগণ নির্ধারণ করবে, ভারত থেকে নির্ধারিত হবে না। সংসদে কে যাবে, নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের খেটে খাওয়া জনতা। সংসদের মসনদে কারা বসবে সেটা নির্ধারণ করবে এই ভূখণ্ডের মানুষ।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বিভাজনের রাজনীতি আমাদের মধ্যে জিইয়ে রাখা হয়েছে। আমরা সুশাসন নিশ্চিত করতে পারিনি। আমরা স্বাধীন পুলিশ, স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। স্বাধীনতার এত বছর পরেও তরুণ প্রজন্মের একটা ইনস্টিটিউশন আমরা আসতে দেখিনি।

বুকের রক্ত ঢেলে দেশ স্বাধীন করেছি, বললেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ যখন মুক্তির অপেক্ষায় ছিল, আমরা তখন আমাদের বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছি। শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, গত ১৫ বছরে যখন আমরা গণতন্ত্রের কথা বলেছি তখন আমাদের গুম করা হয়েছে, খুন করা হয়েছে, রাজনৈতিক দলের নেতাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের শুধু গ্রেফতারই নয়, দেশছাড়াও করা হয়েছিল। সেই খুনি হাসিনার সামনে ইস্পাত কঠিন মুহূর্তের মতো দাঁড়িয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পক্ষ বা গোষ্ঠী সেই ৪৭ সাল থেকে যে লড়াই শুরু হয়েছিল তারা তাদের সেই পতাকাটা মানুষের সামনে উড্ডীন রেখেছিল।

তিনি বলেন, কিন্তু গত নির্বাচনের পরে যখন মানুষ আশাহত হয়েছিল তখন আমাদের এই ছাত্ররা জনগণের সবশেষ আশার প্রতীক হয়েছিল। গত ১৫ বছরে যেসব রাজনৈতিক দল-গোষ্ঠী-পক্ষ নির্যাতন, হামলা, গ্রেফতারের শিকার হয়েছেন, জীবনের আর্থিক মূল্য খুইয়েছেন- আমরা তাদের সংগ্রামী অভিনন্দন জানাই।

নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণার পেছনে দুইটি অর্গানাইজেশন কাজ করেছিল জানিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়ে শিক্ষার্থীদের ছাত্র আন্দোলন যখন স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছিল, আমরা সেই ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা থেকে সেপ্টেম্বরে জাতীয় নাগরিক কমিটি প্রতিষ্ঠা করি। গত ছয় মাসে বাংলাদেশের আনাচে কানাচে পৌঁছে ৪০০ থানায় আমরা কমিটি প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছি।

তিনি বলেন, ছাত্রদের নেতৃত্বে যে দল আসছে ছাত্র ভাইদের ওপর কর্তব্য রয়েছে যারা আপনাদের সাপোর্টে এসে দাঁড়িয়েছে- তাদের সেই ত্যাগ মূল্যায়নের জায়গায় থাকবেন। যখন দল সৃষ্টি হবে আমরা যেন তখন আপনাদের মধ্যে ভেদাভেদ না দেখি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির যারা রয়েছেন তারা সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করবেন।

আমানতস্বরুপ এই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে চাই : সারজিস
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, পরম সৌভাগ্যে পাওয়া আমানতস্বরুপ এই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে চাই। জীবনের বিনিময়ে হলেও মানুষ আর দেশের জন্য কিছু করে যেতে চাই। দলে পদ পাওয়া প্রসঙ্গে শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা বলেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে সারজিস লেখেন, রংপুর বিভাগ, রাজশাহী বিভাগ, ময়মনসিংহ বিভাগ, সিলেট বিভাগ, ঢাকা বিভাগ (আংশিক), (ঢাকা মহানগর উত্তর, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, নরসিংদী, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী, কিশোরগঞ্জ খুব দ্রুত এই ৩২ জেলার পথে প্রান্তরে ছাত্রজনতার সঙ্গে দেখা হবে ইনশাআল্লাহ।

তিনি লেখেন, আমরা দিনে এনে দিনে খাওয়া শ্রমজীবী ভাইয়েদের কথা শুনতে চাই, স্কুলেপড়ুয়া আগামী বাংলাদেশের পরবর্তী প্রজন্মের কথা শুনতে চাই, পরিবারের জন্য নিজের অনেক স্বপ্ন বিসর্জন দেওয়া বোনদের কথা শুনতে চাই, শক্ত করে সংসারের হাল ধরে রাখা মায়েদের কথা শুনতে চাই।

কালের আলো/আরআই/এমকে