শেখ রাসেল দিবসে বৃত্তের বাইরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম

প্রকাশিতঃ 8:10 pm | October 18, 2021

বিশেষ সংবাদদাতা, কালের আলো :

বঙ্গবন্ধুর অবিনশ্বর চেতনা ও মৃত্যুঞ্জয়ী আদর্শ গ্রোথিত তাঁর অস্থিমজ্জায়। আলোকময় ঐশ্বর্যরূপেই বরাবরই উপস্থাপন করেন ধন্য সেই পুরুষকে। ৭৫’র ১৫ আগস্টের ভয়াল কালো রাতের নৃশংসতা আর বেদনাবিধুরতার কথা উচ্চারণ করলেই শোকার্ত হয়ে উঠে তাঁর হৃদয়। তাঁর কন্ঠস্বরে উঠে আসে বাঙালি জাতির ইতিহাসের মহান নেতার ৫৫ বছরের সংগ্রামী মহাজীবন।

প্রত্যয় ও শপথে শোককে শক্তিতে পরিণত করে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বগুণের কথাও তুলে আনেন স্বকীয় স্টাইলেই। পদ্মা, মেঘনা, যমুনার অন্তহীন বহমানতার সমান্তরালে দেশের মানুষের কল্যাণে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার রাজনৈতিক দর্শন নিজের ভাবনা-চিন্তা আর চেতনায় লালন করেন গভীরভাবেই।

ফলশ্রুতিতে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো.তাজুল ইসলাম এমপি কথা বলেন দল-মত-ধর্ম-বর্ণ-জাত-পাত-শ্রেণি নির্বিশেষে দেশের মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসায় পূর্ণ হৃদয়-মন নিয়ে। ইতিহাস আর বাস্তবতার আলোকেই। বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ সন্তান, এক অনন্ত বেদনার মহাকাব্য শহীদ শেখ রাসেলকে নিয়েও তাঁর বক্তব্য হয়ে উঠে অন্তর্ভেদী।

দৃঢ়তার সঙ্গেই তিনি উচ্চারণ করেন, ‘নিষ্ঠুর ঘাতকরা ১৫ আগস্টের কালো রাতে শুধু শিশু শেখ রাসেলকে নির্মমভাবে হত্যা করেনি, তাঁর জীবনকেই কেড়ে নেয়নি, ধ্বংস করেছে তার সব অবিকশিত সম্ভাবনাও।’ নতুন প্রজন্মের মাঝে শহীদ শেখ রাসেলকে ছড়িয়ে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে প্রকৃত মানবিক সত্ত্বাকে বিকশিত করার ওপরও জোর দিয়েছেন মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

তাঁর ভাষ্য হচ্ছে- ‘শেখ রাসেল হত্যার নিষ্ঠুরতা যদি নতুন প্রজন্মের কাছে উপস্থাপন করা যায় তাহলে তারা সেদিনের নির্মমতা অনুধাবন করতে পারবে। শেখ রাসেলের জীবনী পড়লে বর্তমান প্রজন্মের সৃজনশীলতা আরো বাড়বে। জাগ্রত হবে দেশপ্রেম আর নিষ্ঠবোধ।’

সোমবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে স্থানীয় সরকার বিভাগ আয়োজিত শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে ‘শেখ রাসেল দীপ্ত জয়োল্লাস অদম্য আত্মবিশ্বাস’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বৃত্তের বাইরে এসে এভাবেই নিজেকে মেলে ধরেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।

স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো.তাজুল ইসলাম এমপি প্রশ্ন করে বলেন, ‘শেখ রাসেলকে কেন হত্যা করা হয়েছে? তার কী দোষ ছিল? বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশ স্বাধীন করেছেন, মানুষের মুখে খাদ্য তুলে দিয়েছেন। দেশকে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তার জন্য কী বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে? এসব প্রশ্ন আমাদেরকে খুব ব্যথিত করে।’

‘বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বিশ্ব মানবতার উজ্জ্বল দ্যুতি, নিপীড়িত মানুষের বন্ধু, মুক্তিকামী মানুষের নেতা। সেই চেতনায় থেকেই জগৎ বিখ্যাত দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের নামানুসারে তার কনিষ্ঠ সন্তানের নাম রেখেছিলেন শেখ রাসেল। বঙ্গবন্ধু পরিবারের সবার চোখের মণি ছিল শিশু রাসেল। তাঁর মুখভরা ছিল ফুলের মতো হাসি। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মানবতার শত্রু ঘৃণ্য ঘাতকদের নির্মম বুলেটের হাত থেকে রক্ষা পাননি শিশু শেখ রাসেল।

তাঁর কান্নাভেজা কথা, হৃদয়ের আকুতি শোনেনি ঘাতকরা। সেদিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে নরপিশাচরা নিষ্ঠুরভাবে তাকেও হত্যা করে। ছোট্ট রাসেল কাঁদতে কাঁদতে চিরদিনের জন্য ঘুমিয়ে গেছে।’

গণতান্ত্রিক দেশে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল অবশ্যই থাকবে এমন মন্তব্য করে প্রজ্ঞাবান ও বাগ্মী এই রাজনীতিক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমরা দেশে শক্তিশালী বিরোধী দল চাই, কিন্তু রাষ্ট্রবিরোধী দল চাই না। আমরা শক্তিশালী ও গঠনমূলক বিরোধীদল চাই। স্বাধীনতা বিরোধী মানুষের অকল্যাণকর দল চাই না।’

এ প্রসঙ্গে মন্ত্রী তাজুল ইসলাম আরও বলেন, ‘যে দল মানুষের কল্যাণে কাজ করবে, সৃজনশীল হবে, সরকারের দোষ-ত্রুটি-ভুল-ভ্রান্তি ধরিয়ে দিয়ে জনগণের সামনে তুলে ধরে সরকারকে জবাবদিহির ব্যবস্থা করবে। এমন বিরোধী দল দেশে দরকার।

এটা হলে সরকার তাদের দায়িত্ব পালন আরও বেশি সতর্ক হবে। কিন্তু দেশকে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য, উন্নয়নকে ব্যাহত করার জন্য এবং বহিঃবিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করে দেয় এমন বিরোধী দল না থাকাই ভাল। এটি একজন অসুস্থ মানুষও চাইবে না।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ ও গতিশীল নেতৃত্বে সব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছে যাবো-এমন অভিমত প্রকাশ করে দৃঢ়কন্ঠে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের কাজ হচ্ছে দেশকে পরিচর্যা করা। মানুষের সেবা করা। ইচ্ছাকৃতভাবে দেশে অশান্তি সৃষ্টি করা না। আর এটা করার অধিকার কারও নেই।’

স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ’র সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী মো.আব্দুর রশীদ খান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো.সাইফুর রহমান, ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান, এনআইএলজির মহাপরিচালকসহ স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ সন্তান শেখ রাসেলের ৫৭ তম জন্মবার্ষিকী (শেখ রাসেল দিবস) উপলক্ষে রাজধানীর কাকরাইলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে স্থাপিত জাতির পিতা এবং শেখ রাসেলের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ ১৫ই আগস্ট সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

কালের আলো/জিকেএম/এমকে