শেখ রাসেল : কুড়িতেই শেষ হয়ে যাওয়া একটি ফুল
প্রকাশিতঃ 8:12 am | August 15, 2021

নিজস্ব সংবাদদাতা, কালের আলো :
ইতিহাসের বেদনাবিধুর সেই দিনটিতে বাঁচতে চেয়েছিল এগার বছর বয়সী শিশু শেখ রাসেল। কিন্তু ক্ষমতালোভী নরপিশাচ কুচক্রী মহল তাঁর বয়স বিবেচনা করেনি। বারবার বাঁচার আকুতি জানিয়েছিল। চিৎকার করে বলেছিল-‘আমি মায়ের কাছে যাবো’
আরও পড়ুনঃ নির্মম হত্যাকারীরা অপরিচিত ‘কেউ’ ছিল না
কিন্তু ঘাতকের পাষাণ হৃদয় গলেনি। সেদিন হতবিহ্বল রাসেল ঘাতদের কাছে উপহার হিসেবে পেয়েছিল তপ্ত বুলেট। স্নেহময়ী জনক আর জননী আর পরিবারের সদস্যদের রক্তাক্ত দেহ পড়েছিল তাঁর চোখের সামনেই।
রাসেল ফিরতে চেয়েছিল তাঁর প্রিয় হাসু আপার কাছেও। মায়ের মরদেহ দেখার পর অশ্রুসিক্ত কন্ঠে মিনতি করে বলেছিল- ‘আমাকে হাসু আপার কাছে পাঠিয়ে দিন’।
আরও পড়ুনঃ বঙ্গবন্ধুর ‘অধরা’ পাঁচ খুনি কোথায়?
ভয়ানক কী যন্ত্রণা! নিষ্ঠুর খুনি ও ইতিহাসের পশুরা বাঁচতে দেয়নি রাসেলকে। ঘাতকদল বুলেটে ঝাঁঝরা করে দিয়েছিল কোমল শরীরও! ক্ষত-বিক্ষত করেছে বাংলাদেশের স্বপ্নের সঙ্গে তাকেও। কুড়িতেই শেষ হয়ে গেলো একটি ফুল। সেদিনের ছোট্ট রাসেল বেঁচে থাকলে আজ তাঁর বয়স হতো ৫৭ বছর।
গত বছর ছোট ভাই রাসেলের ৫৭ তম জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘ছোটশিশুটি আমাদের চোখের মণি ছিল। কিন্তু কি দুর্ভাগ্য তার, ছোট্ট রাসেল কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাবা কারাগারে। প্রকৃতপক্ষে কারাগারেই বাবার সাথে তার সাক্ষাৎ হলো।
আরও পড়ুনঃ বাঙালির স্বপ্নপুরুষকে নৃশংসতম হত্যার অশ্রুঝরা দিন
যাক আমার দেশ স্বাধীন হলো। স্বাধীনতার পর তখনও বাবার পাশে ছায়ার মতো ঘুরে বেড়াতো। অতোটুকু বাচ্চা সে তো বলতে পারছে না, কিন্তু তার কষ্টটা আমরা উপলব্ধি করতাম।
স্বাধীনতার আগে ও পরে মানুষের মুক্তি সংগ্রামে নিয়োজিত বাবাকে রাসেল খুব কম সময় কাছে পেয়েছে। পঁচাত্তরে এক সঙ্গে চিরবিদায় নেন তারা। তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটুক, সেটাই আমরা চাই।’
কালের আলো/এসআইএল/এমএএএমকে