শেখ হাসিনার হাত ধরেই নতুন এক বাংলাদেশের অভ্যুদয়
প্রকাশিতঃ 10:39 am | February 23, 2022

এম.আব্দুল্লাহ আল মামুন খান, অ্যাকটিং এডিটর :
ক্রমশ বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতির দিগন্ত। অবকাঠামোগত দিক থেকে ভিন্ন এক বাংলাদেশের পথচলাও শুরু হতে যাচ্ছে। চলতি বছরের জুন থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে চালু হচ্ছে অগ্রগতির প্রতীক তিন মেগা প্রকল্প পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল ও কর্নফুলী টানেল।
এই বছরেই স্বপ্নের পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে চলবে যান, কু-ঝিকঝিক শব্দে ছুটবে ট্রেন। রাজধানীর উত্তর থেকে দক্ষিণেও চলবে মেট্টোরেল। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে প্রথম নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মিত সুড়ঙ্গ পথও চালু হয়ে যাবে। বলা হচ্ছে, এই ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল’ পর্যটন নগরী কক্সবাজারের সঙ্গে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের দূরত্ব কমিয়ে দেবে প্রায় ৪০ কিলোমিটার।
মেগা এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশ ও মানুষের মনোবলও বেড়েছে বহুগুণে। শুধু তাই নয়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র, দোহাজারী-ঘুমধুম ডুয়েলগেজ ট্র্যাক প্রকল্প ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজের অগ্রগতিও বেড়েছে।
আর এসবই সম্ভব হয়েছে, হচ্ছে বঙ্গবন্ধুকন্যা, উন্নয়নের কারিগর, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অমিত দৃঢ়তা, প্রজ্ঞা, সাহসিকতা, সততা ও কর্মনিষ্ঠা ও দূরদর্শী নেতৃত্বের দৌলতেই। অভূতপূর্ব উন্নয়নের এই কারিগরের হাত ধরেই বিশ্ব মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটেছে নতুন এক বাংলাদেশের। উন্নয়ন-অগ্রগতির সূচকে নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করেছেন। বিশ্বসভায় দেশকে করেছেন উন্নয়নের রোল মডেল। বাংলাদেশের নতুন ইতিহাসের এই নির্মাতা নিজেও হয়েছেন বিশ্বনন্দিত।
টানা তিন মেয়াদের রাষ্ট্র পরিচালনায় বিচক্ষণ সব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে রীতিমতো বদলে দিয়েছেন বাংলাদেশকে। দাঁড় করিয়েছেন মাথা উঁচু করেই। ধন্য সেই পুরুষ, বঙ্গবন্ধুর উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাও আক্ষরিক অর্থেই প্রতিষ্ঠিত করতে চলেছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার অভিমুখে অপ্রতিরোধ অগ্রযাত্রায় দেদীপ্যমান করেছেন দেশকে। ‘বাংলাদেশ পারে’ এমন আত্নবিশ্বাস ও সাহস সঞ্চার করেছেন সতের কোটি বাংলাদেশীর মন-মননে।

সব মেগা প্রকল্পের আদ্যোপান্ত
আত্নমর্যাদাশীল এবং স্বনির্ভর বাংলাদেশের প্রতীক পদ্মাসেতু। নিজেদের টাকায় তৈরি এই সেতুর অগ্রগতি ৯৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। আগামী ২৩ জুন এই সেতু খুলে দিতে এখন ঝড়ো গতিতে চলছে ফিনিশিংয়ের কাজ।
৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল পদ্মা সেতুর মোট আটটি ১, ৭, ১৩, ১৯, ২৫, ৩১, ৩৭ ও ৪২ নম্বর খুঁটির মুভমেন্ট জয়েন্টগুলো বসানোর পর চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ চলছে। চলছে ব্রিজিং ফেসিলিটিজ,ওয়ে স্টেশন ও ওভারলোড স্টেক ইয়ার্ডসহ শেষ পর্যায়ের কর্মযজ্ঞ।
পদ্মা সেতুর বুক চিরে চলবে ট্রেন। এজন্য আলাদাভাবে তৈরি করা হচ্ছে পদ্মা সেতু রেলসংযোগ প্রকল্প। বর্তমানে পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তের রেল লিঙ্ক প্রকল্পে রেল স্টেশন, ভায়াডাক্ট, রেল সেতু ও রেল লাইনের কাজ চলছে পুরোদমে। পদ্মা সেতুর সঙ্গে রাজধানীর রেল সুবিধা দ্রুত সংযুক্ত করতে ঢাকা থেকে মাওয়া অংশের কাজে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। ৩৯.৬৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই অংশে এখন পুরোদমে চলছে কাজ। এই সেতু দিয়ে ঢাকা-ভাঙ্গা রেললাইন চালুর কথা রয়েছে চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বর। পদ্মা সেতুতে ব্যয় হয়েছে ৩০ হাজার ১৯২ কোটি টাকা।

গত জানুয়ারি মাস পর্যন্ত মেট্রোরেল প্রকল্পের অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৭৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ। আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত অংশের পূর্ত কাজের অগ্রগতি ৯০ দশমিক ৪২ শতাংশ। উত্তরা-আগারগাঁও অংশ চলতি বছরের ডিসেম্বরে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হবে বলে আশা করছে মেট্রোরেল নির্মাণকারী কর্তৃপক্ষ ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। উত্তরা-আগারগাঁও অংশে ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল, মেকানিক্যাল সিস্টেম, রোলিং স্টক (রেলকোচ) এবং ডিপো ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ কাজের সমন্বিত অগ্রগতি ৭৪ দশমিক ৪২ শতাংশ। মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত অংশের প্রাথমিক কার্যক্রম চলছে।
২০১৫ সালের ডিসেম্বরে পাবনার রূপপুরে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ করতে রাশিয়ার এটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সই করে সরকার। চুক্তি বাস্তবায়নের সময়কাল ধরা হয়েছে সাত বছর। বিদ্যুত কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট ২০২৩ সালে ও দ্বিতীয় ইউনিট ২০২৪ সালের অক্টোবরে উৎপাদনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যুত কেন্দ্রটি ৬০ বছর ধরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। এক লাখ এক হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে রাশিয়ার সহযোগিতায় বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে পাবনার রূপপুরে; যেখানে দুটি ইউনিটে ১২০০ মেগাওয়াট করে ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। প্রকল্পের মোট অগ্রগতি ৪০ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এরই মধ্যে প্রকল্পের আওতায় মোট ব্যয় হয়েছে ৪৩ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।
এখন বাস্তবায়নের পথে চট্টগ্রামের সম্ভাবনাময় কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প। নদীর তলদেশ দিয়ে চার লেন বিশিষ্ট ৩ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ টানেলের দুটি টিউবের খননকাজ শেষ। চলতি বছরের অক্টোবরের মধ্যে প্রকল্প শেষের আশা কর্তৃপক্ষের। নির্মাণ কাজ শেষ হলে এটিই হবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে প্রথম নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মিত সুড়ঙ্গ পথ। ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের মহাসড়ক নেটওয়ার্কের উন্নয়নের উদ্দেশ্যে ৯ দশমিক ৩৯ কিলোমিটার দীর্ঘ টানেলটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়ার ২ বছর পর এর কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ৮ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা।

দেশী-বিদেশী বিপুল বিনিয়োগের কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠছে কক্সবাজারের মাতারবাড়ি। এরই মধ্যে ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ছয়টি প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষ হয়েছে এ এলাকায়। ৭৮ হাজার কোটি টাকা সম্ভাব্য ব্যয়ের আরও ছয়টি প্রকল্পের বাস্তবায়ন চলমান। এর বাইরে আরও ৫৬টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে মাতারবাড়ি ও এর সংলগ্ন মহেশখালী এবং ধলঘাটে। জাপানের অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা গভীর সমুদ্রবন্দর প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অঞ্চল এলাকা ঘিরে লজিস্টিক, বিদ্যুত ও জ্বালানি এবং অন্যান্য শিল্পে ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের প্রাথমিক প্রস্তাব করেছে।
এর মধ্যে ১০ বিলিয়ন ডলার সরাসরি বিনিয়োগ করবেন সে দেশের বেসরকারী উদ্যোক্তারা। বাকি ১০ বিলিয়ন ডলার সহজশর্তে বাংলাদেশকে ঋণ দেবে জাপান। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় আট হাজার ৯৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নেভিগেশন চ্যানেল টার্নিং বেসিন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। চলতি বছরই এর বাস্তবায়ন শেষ হওয়ার কথা। এই প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ১০৯ কোটি টাকা।

কালের আলো/ডিএস/এমএম