টিকা কূটনীতি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেখছেন ‘টিম ওয়ার্ক’

প্রকাশিতঃ 12:23 am | August 01, 2021

নিজস্ব সংবাদদাতা, কালের আলো:

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিয়ে কেবলই নেতিবাচক সমালোচনার ঝড়। শাহেদ-সাবরিনা বা মাস্ক কেলেঙ্কারীসহ বিভিন্ন বিষয়ে মন্ত্রণালয়টি শিরোনামেই থেকেছে, হয়েছে ক্ষত-বিক্ষত। সেই আলোচনা-সমালোচনার ভেতরই করোনা টিকা সঙ্কটের পর আবারও তীব্র হৈচৈ।  বক্তৃতাবাজির তোড়ে যেন সব গেলো অবস্থা! 

সঙ্কট কাটিয়ে টিকা ম্যাজিকে খোলনলচে পাল্টে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাজ্ঞ রাষ্ট্রনায়কোচিত পদক্ষেপ স্বস্তি এনে দিয়েছে টিকা ব্যবস্থাপনায়। বিভিন্ন উৎস থেকে টিকা আসায় শুরু হয়েছে গণটিকাদানের নবতর পথযাত্রা।

একশ্রেণির বিদ্যাজীবী-বুদ্ধিজীবীদের মুখেও লাগাম! লম্ফঝম্ফভাব হারিয়েছেন অনেকেই। এখন বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেখানে প্রতি সপ্তাহে এক কোটি মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। 

টিকার সঙ্কট কাটিয়ে গণটিকা কর্মযজ্ঞ শুরুর দ্বারপ্রান্তে স্বভাবতই নির্ভার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। 

প্রধানমন্ত্রীর গাইডলাইনে টিকা কূটনীতির নেতৃত্বে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। কিন্তু পুরো বিষয়টি ‘টিম প্রধানমন্ত্রী’র সাফল্য হিসেবেই দেখছেন। 

শনিবার (৩১ জুলাই) জাপানের উপহারের অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার দ্বিতীয় চালান গ্রহণ শেষে নিজের স্তুতি প্রকাশ না করে একটি টিম ওয়ার্ককেই মোটা দাগে উপস্থাপন করেছেন এই মন্ত্রী। 

টিকা নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাস, চ্যালেঞ্জে উত্তরণ আর বাস্তবতাকে সামনে এনে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশাল কর্মযজ্ঞকেও মনে করিয়ে দিয়েছেন। টিকা কর্মসূচি সফলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চলমান কর্মদক্ষতাকে তুলে ধরেছেন। আহ্বান জানিয়েছেন তাদের কাজের প্রশংসারও । 

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এ কে আব্দুল মোমেন পুরো বিষয়টি অকাট্য যুক্তিতে, অসাধারণ বাগ্মীতায় উপস্থাপন করেছেন। বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় এবং উপদেশে আমরা, আমাদের কলিগরা, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য সচিব, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী- আমরা সবাই মিলে একযোগে কাজ করি। 
যার ফলে করোনার কারণে নানাবিধ সমস্যা আসে এবং আমরা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করি। আমরা অত্যন্ত সাফল্যজনকভাবে মোকাবিলা করেছি।’ 

মন্ত্রী এদিন আরও বলেছেন, দুনিয়ার কোথাও শুনেছেন যে, এক সপ্তাহে এক কোটির বেশি মানুষকে টিকা দেওয়া হবে? এটা কিন্তু মুখের কথা নয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মিলে প্রতি সপ্তাহে এক কোটি টিকা দেবে। আমাদের টিকার অভাব আর নেই। সরবরাহ ঠিক আছে। সপ্তাহে এক কোটি করে দিলে দুই মাসে অর্ধেক জনগোষ্ঠীর টিকা দেওয়া হয়ে যাচ্ছে। অনেক পণ্ডিত নেতিবাচক লোকেরা বলে পাঁচ-ছয় বছর লাগবে। দুই মাসের মধ্যে অর্ধেক হয়ে যাবে। এই যে কর্মদক্ষতা, তার জন্য আমাদের সবাইকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রশংসা করা উচিত। তার অত্যন্ত চমৎকার কাজ করছে।’ 

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে টিকা সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ভূমিকাও গুরুত্ব পেয়েছে। করোনার সঙ্কটময় এ সময়টিতে দু’টি মন্ত্রণালয়কে ঘিরে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন পর্যবেক্ষণ এবং মূল্যায়ন আন্দোলিত করেছে মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সবাইকে। 

মাস কয়েক আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেছিলেন, ‘করোনাকালের সব কর্মকাণ্ড প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরিচালনা করছেন। সেখানে আমাদের ভুল করে অন্য পথে চলে যাওয়ার অবকাশ একেবারেই নেই।’ 

শনিবার (৩১ জুলাই) পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন স্বীকৃতি বা মূল্যায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ডা. বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম কালের আলোকে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা একটি টিম হয়েই কাজ করছি। মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য আমাদের আবেগ-উদ্দীপ্ত করেছে। টিকা কার্যক্রম সুচারুরূপে বাস্তবায়নে তার এই মূল্যায়ন আমাদের জন্য অশেষ প্রেরণার।’ 

কালের আলো/বিএস/এমএইচএ