খুঁজুন
                               
, ,
           

প্রধানমন্ত্রীর সময়োচিত সিদ্ধান্তে কুয়েতে সেনা মেডিকেল টিম, বাংলাদেশ-কুয়েত সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়

ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২০, ৭:৪০ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর সময়োচিত সিদ্ধান্তে কুয়েতে সেনা মেডিকেল টিম, বাংলাদেশ-কুয়েত সম্পর্ক নতুন উচ্চতায়

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

বৈশ্বিক মহামারী করোনার ভয়ঙ্কর থাবায় বিশ্বজুড়ে লাখ ছাড়িয়েছে মৃত্যুর মিছিল। ইতালি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে সবখানেই।

পৃথিবীর ‘ফুসফুস’ খ্যাত গহীন বনাঞ্চল আমাজানেও হানা দিয়েছে প্রাণঘাতী এই ভাইরাস। ভয়াবহ ছোঁয়াচে এই জীবাণু বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি করতে যাচ্ছে মরুর দেশ কুয়েতেও।

তবে আগে থেকেই সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে দেশটির সরকার। কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলায় কুয়েত সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ খালিদ আল-খদর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের কাছে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার প্রত্যাশার কথা জানান।
 
সেনাপ্রধান বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করলে মানবিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্ধুপ্রতীম দেশটির আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন। তাঁর সময়োচিত সিদ্ধান্তে ইতোমধ্যেই সেখানে পাঠানো হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শতাধিক সদস্যের একটি মেডিকেল টিম।

এছাড়া কুয়েত সেনাবাহিনীর প্রতি প্রগাঢ় বন্ধুত্বের নিদর্শনস্বরূপ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সৌজন্যমূলক উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় মেডিকেল কিট।

বাংলাদেশী সেনাদের বন্দনায় মুখর কুয়েতের গণমাধ্যম
বাংলাদেশ থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামাদি নিয়ে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে কুয়েতে অবতরণ করে কুয়েত বিমান বাহিনীর একটি স্পেশাল কার্গো বিমান। সেখানে পৌঁছে যান ১০০ জনের সেনা মেডিকেল টিমও।

এরপর থেকেই কুয়েতের প্রথম সারির পেশাদার গণমাধ্যমসমূহ ভাসছে বাংলাদেশী সেনাদের বন্দনায়।

আক্ষেপ বা হতাশার এই সময়টিতে বাংলাদেশ সরকারের বিরল ভালোবাসা মরুভূমির দেশটির সবার মাঝেই এখন যেন বয়ে দিচ্ছে অবারিত আনন্দের বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস।

দেশটির প্রথম সারির ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই প্রচার করেছে কুয়েতের ডাকে সাড়া দিয়ে আবারও বাংলাদেশ সরকার ও দেশটির সেনাবাহিনীর করোনার ভয়াবহতার মুখেও কুয়েতকে বাঁচানোর লড়াইয়ে সামিল হওয়ার বাস্তব চিত্র।

কান্না আর লাশের মিছিল ঠেকাতে অদম্য মনোবলে সর্বোচ্চ সেবা দিয়েই বাংলাদেশী সেনাদের মেডিকেল টিম মৃত্যু ভয়কে তুচ্ছ করেই নিজেদের মেধা ও শ্রম ঢেলে দিবেন।

নিজেরা হয়ে উঠবেন মানবসেবার অগ্নিপরীক্ষায় বীরত্বের নায়কোচিত আদর্শ, এমন আশা জাগানিয়া খবরও প্রকাশিত হয়েছে তাদের গণমাধ্যমসমূহে।  

করোনায় কুয়েতকে চিকিৎসা সহায়তার নেপথ্যে
ইরানোর মতো ভয়ানক পরিস্থিতি এড়ানোর পাশাপাশি করোনার সংক্রমণ রোধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে সার্বিক চিকিৎসা সহযোগিতা প্রত্যাশা করে কুয়েত সশস্ত্র বাহিনী। বাংলাদেশ সরকারও তাদের নিরাশ করেনি। দ্রুতই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সরকারের দায়িত্বশীল বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষের দিকে কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ খালিদ আল-খদর কুয়েতকে সহায়তার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদকে ফোনে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেন।

পরে সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিক সেনাবাহিনীকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন।

সরকার প্রধানের এ নির্দেশনার প্রেক্ষিতেই শুক্রবার (১০ এপ্রিল) কুয়েতে চিকিৎসা সরঞ্জামাদি ও ১০০ সদস্যের সেনা মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে। কুয়েত সরকারের নির্দেশে সেখানকার মানুষজনের চিকিৎসাসেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করবে তারা।

করোনা মহামারী ঠেকাতে কুয়েতের যতো পদক্ষেপ
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে ইরানের পর কুয়েতেই সবচেয়ে বেশি মানুষ নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

দেশটিতে এখনও কারও মৃত্যুবরণের কথা শোনা যায়নি। তবে করোনা মহামারী রুখে দিতে কঠোর পদক্ষেপ নেয় দেশটির সরকার।

প্রথমেই দশ দেশের নাগরিকদের কুয়েত প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। এরপর সতর্কতামূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দুই সপ্তাহের জন্য দেশটিতে কারফিউ জারি করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে ঘরবন্দি করতে সচেতনতামূলক নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে সেনাদের কর্মদক্ষতায় খুশি কুয়েত
করোনার কালো থাবা থেকে কুয়েতকে মুক্ত করতে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের সেনা চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে দেশটিতে দু’টি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার খোলা হয়েছে। বাংলাদেশের সেনা চিকিৎসকরা নিজেদের সামর্থ্যরে সর্বোচ্চটুকু দিয়েই পরিচালনা করছেন এসব কোয়ারেন্টাইন সেন্টার।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নির্ভরযোগ্য বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে, বাংলাদেশী সেনা চিকিৎসকদের কর্মদক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ খালিদ আল-খদর।

সেনাপ্রধানের সঙ্গে সম্প্রতি ফোনালাপে এসব সেনা চিকিৎসকদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা, নৈতিক মনোবল ও পেশাদারিত্বের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন কুয়েতের সর্বোচ্চ এ সামরিক কর্মকর্তা।

দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ৩০ বছর
১৯৯০ সালে উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় ইরাকের কুয়েত আক্রমণের পর কুয়েত রক্ষায় দেশটিতে মোতায়েন করা হয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে।

অপারেশন কুয়েত পুনর্গঠনের (ওকেপি) অংশ হিসেবে ইরাকের দখলদারিত্ব থেকে কুয়েত রক্ষায় এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে বাংলাদেশি সেনারা।

সেই হিসেবে কুয়েতের স্বাধীনতার পুনর্গঠনেরও অংশীদার বাংলাদেশের সাহসী সেনা সদস্যরা।

ঝুঁকিপূর্ণ কাজে পারদর্শী ও সাহসী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সুনাম কুয়েতের আমীর পরিবারের মুখে মুখে। সাধারণ মানুষও বেশ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ত্যাগ ও তাদের ভূমিকার কথা। বাংলাদেশ ও কুয়েত সরকারের মধ্যে সম্পর্ক অন্য রকম উচ্চতায় গিয়ে পৌঁছেছে।

বন্ধু রাষ্ট্রের দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যকার পারস্পরিক বিশ্বাস যেমন বেড়েছে তেমনি জোরদার হয়েছে আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কও। কুয়েত সরকার ও তাদের সেনাবাহিনী সব সময় তাদের দেশ পুনর্গঠনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবদান ও আত্নত্যাগ কৃতজ্ঞতার সঙ্গেই স্মরণ করেন।

উভয় দেশের কল্যাণে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাওয়া বাংলাদেশ ও কুয়েত সেনাবাহিনীর মধ্যকার সুস্পর্ক আরও জোরদার হয় গত বছরের ১১ মার্চ থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের কুয়েত সফরের মধ্যে দিয়ে।

চারদিনের সরকারি সেই সফরে সেনাপ্রধান কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অফ জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ খালিদ আল-খদর’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ওই সাক্ষাতে কুয়েতের শীর্ষ এ সেনা কর্মকর্তা বাংলাদেশকে কুয়েতের প্রকৃত বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন।

সূত্র মতে, সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের সবিশেষ গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ ওই সফরের আড়াই মাসের মাথায় সুসংবাদ আসে। সেনাপ্রধানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে নতুন সম্ভাবনার দূয়ার খুলে দেয় কুয়েত সরকার।

তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওকেপি-৯ কন্টিনজেন্টের সদস্য সংখ্যা ২৫০ জন থেকে বেড়ে ৬৩৯ জনে উন্নীত করার বিষয়টি ওই বছরের বৃহস্পতিবার (৩০ মে) অনুমোদন করে এবং শিগগির সেখানে চাহিদা মোতাবেক সেনা পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়।

দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন গর্বিত সেনা সদস্যরা
পারস্য উপসাগরের তীর ঘেষে গড়ে উঠা কুয়েতকে মাইনমুক্ত ও পুনর্গঠনে এখনও নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশের সেনা সদস্যরা।

বিশ্বের অনেক দেশ যেখানে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে সেখানে সাহসিকতার সাথে ঝুঁকিপূর্ণ এ কাজ করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্ব পরিমন্ডলে উজ্জ্বল করেছেন গর্বিত সেনাসদস্যরা।

একইভাবে যদি দেশের মিশনগুলোও নিজ নিজ দায়িত্বে এমন প্রশংসনীয় ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে আসতো তবে লাল-সবুজের বাংলাদেশের সুনাম-সুখ্যাতি আরও বাড়তো বলেও মনে করেন বিশ্লেষকরা।

আবারও মানবতার জন্যই বুক চিতিয়ে লড়াই
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো কুয়েতেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষিত মেডিকেল টিমের সুনাম রয়েছে। অতীতের ধারাবাহিকতায় কুয়েতের চরম এই দু:সময়েও বাংলাদেশের সেনা চিকিৎসকরা পরিবার, পরিজন, সন্তান-প্রিয়জন সব ভুলে মানবতার জন্যই বুক চিতিয়ে লড়াই করবেন।

কুয়েতের মানুষের জীবন রক্ষায় নিজেদের সমর্পণ করে শক্তি, সাহস ও আশা জাগাবেন তাদের মনে।

পরাজয়ের গ্লানি গায়ে না মেখে বরাবরের মতো এবারও নিজেদের গৌরবদীপ্ত পথচলার ধারবাহিকতায় করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিজয়ের হাসি মুখে নিয়েই মানবতার বিজয় কেতন উড়িয়েই দেশে ফিরবেন, এমন প্রত্যাশা সবার।

কালের আলো/এসআর/এমএএএমকে

রাজশাহীতে বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন জন্মদিনের কেক

রাজশাহী প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ২:৫২ অপরাহ্ণ
রাজশাহীতে বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন জন্মদিনের কেক

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) বিভাগীয় কার্যালয়, রাজশাহীর উদ্যোগে অদ্য বৃহস্পতিবার দুপুর ১২.০০ ঘটিকায় রাজশাহী মহানগরীতে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।

এতে বিএসটিআই’র গুণগত মানসনদ গ্রহণ ছাড়াই অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এবং নন-ফুডগ্রেড উপাদান ব্যবহার করে ‘ডেকোরেটেড কেক (জন্মদিনের কেক)’ উৎপাদন ও বিক্রি-বিতরণ করায় নগরীর কুমারপাড়া আলুপট্টি এলাকায় অবস্থিত কেক ব্রাইট প্রতিষ্ঠানটিকে ৮,০০০/- (আট হাজার টাকা মাত্র) জরিমানা করা হয়।

 রাজশাহী জেলা প্রশাসনের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শাহরিয়ার ইসলাম নাসিফ এর নেতৃত্বে পরিচালিত উক্ত মোবাইল কোর্টে প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআই বিভাগীয় অফিস, রাজশাহীর সার্টিফিকেশন মার্কস উইং এর কর্মকর্তা প্রকৌশলী জুনায়েদ আহমেদ।

এসময় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। জনস্বার্থে ভেজাল প্রতিরোধ এবং গুণগত মানসম্পন্ন খাদ্যপণ্য সরবরাহ নিশ্চিতকল্পে বিএসটিআই, রাজশাহীর এধরণের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

কালের আলো/এএইচ/এমএসআইপি 

ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে সবাইকে ভাবতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ২:২৫ অপরাহ্ণ
ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে সবাইকে ভাবতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

বিশ্বের বসবাসের অযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকা তৃতীয় স্থানে থাকা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে সিরিয়াসলি চিন্তা করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় পরিবেশ পদক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিল কারখানার কারণে পরিবেশের দূষণ যেভাবে হচ্ছে, তা নিয়ে আমাদের সবাই দায় আছে। ইকোসিস্টেমের নিরাপদ লালন ও বিকাশের সঙ্গে মানবসমাজ জড়িত। বৃক্ষমেলা নিরাপদ ভবিষ্যৎ নির্মাণের বিনিয়োগ। এটি শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকা উচিত হবে না, নৈমিত্তিক এটি করতে হবে।

তিনি বলেন, সন্তান জন্ম নিলে আমরা তার নামে একটি গাছ লাগাতে পারি। লন্ডনেও এমন দেখেছি।

সরকার গ্রিন ভলান্টিয়ারিজম চালু করবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ক্লাইমেট ইয়ুথ ফেলোশিপ চালুসহ বেশকিছু উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর, সবুজায়নের লক্ষ্যে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ করবে সরকার। আমরা ছাদ বাগান, নগর বনায়ন, ইকো ট্যুরিজমকে অর্থনীতির নতুন ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করতে চাই। এছাড়া রিডিউস, রিইউজ, রিসাইকেল জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আকাশমনিসহ অনেক ক্ষতিকর গাছ আছে, যা রোপণ থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়া কোন মাটিতে কোন গাছ রোপণ ভালো হবে, তা জানতে হবে। ঔষধিসহ দেশীয় গাছ রোপণে মনযোগী হতে হবে।

তিনি বলেন, সবকিছু আইন দিয়ে করা সম্ভব নয়, সচেতনতার মধ্য দিয়ে করতে হবে।

অনুষ্ঠানে ৭টি ক্যাটাগরিতে মোট ২১ জনের হাতে জাতীয় পরিবেশ পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

চলতি বছর ব্যক্তিগত ক্যাটাগরিতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে পদক পেয়েছেন আলহাজ ফরহাদ আলী মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. হাসমত আলী। পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা ও প্রচারে অবদানের জন্য পদক পেয়েছেন মো. মনির হোসেন। এছাড়া পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন ক্যাটাগরিতে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পদক পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. আব্দুস সালাম।

প্রাতিষ্ঠানিক ক্যাটাগরিতে পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অবদানের জন্য পদক লাভ করেছে ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেইড প্রোডাক্টস বিডি লিমিটেড। পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা ও প্রচার ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস। অন্যদিকে, পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন ক্যাটাগরিতে এই গৌরবময় পদক পেয়েছে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট।

কালের আলো/আরডি/এমডিএইচ

পরিবেশ মেলা ও জাতীয় বৃক্ষমেলার উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই, ২০২৬, ২:২৩ অপরাহ্ণ
পরিবেশ মেলা ও জাতীয় বৃক্ষমেলার উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর

‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এ দুটি আয়োজনের উদ্বোধন করেন তিনি।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ থেকেও পাঠ করা হয়। এরপর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে বর্তমান সরকারের সাফল্য নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৫, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৬ এবং বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৫ প্রদান করেন। এছাড়া সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের মধ্যে লভ্যাংশের চেক বিতরণ করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী একটি করে জলপাই, জারুল ও নিমগাছের চারা রোপণ করেন। পরে তিনি পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে আয়োজিত জাতীয় বৃক্ষমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।

পরিবেশ সংরক্ষণ, বন সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

রাজধানীতে পরিবেশ মেলা ও মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলার পাশাপাশি সাতটি বিভাগীয় শহরে ১৫ দিনব্যাপী, ৫৬টি জেলা সদরে সাত দিনব্যাপী এবং ২৯টি উপজেলায় তিন দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হচ্ছে। ঢাকার জাতীয় বৃক্ষমেলায় অংশ নিয়েছে ১২০টি স্টল।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে।

এ কর্মসূচির আওতায় জিআইএস, রিমোট সেন্সিং, ন্যাশনাল ট্রি ডেটাবেজ এবং ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বনায়ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। এর মাধ্যমে প্রায় সাড়ে তিন লাখ নতুন সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাংলাদেশে বৃক্ষরোপণকে রাষ্ট্রীয় আন্দোলনে রূপ দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৯৭৯ সালে তাঁর উদ্যোগেই দেশের প্রথম জাতীয় বননীতি প্রণয়ন করা হয়।

পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় বৃক্ষমেলার সূচনা করেন এবং সামাজিক বনায়নের সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতায় প্রযুক্তিনির্ভর ও টেকসই বনায়ন ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে কাজ করছে।

এর আগে গত ১৩ জুন কক্সবাজারের চকরিয়ার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে একটি গর্জনগাছের চারা রোপণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সূত্র : বাসস

কালের আলো/জেএন/এমএসআইপি