Kaler Alo
রবিবার, ০১ নভেম্বর, ২০২৬
১৬ কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তরুণদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সবার জন্য বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী
কালের আলো

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম

ভবন আছে শয্যা আছে, চিকিৎসক নেই চার কেন্দ্রে

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ০৪:৫৭ পিএম

ভবন আছে শয্যা আছে, চিকিৎসক নেই চার কেন্দ্রে

ভবন আছে, শয্যা আছে, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামও রয়েছে। চিকিৎসক ও কর্মীদের থাকার জন্য ডরমেটরি এবং বিদ্যুৎ চলে গেলে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে জেনারেটরও স্থাপন করা হয়েছে। তবু চিকিৎসক সংকটে উদ্বোধনের আট বছর পরও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি ঝিনাইদহের চারটি ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। ফলে এসব কেন্দ্রে প্রত্যাশিত স্বাস্থ্যসেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে প্রসূতি নারী ও শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেতে ছুটতে হচ্ছে দূরের হাসপাতালে।

২০১৮ সালে উদ্বোধন, আট বছরেও পূর্ণাঙ্গ সেবা নেই
গ্রামীণ মানুষের দোরগোড়ায় মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ঝিনাইদহে চারটি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। কেন্দ্রগুলো ২০১৮ সালে উদ্বোধন করা হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় এখনো সেগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি।

কেন্দ্রগুলো রয়েছে শৈলকুপা উপজেলার দুধসর ও কাঁচেরকোল গ্রামে, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দক্ষিণ কাষ্টসাগরা এলাকায় এবং কালীগঞ্জ পৌরসভা এলাকায়। প্রতিটি কেন্দ্রে ১০টি শয্যা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে গর্ভবতী মায়েদের প্রসবকালীন সেবা, সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার এবং শিশুদের চিকিৎসা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও জনবলসংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবার সেই লক্ষ্য পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

ভবন ও সরঞ্জাম প্রস্তুত, মিলছে না প্রয়োজনীয় চিকিৎসা
প্রতিটি কেন্দ্রের তিনতলা ভবনে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, শয্যা ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি রয়েছে। চিকিৎসক ও কর্মীদের আবাসনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হলে ব্যবহারের জন্য রয়েছে জেনারেটর।

কিন্তু প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নিয়োগ না হওয়ায় এসব সুবিধা কাজে লাগিয়ে পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে সরকারি অর্থে নির্মিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো থেকে স্থানীয় জনগণ যে ধরনের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার কথা, তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে দূরের হাসপাতালে নেওয়ার ঝুঁকি ও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। গ্রামীণ এলাকায় কাছাকাছি প্রসূতিসেবার ব্যবস্থা না থাকায় রোগী ও তাঁদের স্বজনদের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।

হাসপাতাল আছে, কিন্তু ডাক্তার নেই
দুধসর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আওয়াল বলেন, এলাকার মা ও শিশুদের চিকিৎসার সুবিধা নিশ্চিত করতে হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসক না থাকায় তাঁরা ঠিকমতো চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের জরুরি প্রয়োজনে দূরের হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়।

একই গ্রামের বাসিন্দা রাশিদা বেগম বলেন, দরিদ্র মানুষের জন্য কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। ভবন ও শয্যা থাকলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রত্যাশিত সুবিধা পাচ্ছেন না। দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে কেন্দ্রটিতে সেবার ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। mকাঁচেরকোল গ্রামের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিপুল অর্থ ব্যয়ে হাসপাতাল নির্মাণ করা হলেও মানুষ প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছে না। দ্রুত জনবল নিয়োগ দিয়ে কেন্দ্রগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হলে এলাকার হাজারো মানুষ উপকৃত হবেন।

প্রতিটি কেন্দ্রে দুজন চিকিৎসক নিয়োগের সুপারিশ
ঝিনাইদহ পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল করিম জানান, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রগুলো চালু রাখার উদ্যোগ রয়েছে। তবে চিকিৎসক নিয়োগ না হওয়ায় পূর্ণাঙ্গ সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রে দুজন করে চিকিৎসক নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ানো সম্ভব হবে।

দ্রুত জনবল নিয়োগের দাবি স্থানীয়দের
মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে চারটি কেন্দ্র পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মতে, নতুন করে অবকাঠামো নির্মাণের চেয়ে বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ করে সেবা নিশ্চিত করা এখন জরুরি। বিশেষ করে প্রসূতি নারীদের জরুরি চিকিৎসা এবং শিশুদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা স্থানীয় পর্যায়ে নিশ্চিত করা গেলে দূরের হাসপাতালে যাতায়াতের ভোগান্তি কমবে। দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত সক্ষমতা কাজে লাগাতে দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ ও পূর্ণাঙ্গ সেবা চালুর কার্যকর উদ্যোগ চান তাঁরা।

কালের আলো/ডিএইচ/এমএসআইপি

Link copied!