খুঁজুন
                               
সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

২০৮-৭৯ ব্যবধানে জয়ী বিজেপি, নবান্ন ছাড়ছেন মমতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ
২০৮-৭৯ ব্যবধানে জয়ী বিজেপি, নবান্ন ছাড়ছেন মমতা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৮টিতে বিশাল জয় পেয়ে সরকার গঠন নিশ্চিত করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।

এই ঐতিহাসিক জয়ের মধ্য দিয়ে রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের টানা প্রায় ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটল। বিপরীতে, তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র ৭৯টি আসনে জয়লাভ করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যান্য দলের মধ্যে কংগ্রেস ২টিতে এবং সিপিএম ১টি আসনে জয় পেয়েছে, আর অন্যান্যরা পেয়েছে ৩টি আসন।

তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা কেন্দ্রে নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগে নির্বাচন কমিশন ভোট বাতিল ঘোষণা করেছে; সেখানে আগামী ২১ মে পুনর্নির্বাচন এবং ২৪ মে ভোট গণনা অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক ছিল তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়।

তিনি নিজের ঘরের মাঠ ভবানীপুরের পাশাপাশি নন্দীগ্রাম আসনেও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছেন। ফলে রাজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি আসনেই জয় ছিনিয়ে নিলেন শুভেন্দু। ভবানীপুর কেন্দ্রে ভোট গণনার শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। প্রথম কয়েক রাউন্ডে মমতা ও শুভেন্দুর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলে। পঞ্চদশ রাউন্ড পর্যন্ত মমতা এগিয়ে থাকলেও ষোড়শ রাউন্ড থেকে পাশা উল্টে যেতে শুরু করে।

শেষ পর্যন্ত ব্যবধান বাড়িয়ে জয় নিশ্চিত করেন শুভেন্দু অধিকারী। উল্লেখ্য যে, ফল ঘোষণার আগে থেকেই শুভেন্দু দাবি করে আসছিলেন যে কিছু নির্দিষ্ট বুথে পিছিয়ে থাকলেও শেষ রাউন্ডগুলোতে তিনি ঘুরে দাঁড়াবেন এবং বাস্তবেও তার সেই পূর্বাভাসের প্রতিফলন দেখা গেছে।

জয়ের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন শুভেন্দু।

অন্যদিকে, পরাজয় মেনে নিলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, তাকে ষড়যন্ত্র করে হারানো হয়েছে এবং তিনি আবারও জনগণের সমর্থনে রাজনীতিতে ফিরে আসবেন।

২০১১ সালে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ে এই পরাজয় এক নতুন মোড় নিয়ে এল। নবান্ন থেকে বিদায় নিচ্ছেন তিনি, আর পশ্চিমবঙ্গ সাক্ষী হচ্ছে এক বিশাল রাজনৈতিক পালাবদলের।

কালের আলো/এসাআর/এএএন 

কুষ্টিয়ায় মাদক ও ওষুধসহ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

কুষ্টিয়া প্রতিবেদক
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৫:৩৭ পূর্বাহ্ণ
কুষ্টিয়ায় মাদক ও ওষুধসহ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ

কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে এক কোটি ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের মাদক ও বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ পণ্য উদ্ধার করেছে কুষ্টিয়া বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৪৭ বিজিবি)। এ সময় ইয়াবাসহ আলো হোসেন (১৯) নামের এক যুবককে আটক করা হয়।

রোববার (২৪ মে) দুপুরে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেনেন্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৩ মে বিকেল ৫টায় কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এর অধীন রংমহল বিওপি এলাকার রংমহল মাঠ নামক স্থানে অভিযান পরিচালনা করে মেহেরপুর জেলার গাংনী থানার লক্ষ্মীধোলা গ্রামের মৃত ওমর আলীর ছেলে মো. আলো হোসেনকে (১৯) ১৮ পিস ইয়াবাসহ আটক করা হয়। উদ্ধারকৃত ইয়াবার আনুমানিক সিজার মূল্য পাঁচ হাজার চারশত টাকা।

এছাড়াও একই দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার সময় কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) এর অধীন কাথুলি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার কাথুলি মাঠ নামক স্থানে অভিযান পরিচালনা করে মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ১ হাজার পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক সিজার মূল্য তিন লাখ টাকা।

 অপরদিকে, আজ শনিবার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে কাজিপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার কাজিপুর ব্রিজ মোড় নামক স্থানে আরেকটি অভিযানে মালিকবিহীন অবস্থায় ভারতীয় ৫০ বোতল মদ, ১০ হাজার পিস ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট এবং ২৫ হাজার পিস সিপ্রোহেপ্টাডিন ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত পণ্যের আনুমানিক সিজার মূল্য এক কোটি পাঁচ লক্ষ পঁচাত্তর হাজার টাকা।

উদ্ধারকৃত পণ্যের সর্বমোট আনুমানিক সিজার মূল্য এক কোটি আট লক্ষ আশি হাজার চারশত টাকা।

কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক জানান, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান, মাদক ও অবৈধ পণ্য পাচার প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বিজিবির এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/এএন/এমএসআইপি 

ঝিনাইদহে ছাত্রদলের মামলায় এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা গ্রেফতার

ঝিনাইদহ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৭:৪৬ অপরাহ্ণ
ঝিনাইদহে ছাত্রদলের মামলায় এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা গ্রেফতার

ঝিনাইদহে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি এনামুল কবিরের দায়ের করা হামলা, হত্যার হুমকির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রোববার (২৪ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঝিনাইদহ স্টেডিয়াম সংলগ্ন ফ্যামিলি জোন মিলনায়তনের সামনে থেকে ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশের একটি টিম তাকে গ্রেফতার করে।

জানা গেছে, এনসিপি নেতা তারেক রেজা রোববার সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের ফ্যামিলি জোন মিলনায়তনে জরুরি সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মিলনায়তনের সামনে পৌঁছানোর সাথে সাথে এনসিপি নেতা তারেক রেজাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের সময় ঘটনাস্থলে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মো. আসাদউজ্জামানসহ পুলিশ, সাদা পোশাকে পুলিশের বিশেষ টিম ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সদর থানার ওসি মো. আসাদউজ্জামান বলেন, হামলা, ভাঙচুর, হত্যার হুমকির অভিযোগে গতকাল (শনিবার) এনসিপি নেতা তারেক রেজা সহ কয়েকজনের নামে মামলা হয়েছে। ঝিনাইদহ সদর থানায় দায়ের করা মামলার আসামি তারেক রেজাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামিদেরও গ্রেফতারেও অভিযান চলমান আছে।

প্রসঙ্গত, গত ২২ মে শুক্রবার ঝিনাইদহ সফরে আসেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ওই দিন জুমার নামাজ শেষে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে এনসিপির নেতাকর্মীদের হাতাহাতি, মারামারি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা বাদী হয়ে ছাত্রদলের স্থানীয় ৮ নেতাকর্মীকে আসামি করে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলা করেন। ওই মামলার জেরে পরদিন দুপুরে তারেক রেজাসহ ২২ জনকে আসামি করে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি এনামুল কবির মামলা করেন। ওই মামলায় আজ সন্ধ্যায় তারেক রেজাকে গ্রেফতার করা হয়।

কালের আলো/এসআর/এএএন

সাংবাদিক গ্রেফতারে অ্যামনেস্টির হস্তক্ষেপ উচিত নয়: চিফ প্রসিকিউটর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
সাংবাদিক গ্রেফতারে অ্যামনেস্টির হস্তক্ষেপ উচিত নয়: চিফ প্রসিকিউটর

শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞে মানবতাবিরোধী অপরাধে দুই সাংবাদিক (সাংবাদিক ফারজানা রুপা, মোজাম্মেল হক বাবু) গ্রেফতারের ক্ষেত্রে অ্যামনেস্টির হস্তক্ষেপ করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

রোববার (২৪ মে) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস্থ নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, দুই সাংবাদিককে (ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবু) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় শ্যোন এরেস্ট দেখানো হয়েছে। তদন্ত সংস্থার পক্ষ থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে।

তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা এ মামলার তদন্ত করছে। তাদের কাজ করতে দেওয়া উচিত। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বা অন্য কোনো মানবাধিকার সংগঠন কী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, তা আমরা দেখিনি। আমাদের একটি চলমান বিচারপ্রক্রিয়ায় তাদের হস্তক্ষেপ করা উচিত হবে না। আইনগত সুযোগও নেই।

এ মামলায় আরও কোনো সাংবাদিককে গ্রেফতার দেখানো হবে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের তদন্ত চলমান। যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে, তাদেরই বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তবে অহেতুক কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে হয়রানির জন্য বিচারের মুখোমুখি করা হবে না।

দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্তের বিষয়ে জানতে চেয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো ধারণা নেই।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের ৩১ মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এত বছরেও সাগর-রুনি হত্যার তদন্ত শেষ না হওয়া দুঃখজনক।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আমি ট্রাইব্যুনালে যোগ দেওয়ার পর ৭টি মামলা পুনরায় তদন্তে পাঠিয়েছি। সেগুলো ঈদের পর চার্জশিট দাখিল করা হবে।

কালের আলো/এসআর/এএএন