খুঁজুন
                               
, ,
           

দায়িত্বশীলতায় উজ্জ্বল অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৫, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
দায়িত্বশীলতায় উজ্জ্বল অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফল গণঅভ্যুত্থানের পর এতে নেতৃত্বদানকারী শিক্ষার্থীদের চাওয়া মেনে ড. মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। দীর্ঘ স্বৈরশাসনে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর তখন ধ্বংসপ্রায় অবস্থা। আইনশৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থা একরকম ভেঙে পড়ে। এরপর শান্তিতে নোবেল জয়ী ড.ইউনূসের নেতৃত্বে তাঁর উপদেষ্টা পরিষদের উপদেষ্টাদের হাত ধরেই রাষ্ট্র সংস্কারের স্বপ্ন বুনে দেশের সাধারণ মানুষ।

সরকারপ্রধানের মতো কয়েকজন বাদে অন্য সব উপদেষ্টারাই নিজেদের ৮ মাস সময় পূর্ণ করেছেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়েছেন। পাশাপাশি নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনেও দায়িত্বশীলতা, মেধা, যোগ্যতা ও বিচক্ষণতার স্বাক্ষর রেখেছেন। এতে করে তাদের প্রতিও সাধারণ মানুষের ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তাদের পারফরম্যান্স বিচার বিবেচনা করতে ৮ মাস সময় যথেষ্ট না হলেও তারপরও এই সময়ে তারা কী করেছে না করেছে তার দিকে নজর রয়েছে সবার। দৃষ্টি রয়েছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থারও। দীর্ঘদিনের জঞ্জাল, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা দূর করতে প্রতিনিয়ত তারা লড়াই করেছেন। তারা অসফল হওয়া মানেই শত মানুষের রক্ত ও ত্যাগে অর্জিত এই গণঅভ্যুত্থান ব্যর্থ হবে, যা কারও কাম্য হতে পারে না। তাই দেশ, রাষ্ট্র ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে এই সরকারকে সফল করতে প্রতিটি উপদেষ্টা নিজেদের আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আজ আমাদের এই বিশেষ প্রতিবেদনে থাকছে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ৫ উপদেষ্টার কর্মতৎপরতা। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য উপদেষ্টাদের নিয়েও প্রতিবেদন থাকবে কালের আলো.কম এ।

ড.আসিফ নজরুল
অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড.আসিফ নজরুল কর্মগুণেই আলো ছড়িয়েছেন। তাঁর আন্তরিকতায় দ্রুততম সময়ে উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগের জন্য অধ্যাদেশ প্রণয়ন সম্ভব হয়েছে। আর বিচার বিভাগ সংস্কারের রোডম্যাপের সফল বাস্তবায়নে সুপ্রিম কোর্ট ও সরকার নিবিড়ভাবে কাজ করছে। বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় তৈরির বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় বিশাল অগ্রগতি অর্জন করেছে। এই সংক্রান্ত অধ্যাদেশ প্রস্তুতের কাজও প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে।

রাউন্ড দ্য ক্লক সক্রিয় সরকারের অন্যতম নীতি নির্ধারক এই উপদেষ্টা ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে রাজনৈতিক হয়রানিমূলকভাবে দায়ের করা ৭ হাজার ১৮৪টি মামলা আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছেন। এই সময়ে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলন দমনে দায়েরকৃত প্রায় সকল ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। সন্ত্রাস দমন আইন ও সাইবার নিরাপত্তা আইনে দায়েরকৃত মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলাগুলো চিহ্নিত করে প্রত্যাহারের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.মুহাম্মদ ইউনূসের অভিভাবকত্বে সাফল্যের সঙ্গেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন। স্বৈরশাসকের বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়েও তিনি ছিলেন ‘চির উন্নত মম শির’। দুটি মন্ত্রণালয় পরিচালনায়ও তার পারফরম্যান্স নজরকাড়া। সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী এই উপদেষ্টা দেশব্যাপী তারুণ্যের উৎসব আয়োজনের মাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেন। নিজের দুটি মন্ত্রণালয়ের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুন্য সহিষ্ণুতার নীতি গ্রহণ করেছেন। সরকারকে ব্যর্থ করতে সব অপতৎপরতা রুখে দিতে তিনি সজাগ-সতর্ক রয়েছেন। ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তায় সব ষড়যন্ত্রের ব্যুহ ভেদ করেছেন।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
বায়ুদূষণ রোধে জীবনের উল্লেখযোগ্য সময় আদালত ও মাঠে সমানতালে লড়াই চালিয়েছেন দেশের স্বনামে খ্যাত পরিবেশবিদ সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েই মনোনিবেশ করেছেন দীর্ঘ সময়ের জঞ্জাল সাফে। তিনি বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ ও পানি দূষণ প্রতিরোধ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সরকার, গণমাধ্যম এবং জনগণকে একসঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। বায়ুদূষণের চূড়ায় থাকার দীর্ঘদিনের দুর্নাম ঘুচিয়ে রাজধানীকে নির্মল করার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। তিনি ২০০২ সালে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে তৎপরতা শুরু করেন। নতুন বাংলাদেশ গঠনে পরিবেশ রক্ষায় তিনি সর্বোচ্চ জোর দিয়েছেন। দেশের কাঁচাবাজারসহ খোলাবাজারে গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে পলিথিন ও পলিপ্রোপাইলিনের তৈরি ব্যাগের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে পরিবেশ অধিদপ্তর। পলিথিন উৎপাদন বন্ধ, কাঁচাবাজার, সুপারশপেও পলিথিন নিষিদ্ধের বিষয়ে আগে থেকেই ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। কিন্তু নির্দেশনা কার্যকর না হওয়ায় অ্যাকশনে যায় তার মন্ত্রণালয়। পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব চটের বা পাটের ব্যাগকে প্রমোট করেছেন তিনি। তাকে নিয়ে আশার মালা গেঁথেছেন দেশের মানুষ।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো.জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
দেশের জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলার দায়িত্ব অর্পিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাঁধে। এই পদে দায়িত্ব পালন করা যে কারও জন্য অনেক বেশি চাপের ও চ্যালেঞ্জের। বিশেষ করে যেকোন দেশে অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে নাজুক আইনশৃঙ্খলা থেকে উত্তরণ ঘটানো সহজ নয় মোটেও। আর এই কঠিন কাজটিই একদিন-প্রতিদিন করে চলেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো.জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। ব্যক্তিজীবনে একজন সরল মানুষ হিসেবেই তিনি পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর আকস্মিক থানা ভিজিট কার্যক্রম ও লাল গালিচার মাধ্যমে তৈলমর্দন নীতির কড়া সমালোচনা করে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। তিনি থানাগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে চলছে কীনা এটি পর্যবেক্ষণেই কোন আওয়াজ না দিয়ে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ছেন। জনগণ যেন নির্বিঘ্নে ঘুমাতে পারেন ও নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সেটা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দিচ্ছেন।সরকারের প্রভাবশালী আইন উপদেষ্টা ড.আসিফ নজরুলও সম্প্রতি চ্যানেল আইয়ের তৃতীয় মাত্রার টকশোতে তার কর্মতৎপরতার প্রশংসা করেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের আট মাসে আইনশৃঙ্খলায় স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। গত কয়েক মাস ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা বর্তমানে অনেকটাই কমে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় অনেকটাই কমে এসেছে খুন, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি ও মব সন্ত্রাসের মতো ঘটনা। এছাড়া এই বছর রমজান ও ঈদের ছুটিতেও জনমনে ছিল স্বস্তি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে আতঙ্ক থাকলেও দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া উল্লেখ করার মতো অপরাধমূলক কোনো ঘটনা ঘটেনি। অন্যান্য সময় রোজা ও ঈদকে ঘিরে কমবেশি আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। মৌসুমি অপরাধীরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। কিন্তু এবার তেমনটি ঘটেনি। পাশাপাশি দেশে প্রথমবারের মতো নির্বিঘ্নে ঈদ যাত্রার মতো বিশাল কর্মযজ্ঞ পাকা জহুরির মতোই সম্পাদন করে চমক দেখিয়েছেন এই উপদেষ্টা।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন
নৌপরিবহন ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে না থেকে প্রতিনিয়ত ছুটছেন দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। চট্টগ্রাম বন্দরসহ দেশের অন্যান্য বন্দরে দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত সমস্যার সমাধান করেছেন। অনিয়ম-দুর্নীতির সব সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়েছেন। এসবের মাধ্যমে মিলেছে আশাতীত সাফল্য। প্রথম দিকে সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পদে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশকে কাজে ফিরিয়ে আনতে বহুমাত্রিক ও কঠিন চ্যালেঞ্জে সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। তিনি কাজ দিয়েই প্রমাণ করেছেন যেকোন মন্ত্রণালয়েই দায়িত্ব পালনেই তিনি পারঙ্গম। দিন-রাত একাকার করে কাজ করা অন্তর্বর্তী সরকারের পরিশ্রমী এই উপদেষ্টা এবার মনোযোগ দিয়েছেন নৌপথের ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়ানো চাঁদাবাজি বন্ধের মাধ্যমে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে। তাঁর উদ্যোগে এরই মধ্যে জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তিনি বিলোনিয়া ও রামগড় স্থলবন্দরের বাণিজ্য সম্ভাবনা যাচাই করতে কমিটি করে দিয়েছেন। কথার সঙ্গে কাজের মিল রেখে পথচলা এই উপদেষ্টা ইতোমধ্যেই ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপনের মাধ্যমে জনআস্থা পূরণে সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন।

কালের আলো/আরআই/এমএএএম

গাজীপুরে ঝালমুড়ি বিক্রেতার ছুরিকাঘাতে পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ
গাজীপুরে ঝালমুড়ি বিক্রেতার ছুরিকাঘাতে পোশাক শ্রমিকের মৃত্যু

গাজীপুরের কাশিমপুরের চক্রবর্তী এলাকায় ঝালমুড়ি বিক্রেতার ছুরিকাঘাতে গাজী রাফিস আহমেদ (৩২) নামে এক পোশাক শ্রমিক নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় রাফিসকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত রাফিস আহমেদের বাড়ি খুলনার দাকোপ থানার বাঁশখালী গ্রামে। তার বাবার নাম খোরশেদ আলম গাজী। তিনি পরিবারের সঙ্গে গাজীপুরের চক্রবর্তী এলাকায় বসবাস করতেন এবং স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।

নিহতের খালাতো ভাই শেখ নাজমুল হাসান জানান, বুধবার রাতে চক্রবর্তী এলাকায় রাস্তার পাশের একটি দোকানে ঝালমুড়ি খাচ্ছিলেন রাফিস। এ সময় পাশের একটি দোকানের ঝালমুড়ি বিক্রেতার সঙ্গে কয়েকজন পথচারীর বাকবিতণ্ডা ও চিৎকার-চেঁচামেচি চলছিল।

বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করতে রাফিস সেখানে গেলে একপর্যায়ে ঝালমুড়ি বিক্রেতা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অভিযোগ করা হয়েছে, এ সময় তিনি নিজের কাছে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে রাফিসসহ আরও দুজনের ওপর হামলা চালান। এতে রাফিসের পেটের ডান পাশে গভীর ছুরিকাঘাত লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাত ১টার দিকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নাজমুল হাসান আরও জানান, ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত ঝালমুড়ি বিক্রেতাকে একটি টহল পুলিশ দল আটক করে। তার দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) হাবিবুর রহমান চিকিৎসকের বরাত দিয়ে রাফিসের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

পেঁপের সঙ্গে মরিচ-কচু, একই জমিতে তিন ফসলের চাষ

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২০ পূর্বাহ্ণ
পেঁপের সঙ্গে মরিচ-কচু, একই জমিতে তিন ফসলের চাষ

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সর্জন পদ্ধতিতে একই জমিতে তিন ধরনের ফসল চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন কৃষি উদ্যোক্তা মুসলিম উদ্দীন। উপজেলার কাটাছরা ইউনিয়নে ৩৩ শতক জমিতে পেঁপের পাশাপাশি বারোমাসি মরিচ ও কাঠ কচু চাষ করছেন তিনি। তাঁর সফলতা দেখে স্থানীয় অন্য কৃষকরাও এ পদ্ধতিতে চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

মুসলিম উদ্দীনের জমিতে সারি সারি পেঁপে গাছ। গাছের গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত ঝুলছে পাকা ও আধাপাকা পেঁপে। পেঁপের সঙ্গে সাথি ফসল হিসেবে চাষ করা হয়েছে বারোমাসি মরিচ। আর জমির নিচু নালায় রোপণ করা হয়েছে কাঠ কচু। ফলে একই জমি থেকে একসঙ্গে তিন ধরনের ফসল উৎপাদন করছেন তিনি।

কৃষক মুসলিম উদ্দীন জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ৩৩ শতক জমিতে সর্জন পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু করেন তিনি। জমির উঁচু বেডে পেঁপে, বেডের দুই পাশে মরিচ এবং নিচু নালায় কচু চাষ করছেন। ইতোমধ্যে মরিচ ও কচু বিক্রি করে ভালো আয় হয়েছে। পেঁপের ফলনও ভালো হয়েছে। সব মিলিয়ে পেঁপে বিক্রি করে প্রায় ৫ লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করছেন তিনি।

তিনি বলেন, একই জমিতে তিন ধরনের ফসল চাষ করা যাচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে ভালো ফলন পাওয়ায় তিনি আশাবাদী।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, মিরসরাই উপজেলায় সর্জন পদ্ধতিতে চাষাবাদের জন্য চারটি প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মুসলিম উদ্দীনের জমিটিও একটি। তিনি পেঁপের সঙ্গে সহফসল হিসেবে মরিচ ও কচু চাষ করছেন।

তিনি জানান, সর্জন পদ্ধতিতে নিচু জমিকে উঁচু করে বেড তৈরি করা হয় এবং মাঝখানে নিচু নালা রাখা হয়। এতে বেডে বিভিন্ন সবজি বা ফসল এবং নালায় কচু ও মাছ চাষের সুযোগ থাকে। একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদন হওয়ায় কৃষকের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহারও নিশ্চিত করা সম্ভব।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, মুসলিম উদ্দীনের উদ্যোগ সফল হওয়ায় মিরসরাইয়ের অন্য কৃষকরাও সর্জন পদ্ধতিতে চাষাবাদে আগ্রহী হবেন। এতে পতিত বা নিচু জমির কার্যকর ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি কৃষকের আয়ও বাড়তে পারে।

কালের আলো/এমএসআইপি 

ইউএনও’র কাছে চা শ্রমিকদের অভিযোগ

৭৮০০ টাকার ভাতা, শ্রমিকদের কেউ পেলেন ৩ হাজার, কেউ ৩৫০০

শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২০ পূর্বাহ্ণ
৭৮০০ টাকার ভাতা, শ্রমিকদের কেউ পেলেন ৩ হাজার, কেউ ৩৫০০

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার মাজদিহি চা-বাগানের শ্রমিকদের সরকারি ভাতা বিতরণে নির্ধারিত অঙ্কের চেয়ে কম টাকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্ত করে বকেয়া টাকা পরিশোধ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভাতাভোগী শ্রমিকেরা।

বুধবার এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন শ্রমিকেরা।

অভিযোগপত্রে শ্রমিকেরা জানান, চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার যে ভাতা দেয়, তা ব্যাংক এশিয়ার শ্রীমঙ্গল শাখার মাধ্যমে বিতরণ করা হয়। গত ২০ আগস্ট ব্যাংকের প্রতিনিধিরা মাজদিহি চা-বাগানে গিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে ভাতা বিতরণ করেন। এ সময় নির্ধারিত অঙ্কের চেয়ে কম টাকা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

শ্রমিকদের অভিযোগ, কাগজপত্র প্রক্রিয়াকরণের কথা বলে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিতে তাদের টিপসই ও স্বাক্ষর নেওয়া হয়। তবে সেখানে ভাতার পুরো অঙ্ক উল্লেখ করা হয়নি। টাকা কম দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যাংকের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কেউ কেউ তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন বলেও অভিযোগ করেন শ্রমিকেরা।

লিখিত অভিযোগে ব্যাংক এশিয়ার শ্রীমঙ্গল শাখার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজু রায়, রাম কুমারী নুনিয়া ও সবিতা বাউরীর নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

মাজদিহি চা-বাগানের শ্রমিক সন্তুকি রায় বলেন, ‘সরকার আমাদের জন্য টাকা দিয়েছেন। কেন তারা সেই টাকা আত্মসাৎ করে খাবেন? চা শ্রমিকদের মতো অসহায় জনগোষ্ঠীর ভাতা বিতরণে এ ধরনের অনিয়ম আমাদের ক্ষতির মুখে ফেলছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বকেয়া টাকা দ্রুত পরিশোধের দাবি জানাচ্ছি।’

মাজদিহি চা-বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সাবেক সভাপতি সাধন কর্মকার বলেন, ‘চা শ্রমিকদের অ্যাকাউন্টে সরকারি বরাদ্দের টাকা থাকা সত্ত্বেও এজেন্টের লোকজন ভাতা কম দিচ্ছেন। সরকার যে ভাতা দেয়, সেটি শ্রমিকদের প্রাপ্য। প্রায় দুই হাজার ভাতাভোগীর টাকা কেন কম দেওয়া হবে, তা আমরা জানতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘টাকা পাওয়ার কথা প্রায় ৭ হাজার ৮০০ টাকা, অথচ তারা পাচ্ছেন ৩ হাজার টাকা। পঞ্চায়েতের অ্যাডহক কমিটির লোকজন থাকা সত্ত্বেও কীভাবে টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে, তা তদন্ত করে জড়িতদের শাস্তি দাবি করছি।’

অভিযোগের বিষয়ে ব্যাংক এশিয়ার মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি। তবে ব্যাংক এশিয়ার জেলা কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক তুহিন আহমদ ইয়ামির বলেন, বিষয়টি তিনি মৌখিকভাবে শুনেছেন, তবে লিখিত অভিযোগ পাননি। ভাতাভোগীদের যে সংখ্যা বলা হচ্ছে, তাদের তথ্য অনুযায়ী সংখ্যা তত নয় বলেও জানান তিনি। অনেকের টাকা বিকাশ বা রকেটের মাধ্যমেও দেওয়া হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সোয়েব হোসেন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি তারা শুনেছেন। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ‘চা শ্রমিকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি জানতে আগামীকাল মাজদিহি চা-বাগানে সরেজমিনে যাব। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কালের আলো/এমএসআইপি