মাঠ পর্যায়ের তৎপরতা দেখতে টাঙ্গাইলে সেনাপ্রধান, পুনর্বিন্যাস হচ্ছে পেট্রোল কার্যক্রম

প্রকাশিতঃ 7:27 pm | August 10, 2021

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো:

টানা লকডাউন শিথিলের ঠিক আগের দিন মাঠ পর্যায়ের তৎপরতা দেখতে এবার টাঙ্গাইল সফর করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। কথা বলেছেন জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে নিজ বাহিনীর দায়িত্বরত সেনা সদস্যদের সঙ্গেও। দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দিক নির্দেশনা।

সবার সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। জানিয়েছেন লকডাউন শিথিলে সেনাবাহিনীর পেট্রোল কার্যক্রম পুনর্বিন্যাসের কথাও। এমনকি করোনা পরিস্থিতি ফের প্রকট আকার ধারণ করলে সরকারের নির্দেশে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করারও দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন।

জানা যায়, সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নিয়ে ময়মনসিংহ ও খুলনা সফরের পর টাঙ্গাইলে নিজ বাহিনীর টহল কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) এর মাধ্যমে মূলত মাঠ পর্যায়ের তৎপরতা আরও একবার নিজ চোখেই দেখেছেন।

সেনাপ্রধান জেনারেল শফিউদ্দিন স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গেও মতবিনিময় করেন। তিনি টাঙ্গাইল জেলায় চলমান ‘অপারেশন কোভিডশিল্ড’র দ্বিতীয় পর্বে সেনাবাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা ও কার্যক্রম দেখেও সন্তোষ প্রকাশ করেন।

আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, চলমান করোনা মহামারির কারণে সৃষ্ট সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে সকলকে সরকার প্রদত্ত বিধি-নিষেধ যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান সেনাপ্রধান।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কোভিড-১৯ মহামারিসহ যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের দিক নির্দেশনায় অসামরিক প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসমূহের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ এরপর শহরের নিরালা মোড় এলাকায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি সকলের প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। সকলের সহযোগিতা পেয়ে খুব খুশি হয়েছি। টাঙ্গাইলের করোনা পরিস্থিতিও এখন উন্নতির দিকে। সব কিছু বিবেচনা করে সরকার আবারো লকডাউন শিথিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে সেনাবাহিনীর পেট্রোল কার্যক্রম পুনর্বিন্যাস করা হবে।’

‘করোনা পরিস্থিতি যদি আবার প্রকট আকার ধারণ করে এবং সরকার কঠোর লকডাউন ঘোষণা করে, তাহলে সেইভাবে সেনাবাহিনীর কার্যক্রম শুরু হবে’ জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘এবার জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি নিয়ে সেনাবাহিনী ভালো কার্যক্রম চালিয়ে গেছে। সবার কাছ থেকে যে সহযোগিতা পেয়েছি তাতে খুশি হয়েছি। সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছি।’

জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন বলেন, ‘সকলের সমন্বয় না থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত। তবে এখনো ভালো হয়নি। তবে আমরা আশাবাদী, সবাই একসঙ্গে কাজ করলে এবং জনগণ যদি সচেতন থাকে তাহলে পরিস্থিতি অনেক ভালো হবে।’

এ সময় ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও ঘাটাইলের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল সৈয়দ তারেক হোসেন, ৯৮ সংমিশ্রণ (বঙ্গবন্ধু সেনানিবাস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম আসাদুল হক, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ড. মো. আতাউল গনি, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) সঞ্জিত কুমার রায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আইএসপিআর আরও জানায়, টহল পরিদর্শন ছাড়াও সেনাপ্রধান ময়মনসিংহে সদর দপ্তর আর্মি ট্রেনিং এ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড এবং টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ১৯ পদাতিক ডিভিশন পরিদর্শন করেন। ১৯ পদাতিক ডিভিশনে তিনি সকল পদবীর উদ্দেশ্যে দরবারে বক্তব্য প্রদান করেন এবং অফিসারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

কোভিড-১৯ এর সংক্রমন রোধে অসামরিক প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তার উদ্দেশ্যে গত পহেলা জুলাই থেকে দেশব্যাপী সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ১৯ পদাতিক ডিভিশনের আওতাধীন জেলাসমূহে মোতায়েনকৃত সেনাসদস্যরা নিয়মিত টহল পরিচালনা করছে।

টহল পরিচালনার পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী করোনা মহামারীর কারণে ক্ষতিগ্রস্থ দুস্থ পরিবারদের মাঝে নিজ উদ্যোগে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করছে এবং বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা সহায়তা ও ওষুধ প্রদান করছে।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় অসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জারি রেখেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মৌলিক দায়িত্ব পালনে সকল সেনাসদস্যদের উৎকর্ষতা অর্জনের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করে সেনাবাহিনী প্রধান বিভিন্ন ফরমেশনসমূহে নিয়মিত প্রশিক্ষণ পরিদর্শন অব্যাহত রেখেছেন।

কালের আলো/এএএমকে/এনএল