বঙ্গমাতার জন্মদিন, মধুমতীর তীরেও মানবিক চৈতন্যের উদ্ভাসন পুনাকের

প্রকাশিতঃ 7:48 pm | August 08, 2021

বিশেষ সংবাদদাতা, টুঙ্গিপাড়া থেকে :

স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্মবৃত্তান্তের নেপথ্য অনুঘটক বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব। বাঙালির গৌরবদীপ্ত স্বাধীন আবাসের পর্দার আড়ালের সংগ্রামী। তাঁর জন্মের সৌভাগ্যলিপিতেও জ্বলজ্বল পুণ্যভূমি টুঙ্গিপাড়া। মহিয়সী এই নারীর ৯১ তম জন্মবার্ষিকীতে মধুমতী তীরেই আরও একবার সামগ্রিক মানবিক চৈতন্যের উদ্ভাসন ঘটিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।

আরও পড়ুন: স্বকীয় আলোকছটায় পূর্ণ সেই মহামানব…

রক্তাক্ত আগস্টে শোকের চাদর মুড়িয়ে মানবিক মহিমায় নির্মাণ করেছে স্বকীয় এক পরিসর। ছড়িয়ে দিয়েছেন অগ্নিশিখার আলো। শাশ্বত আর সর্বজনীনতার পথে নিজেদের থিমে এক স্বয়ংসম্পূর্ণ ও সর্বাঙ্গসুন্দর প্রস্ফুটনে প্রফুল্ল করেছেন স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মানসভূমিকেও।

বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত প্রায় তিন শতাধিক অসুস্থ মানুষকে চিকিৎসা সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। বিনামূল্যে পেয়েছেন চিকিৎসা সহায়তা, সঙ্গে ওষুধও।

একেবারেই মানবিক মর্মানুভূতি থেকেই পুনাক সভানেত্রী জীশান মীর্জা নিজেদের স্বাতন্ত্র্য উদ্যোগের মাধ্যমে স্বাধীন ভূখন্ডের চিত্রকরের সুমৃত্তিকায় জনকল্যাণে সমর্পিত পুরোপুরি অরাজনৈতিক সংগঠনটিকে রোববার (০৮ আগস্ট) দিনমান আলোকিত সূর্যের এক প্রতিচ্ছবি হিসেবেই যেন উপস্থাপন করেছেন। চিকিৎসা সহায়তা নিতে আসা নারী-পুরুষদের মাঝে নিজেদের সৃষ্টিশীলতার প্রাচুর্যে জাগিয়ে দিয়েছেন প্রবল আত্নবিশ্বাসও।

বাস্তবিক ভাবানুসঙ্গের নিরন্তর সংশ্লেষে নিজেদের অনুভূতির সৎ ও অকৃত্রিম প্রকাশে অনির্বচনীয় মুগ্ধতা ছড়িয়ে ‘টিম পুনাক’। কারান্তরীণ বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে বঙ্গমাতা সাহসে-দ্রোহেই যে প্রোজ্জ্বল করেছিলেন গোটা জাতিকে-সেই চিন্তা-ভাব ও দর্শনের বিকাশ নিজের অনুপুঙ্খ বক্তব্যে উচ্চকিত করেছেন পুনাক সভানেত্রী জীশান মীর্জা।

আবার দেশের উন্নয়ন আর মানুষের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশনারি লিডারশিপকে গোপালগঞ্জের এই পুত্রবধূ প্রবহমানতা আর ঐশ্বর্যময় ধ্বনিব্যঞ্জনায় গেঁথে ভাবোচ্ছ্বাসেও করেছেন উচ্চকন্ঠময়। বাস্তবতাকে সৃষ্টিশীল উদ্যোগের মধ্যে অঙ্গীভূত করে সমষ্টি রূপেই আলোকিত করেছেন পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতিকে।

পুনাক সূত্র জানায়, এদিন দুপুরে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া থানা চত্বরে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প’র উদ্বোধন করেন পুনাক সভানেত্রী জীশান মীর্জা। ক্যাম্পটিতে ৬ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রায় তিন শতাধিক রোগীকে গাইনি, অর্থোপেডিক্স, কার্ডিওলজি ও মেডিসিন সংক্রান্ত রোগের প্রয়োজনীয় পরামর্শ, চিকিৎসা সেবা ও ওষুধ প্রদান করে।

নিজেদের গভীর দৃষ্টিভঙ্গি, অনবদ্য সৃজনশীলতা, প্রোজ্জ্বল ও প্রশান্ত সৌন্দর্যসৃজনে পুনাক রীতিমতোন জয় করেছে টুঙ্গিপাড়ার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের রেজাউল করিম, কবির হোসেন আর ঝর্ণা বেগমদের হৃদয়-মন। উপলব্ধিরই এক অকপট আলপনায় ঝর্ণা বেগমদের স্পষ্ট উচ্চারণ প্রমিত বাংলায় দাঁড়ায় এমন- ‘বঙ্গমাতার জন্মদিনে নিশ্চয়তা আর নির্ভরতায় আমাদের মন-মননে স্নিগ্ধ এক পরশ বুলিয়ে দিয়েছে পুনাক। তাদের এমন মানবিক বৈভব নিজেদের সৎ ও অকৃত্রিম মানসিকতারই প্রতিফলন।’

বঙ্গবন্ধুর সার্বক্ষণিক ছায়াছঙ্গী বঙ্গমাতার প্রতি আনন্দ-বেদনা হাসি-কান্নার মিশেলে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে পুনাক সভানেত্রী ও ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) ড.বেনজীর আহমেদের প্রিয়তমা স্ত্রী জীশান মীর্জা বলেন, ‘বঙ্গমাতা ছিলেন সীমাহীন ধৈর্য্য, সাহস ও বিচক্ষণতার এক অফুরান উৎস।

পুরো জীবনে ছায়ার মতো তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিটি কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে গেছেন। যেকোনও বড় সিদ্ধান্তের সময় বঙ্গবন্ধু কারাগারে থাকুন বা বাইরে- বঙ্গমাতা তাকে সঠিক সময়ে সঠিক পরামর্শ দিয়ে গেছেন। বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে জাতির পিতার একজন যোগ্য ও বিশ্বস্ত সহচর ছিলেন আমাদের বঙ্গমাতা।’

‘বঙ্গবন্ধুর আপসহীন নেতৃত্ব ও বজ্রকঠিন ব্যক্তিত্বের যে দুর্বারতা তার উৎসে ছিলেন বঙ্গমাতা। তিনি ৭-ই মার্চের ভাষণের নেপথ্য শক্তি’- যোগ করে জীশান মীর্জা আরও বলেন, ‘এই মহিয়সী নারী এমন দৃঢ় প্রত্যয় সাহস জোগানোর ফলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেদিন ৭ই মার্চের অমর ভাষণ দিয়েছিলেন। বাঙালি জাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছিলেন।’

এর আগে পুনাক সভানেত্রী টুঙ্গিপাড়ায় পৌঁছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বঙ্গবন্ধুর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হাবিবুর রহমান, এসবি’র অতিরিক্ত ডিআইজি রখফার সুলতানা খানম, গোপালগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) আয়েশা সিদ্দিকা, পুনাক’র কোষাধ্যক্ষ নাফিস সিদ্দিকী, সমাজ কল্যাণ সম্পাদিকা তৌহিদা ইসলাম এবং ডা. প্রথমা রহমান উপস্থিত ছিলেন।

কালের আলো/এমএএএমকে