খুঁজুন
                               
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩
           

‘ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামও ইসলাম নয়’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৮:০৫ অপরাহ্ণ
‘ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামও ইসলাম নয়’

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডে চাকরিচ্যুতি, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং শেয়ার হস্তান্তরসংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ব্যাংকটিতে যেসব কর্মীকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, তাদের সবাইকে চাকরিতে পুনর্বহালের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া কতটা সঠিক ছিল, তাও খতিয়ে দেখা দরকার।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে বিভিন্ন সময় ধর্মীয় পরিচয়ের অপব্যাখ্যা দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হয়, যা গ্রহণযোগ্য নয়। ইসলামী ব্যাংক ইসলাম নয়, মির্জা ফখরুল ইসলামও ইসলাম নয়, জামায়াতে ইসলামও ইসলাম নয়। সবকিছুতে ইসলামের দোহাই দেওয়া ঠিক নয়।

মন্ত্রী বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংকের চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে পরিচালনা পর্ষদ পর্যন্ত পরিবর্তনের ক্ষমতা রয়েছে। তাই এ বিষয়ে কোনো প্রশ্ন
ব্যাংকের পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী অভিযোগ করেন, একটি মহল পর্দার আড়ালে থেকে গ্রাহকের ছদ্মবেশে আন্দোলন পরিচালনা করে ব্যাংকে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি চাইলে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে পারে, তবে জনগণকে বিভ্রান্ত করে উত্তেজনা সৃষ্টি করা উচিত নয়।

তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, ইসলামী ব্যাংকের বৈধ শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার যথাযথভাবে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি নাবিল গ্রুপসহ যেসব প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা ফেরত দেয়নি, তাদের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত পরিচালনা করা হবে।

এছাড়া, অতীতে নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্রায় ৯ হাজার কর্মীকে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

কালের আলো/এসআর/এএএন

ইসলামী ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের অর্থনীতি মাটির সঙ্গে মিশে যাবে: জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
ইসলামী ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের অর্থনীতি মাটির সঙ্গে মিশে যাবে: জামায়াত আমির

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ঘিরে আবারও দখলদার চক্র সক্রিয় হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ব্যাংকটি আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের অর্থনীতি মাটির সঙ্গে মিশে যাবে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের বাজেট অধিবেশনের তৃতীয় দিনে ৬৮ বিধিতে দেওয়া নোটিশ উত্থাপনকালে তিনি এ কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্সের একটি বড় অংশ আসে। অতীতে নানা অপপ্রচার ও রাজনৈতিক হয়রানির মধ্যেও ব্যাংকটি ২০১৬ সালে ৪৪৭ কোটি টাকার বেশি মুনাফা অর্জন করেছিল এবং খেলাপি বিনিয়োগ ছিল মাত্র ৪ শতাংশ। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ দখল ও অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটি ও দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, সেই সময়ের পর ব্যাংকের মুনাফা ও কার্যকারিতায় বড় ধরনের পতন ঘটে এবং ২০২৪ সালে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ প্রদান করা সম্ভব হয়নি। খেলাপি বিনিয়োগও মোট বিনিয়োগের প্রায় ৫১ শতাংশে পৌঁছেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চলছিল। এ অবস্থায় নতুন করে আবারও ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি দাবি করেন, পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পদে বিতর্কিত ব্যক্তিকে নিয়োগ এবং ব্যবস্থাপনায় অযৌক্তিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে স্পিকার পরে বিষয়টি নিয়ে সময় স্বল্পতার কারণে পুরো নোটিশ পড়ার সুযোগ সীমিত করেন বলে জানা যায়। পরে লিখিত নোটিশে বলা হয়, এমডিকে পদত্যাগে বাধা দেওয়া এবং ব্যবস্থাপনায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে।

শফিকুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংককে অতীতে “জামায়াতের প্রতিষ্ঠান” হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হলেও বাস্তবে এটি গ্রাহক ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার ওপর দাঁড়িয়ে সফলভাবে পরিচালিত হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, অতীতে ব্যাংকটি দখলের ফলে লুটপাট ও অনিয়ম হয়েছে, যার প্রভাব এখনো অর্থনীতিতে পড়ছে। বর্তমানে আবারও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে তার ফল ভালো হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, একদিনেই গ্রাহকেরা প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন, যা আস্থার সংকটের প্রতিফলন।

শেষে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ব্যবস্থাপনায় যেকোনো অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ বন্ধ করা জরুরি।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

শাকিব খানের ‘আগুন’, সাত বছর পর অবশেষে দুর্গাপূজায় মুক্তি পাচ্ছে

বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ণ
শাকিব খানের ‘আগুন’, সাত বছর পর অবশেষে দুর্গাপূজায় মুক্তি পাচ্ছে

দীর্ঘ সাত বছর ধরে নানা কারণে আটকে থাকা ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান অভিনীত ‘আগুন’ সিনেমাটি অবশেষে মুক্তির পথে এগোচ্ছে। ২০১৯ সালে শুটিং শুরু হওয়া ছবিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল ছিলো।

এবার জানা গেল, সবকিছু ঠিক থাকলে আসন্ন দুর্গাপূজায় সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন নির্মাতারা।

এ বিষয়ে ছবিটির পরিচালক বদিউল আলম খোকন বলেন, ‘ছবির বাকি কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আমি চাইছি দুর্গাপূজাতেই ‘আগুন’ মুক্তি পাক। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ এগিয়ে নিচ্ছি।’

‘আগুন’ সিনেমার যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট। বেশ আয়োজন করেই শুটিং শুরু হয় ছবিটির। একই বছরের অক্টোবরে দ্বিতীয় লটের কাজ শেষ হওয়ার পর হঠাৎ করেই থেমে যায় নির্মাণ কার্যক্রম। এরপর দীর্ঘ সময় ছবিটির কাজ বন্ধ ছিল। বিভিন্ন জটিলতা ও ব্যস্ততার কারণে সিনেমাটি আর এগোতে পারেনি।

তবে ২০২২ সালে নতুন করে ছবিটির শুটিং শুরু হয়। সে সময় প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তী সময়ে বাকি অংশের শুটিংও শেষ করা সম্ভব হয়। কিন্তু এরপর ছবিটি আটকে যায় পোস্ট-প্রোডাকশনের বিভিন্ন ধাপে। ফলে বহু প্রতীক্ষার পরও দর্শকদের সামনে আসতে পারেনি ‘আগুন’।

সিনেমা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে সিনেমাটির সম্পাদনা, ডাবিং, কালার গ্রেডিং ও অন্যান্য কারিগরি কাজ শেষ করার প্রক্রিয়া চলছে। এসব কাজ সম্পন্ন হলেই মুক্তির চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে।

দেশ বাংলা মাল্টিমিডিয়ার প্রযোজনায় নির্মিত ‘আগুন’ সিনেমায় শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন জাহারা মিতু। এটি শাকিব-মিতু জুটির আলোচিত প্রকল্পগুলোর একটি। এছাড়া ছবির গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিশা সওদাগর, সুচরিতা, আফজাল শরীফ এবং রেবেকা।

কালের আলো/এম/এএইচ

সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে ৫০ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়ছে ৫০ শতাংশ

নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য বাজেটে বরাদ্দ চূড়ান্ত করেছে সরকার। একই সঙ্গে নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন বাজেটে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হবে। তবে নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে বিশেষ সুবিধা বাতিল হবে। এতে সামগ্রিকভাবে বেতন বৃদ্ধি দাঁড়াবে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে।

সূত্র আরও জানায়, আগামী ১ জুলাই থেকে সরকারি কর্মচারীরা সুপারিশকৃত মূল বেতনের ৫০ শতাংশ সুবিধা পাবেন। পরবর্তী অর্থবছরে বাকি ৫০ শতাংশ কার্যকর করা হবে। এরপরের অর্থবছরে ভাতা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ফলে ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে পূর্ণাঙ্গ বেতন-ভাতা কাঠামো কার্যকর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করা হতে পারে।

বাজেট বক্তৃতায় নতুন বেতন কাঠামোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা থাকতে পারে এবং আংশিক বাস্তবায়নের যৌক্তিকতাও তুলে ধরা হতে পারে। তিনি আরও বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিবের নেতৃত্বাধীন কমিটি তিন ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের যে সুপারিশ করেছে, তাতে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি রয়েছে। ফলে ওই সুপারিশ অনুযায়ীই নবম পে স্কেল কার্যকর হবে।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ