স্পিকার ড.শিরীন শারমিনের অনন্য অভিভাষণ, মুগ্ধ-আলোড়িত প্রধানমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী-এমপিরা

প্রকাশিতঃ 7:45 pm | July 04, 2021

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এক সময়ের ‘তলাবিহীন ঝুঁড়ি’ বাংলাদেশ এখন এক শক্তিশালী সিন্দুক। ছোট্ট অর্থনীতির দেশটি এখন পরিচিত হচ্ছে এশিয়ার ‘টাইগার ইকনোমি’ হিসেবে। এক অফুরন্ত সম্ভাবনার হাতছানি নিয়ে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ সামাজিকসহ বিভিন্ন সূচকেই ছাড়িয়ে গেছে অনেক দেশকে।

ফলে স্বভাবতই পিতা মুজিবের আত্মপ্রত্যয়ের সেই অমিয়বাণীর সঙ্গেই কণ্ঠ মিলিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড.শিরীন শারমিন চৌধুরী অমিত দৃঢ়তায় বলেন— ‘দাবায়ে রাখতে পারবা না।’

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে এসে বঙ্গবন্ধুর সেদিনের সেই দৃঢ়তা আরও বাঙ্ময় ও বাস্তব এক সত্য হিসেবেই পরিগণিত হয়েছে চার শব্দের এক বাক্যের এই উচ্চারণে।

কেবল-ই কী তাই? করোনা সঙ্কটে সামাজিক সুরক্ষা, জীবন-জীবিকাকে প্রাধান্য দেওয়ার বাস্তবভিত্তিক বাজেট, জিডিপিতে ভারত-পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে যাওয়া, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে বাংলাদেশের উত্থান কিংবা সুদান আর সোমালিয়ার ঋণ মওকুফ-তাঁর অনুপুঙ্খ বিশ্লেষণী বক্তব্য থেকে বাদ যায়নি কোনো তথ্য-উপাত্তও।

এসবের মাধ্যমেই কিনা প্রকারান্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার জাদুমন্ত্রে দৃপ্ত শপথে উজ্জ্বীবিত হওয়ার বীজমন্ত্রই যেন ‘সংসদ অভিভাবক’ গেঁথে দিলেন সবার হৃদয়-মস্তিষ্কে। কারও কারও মতে, শনিবার (০৩ জুলাই) সমাপনী বাজেট অধিবেশনে স্পিকারের ভাষণটি এক আলোকবর্তিকা এবং পথনির্দেশের বার্তাবহন করে।

ইতিহাস-ঐতিহ্যের পরম্পরা টেনে, বড় বড় মনীষীকে সংজ্ঞায়িত করে প্রতিটি শব্দ বা বাক্যে গভীর অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার সংহত স্বরূপকেই উদ্ভাসিত করেছেন ড.শিরীন শারমিন। বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনার দৃষ্টিভঙ্গি, জীবন—দর্শন, রাষ্ট্রচিন্তা, সমাজ ভাবনা, রাজনীতি চিন্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ভাবনা যে পরস্পর সম্পর্কিত এক সমগ্রক রূপ— তাই যেন স্পষ্ট প্রতিভাত হয়েছে প্রায় ২২ মিনিটের সমাপনী ভাষণে।

দারিদ্র্য জয় করে দীর্ঘ ৫০ বছরে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে উন্নয়নের রোল মডেল। দেশটির অর্থনীতির এ উত্থানকে ‘ছাই থেকে জন্ম নেওয়া ফিনিক্স’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন প্রখ্যাত সাংবাদিক মার্ক টালি। ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনকে নিজের জবানীতে তুলে এনে তাই কিনা ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী স্পষ্ট করে বলেন, ‘১৯৭১ সালে পাকিস্তান বাংলাদেশের চেয়ে শতকরা ৭০ ভাগ ধনী ছিল। আজ বাংলাদেশ পাকিস্তানের চেয়ে শতকরা ৪৫ ভাগ ধনী।’

গভীর মনোযোগ দিয়েই স্পিকার ড.শিরীন শারমিন চৌধুরীর বক্তব্য শুনতে দেখা গেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। মুগ্ধ হয়েই টেবিল চাপড়ে সংসদ নেতা সমর্থন জানাচ্ছিলেন স্পিকারের বক্তব্যকে। কয়েক দফা টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানাতে দেখা যায় সব মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদেরও।

কী আছে স্পিকারের ২২ মিনিটের সেই বক্তব্যে?
নিজের বক্তব্যের শুরুতেই স্পিকার ড.শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, ‘সর্বপ্রথম আমি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি জাতীয় চার নেতা, ত্রিশ লক্ষ মহান শহীদ ও দুই লক্ষ মা বোন এবং ১৯৭৫’র ১৫ আগস্টে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবসহ সকল শহীদদের। আমি করোনা আক্রান্ত হয়ে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের আত্মার মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করি।

‘মাননীয় সদস্যবৃন্দ সংসদ পরিচালনায় সহযোগিতা প্রদানের জন্যে আমি সংসদ নেতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি ধন্যবাদ জানাই সরকারি দল, বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সকল সংসদ সদস্যবৃন্দকে। সংসদ উপনেতা, মাননীয় বিরোধী দলীয় নেতা, বিরোধী দলীয় উপনেতা, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যবৃন্দ, চিফ হুইপ, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র সচিবসহ সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দকে। আমি ডেপুটি স্পিকারের দ্রুত সুস্থতাও কামনা করছি।’

তিনি বলেন, মাননীয় সদস্যবৃন্দ, এ অধিবেশনটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত ৩০ জুন ২০২১-২০২২ অর্থবছরের ছয় লক্ষ তিন হাজার ৬শ ৮১ কোটি টাকার বাজেট মহান সংসদে পাস হয়।

করোনাকালীন এই ক্রান্তিকালে নানা প্রতিকূলতার মাঝে মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষা ও অর্থনীতির চাকা সচল রাখার লক্ষ্য নিয়ে বাজেট প্রণয়নের জন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামালকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

স্পিকার বলেন, ‘মাননীয় সদস্যবৃন্দ, ১৯৭৬ সালে জাস্ট ফালেন্ট অ্যান্ড জ্যাক আর পার্কিস এর রচিত একটি গ্রন্থ ‘বাংলাদেশ দ্য টেস্ট কেস অফ ডেভেলাপমেন্ট’ প্রকাশিত হয়। এ বইটিতে সেখানে যারা লেখক ছিলেন, তারা যুক্তি দেখিয়ে ছিলেন- এ টেস্ট কেস অফ ডেভেলপমেন্ট বলতে বোঝায়, ইফ ডেভেলাপমেন্ট কুড বি মেইড সাকসেকফুল ইন বাংলাদেশ, দেয়ার ক্যান বি লিটল ডাউট দ্যাট ইট কুড বি মেইড টু সাকসিড এনি হোয়ার এলস।

অর্থাৎ, বাংলাদেশে যদি উন্নয়ন সম্ভব হয়,তাহলে যে কোনো জায়গায় উন্নয়ন সফল হবে। মাজাহারুল এম ইসলামের মতে, ফারলেন রচিত এ গ্রন্থটি দিস বুক ওয়াজ রিটেন এজ এ রেসপন্স টু হেনরি কিসিঞ্জারস কলিং বাংলাদেশ এ বাসকেট কেস, তলাবিহীন ঝুঁড়ি। ১৯৭২ সালে বিশ্ব ব্যাংক বাংলাদেশ সর্ম্পকে বলেছিলো- ইভেন আন্ডার দ্য বেস্ট অফ সারকামস্টেনসেস বাংলাদেশ কন্সটিটিউট এ ক্রিটিকেল অ্যান্ড কমপ্লিট ডেভেলপমেন্ট প্রবলেম। ফারলেন তার গ্রন্থে বাংলাদেশের এ টেস্ট কেস অফ বাংলাদেশের এ হাইপোথিসিসটি তিনি তৈরি করেছিলেন যে প্রেমিসিসের উপর দাঁড় করিয়ে ছিলেন।

তিনি বলেছিলেন, ‘ওয়েস্ট অ্যান্ড ইস্ট পাকিস্তান টুগেদার ওয়াজ অ্যা ভায়োবেল ইকোনমি হোয়ার এজ সবরিন বাংলাদেশ অন ইক সোন ওয়াজ নট’। এই বিশ্লেষণটি ছিলো সম্পূর্ণ ভ্রান্ত, ফেলোশাস এবং সেই বিষয়টি স্পষ্ট করে পয়েন্ট আউট করে দেন আকবর আলী খান তাঁর লেখা ‘দ্য টেস্ট কেস অফ ডেভেলপমেন্ট রি ভিজিটেড’ একটি আর্টিকেলে, যেটা প্রকাশিত হয় ১৩ মার্চ, ২০১৩।

এই প্রতিবেদনে আকবর আলী খান স্পষ্ট করে বলেন, ‘ইন দ্য ফেজ অফ ডায়ার প্রেডিকশনস অব প্রফেসি অফ ব্লুম অ্যান্ড ডুম ডেভেলাপমেন্ট ড্রামা অফ বাংলাদেশ আনফোলড এ ডিফারেন্ট স্টোরি, এ স্টোরি অফ মিরাকেল। আমরা আজ স্পষ্টতই দেখতে পাচ্ছি এ সকল ভবিষ্যৎ বাণী প্রফেসি ও ফোরকাস্টকে ভুল প্রমাণিত করে, সকল নেতিবাচকতাকে নাকচ করে দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের এ অগ্রযাত্রা, এ যেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মপ্রত্যয়ের সেই অমোঘ বাণী আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়- ‘দাবায়ে রাখতে পারবা না।’

ব্লুমবার্গের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ইন্ডিয়া অ্যান্ড পাকিস্তান হ্যাভ মাস্ট টু লার্ন ফ্রম দেয়ার নেবার বাংলাদেশ।’ ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে আমরা আরও দেখতে পাই, বাংলাদেশের জিডিপি’র পার ক্যাপিটা বিগত এক বছরে শতকরা ৯ ভাগ বৃদ্ধি পেয়ে ইউএস ডলার ২ হাজার ২২৭ এ উন্নীত হয়েছে। যেখানে পাকিস্তানের পার ক্যাপিটা ইনকাম বর্তমানে ইউএস ডলার ১ হাজার ৫৪৩। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান বাংলাদেশের চেয়ে শতকরা ৭০ ভাগ ধনী ছিল। আজ বাংলাদেশ পাকিস্তানের চেয়ে শতকরা ৪৫ ভাগ ধনী।

একজন পাকিস্তানি অর্থনীতিবিদ হতাশার সুরে বলেছেন, এখন এমন সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে যে, ২০৩০ সালে আমরা বাংলাদেশের কাছ থেকে এইড বা সাহায্য চাইছি।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রমাণ রেখে চলেছে। অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ন্যাশনাল সিকিউরিটি কলেজের সিনিয়র রিসার্স ফেলো ডেভিড বিউস্ট্রা বলেছেন, বাংলাদেশ তার আঞ্চলিক শক্তি দেখাতে শুরু করেছে। সম্প্রতি শ্রীলংকার আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তামূলক ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ।

একটি তৎকালীন দারিদ্র্য সাহায্য প্রার্থী দেশ থেকে আঞ্চলিক প্রভাবশালী দেশ হওয়ার পথে এটি বাংলাদেশের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট। এটা বাংলাদেশের ধারাবাহিক উচ্চ প্রবৃদ্ধি ও ইন্দো প্যাসিফিক অঞ্চলের অন্যতম খেলোয়াড় হয়ে ওঠার কারণেই সম্ভব হয়েছে। [বাংলাদেশ প্রতিদিন, ১৯ জুন, ২০২১।]

সুদান আর সোমালিয়ার ঋণ মওকুফও একই প্রমাণ দেয়। আর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অনেক উদাহরণ দেওয়া যায়, আমি শুধু একটি কথাই বলবো – আজ বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে হতদরিদ্র গৃহহীন মানুষের মাঝে ৯ লক্ষ ঘর, মাথা গোঁজার ঠাঁই তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে।

ব্লুমবার্গে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ টুডে দ্য কান্ট্রিজ হার্ন্ডেড অ্যান্ড সিক্সটি মিলিয়ন পিপল, প্যাক্ট ইনটু ফার্টাইল ডেল্টা সিম ডেস্টেন্ড টু বি সাউথ এশিয়াস স্টেনডাউট সাকসেস’। কাজেই তলাবিহীন ঝুঁড়ি থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে স্থান করে নেওয়া বাংলাদেশ ইজ এ ইউনিক স্টোরি অফ ট্রান্সফরমেশন।

কীভাবে ঘটল এই ব্যাপক ট্রান্সফরমেশন? আজ মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনকালে যে পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি, তার অন্তর্নিহিত কারণ বুঝতে হলে ইতিহাসের লেন্স দিয়ে একটু দেখতে হবে।

শশী থারুর যথার্থই বলেছেন, আমরা জানি হিস্টোরি বিলংস টু দ্য পাস্ট, বাট আন্ডারস্টান্ডিং ইট ইজ দ্য ডিউটি অফ দ্য প্রেজেন্ট।

ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত, মেধা জ্ঞানভিত্তিক প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল উন্নত-সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়ে ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ২০২১ রূপকল্প, ‘ভিশন টুয়েন্টি টুয়েন্টি ওয়ান’ ঘোষণা করেন তারই পথ ধরে আজকের উন্নয়নশীল বাংলাদেশ।

২০০৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে ১৩টি বাজেট বিল্ডিং ব্লক এর মতো রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের উন্নয়ন কাঠামো স্থাপন ও ভিত রচনা করেছে। বিশ্বের অনেক গবেষণা থেকে দেখা যায়, গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাঝে এক নিগূঢ় যোগসূত্র রয়েছে। স্ট্যাবল ডেমোক্রেসি ইজ লাইকলি টু হেল্প ইকোনমিক ডেভেলাপমেন্ট।

গবেষকেরা বলছেন, গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মধ্যকার সম্পর্কের ব্যাপারে গবেষণার যে ইমপেরিক্যাল রেজাল্ট দ্বারা ইনডিকেট করে ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইকোনোমিক ডেভেলপমেন্ট অ্যাফেক্ট ইজ আদার।

অলসন, ১৯৯৩ সালের একটি গবেষণায় বলেছেন, ‘অ্যান্ড ইকোনমি উইল বি অ্যাবল টু রিপ অল পটেনশিয়াল গেইনস ফ্রম ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ফ্রম লং টার্ম ট্রান্সজেকশনস অনলি ইফ ইট হ্যাজ গভর্নমেন্ট দ্যাট ইজ স্টেবল অ্যান্ড স্ট্রং এনাফ টু লাস্ট।’

কাজেই বলা যেতেই পারে, গত ১৩ বছরের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সংসদীয় গণতন্ত্রের স্থায়িত্ব ও কার্যকর অগ্রযাত্রা, সংবিধানসম্মত নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন, সঠিক নেতৃত্বই আজকের উন্নয়নশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ভিত রচনা করেছে।

সেই সাথে রয়েছে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বাংলাদেশের জনগণের নিরন্তর প্রচেষ্টা, নিরলস শ্রম, গভীর দেশপ্রেম, আত্মপ্রত্যয় ও শত প্রতিকূলতার মাঝে রুখে দাঁড়ানো ও ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য সাহস ও সক্ষমতা।

কোভিডকালে চ্যালেঞ্জ উত্তরণে অসাধারণ নেতৃত্ব, এক্সট্রা অর্ডিনারি লিডারশিপ প্রদান করে কমনওয়েলথের টপ থ্রি ইন্সপেরেশনাল উইমেন লিডারদের একজন রূপে আখ্যায়িত ও স্বীকৃতি হয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মাননীয় সদস্যবৃন্দ, আমরা বিভিন্ন সময়ে আমাদের দেশের বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ব্যাপক সমালোচনা শোনে থাকি। জাতীয় সংসদ বা পার্লামেন্ট এবং নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়েও নানা কটাক্ষ শোনা যায়। আমাদের গণতন্ত্রকে অন্যান্য অনেক দেশের মেচিউরড ডেমোক্রেসির সঙ্গেও তুলনা করা হয়। স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, তাহলে কোনো গণতন্ত্রের কথা বলা হচ্ছে? তাহলে কি গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের কথা বলা হচ্ছে? আসুন তাহলে একটু দেখি গণতন্ত্রের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ কখন ঘটে?

সেটা তখনই ঘটে যখন তার জন্য একটি মৌলিক কাঠামো তৈরি করা হয়। কোনো গণতন্ত্র কতখানি কনস্যুলেটেড হবে তা নির্ভর করে কিছু উপাদান বা নিয়ামকের উপস্থিতির ওপর। আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার, স্বাধীন বিচার বিভাগ, সুশাসন, সেপারেশন অব পাওয়ার, ক্রিয়াশীল থাকা অত্যন্ত অপরিহার্য।

‘এ ডেমোক্রেসি ইজ কনস্যুলিডেট হোয়েন দেয়ার ইজ ডিউরাবিলিটি অর পার্মানেন্ট অব ডেমোক্রেসি ওভার ডাইন, গণতন্ত্রের স্থায়িত্ব থাকে। আনইন্টারাপ্টেড, আনইন্ডার থাকে, অ্যাডর্ট টু ডেমোক্রেটিক প্রিন্সিপাল সাচ এজ রোল অব ল ইন্ডিপেন্ডেন্ট জুডিশিয়ারি অ্যান্ড ইলেকটোরাল প্রসেস।

গণতন্ত্রের এই প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের জন্য প্রয়োজন হয় একটি স্থায়ী নিরবচ্ছিন্ন গণতান্ত্রিক চর্চা এবং মৌলিক কাঠামো। সেই প্রেক্ষিতে আসুন আমরা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বিবর্তনের ইতিহাসটি একটু বিশ্লেষণ করি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে আমাদের দিয়েছিলেন বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংবিধান। গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র ছিল তাঁর চারটি মূলনীতি। কিন্তু ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর সংবিধান ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। সামরিক ফরমান জারি মাধ্যমে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে সংবিধান।

অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল, সামরিক ও স্বৈরশাসনের পালাবদলে একের পর এক সংবিধান ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচারের ঊর্ধ্বে রাখার জন্য কালো আইন ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। আইনের শাসনের পরিবর্তে সেদিন কালচার অব ইনপিউনিটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। আইনের শাসন পর্যদুস্ত হয়েছে, গণতন্ত্র নির্বাসিত হয়েছে। ডেমোক্রেসি ওয়াজ টার্ন ইন টু শেমবল।

কাজেই অনুধাবন করতে হবে এরকম বৈরী আবহ থেকে লুপ্তপ্রায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হয়েছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আজকের এই অবস্থানে আনতে কঠিন পথ অতিক্রম করতে হয়েছে। ১৭ মে ১৯৮১ সালের দিনটি তাই বাংলাদেশের ইতিহাসে এক টার্নিং পয়েন্ট। দীর্ঘদিন নির্বাসিত থাকার পর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মৃতপ্রায় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য মৌলিক কাঠামো বিনির্মাণ ছিল অপরিহার্য ও পূর্বশর্ত, তা জননেত্রী শেখ হাসিনা গভীরভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন সংবিধানের ভেতর থেকে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে ট্র‍্যাকে তুলতে হবে। ফিরিয়ে আনতে হবে আইনের শাসন, বিচার পাওয়ার অধিকার, ভোটের অধিকার, মৌলিক কাঠামো নির্মাণ করতে হবে।

শুরু হয় আন্দোলন-সংগ্রাম, স্বৈরশাসন অবসানের সংগ্রাম, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। জনগণের ভোট ও ভাতের অধিকার নিশ্চিত করার সংগ্রাম। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করার আন্দোলন। সংগ্রাম আন্দোলন অনেক রক্ত ঝরা পথে এসেছে আজকের গণতন্ত্র।

এ ক্ষেত্রে আমার ফেডরিক ড্রগেসের একটি উক্তি কথা মনে পড়ে, ‘ইউ আর নট জাজড অনলি বাই দ্য হাইট ইউ হেভ রিজন, বাট দ্য ডেপথ ইউ হ্যাভ ক্লাইনড।’ তাই বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রাম ইতিহাসে বিরল এক অধ্যায়।

আমি বলছি না যে, গণতন্ত্রের আবহে আলোচনা-সমালোচনা থাকবে না, অবশ্যই থাকবে। ভিন্নমত পোষণ, দ্বিমত পোষণ গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। বস্তুনিষ্ঠ গঠনমূলক সমালোচনা গণতন্ত্রকে সুসংহত করে। কিন্তু সেই সমালোচনা সঠিক পারস্পেকটিভ অনুধাবন করে হলে অধিকতর গ্রহণযোগ্য ও ক্রেডিবল হয়। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে অধিকতর পরিশীলিত করা, শাণিত করার লক্ষ্যে অবশ্যই বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে- ‘ডেমোক্রেসি ইজ অলওয়েজ ওয়ার্ক ইন প্রোগ্রেস।’

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ‘কনস্যুলিডেটেড মেচিউর ডেমোক্রেসি অর্জনে যে মৌলিক কাঠামো অপরিহার্য আজকের বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্রে সে মৌলিক কাঠামোর ভিত্তিতেই রচিত হয়েছে। এ কাঠামোকে অধিকতর শক্তিশালী ও সুদৃঢ় করে গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে হবে। আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে অব্যাহতভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

সকল অর্জনকে ধরে রেখেই আমাদের সামনের দিকে অগ্রসর হতে হবে। বিশ্বব্যাপী যে ভাবনা আজ প্রাধান্য পাচ্ছে, তা হলো কোভিড-১৯ জনিত মহামারীর ক্ষয়ক্ষতি থেকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার বা ইকোনোমিক রিকভারি গতানুগতিক ব্যবস্থাপনা বা বিজনেজ এসইউজালের মধ্যদিয়ে অর্জন করা সম্ভব হবে না।

এক্ষেত্রে একটি অভিমত হচ্ছে বিল্ডিং বেড বেটার কর্মকৌশল গ্রহণ ফলপ্রসু হতে পারে। বিল্ডিং বেড বেটার, বিল্ডিং হার্ডার,বিল্ডিং স্ট্রংগার এবং বিল্ডিং ফাস্টার- যার মধ্যদিয়ে এনক্লুসিভ অ্যান্ড রেসিজেন্ট এন্টি কাভারি নিশ্চিত করা সম্ভব। আর তা করতে হলে সেই ইকোনোমিক রিকবারির প্যাকেজের মধ্য অন্তর্ভুক্তিমুলক উন্নয়নকে নিশ্চিত করতে হবে।

কাজেই আমরা দেখতে পাই যে, এই সকল পদক্ষেপ যেখানে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে রোবারস্ট্যান ইনক্লুসিভ সোশ্যাল সার্ভিস গড়ে তোলা, একজিস্টিং স্টাকচারাল ইন ইকুয়ালিটিসগুলো অর্থাৎ বিদ্যমান অসমতা ও বৈষম্যগুলো দূরীকরণ করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং ওয়েল ডিজাইন পাবলিক ওয়ার্ক কার্যক্রম বা প্রোগ্রামের মধ্যে দিয়ে অধিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যে পদক্ষেপগুলো তারই সমন্বয়ের মধ্যে দিয়ে কেবল সাস্টেইন, লংটার্ম, দীর্ঘমেয়াদী অর্থনীতি পুনরুদ্ধার বা ইকোনমিক রিকভারি নিশ্চিত করা সম্ভব। যা অর্থনীতিকে শুধু পুনরুদ্ধারই নয় বরং স্থায়ী বা ডিউরেবল এবং সাস্টেইনেবলও করে।

২০২১-২০২২ অর্থবছরের আমাদের বাজেটেও আমরা কোভিড-১৯ চ্যালেঞ্জ উত্তরণ এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে বিল্ডিং বেড বেটার ধারণার আলোকে গৃহীত অনেকগুলো পদক্ষেপই দেখতে পাই। সেখানে উল্লেখযোগ্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত সময়োচিত ২৩ টি প্রণোাদনা প্যাকেজ- মোট আর্থিক মূল্য ১ লক্ষ ২৮ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা।

লক্ষ্য করবেন এই প্রণোদনা প্যাকেজসমূহ অন্তর্ভুক্তিমূলক। এর মধ্যে রয়েছে তৈরি পোষাক রপ্তানি খাতে ৫০ লক্ষ শ্রমিক আরএমজি সেক্টরের, আরও রয়েছে ক্ষুদ্র-মাঝারি ও কুটিরশিল্প উদ্যোক্তা, ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সার্ভিস, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ এই প্রণোদনা প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় এ ব্যপারে বিস্তারিত বলেছেন।

সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতাও আমাদের বাজেটে বৃদ্ধি করা হয়েছে। সারাদেশে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পাশাপাশি ৩৫ লাখ দরিদ্র মানুষের প্রত্যেককে আড়াই হাজার টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ১১৫ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হয়েছে। করোনা ট্রাস্ট গঠন করা হয়েছে, জরুরি চাহিদা পূরণের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। করোনাকালীন চ্যালেঞ্জ উত্তরণের লক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের ইকোনমি রিকভারি প্যাকেজের মূল লক্ষই হচ্ছে টেকসই ও অর্ন্তভূক্তিমূলক উন্নয়নের মাধ্যমে উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জন।

সেই সাথে দারিদ্র্য বিমোচন ও অসমতা হ্রাসের মধ্য দিয়ে জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন ও গুণগত পরিবর্তন নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনে আরও পরিকল্পনা, যদি আবশ্যক হয় আমি বিশ্বাস করি মাননীয় অর্থমন্ত্রী তা বিবেচনা করবেন।

এখনও বাস্তবায়নাধীন যে কার্যক্রমগুলো সেগুলোর যথাযথ মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করা, দুর্নীতি বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নিশ্চিত করা, নগরভিত্তিক ছিন্নমূল মানুষ যারা এখনও কোন আর্থিক সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় আসেনি তাদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ প্রদান করা ইত্যাদি পদক্ষেপ সময় অনুযায়ী গ্রহণ করবেন।

সার্বিক বিশ্লেষণে আমরা দেখতে পাই- আমাদের করোনাকালীন বাজেটের ইকোনমিক রিকভারির মূল প্রতিপাদ্যই হচ্ছে ‘দ্য সেন্ট্রাল থিম এন্ড ডাইমেনশন ইজ পিপল সেন্টার রিকভারি ফোকাস এন্ড ইনশরিং দেন উয়েল বিং, প্রমোটিং ইনক্লুসিভনেস এন্ড রেসিডেন্স’। এই লক্ষ বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

করোনা সংকট উত্তরণে বাংলাদেশ উইল ট্রার্ন ইভরি চ্যালেঞ্জ ইন টু অপরচুনিটি ফর মুভিং ফরওয়ার্ড। আমরা বিশ্বাস করি এই ধারাকে অব্যাহত রেখে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।

বাংলাদেশকে তাই আজ আর টেস্ট কেস ফর ডেভেলাপমেন্ট বলা যায় না, বরং বাংলাদেশ ইজ এ টেস্ট কেস ফর রেসিজেন্স এন্ড এডাপটেশন প্রজেসিং দ্য পাওয়ার অফ এভিলিটি টু রির্টান অর রিভার্ড বেক টু অরিজিনাল ফ্রম আফটার বিংব্রেন্ট এন্ড কম্প্রেস। বাংলাদেশ হেজ দ্য এভিলিটি টু রিকাভার ফ্রম ডিপ্রেশন এন্ড এডভার্সিটি।

রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিক তার লেখা একটি প্রতিবেদন, যেটি হোয়াইট বোর্ড নামক একটি পত্রিকায় ফোর্থ ইস্যুতে প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে বলেছেন, বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের ক্ষেত্রে তার নিজস্ব স্বকীয়তা প্রমাণ করেই অগ্রসর হচ্ছে। তাই বাংলাদেশ আজ ডেভেলাপমেন্ট মিরাকেল থেকে বাংলাদেশ মডেল রূপে আত্মপ্রকাশ করেছে।

শুধুমাত্র উন্নত দেশের অনুসরণে নয় বরং ইনোভেটিভ টেকনোলজি ব্যবহার, বিগার মার্কেট, গ্লোভালাইজেশন, ডেমোগ্রাফিক ডেভিডেন্টের সুবিধাগ্রহণ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পলিটিক্যাল লিডারশিপে বাংলাদেশ সামনের দিকে অগ্রসর হবে এবং বাংলাদেশ মডেল রূপে উন্নয়নের নতুন ইতিহাস রচনা করবে।

মাননীয় সদস্যবৃন্দ, আমি আশা করি স্বাস্থ্যবিধি যথাযথ মেনে আমরা করোনার এই সংক্রমনকে হ্রাস করে এবং নিয়ন্ত্রনের মধ্যে আনতে সক্ষম হবো। বিশ্ববাসী এবং বাঙালী জাতিকে করোনা সংক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য আমি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নিকট দোয়া করি। মহান আল্লাহ যেন আমাদের এই মহা দুর্যোগ থেকে পরিত্রাণ দেন।

মাননীয় সদস্যবৃন্দ যে গানটি সকল সময় বাংলার মানুষের হৃদয়কে আলোড়িত করে…‘মুজিব বাইয়া যাও রে.. নির্যাতিত দেশের মাঝে জনগণের নাও রে মুজিব, বাইয়া যাও রে…’

আজ মুজিববর্ষে স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপনের এই লগ্নে, সেই গানের সুর ধরে আজকের তরুণ প্রজন্মকে আমি আহবান জানাতে চাই- বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ধারণ করে- ‘তোমরা বাইয়া যাও রে উন্নয়নশীল দেশের মাঝে, জনগনের নাও, তোমরা বাইয়া যাও রে…’।

কালের আলো/এমএএএমকে