খুঁজুন
                               
, ,
           

ত্রিশালে ১৭৩ একর জায়গায় নির্মিত হবে সেনাপ্রধানের স্বপ্নের অলিম্পিক কমপ্লেক্স

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: বুধবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৫, ১০:৩৯ অপরাহ্ণ
ত্রিশালে ১৭৩ একর জায়গায় নির্মিত হবে সেনাপ্রধানের স্বপ্নের অলিম্পিক কমপ্লেক্স

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

দেশের ক্রীড়ার মান উন্নয়ন, উচ্চতর ও আধুনিক প্রশিক্ষণের জন্য ময়মনসিংহের ত্রিশালে নির্মিত হবে একটি মাল্টি স্পোর্টস অলিম্পিক কমপ্লেক্স। এটি বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সভাপতি ও সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এর স্বপ্নের একটি প্রকল্প। ১৭৩ একর জায়গায় এটি নির্মাণের জন্য প্রাথমিকভাবে ৪০০ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ইনডোর স্টেডিয়ামের কাজ চলতি বছরের জুনে শুরুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। যেখানে থাকবে বিভিন্ন খেলার অনুশীলন, খেলার ব্যবস্থা ও খেলোয়াড়দের আবাসন সুবিধা। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক গেমস আয়োজনের সক্ষমতার চেষ্টায় রয়েছে বাংলাদেশ। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অর্থ সংগ্রহের পথ খুঁজে বের করার দায়িত্ব পড়েছে বিওএ’র দু’সহ-সভাপতি অঞ্জন চৌধুরী ও বশির আহমেদ এর ওপর। তাদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনেরও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বুধবার (২৩ এপ্রিল) আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে সেনাপ্রধান ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সভাপতি জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সভায় সেনাপ্রধানের স্বপ্নের প্রকল্প অলিম্পিক কমপ্লেক্স চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। এ সময় বিওএ মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ বি এম শেফাউল কবীর বলেন, ‘বিওএ সভাপতি মহোদয় একটি আইডিয়া ডেভেলপ করেছেন। সেই হিসেবে আজকের সভায় এটি আলোচনা হয়েছে। ১৭৩.৫৯ একর জমি সেনাবাহিনীর আওতায় রয়েছে। সেটিকে সেনপ্রধান নিতে চাচ্ছেন। আজকে বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা এটিতে ফোকাস করবো।’

  • ৪০০ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন
  • ইনডোর স্টেডিয়ামের কাজ চলতি বছরের জুনে শুরুর পরিকল্পনা
  • অর্থ সংগ্রহের পথ খুঁজে বের করার দায়িত্বে বিওএ’র দু’সহ-সভাপতি

তিনি জানান, আমাদের দেশের বিভিন্ন ফেডারেশনের টিমগুলো যারা আছে তারা সেখানে যেন প্র্যাকটিস করতে পারে, টুর্নামেন্ট করতে পারে এবং যাতে করে আমরা ইন্টারন্যাশনাল গেমগুলোকে এখানে কনভার্ট করতে পারি সেজন্যই এটি বাস্তবায়ন করা হবে।

চার মাসের মধ্যে তিনটি আন্তর্জাতিক ইভেন্ট, ৫০টি ডিসিপ্লিনে লড়বে বাংলাদেশ
চার মাসের মধ্যে তিনটি আন্তর্জাতিক ইভেন্ট এশিয়ান ইয়ুথ, ইসলামিক সলিডারিটি ও সাউথ এশিয়ান গেমস হতে যাচ্ছে। তিন গেমসকে সামনে রেখে সব মিলিয়ে ৫০টি ডিসিপ্লিনে লড়বে বাংলাদেশ। এছাড়া তিন গেমসে বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের শেফ দ্য মিশনও নির্বাচিত করা হয়েছে বিওএ’র কার্যনির্বাহী কমিটির সভায়। এর মধ্যে বাংলাদেশের সাফল্য বেশি সাউথ এশিয়ান (এসএ) গেমসেই। নেপাল এসএ গেমসে ১৯টি স্বর্ণজয়ই লাল সবুজের নতুন ইতিহাস। সেবার ২৫টি ডিসিপ্লিনে অংশ নিলেও আগামী ২৩-৩১ জানুয়ারি পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় গেমসে ২৬টিতে অংশ নেবে বাংলাদেশ।

বাড়তি ডিসিপ্লিনটি হলো বিলিয়ার্ড অ্যান্ড স্নুকার। এই গেমসের শেফ দ্য মিশন করা হয়েছে বিওএর সদস্য ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজউদ্দিন মো. আলমগীরকে। এই গেমসের আর্চারি, অ্যাথলেটিকস, ব্যাডমিন্টন, বাস্কেটবল, বক্সিং, ক্রিকেট, ফেন্সিং, ফুটবল, গলফ, হ্যান্ডবল, হকি, জুডো, কাবাডি, কারাতে, শুটিং, স্কোয়াশ, সাঁতার, টেবিল টেনিস, তায়কোয়ান্দো, টেনিস, ভলিবল, ভারোত্তোলন, কুস্তি, উশু, রাগবি এবং বিলিয়ার্ড অ্যান্ড স্নুকার।

আগামী ২২ থেকে ৩১ অক্টোবর বাহরাইনে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান ইয়ুথ গেমস। এই আসরে ১৩টি ডিসিপ্লিনে অংশ নেবে বাংলাদেশ। বাহরাইনে লাল সবুজের কন্টিনজেন্টের শেফ দ্য মিশন নির্বাচিত করা হয়েছে বিওএর সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. হুমায়ুন কবিরকে। এশিয়ান ইয়ুথ গেমসের অ্যাথলেটিকস, ব্যাডমিন্টন, বক্সিং, বাস্কেটবল (থ্রি নট থ্রি), গলফ, জুডো, সাঁতার, টেবিল টেনিস, তায়কোয়ান্দো, ভারোত্তোলন, কুস্তি, কাবাডি ও সাইক্লিং ডিসিপ্লিনে অংশ নেবে বাংলাদেশ।

৭ থেকে ২১ নভেম্বর সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত হবে ইসলামিক সলিডারিটি গেমস। অ্যাথলেটিকস, ফেন্সিং, কারাতে, সাঁতার, টেবিল টেনিস, ভারোত্তোলন, কুস্তি, উশু, বাস্কেটবল (থ্রি নট থ্রি), জুডো ও তায়কোয়ান্দো। এই গেমসে বাংলাদেশ কন্টিনজেন্টের শেফ দ্য মিশন করা হয়েছে অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) ড. মো. নাঈম আশফাক চৌধুরীকে।

বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ বি এম শেফাউল কবীর গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপে বলেন, ‘এশিয়ান ইয়ুথ গেমসে আমরা ১২টি ডিসিপ্লিনের শর্ট লিস্ট করেছি। কতজন খেলোয়াড় যাবে এটি পরবর্তীতে নির্ধারণ করবো। সাউথ এশিয়া গেমস যেটি পাকিস্তানে হওয়ার কথা রয়েছে সেখানে আমরা ২৬টি টিম পাঠাবো। বিওএ’র গঠনতন্ত্র সংশোধনের কাজ শেষ হলেও চূড়ান্ত হবে নির্বাহী কমিটির বিশেষ সভায়। এই বিষয়ে এদিন বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।’

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, বিওএ’র সভার মূল কার্যক্রম শুরুর আগে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ২২ এপ্রিল পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করা ক্রীড়া সংগঠক, ক্রীড়াবিদ এবং ক্রীড়া পরিবারের সদস্যদের আত্মার শান্তি কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বিওএ সভাপতি জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বিওএ’র সার্বিক কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য সকল ফেডারেশন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এই সভায় গত বছরের ৭ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত বিওএ’র কার্যনিবাহী কমিটির ০৩/২০২৪ সভার কার্যবিবরণী অনুমোদন এবং সিদ্ধান্তসমূহের বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

কালের আলো/এমএএএমকে

জিম থেকে বের হতেই গুলি,হরিয়ানভি গায়ক অঙ্কিত বালিয়ানকে হত্যা

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:৩৫ অপরাহ্ণ
জিম থেকে বের হতেই গুলি,হরিয়ানভি গায়ক অঙ্কিত বালিয়ানকে হত্যা

ভারতের উত্তর প্রদেশের শামলিতে জিম থেকে বের হওয়ার পর গুলিতে নিহত হয়েছেন হরিয়ানভি গায়ক ও ইউটিউবার অঙ্কিত বালিয়ান। হামলার পুরো ঘটনা ধরা পড়েছে সিসিটিভি ক্যামেরায়। ফুটেজে দেখা যায়, চার অস্ত্রধারী অঙ্কিতকে অনুসরণ করে তাঁর ওপর গুলি চালাচ্ছে। প্রায় ২৫ সেকেন্ড ধরে চলে এ হামলা।

৩৫ বছর বয়সী অঙ্কিত গত বুধবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে শামলির একটি জিম থেকে বের হন। হাতে ছিল কিট ব্যাগ। এরপর নিজের গাড়ির দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় চার ব্যক্তি তাঁকে অনুসরণ করতে থাকে। তাঁদের একজনের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।

অঙ্কিত গাড়ির কাছে পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা গুলি চালাতে শুরু করে। একের পর এক গুলির শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে। পথচারী ও স্থানীয় দোকানিরা ভয়ে নিজেদের আড়াল করেন। কেউ কেউ দোকানের ভেতর থেকে পরিস্থিতি দেখার চেষ্টা করলেও গুলির শব্দ চলতে থাকায় দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় মোট ১২টি গুলি ছোড়া হয়েছে। আতঙ্ক তৈরি করতে হামলাকারীরা কয়েকটি গুলি শূন্যেও ছোড়ে। তাঁদের কাছে .৩০ ও .৩২ ক্যালিবারের পিস্তল ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অঙ্কিতকে স্থানীয় একটি কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের পর তাঁর শরীরে কতটি গুলি লেগেছিল এবং আঘাতের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

ঘটনাস্থল হরিয়ানা সীমান্ত থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে। হামলাকারীরা হরিয়ানা থেকে শামলিতে এসে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

শামলির বান্টি খেদা গ্রামের বাসিন্দা অঙ্কিত বালিয়ান হরিয়ানভি সংগীতজগতে পরিচিত ছিলেন। ইউটিউবেও তাঁর উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয়তা ছিল। তাঁর চ্যানেলের গ্রাহকসংখ্যা ৩ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি।

অঙ্কিতের গানের ভিডিওতে প্রায়ই বন্দুক, সংঘর্ষ ও বিলাসবহুল এসইউভির উপস্থিতি দেখা যেত। তাঁর বেশ কিছু গানের কথায় উঠে আসত সহিংসতা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা, দাপট ও শত্রুতার বিষয়। কয়েকটি গান ইউটিউবে লাখ লাখবার দেখা হয়েছে।

তাঁর জনপ্রিয় গানগুলোর একটি ‘ভারি কোর্ট ম্যায় গোলি মারেঙ্গে মেরি জান’। গানটির অর্থ দাঁড়ায়, ‘আদালতের মধ্যেই তোমাকে গুলি করব, প্রিয়’।

তবে অঙ্কিতের মৃত্যুর সঙ্গে সবচেয়ে আলোচিত হয়ে উঠেছে তাঁর শেষ ইনস্টাগ্রাম পোস্ট।

মৃত্যুর মাত্র দুই ঘণ্টা আগে বুধবার ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করেন অঙ্কিত। সেখানে তাঁকে গাড়িতে বসে একটি হরিয়ানভি গান গাইতে দেখা যায়। গানের একটি লাইনের অর্থ-‘রাস্তায় হত্যা করো’।

এর কয়েক ঘণ্টা পরই রাস্তায় হামলার শিকার হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। ফলে অঙ্কিতের শেষ পোস্টটি এখন অনেকের কাছে এক অস্বস্তিকর কাকতালীয় ঘটনা হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

অঙ্কিত হত্যার দায় স্বীকার করেছে কুখ্যাত গোগি গ্যাং। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে গ্যাংটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অঙ্কিত তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। এমনকি গ্যাং-সংশ্লিষ্ট একটি ঘটনার ওপর তিনি গান তৈরি করেছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

গ্যাং-সংশ্লিষ্ট বলে পরিচিত ভোলু শাহপুরিয়ার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকেও একটি হুমকিমূলক পোস্ট দেওয়া হয়েছে। সেখানে আরও হামলার ইঙ্গিত দিয়ে বলা হয়েছে, ‘এটা কেবল শুরু, সবার পালা আসবে।’

পোস্টটিতে উত্তর প্রদেশ পুলিশকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

অঙ্কিতের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে চার অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছে পুলিশ। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে তাঁরা কোথা থেকে এসেছিল এবং হামলার পর কোন পথে পালিয়ে গেছে, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

সুত্রঃইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে

কালের আলো/এসএ

সৌদি অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর ৭ প্রবাসীর জানাজা সম্পন্ন

নওগাঁ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:২৯ অপরাহ্ণ
সৌদি অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর ৭ প্রবাসীর জানাজা সম্পন্ন

সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে নিহত নওগাঁর সাত প্রবাসীর জানাজার নামাজ একসঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় জানাজা শেষে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

শুক্রবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে আত্রাই উপজেলার মোল্লা আজাদ মেমোরিয়াল কলেজ মাঠে নিহত সাতজনের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য ও বিপুলসংখ্যক স্থানীয় মানুষ অংশ নেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে সৌদি আরবের অগ্নিকাণ্ডে নিহত নয়জনের মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। তাদের মধ্যে সাতজনের বাড়ি নওগাঁর আত্রাই উপজেলায়। পরে প্রশাসনের সহায়তায় রাত দেড়টার দিকে মরদেহগুলো আত্রাইয়ে পৌঁছায়।

জানাজা শেষে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে নিজ নিজ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।

নিহতদের জানাজায় নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব আলমসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।

নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম রেজু জানান, নিহতদের পরিবারকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

সৌদি দূতাবাসের পাঠানো তালিকা অনুযায়ী নিহত সাতজন হলেন—আত্রাই উপজেলার উদনপৈ গ্রামের ফরিদ, গণ্ডগোহালী গ্রামের রুবেল প্রামাণিক, মোহন আলী, সুমন আলী ও কলিমুদ্দিন, ডুবাই গ্রামের সোহেল রানা এবং পারকাসুন্দা গ্রামের আব্দুল জলিল সরদার।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি

ঋণের নামে তথ্য চুরি ও হয়রানি, ৩১ অ্যাপ নিয়ে সতর্কতা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১:১৭ অপরাহ্ণ
ঋণের নামে তথ্য চুরি ও হয়রানি, ৩১ অ্যাপ নিয়ে সতর্কতা

সহজ শর্তে দ্রুত ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখানো অনুমোদনহীন মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। একই সঙ্গে এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঋণ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এক সতর্কবার্তায় বিএফআইইউ জানায়, বিভিন্ন মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপ ব্যবহার করে দ্রুত ও সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। এসব অননুমোদিত অ্যাপ ব্যবহারকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য, মোবাইল ফোনের যোগাযোগ তালিকা, ছবি ও অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করছে।

পরবর্তী সময়ে ঋণ আদায়ের নামে গ্রাহকদের ওপর অযাচিত চাপ সৃষ্টি, ভয়ভীতি দেখানো, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকি এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও আর্থিক নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে জানিয়েছে বিএফআইইউ।

সংস্থাটি বলেছে, বাংলাদেশে ঋণ প্রদান একটি নিয়ন্ত্রিত আর্থিক কার্যক্রম। বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন এবং প্রচলিত আইন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো অনুসরণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মোবাইল অ্যাপ, ওয়েবসাইট বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না।

বিএফআইইউর নজরে আসা ৩১টি অবৈধ বা অননুমোদিত ঋণদাতা অ্যাপের মধ্যে রয়েছে—সাথী লোন, পপক্যাশ, ফিনক্যাশ, কুইক লোন, কুইক টাকা, ঢাকা ফিন, লোনভাইব, দোস্ত লোন, টাকা ক্যাশ লোন, কেওয়নজা লোন, এসএসএইচ মানি, লোনবাডি, সাথি লোন, ক্যাশহোরা, আলো ক্যাশ, ফাস্ট লোন, ইজি টাকা, ধৈর্য লোন, ফিন ডট ডু, বঙ্গক্যাশ, আশা লোন, সুবিধা লোন, স্মার্ট লোন বিডি, অনলাইন লোন বিডি, সিটি অনলাইন লোন, বিডি সহজ লোন, ক্যাশ লোন, সোনালী, লোনহাট ও টাকানাও।

বিএফআইইউ বিশেষভাবে সতর্ক করে বলেছে, ঋণের প্রলোভনে অপরিচিত কোনো অ্যাপ বা প্ল্যাটফর্মে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক হিসাবের তথ্য, ব্যক্তিগত ছবি, মোবাইলের যোগাযোগ তালিকা কিংবা অন্য কোনো সংবেদনশীল তথ্য দেওয়া যাবে না। ঋণ দেওয়ার আগে অগ্রিম টাকা, নিবন্ধন ফি বা প্রসেসিং ফি দাবি করা হলেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ধরনের অননুমোদিত ঋণ কার্যক্রমে প্রতারণা, আর্থিক অপরাধ ও মানিলন্ডারিংয়ের ঝুঁকি রয়েছে উল্লেখ করে সংস্থাটি সবাইকে এসব কার্যক্রম থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

এ ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এ ধরনের অবৈধ ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে বা কোনো অ্যাপ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপের মাধ্যমে মানুষকে প্রতারিত করছে—এমন তথ্য জানা থাকলে বিএফআইইউর কাছে অভিযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি