শেখ হাসিনা; বঙ্গোপসাগরের চেয়েও বিশাল যার হৃদয়

প্রকাশিতঃ 10:41 am | September 28, 2021

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর :

দেশের জনগণই তাঁর মূল শক্তি; অনুপ্রেরণার উৎস। দেশের মানুষের প্রতি পিতা মুজিবের মতোই গভীর মমত্ববোধ ও অফুরান ভালোবাসা। হয়েছেন আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তার অধিকারী। গড়েছেন হ্যাট্টিক প্রধানমন্ত্রীর অনন্য ইতিহাসও।

আরও পড়ুনঃ বিশ্বময় বিশ্বনেতা শেখ হাসিনা, জন্মদিনে বিনম্র অভিবাদন

বাঙালি জাতির স্বপ্নের সারথিই নিজের প্রশ্নাতীত নেতৃত্বের কারিশমায় চারবার নিজ দল আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় এনেছেন। নিজেকেও নিয়ে গেছেন উচ্চ শিখরে। অসীম সাহসিকতা আর মানবিকতা দিয়ে করোনার সঙ্গে লড়াই করেছেন। বিশ্বের ধনী দেশ যেখানে টিকা পায়নি সেখানে দেশের মানুষের জন্য বিনামূল্যে টিকার ব্যবস্থা করেছেন।

প্রাণঘাতী ভাইরাস মোকাবেলা করে অর্থনীতির চাকা সচল রেখে প্রশংসা কুড়িয়েছেন বিশ্বনেতাদের। সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে নিজস্ব অর্থায়নে উপহার দিয়েছেন স্বপ্নের পদ্মা সেতু। সংগ্রাম আর সাফল্যের মধ্যে দিয়েই এগিয়ে চলেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আরও পড়ুন: কথা বলে সেই ছবি…

নিষ্ঠার সঙ্গে দেশ ও মানুষের উন্নয়নের কাজে নিজেকে পুরোপুরি নিবেদিত রেখেছেন। আওয়ামী লীগের ২০ তম জাতীয় সম্মেলনের খসড়া ঘোষণাপত্রে তাকে দলের ‘প্রধান সম্পদ’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিলো।

প্রায় চার দশকের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে ক্ষমতার পাদপ্রদীপে থেকেও একেবারেই সাদামাটা, অনন্য সাধারণ শেখ হাসিনা। গণহত্যার শিকার মিয়ানমারের ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে বিশ্বসভায় নিজ দেশকে পরিচিত করেছেন এক মানবতাবাদী দেশ হিসেবে।

আরও পড়ুন: বারবার হত্যাচেষ্টা, বেঁচে গেছেন মানুষের দোয়া ও ভালোবাসায়

এ কারণেই ব্রিটিশ গণমাধ্যম তাকে আরো আগেই বলেছে ‘মানবতার মা’। দারিদ্র্য দূরীকরণ নিজ দেশকে করেছেন বিশ্ব মডেল। শান্তিতে নোবেলজয়ী কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হোসে ম্যানুয়েল সান্তোস তাকে দিয়েছিলেন ‘বিশ্বমানবতার বিবেক’ অভিধা।

ইন্ডিয়া টুডে এক প্রতিবেদনে লিখেছিলো এমন- ‘শেখ হাসিনার হৃদয় বঙ্গোপসাগরের চেয়েও বিশাল, যেখানে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ে কার্পণ্য নেই।’

মাধ্যম আয়ের দেশের স্বীকৃতি পাওয়া, সন্ত্রাস নির্মূল, সামাজিক উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন অর্থনৈতিক মুক্তিসহ সব মিলিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যার সাফল্য বিশ্বময়। করোনা মহামারির ভেতরেও দেশের মানুষের জীবন ও জীবিকা দু’টোর ওপরই গুরুত্ব দিয়েছেন। সচল রেখেছেন অর্থনীতির চাকা। নতুন পরিচিতি দিয়েছেন দেশকে।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ৫ ঘণ্টা ঘুমান আর বাকি সময় দেশ ও জনগণের জন্য কাজ করেন প্রধানমন্ত্রী। সারাক্ষণ একটিই চিন্তা দেশ ও মানুষের উন্নয়ন। খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠেই তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে দৈনন্দিন কার্যক্রম শুরু করেন।

কখনোই দামি ব্র্যান্ডের কাপড় পরেন না। প্রসাধনও ব্যবহার করেন একেবারেই সাধারণ। পাটের জুতা ও ব্যাগ ব্যবহার করেন। জামদানির মতো দামি শাড়ি পরলেও সেটার দাম ছয় হাজারের মধ্যে। যা স্পর্শ করেন তাই তাঁর হাতের ছোঁয়ায় সোনা হয়ে যায়।

জাতীয় সংসদের স্পিকার ড.শিরীন শারমিন চৌধুরীর মনে করেন, ‘জাতির পিতার আদর্শে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ পরিচালনা করেন, রাষ্ট্র পরিচালনা করেন নিজের কথা মতোই। বাংলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যেই তিনি রাজনীতি করেন।

তিনি নিজের বাবা, মা, ভাই-স্বজনদের হারিয়েছেন। স্বজন হারানোর যে বেদনা তার চেয়ে গভীরভাবে কেউ অনুভব করে না, করতে পারে না। কিন্তু এতকিছুর পরেও, স্বজন হারানোর ব্যথা, বেদনা, সব কষ্ট নিয়েই কিন্তু তিনি এই বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য কাজ করেন। এটাই তার একমাত্র লক্ষ্য, ব্রত, সাধনা।’

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার আর শেখ হাসিনা উন্নয়নের কবি। একজন শেখ হাসিনা স্বপ্নবাদী, অনুসরণীয় একজন নেতা এবং রাষ্ট্রনায়ক। তিনি দেশকে দীর্ঘমেয়াদী ভিশন ও লক্ষ্যের দিকে ধাবিত করেছেন। এই জাতি ও মানুষকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন।’

বারবার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন বঙ্গবন্ধু ও বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের ৫ সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ শেখ হাসিনা। কমপক্ষে ২১ বার তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সশস্ত্র হামলা হয়েছে। শত বাধা-বিপত্তি এবং হত্যার হুমকিসহ নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ের জন্য অবিচল থেকে সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুমহান ঐতিহ্য রয়েছে বাংলাদেশের। গত এক যুগে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশ্বে বাংলাদেশকে সম্প্রীতির মডেল হিসেবে দাঁড় করানোর পাশাপাশি শান্তি ও সৌহার্দ্যরে বন্ধনও সুদৃঢ় হয়েছে।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মুহাম্মদ ফারুক খান এমপি বলেন, ‘পাকিস্তান আজ আমাদের থেকে অর্থনৈতিকসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে এবং বিশ্বের সম্মানের ক্ষেত্রেও অনেক পিছিয়ে গেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

আজ ওয়ার্ল্ড ব্যাংক, এশিয়ান ডেভেলাপমেন্ট ব্যাংকসহ গোটা বিশ্ব স্বীকার করে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাহলে ২০৩০ সালের পূর্বেই বাংলাদেশ বিশ্বের ২৩ তম অর্থনীতির দেশ হবে। অর্থাৎ, বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় পরিণত হবে।’

দেশপ্রেমী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ড.এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। চলতি বছরের বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) সেনা সদর নির্বাচনী পর্ষদ-২০২১’এ স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ফোর্সেস গোল ২০৩০ বাস্তবায়নের মাধ্যমে যুযোপযোগী সামরিক সক্ষমতা অর্জন করছে বাংলাদেশ।

সেনাবাহিনীকে আরও কার্যকর এবং যুযোপযোগী করার লক্ষ্যে আপনার (প্রধানমন্ত্রী) মেয়াদকালে প্রচুর অত্যাধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম সংযোজিত হয়েছে। এই অত্যাধুনিক সরঞ্জামাদির সংযোজনের ফলে সেনাবাহিনীর কার্যক্ষমতা ও যুদ্ধ উপযুক্ততা এবং সেনা সদস্যদের মনোবলও বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।’

দুর্নীতি স্পর্শ করেনি, বিদেশে কোন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। নেই উল্লেখ করার মতো সম্পদও। বিশ্বে এমন সৎ ৫ সরকার প্রধানের তালিকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান তৃতীয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ভিশনারি কর্মসূচি ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ বাস্তবায়নে মনোযোগ দিয়েছেন। বাবা বঙ্গবন্ধুর মতোই সাধারণের অতি আপন তিনি। এই প্রসঙ্গে সেনাবাহিনীর একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও মাদক নির্মূলে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতিতে কাজ করছি।

২০৩০ সালের মধ্যে ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট’ অর্জন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি। ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’ গ্রহণ করেছি।’

দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা প্রধানমন্ত্রী প্রায় সময়েই বলেন, ‘একটা মানুষ কষ্টে থাকবে না, একটা মানুষ না খেয়ে থাকবে না, একটা মানুষ গৃহহীন থাকবে না।’ ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের দরিদ্র ও ভূমিহীন মানুষদের জমিসহ বাড়ি তৈরি করে দিয়েছেন। এমন কর্মসূচি শুধু বাংলাদেশে নয় সারা বিশ্বে বিরল’- সম্প্রতি এমনটিই বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব ড.আহমদ কায়কাউস।

পুলিশপ্রধান ড.বেনজীর আহমেদ, বিপিএম (বার) অমিত দৃঢ়তায় সব সময়ই উচ্চারণ করেছেন-‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা, দক্ষ ও গতিশীল নেতৃত্বে দারিদ্র্যতার শৃঙ্খল ভেঙেছে দেশ। তাঁর দুর্দমনীয় নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে। দেশকে তিনি গড়ে তুলেছেন উন্নয়নের ম্যাজিক হিসেবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী একটানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে দেশকে একটি অন্য মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছেন। এক সময় প্যারিস কনসোর্টিয়ামে ৭২ মিলিয়ন ডলার ঋণের জন্য আমাদেরকে দেনদরবার করতে হয়েছে। এখন বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কাকে ঋণ দিয়েছে ২০০ মিলিয়ন ডলার, সুদানকে ঋণ দিয়েছে আরও ২০০ মিলিয়ন ডলার।’

পুরান ঢাকার চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবরে রাতভর জেগে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। সমাজে তৃতীয় লিঙ্গের যে মানুষদের অচ্ছুত হিসেবে দেখা হয় তাদেরকেও অনায়েসেই বুকে টেনে নেন তিনি। কোন অহং বা আমিত্ব নেই তাঁর মাঝে। বিরল সব গুণাবলী শিখেছেন বাবা’র কাছ থেকেই।

নিভৃতেই হাজার হাজার অসহায় কর্মীর ও তাদের সন্তানের পড়াশুনার খরচ তিনি চালিয়ে যান। তিনিই দেশের একমাত্র প্রধানমন্ত্রী যিনি সাধারণ রোগীর মতোই ১০ টাকায় টিকিট কেটে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

অতীতেও পাঁচ টাকা মূল্যের নির্ধারিত টিকিট কেটে গাজীপুরের কাশিমপুরে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেও নজির স্থাপন করেছিলেন। সেই সময়েও তিনি অন্যদের মতো কাউন্টারে দাঁড়িয়ে নাম নিবন্ধন করে টিকিট কাটেন এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।

‘নিজের সুদৃঢ় মনোবল, সাহসী নেতৃত্ব, তাৎক্ষণিতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সবকিছুর উর্ধ্বে উদার মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি মুজিব কন্যা শেখ হাসিনাকে দেশের গন্ডি ছাপিয়ে বৈশ্বিক পরিমন্ডলেও করে তুলেছে তুমুল জনপ্রিয়’- বলছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) টানা দু’বারের নির্বাচিত মেয়র মো.আতিকুল ইসলাম। তাঁর ভাষ্য হচ্ছে- ‘শেখ হাসিনা দেশের শক্তি ও সম্পদ দু’টোই।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা বলে মনে করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো.শহীদ উল্লা খন্দকার। তিনি বলেন, ‘যতোদিন শেখ হাসিনার হাতে দেশ, পথ হারাবে না বাংলাদেশ। আসুন আমরা সকলে মিলে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পতাকাতলে মিলিত হই। নিজ নিজ অবস্থান থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে কাজ করি। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে এই হোক আমাদের দৃপ্ত শপথ।’

কালের আলো/এএএমকে