ইউপির ভোটে নৌকার জয়জয়কার, ৫ মন্ত্রীর মুখে সাফল্যের হাসি
প্রকাশিতঃ 9:26 pm | February 18, 2022

পলিটিক্যাল এডিটর, কালের আলো:
আটটি ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের ফলাফলে দাপট দেখিয়েছেন আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে শেষতক নৌকার প্রার্থীরাই বিজয়মাল্য পড়েছেন। যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থী বাছাইয়ের ফলেই ভোটের ফসল ঘরে তুলতে পেরেছে ক্ষমতাসীন দলটি।
ভোটের ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সরকারের প্রভাবশালী ৫ মন্ত্রী সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো.তাজুল ইসলাম এমপি, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড.হাছান মাহমুদ ও খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারের নির্বাচনী এলাকায় নৌকার প্রার্থীরা বাজিমাত করেছেন।
অবশ্য এক্ষেত্রে সবার চেয়েই এগিয়ে রয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো.তাজুল ইসলাম। তাঁর নির্বাচনী এলাকার ১৬টি ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতায় বিজয়ী হয়েছেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ইউপিতে নৌকার জয়জয়কার তৃণমূলের রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিদায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার কমিশনের অধীনে এবার আট ধাপে সারা দেশে মোট ৪ হাজার ১৩৬টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯৪টি ইউপিতে ভোট হয়েছে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম)। আটটি ধাপে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হয়েছেন মোট ৩৭১ জন। এবার ইউপিতে মোট ভোট পড়েছে ৭২ দশমিক ২০ শতাংশ।
ওবায়দুল কাদের
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগের টানা দু’বারের সাধারণ সম্পাদক। তিনি কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ-সদস্য। তার নির্বাচনী এলাকা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় সপ্তম ধাপে ৮টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হয়। এসব ইউনিয়নে দলীয়ভাবে কাউকে মনোনয়ন দেয়নি আওয়ামী লীগ। আট ইউনিয়নের সাতটিতে সরকারদলীয় প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। এর আগে চতুর্থ ধাপে কবিরহাট উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়। এর মধ্যে পাঁচটিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জিতেছেন। বাকি দুটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
ডা: দীপু মনি
চাঁদপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি। তাঁর হাত ধরেই দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সদর ও হাইমচর উপজেলা নিয়ে গঠিত চাঁদপুর-৩ আসন পুনরুদ্ধার করে আওয়ামী লীগ। তাঁর নির্বাচনী এলাকার দু’ উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদের ১২টিতেই নৌকার প্রার্থীরা বিজয়মাল্য পড়েছেন। দু’টিতে জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
জানা যায়, দ্বিতীয় ধাপে চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদে সবগুলোতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। পঞ্চম ধাপে হাইমচর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন পরিষদে ভোটে দু’টিতে জিতেছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। দলীয় বিরুদ্ধবাদীদের প্রবল ষড়যন্ত্রের মুখেও শিক্ষামন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকায় নৌকার প্রার্থীরা জিতে এসেছেন। ডা: দীপু মনির উন্নয়নের রাজনীতি ও দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কের সেতুবন্ধের ধারাবাহিকতার ফলেই এমন ফল এসেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এগিয়ে আসা সংসদ নির্বাচনের আগে ইউপিতে এমন ফলাফল তৃণমূলের ‘প্রিয়মুখ’ দীপু মনিকে আরও শক্তিশালী করবে।
মো: তাজুল ইসলাম
চারবারের সংসদ সদস্য মো.তাজুল ইসলাম এমপি। দক্ষতার সঙ্গেই সামাল দিচ্ছেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বও। লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা-৯ আসনের এই সংসদ-সদস্য তৃণমূল আওয়ামী লীগের ‘প্রাণভোমরা’ হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় রাজনীতিতেও তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তাঁর সুফল মিলেছে ইউপি ভোটেও।
মন্ত্রীর দু’ উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতায় জয়ী হয়েছেন। নির্বাচিতরা সবাই যোগ্য ও রাজনীতিতে পরীক্ষিত। জানা যায়, দ্বিতীয় ধাপে লাকসাম উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন পরিষদের ভোটে ৫ টি’তেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতায় বিজয় লাভ করেন। ষষ্ঠ ধাপে মনোহরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদেও একইভাবে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে শুরুতেই বাজিমাত করেছেন মন্ত্রী মো.তাজুল ইসলাম এমপি। ইউপির এমন ফল নৌকা এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সুসংহত অবস্থানকেই যেন জানান দিচ্ছে।
ড.হাছান মাহমুদ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড.হাছান মাহমুদ চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া এবং বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর-খরনদ্বীপ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৭ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। তাঁর নির্বাচনী এলাকায় তৃতীয় ধাপে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ১৩টির ভোটে ৮টিতেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বাদ বাকী ৫ টির মধ্য তিনটিতে ভোটে জিতেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। চতুর্থ ধাপে অনুষ্ঠিত বোয়ালখালীর শ্রীপুর-খরনদ্বীপ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ মোকারম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। ইউপিতে নৌকার জয়জয়কার দলে ও সরকারে মন্ত্রীর সমান গতিতে কাজ করার দৌলতেই সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সাধন চন্দ্র মজুমদার
তৃণমূল থেকে উঠে এসেছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। তিনি পোরশা, সাপাহার ও নিয়ামতপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত নওগাঁ-১ আসনের নির্বাচিত সংসদ-সদস্য। মন্ত্রী নিজেও ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। পেয়েছেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও। তার নির্বাচনী এলাকায় ২০টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট হয়েছে। এর মধ্যে ১৮টিতেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জয়লাভ করেছেন।
পঞ্চম ধাপে পোরশা ও সাপাহার উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোটে ১১টিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে জিতে এসেছেন। ষষ্ঠ ধাপে নিয়ামতপুর উপজেলার আটটি ইউনিয়ন পরিষদে ভোটে সাতটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।
জানা যায়, ২০ টি ইউপির মধ্যে দু’টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। তাদের একজন স্থানীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও অন্যজন সহ-সভাপতি। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, সাপাহারের শিরন্টি ইউনিয়নে ৩০ বছর যাবত জামায়াতের চেয়ারম্যান এবার আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে হেরেছেন। বিএনপির দু’ইউপি চেয়ারম্যানও নৌকার কাছে ধরাশায়ী হয়েছেন।
কালের আলো/ডিএসবি/এমএম