খুঁজুন
                               
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

ভাঙাচোরা অর্থনীতি মেরামতের বাজেট!

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ
ভাঙাচোরা অর্থনীতি মেরামতের বাজেট!

নানা কারণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট দেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে বড় তিনটি বিষয় হচ্ছে- দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে টেনে তোলার জন্য আগামী বাজেট হবে মূল নিয়ামক। কারণ অর্থনীতির প্রতিটি খাতের চরম দুরাবস্থা চলে আসছে বিগত কয়েক বছর ধরে।

সেই ভাঙাচোরা অর্থনীতি মেরামত করতে হবে এই বাজেটের মাধ্যমে। এরপর উচ্চ মূল্যস্ফীতি কমানোর দিকে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। আবার বিনিয়োগ খরা কাটানোর মতোও অনেক উপকরণ রাখতে হবে বাজেটে। অর্থনীতির এসব গুরুত্বপূর্ণ খাতে যেখানে বেশি নজর দিতে হবে সেখানে আগের সরকারের আমলে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ঋণের বোঝা টানতে হবে সরকারকে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত বাজেটে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শুধু সুদ পরিশোধেই বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এটি মোট বাজেটের প্রায় ১৩.৫৪ শতাংশ। উন্নয়ন ব্যয়ের পর এটিই সরকারের অন্যতম বৃহৎ ব্যয় খাত হয়ে উঠেছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে এই ব্যয় ছিল প্রায় ৬৮ হাজার কোটি টাকা। ছয় বছরের ব্যবধানে তা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বাজেট ঘাটতি পূরণে দেশি ও বৈদেশিক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এখন বাস্তব চাপে রূপ নিয়েছে। বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প, রাজস্ব ঘাটতি এবং চলতি ব্যয়ের চাপ একত্রে ঋণের পরিমাণ বাড়িয়েছে। সেই ঋণের সুদ পরিশোধই এখন বাজেটের বড় অংশ দখল করছে। এদিকে, এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি ধরা হয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে সরকারকে ব্যাংক ব্যবস্থা, সঞ্চয়পত্র এবং বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে।

কালের আলো/এম/এএইচ

ইসলামী ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের অর্থনীতি মাটির সঙ্গে মিশে যাবে: জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
ইসলামী ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের অর্থনীতি মাটির সঙ্গে মিশে যাবে: জামায়াত আমির

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ঘিরে আবারও দখলদার চক্র সক্রিয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ব্যাংকটি আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের অর্থনীতি মাটির সঙ্গে মিশে যাবে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের বাজেট অধিবেশনের তৃতীয় দিনে ৬৮ বিধিতে দেওয়া নোটিশ উত্থাপনকালে তিনি এ কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্সের একটি বড় অংশ আসে। অতীতে নানা অপপ্রচার ও রাজনৈতিক হয়রানির মধ্যেও ব্যাংকটি ২০১৬ সালে ৪৪৭ কোটি টাকার বেশি মুনাফা অর্জন করেছিল এবং খেলাপি বিনিয়োগ ছিল মাত্র ৪ শতাংশ। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ দখল ও অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটি ও দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, সেই সময়ের পর ব্যাংকের মুনাফা ও কার্যকারিতায় বড় ধরনের পতন ঘটে এবং ২০২৪ সালে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রদান করা সম্ভব হয়নি। খেলাপি বিনিয়োগও মোট বিনিয়োগের প্রায় ৫১ শতাংশে পৌঁছেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছিল। এ অবস্থায় নতুন করে আবারও ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি দাবি করেন, পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পদে বিতর্কিত ব্যক্তিকে নিয়োগ এবং ব্যবস্থাপনায় অযৌক্তিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্পিকার পরে বিষয়টি নিয়ে সময় স্বল্পতার কারণে পুরো নোটিশ পড়ার সুযোগ সীমিত করেন বলে জানা যায়। পরে লিখিত নোটিশে বলা হয়, এমডিকে পদত্যাগে বাধা দেওয়া এবং ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে।

শফিকুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংককে অতীতে “জামায়াতের প্রতিষ্ঠান” হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হলেও বাস্তবে এটি গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর দাঁড়িয়ে সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে ব্যাংকটি দখলের ফলে লুটপাট ও অনিয়ম হয়েছে, যার প্রভাব এখনো অর্থনীতিতে পড়ছে। বর্তমানে আবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে তার ফল ভালো হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, একদিনেই গ্রাহকেরা প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন, যা আস্থার সংকটের প্রতিফলন।

শেষে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ব্যবস্থাপনায় যেকোনো অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ বন্ধ করা জরুরি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

শাকিব খানের ‘আগুন’, সাত বছর পর অবশেষে দুর্গাপূজায় মুক্তি পাচ্ছে

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
শাকিব খানের ‘আগুন’, সাত বছর পর অবশেষে দুর্গাপূজায় মুক্তি পাচ্ছে

দীর্ঘ সাত বছর ধরে নানা কারণে আটকে থাকা ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান অভিনীত ‘আগুন’ সিনেমাটি অবশেষে মুক্তির পথে এগোচ্ছে। ২০১৯ সালে শুটিং শুরু হওয়া ছবিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল ছিলো।

এবার জানা গেল, সবকিছু ঠিক থাকলে আসন্ন দুর্গাপূজায় সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন নির্মাতারা।

এ বিষয়ে ছবিটির পরিচালক বদিউল আলম খোকন বলেন, ‘ছবির বাকি কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আমি চাইছি দুর্গাপূজাতেই ‘আগুন’ মুক্তি পাক। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ এগিয়ে নিচ্ছি।’

‘আগুন’ সিনেমার যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট। বেশ আয়োজন করেই শুটিং শুরু হয় ছবিটির। একই বছরের অক্টোবরে দ্বিতীয় লটের কাজ শেষ হওয়ার পর হঠাৎ করেই থেমে যায় নির্মাণ কার্যক্রম। এরপর দীর্ঘ সময় ছবিটির কাজ বন্ধ ছিল। বিভিন্ন জটিলতা ও ব্যস্ততার কারণে সিনেমাটি আর এগোতে পারেনি।

তবে ২০২২ সালে নতুন করে ছবিটির শুটিং শুরু হয়। সে সময় প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তী সময়ে বাকি অংশের শুটিংও শেষ করা সম্ভব হয়। কিন্তু এরপর ছবিটি আটকে যায় পোস্ট-প্রোডাকশনের বিভিন্ন ধাপে। ফলে বহু প্রতীক্ষার পরও দর্শকদের সামনে আসতে পারেনি ‘আগুন’।

সিনেমা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে সিনেমাটির সম্পাদনা, ডাবিং, কালার গ্রেডিং ও অন্যান্য কারিগরি কাজ শেষ করার প্রক্রিয়া চলছে। এসব কাজ সম্পন্ন হলেই মুক্তির চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে।

দেশ বাংলা মাল্টিমিডিয়ার প্রযোজনায় নির্মিত ‘আগুন’ সিনেমায় শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন জাহারা মিতু। এটি শাকিব-মিতু জুটির আলোচিত প্রকল্পগুলোর একটি। এছাড়া ছবির গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিশা সওদাগর, সুচরিতা, আফজাল শরীফ এবং রেবেকা।

কালের আলো/এম/এএইচ

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে ৫০ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে ৫০ শতাংশ

নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য বাজেটে বরাদ্দ চূড়ান্ত করেছে সরকার। একই সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন বাজেটে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হবে। তবে নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে বিশেষ সুবিধা বাতিল হবে। এতে সামগ্রিকভাবে বেতন বৃদ্ধি দাঁড়াবে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে।

সূত্র আরও জানায়, আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীরা সুপারিশকৃত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ সুবিধা পাবেন। পরবর্তী অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। এরপরের অর্থবছরে ভাতা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ফলে ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে পূর্ণাঙ্গ বেতন-ভাতা কাঠামো কার্যকর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হতে পারে।

বাজেট বক্তৃতায় নতুন বেতন কাঠামোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা থাকতে পারে এবং আংশিক বাস্তবায়নের যৌক্তিকতাও তুলে ধরা হতে পারে। তিনি আরও বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটি তিন ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের যে সুপারিশ করেছে, তাতে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি রয়েছে। ফলে ওই সুপারিশ অনুযায়ীই নবম পে স্কেল কার্যকর হবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ